আল কুরআন


সূরা সোয়াদ (আয়াত: 19)

সূরা সোয়াদ (আয়াত: 19)



হরকত ছাড়া:

والطير محشورة كل له أواب ﴿١٩﴾




হরকত সহ:

وَ الطَّیْرَ مَحْشُوْرَۃً ؕ کُلٌّ لَّهٗۤ اَوَّابٌ ﴿۱۹﴾




উচ্চারণ: ওয়াত্তাইরা মাহশূরাতান কুল্লুল্লাহূআওওয়া-ব।




আল বায়ান: আর সমবেত পাখীদেরকেও (অনুগত করেছিলাম); প্রত্যেকেই ছিল অধিক আল্লাহ অভিমুখী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৯. এবং সমবেত পাখীদেরকেও; সবাই ছিল তার অভিমুখী।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর পাখীরা সমবেত হত, সকলেই তার সঙ্গে আল্লাহ অভিমুখী হত (তাসবীহ করার মাধ্যমে)।




আহসানুল বায়ান: (১৯) এবং (বশীভূত করেছিলাম) পক্ষীকুলকেও সমবেত অবস্থায়, সকলেই ছিল তার অনুসারী।[1]



মুজিবুর রহমান: এবং সমবেত বিহংকুলকেও, সবাই ছিল তার অভিমুখী।



ফযলুর রহমান: আর পাখিদেরকেও, যারা (তার কাছে) একত্রিত হত। প্রত্যেকেই তার অভিমুখী (অনুগত)।



মুহিউদ্দিন খান: আর পক্ষীকুলকেও, যারা তার কাছে সমবেত হত। সবাই ছিল তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।



জহুরুল হক: আর পাখীরা সমবেত হতো। সবাই ছিল তাঁর প্রতি অনুগত।



Sahih International: And the birds were assembled, all with him repeating [praises].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৯. এবং সমবেত পাখীদেরকেও; সবাই ছিল তার অভিমুখী।(১)


তাফসীর:

(১) এ আয়াতে দাউদ আলাইহিসসালাম-এর সাথে পর্বতমালা ও পক্ষীকুলের ইবাদতের তাসবীহে শরীক হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে এর ব্যাখ্যা সূরা আম্বিয়া ও সূরা সাবায় বর্ণিত হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, পর্বতমালা ও পক্ষীকুলের তাসবীহ পাঠকে আল্লাহ তা’আলা এখানে দাউদ আলাইহিস সালাম-এর প্রতি নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ, এতে দাউদ আলাইহিস সালাম-এর একটি মু'জিযা প্রকাশ পেয়েছে। বলাবাহুল্য, মু'জিযা এক বড় নেয়ামত। [দেখুন: কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৯) এবং (বশীভূত করেছিলাম) পক্ষীকুলকেও সমবেত অবস্থায়, সকলেই ছিল তার অনুসারী।[1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এগুলি সবই দাঊদের অনুসারী ছিল। অথবা এগুলি সবই আল্লাহ-অভিমুখী। অর্থাৎ, সকাল-সন্ধ্যায় পর্বতমালা দাউদ (আঃ) এর সাথে তসবীহ পাঠে রত হত এবং উড়ন্ত পক্ষীকুলও যবুর পড়া শুনে শূন্যে জমায়েত হত এবং তাঁর সাথে তসবীহ পাঠ করত। ‘مَحْشُوْرَة ’ অর্থ ‘জমায়েত অবস্থায়’।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৭-২৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাফির-মুশরিকদের অশোভনীয় কথায় ধৈর্য ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন যেমন পূর্ববর্তী নাবীগণ ধৈর্য ধারণ করেছেন। তাদের কথা সত্যের কোন ক্ষতি করতে পারবে না এবং তোমারও কোন ক্ষতি করতে পারবে না, বরং এসব কথা তাদের নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর। তাই ইবাদতের মাধ্যমে ধৈর্য ধারণের সহযোগিতা কামনা করার নির্দেশ দিয়ে অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(فَاصْبِرْ عَلٰي مَا يَقُوْلُوْنَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا ج وَمِنْ اٰنَآئِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضٰي)‏



“সুতরাং তারা যা বলে, সে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারণ কর‎ এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর‎ এবং রাত্রিকালে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর‎, এবং দিবসের প্রান্ত‎সমূহেও, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার।” (সূরা ত্ব-হা ২০ : ১৩০)



নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেয়ার পর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় নাবী দাঊদ (আঃ) ও তাঁকে যে সকল মু‘জিযাহ দান করেছিলেন সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



