আল কুরআন


সূরা সোয়াদ (আয়াত: 46)

সূরা সোয়াদ (আয়াত: 46)



হরকত ছাড়া:

إنا أخلصناهم بخالصة ذكرى الدار ﴿٤٦﴾




হরকত সহ:

اِنَّاۤ اَخْلَصْنٰهُمْ بِخَالِصَۃٍ ذِکْرَی الدَّارِ ﴿ۚ۴۶﴾




উচ্চারণ: ইন্নাআখলাসনা-হুম বিখা-লিসাতিন যিকরাদ্দা-র।




আল বায়ান: নিশ্চয় আমি তাদেরকে বিশেষ করে পরকালের স্মরণের জন্য নির্বাচিত করেছিলাম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. নিশ্চয় আমরা তাদেরকে অধিকারী করেছিলাম এক বিশেষ গুণের, তা ছিল আখিরাতের স্মরণ(১)।




তাইসীরুল ক্বুরআন: বস্তুত আমি তাদেরকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছিলাম এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যে- তা হল পরলোকের স্মরণ।




আহসানুল বায়ান: (৪৬) আমি তাদেরকে এক বিশেষ গুণের অধিকারী করেছিলাম; তা ছিল পরকালের স্মরণ। [1]



মুজিবুর রহমান: আমি তাদেরকে অধিকারী করেছিলাম এক বিশেষ গুণের, ওটা ছিল পরকালের স্মরণ।



ফযলুর রহমান: একটি বিশেষ গুণ জ্ঞপরলোকের স্মরণঞ্চ দিয়ে আমি তাদেরকে বাছাই করেছিলাম। (অর্থাৎ তাদের প্রত্যেককে এই গুণটি দেওয়া হয়েছিল। ফলে, তারা নিজেরা সবসময় পরলোকের স্মরণ করত এবং লোকদেরকেও তা স্মরণ করিয়ে দিত।)



মুহিউদ্দিন খান: আমি তাদের এক বিশেষ গুণ তথা পরকালের স্মরণ দ্বারা স্বাতন্ত্র্য দান করেছিলাম।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ আমরা তাঁদের বানিয়েছিলাম এক অকৃত্রিম গুণে নিষ্ঠাবান -- বাসস্থানের স্মরণ।



Sahih International: Indeed, We chose them for an exclusive quality: remembrance of the home [of the Hereafter].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৬. নিশ্চয় আমরা তাদেরকে অধিকারী করেছিলাম এক বিশেষ গুণের, তা ছিল আখিরাতের স্মরণ(১)।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ তাদেরকে আখেরাত স্মরণের জন্য বিশেষ লোক হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। সুতরাং তারা আখেরাতের জন্যই আমার আনুগত্য করত ও আমল করত। মানুষদেরকে তারা এর জন্য উপদেশ দিত এবং আখেরাতের প্রতি আহবান জানাত। [মুয়াস্‌সার]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৬) আমি তাদেরকে এক বিশেষ গুণের অধিকারী করেছিলাম; তা ছিল পরকালের স্মরণ। [1]


তাফসীর:

[1] আমি তাদেরকে আখেরাত স্মরণ করার জন্য বেছে নিয়েছিলাম। সুতরাং আখেরাত সর্বদা তাঁদের সামনেই থাকত। (সর্বদা আখেরাত স্মরণে থাকা, আল্লাহর একটি বড় অনুগ্রহ এবং বিষয়-বিতৃষ্ণা ও পরহেযগারির ভিত্তি।) অথবা তাঁরা মানুষকে আখেরাত ও আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৫-৪৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কয়েকজন নাবীর কথা বর্ণনা করেছেন। যাদের সম্পর্কে ইতোপূর্বে সূরা আল ‘আম্বিয়া-সহ আরো অন্যান্য স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।



ইয়াসা‘ (আঃ) সম্পর্কে সূরা আন‘আমের ৮৬ নম্বর, যুল-কিফল সম্পর্কে সূরা আম্বিয়ার ৮৫ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। তাঁরা সকলেই আল্লাহ তা‘আলার মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আল্লাহ তা‘আলার প্রিয়পাত্র ছিলেন।



(أُولِي الْأَيْدِيْ وَالْأَبْصَارِ)



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে ছিলেন দৃঢ় এবং দীনের ব্যাপারে ছিলেন বিচক্ষণ।



(هٰذَا ذِكْرٌ) ‘এতো এক স্মরণীয় বর্ণনা’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এসব চয়নকৃত নাবী ও তাঁদের গুণাবলীর আলোচনা উপদেশপূর্ণ ক্রুআনে উল্লেখ করেন যাতে এদের থেকে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং যারাই তাদের প্রতিপালকের আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে ও তাঁকে ভয় করবে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম আবাসস্থল। এ উত্তম আবাসস্থলের বর্ণনা পরের আয়াতগুলোতে দেয়া হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৫-৪৯ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা ও রাসূলদের (আঃ) ফযীলতের বর্ণনা দিচ্ছেন এবং তাঁদের সংখ্যা গণনা করছেন যে, তাঁরা হলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ), হযরত ইসহাক (আঃ) এবং হযরত ইয়াকূব (আঃ)। তিনি বলেন যে, তাঁদের আমল খুবই উত্তম ছিল এবং তারা ছিলেন সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা আল্লাহর ইবাদতে খুব মযবূত ছিলেন এবং মহাশক্তিশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে দুরদর্শিতা ও অন্তদৃষ্টি দান করা হয়েছিল। তাদের দ্বীনের বোধশক্তি ছিল, আল্লাহর আনুগত্যে তারাই ছিলেন অটল এবং সত্যকে তাঁরা দর্শনকারী ছিলেন। তাঁদের কাছে দুনিয়ার কোন গুরুত্ব ছিল না। তারা শুধু আখিরাতের প্রতি খেয়াল রাখতেন। দুনিয়ার প্রতি তাদের কোন ভালবাসা ছিল না এবং সদা-সর্বদা তাঁরা আখিরাতের যিকরে মগ্ন থাকতেন। তাঁরা ঐ সব কাজ করে চলতেন যেগুলো জান্নাতের হকদার বানিয়ে দেয়। জনগণকেও তারা ভাল কাজ করতে উৎসাহিত করতেন। তাই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে কিয়ামতের দিন উত্তম পুরস্কার ও ভাল স্থান প্রদান করবেন। আল্লাহর দ্বীনের এই বুযর্গ ব্যক্তিরা আল্লাহর খাঁটি ও বিশিষ্ট বান্দা। হযরত ইসমাঈল (আঃ), হযরত ইয়াসাআ (আঃ) এবং হযরত যুলকিফলও (আঃ) আল্লাহর মনোনীত ও বিশিষ্ট বান্দা ছিলেন। তাদের অবস্থাবলী সূরায়ে আম্বিয়ায় গত হয়েছে। এজন্যে এখানে বর্ণনা করা হলো না। তাদের ফযীলত বর্ণনায় তাদের জন্যে উপদেশ রয়েছে যারা উপদেশ লাভ ও গ্রহণ করতে অভ্যস্ত। আর ভাবার্থ এটাও যে, কুরআন হলো যিকর অর্থাৎ নসীহত বা উপদেশ।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।