সূরা সোয়াদ (আয়াত: 48)
হরকত ছাড়া:
واذكر إسماعيل واليسع وذا الكفل وكل من الأخيار ﴿٤٨﴾
হরকত সহ:
وَ اذْکُرْ اِسْمٰعِیْلَ وَ الْیَسَعَ وَ ذَاالْکِفْلِ ؕ وَ کُلٌّ مِّنَ الْاَخْیَارِ ﴿ؕ۴۸﴾
উচ্চারণ: ওয়াযকুর ইছমা-‘ঈলা ওয়াল ইয়াছা‘আ ওয়াযাল কিফলি ওয়া কুল্লুম মিনাল আখইয়া-র।
আল বায়ান: আরো স্মরণ কর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘আ ও যুল-কিফলের কথা। এরা প্রত্যেকেই ছিল সর্বোত্তমদের অন্তর্ভুক্ত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৮. আর স্মরণ করুন, ইসমাঈল, আল ইয়াসা'আ ও যুল-কিফলের কথা, আর এরা প্ৰত্যেকেই ছিলেন সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।
তাইসীরুল ক্বুরআন: স্মরণ কর ইসমাঈল, ইয়াসা‘আ ও যুলকিফলের কথা- এরা সবাই ছিল উত্তমদের মধ্যে গণ্য।
আহসানুল বায়ান: (৪৮) স্মরণ কর, ইসমাঈল, য়্যাসা’ ও যুল-কিফলের কথা, এরা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন। [1]
মুজিবুর রহমান: স্মরণ কর ইসমাঈল, আল ইয়াসাআ’ ও যুলকিফলের কথা, তারা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন।
ফযলুর রহমান: ইসমাঈল, আল-ইয়াসা ও যুল-কিফ্লের কথাও স্মরণ কর। এরাও প্রত্যেকে শ্রেষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত।
মুহিউদ্দিন খান: স্মরণ করুণ, ইসমাঈল, আল ইয়াসা ও যুলকিফলের কথা। তারা প্রত্যেকেই গুনীজন।
জহুরুল হক: আর স্মরণ কর ইসমাইল ও ইয়াসাআ ও যুল-কিফলকে, কারণ তাঁরা সবাই ছিলেন সজ্জনদের অন্যতম।
Sahih International: And remember Ishmael, Elisha and Dhul-Kifl, and all are among the outstanding.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৮. আর স্মরণ করুন, ইসমাঈল, আল ইয়াসা´আ ও যুল-কিফলের কথা, আর এরা প্ৰত্যেকেই ছিলেন সজ্জনদের অন্তর্ভুক্ত।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৮) স্মরণ কর, ইসমাঈল, য়্যাসা” ও যুল-কিফলের কথা, এরা প্রত্যেকেই ছিল সজ্জন। [1]
তাফসীর:
[1] য়্যাসা’ (আঃ) ইলয়্যাস (আঃ)-এর নায়েব ছিলেন, আল-য়্যাসা’তে ال নির্দিষ্টীকরণের জন্য এবং এটা একটি অনারবী নাম। যুল-কিফল সম্পর্কে জানার জন্য সূরা আম্বিয়ার ৮৫ নং আয়াতের টীকা দেখুন। أَخْيَارٌ خَيْرٌ অথবা خَيَّرٌ এর বহুবচন যেমন مَيِّتٌ এর বহুবচন أَمْوَاتٌ ।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৫-৪৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কয়েকজন নাবীর কথা বর্ণনা করেছেন। যাদের সম্পর্কে ইতোপূর্বে সূরা আল ‘আম্বিয়া-সহ আরো অন্যান্য স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।
ইয়াসা‘ (আঃ) সম্পর্কে সূরা আন‘আমের ৮৬ নম্বর, যুল-কিফল সম্পর্কে সূরা আম্বিয়ার ৮৫ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। তাঁরা সকলেই আল্লাহ তা‘আলার মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আল্লাহ তা‘আলার প্রিয়পাত্র ছিলেন।
(أُولِي الْأَيْدِيْ وَالْأَبْصَارِ)
অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে ছিলেন দৃঢ় এবং দীনের ব্যাপারে ছিলেন বিচক্ষণ।
(هٰذَا ذِكْرٌ) ‘এতো এক স্মরণীয় বর্ণনা’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এসব চয়নকৃত নাবী ও তাঁদের গুণাবলীর আলোচনা উপদেশপূর্ণ ক্রুআনে উল্লেখ করেন যাতে এদের থেকে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং যারাই তাদের প্রতিপালকের আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে ও তাঁকে ভয় করবে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম আবাসস্থল। এ উত্তম আবাসস্থলের বর্ণনা পরের আয়াতগুলোতে দেয়া হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৫-৪৯ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা ও রাসূলদের (আঃ) ফযীলতের বর্ণনা দিচ্ছেন এবং তাঁদের সংখ্যা গণনা করছেন যে, তাঁরা হলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ), হযরত ইসহাক (আঃ) এবং হযরত ইয়াকূব (আঃ)। তিনি বলেন যে, তাঁদের আমল খুবই উত্তম ছিল এবং তারা ছিলেন সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা আল্লাহর ইবাদতে খুব মযবূত ছিলেন এবং মহাশক্তিশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে দুরদর্শিতা ও অন্তদৃষ্টি দান করা হয়েছিল। তাদের দ্বীনের বোধশক্তি ছিল, আল্লাহর আনুগত্যে তারাই ছিলেন অটল এবং সত্যকে তাঁরা দর্শনকারী ছিলেন। তাঁদের কাছে দুনিয়ার কোন গুরুত্ব ছিল না। তারা শুধু আখিরাতের প্রতি খেয়াল রাখতেন। দুনিয়ার প্রতি তাদের কোন ভালবাসা ছিল না এবং সদা-সর্বদা তাঁরা আখিরাতের যিকরে মগ্ন থাকতেন। তাঁরা ঐ সব কাজ করে চলতেন যেগুলো জান্নাতের হকদার বানিয়ে দেয়। জনগণকেও তারা ভাল কাজ করতে উৎসাহিত করতেন। তাই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে কিয়ামতের দিন উত্তম পুরস্কার ও ভাল স্থান প্রদান করবেন। আল্লাহর দ্বীনের এই বুযর্গ ব্যক্তিরা আল্লাহর খাঁটি ও বিশিষ্ট বান্দা। হযরত ইসমাঈল (আঃ), হযরত ইয়াসাআ (আঃ) এবং হযরত যুলকিফলও (আঃ) আল্লাহর মনোনীত ও বিশিষ্ট বান্দা ছিলেন। তাদের অবস্থাবলী সূরায়ে আম্বিয়ায় গত হয়েছে। এজন্যে এখানে বর্ণনা করা হলো না। তাদের ফযীলত বর্ণনায় তাদের জন্যে উপদেশ রয়েছে যারা উপদেশ লাভ ও গ্রহণ করতে অভ্যস্ত। আর ভাবার্থ এটাও যে, কুরআন হলো যিকর অর্থাৎ নসীহত বা উপদেশ।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।