দাঊদ (আঃ)-এর সাহস ও বীরত্ব সম্পর্কে সূরা বাক্বারার ২৪৬-২৫২ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। বিপুল শক্তি ও রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারী ছিলেন দাঊদ (আঃ)। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে নবুওয়াত ও মানুষের মাঝে বিচার-ফায়সালা করার প্রজ্ঞা দান করেছিলেন। বর্তমান ফিলিস্তীনসহ সমগ্র ইরাক ও শাম (সিরিয়া) এলাকায় তাঁর রাজত্ব ছিল। পৃথিবীর অতুলনীয় ক্ষমতার অধিকারী হয়েও তিনি ছিলেন সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি অনুগত ও সদা কৃতজ্ঞ। দাঊদ (আঃ) হলেন আল্লাহ তা‘আলার সেই বান্দা যাকে খুশী হয়ে পিতা আদম (আঃ) স্বীয় বয়স থেকে ৪০ বছর কেটে নিয়ে দান করার জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট সুপারিশ করেছিলেন এবং সেই হিসেবে দাঊদের বয়স ৬০ হতে ১০০ বছরে বৃদ্ধি পায়। (তিরমিযী, মিশকাত হা. ১১৮, হাসান সহীহ)



আলোচ্য আয়াতগুলোতে দাঊদ (আঃ)-এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে। যেমন-



(১) আল্লাহ তা‘আলা দাঊদ (আঃ)-কে আধ্যাত্মিক ও দৈহিক শক্তিতে বলিয়ান করে সৃষ্টি করেছিলেন। দৈহিক ও দুনিয়াবী শাসন শক্তির কথার দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে- (ذَا الْأَيْدِ) । আর আধ্যাত্মিক শক্তির দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে (اِنَّھ۫ٓ اَوَّابٌ)। দাঊদ (আঃ) তাঁর জাতির পক্ষ থেকে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন এবং আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে খুব মনোযোগী ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে এত দৃঢ়পদ ও অটুট ছিলেন যে, তাঁর সাথে তাসবীহ পাঠ করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা পাহাড় ও পক্ষীকুলকে অনুগামী করে দিয়েছিলেন। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :



(وَلَقَدْ اٰتَيْنَا دَاو۫دَ مِنَّا فَضْلًا ط يٰجِبَالُ أَوِّبِيْ مَعَه۫ وَالطَّيْرَ ج وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيْدَ‏)‏



“আর আমি দাঊদকে দিয়েছিলাম আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ (যেমন বলেছিলাম) হে পাহাড়-পর্বত! তোমরা দাঊদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং পাখিগুলোকেও এমন আদেশ দিয়েছিলাম। আর তার জন্য আমি লৌহকে নরম করেছিলাম।” (সূরা সাবা ৩৪ : ১০) যখন দাঊদ (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার যিকির করতেন তখন পাহাড় ও পক্ষীকূল তাঁর সাথে যিকির করত, তিনি তাদের যিকির করা বুঝতে পারতেন। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে যদিও আমরা বুঝতে পারি না। (সূরা ইসরা ১৭ : ৪৪)



হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : আল্লাহ তা‘আলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সালাত হল দাঊদ (আঃ)-এর সালাত এবং সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম হল দাঊদ (আঃ)-এর সিয়াম। তিনি অর্ধরাত্রি পর্যন্ত ঘুমাতেন। অতঃপর এক তৃতীয়াংশ সালাতে কাটাতেন এবং বাকী ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন। তিনি একদিন অন্তর অন্তর সিয়াম পালন করতেন। শত্র“র মোকাবেলায় তিনি কখনো পশ্চাদবরণ করতেন না। (সহীহ বুখারী হা. ১০৭৯, মিশকাত হা. ১২২৫)



(২) পাহাড়-পর্বত ও পক্ষীকুল তাঁর অনুগত ছিল। এ সম্পর্কে সূরা সাবার ১০-১১ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



(بِالْعَشِيِّ وَالْإِشْرَاقِ) ‘



সকাল-সন্ধ্যায়’ ইশরাক বলা হয় চাশতের সময়কে, এ সময়ে সালাতকে চাশতের সালাত ও আওয়াবিনের সালাতও বলা হয় (সহীহ মুসলিম হা. ৭৪৮)। চাশতের সালাত দু থেকে বার রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়। চাশতের সময় সালাত আদায় করা অনেক ফযীলতের কাজ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য প্রতিদিন সাদকাহ করতে হয়। প্রত্যেক তাসবীহ পাঠ এক একটি সাদকাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সাদকাহ, আল্লাহু আকবর বলা সাদকাহ, ভাল কাজের আদেশ করা সাদকাহ, খারাপ কাজে বাধা দেয়া সাদকাহ। এসব ক’টির জন্য যথেষ্ট হবে চাশতের দু’রাকাত সালাত। (সহীহ মুসলিম হা. ৭২০)



مَحْشُوْرَةً অর্থ একত্রিত বা জমা হওয়া। অর্থাৎ তাঁকে অপূর্ব সুমধুর কণ্ঠস্বর দান করা হয়েছিল। যখন তিনি যাবূর তেলাওয়াত করতেন, তখন কেবল মানুষ নয়, পাহাড়-পর্বত ও পক্ষীকুল পর্যন্ত তা একমনে শুনত।



(৩, ৪ ও ৫) তাঁকে দেয়া হয়েছিল সুদৃঢ় সাম্রাজ্য, গভীর প্রজ্ঞা ও অনন্য বাগ্মিতা। যেমন অত্র সূরার ২০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর এ সাম্রাজ্য ছিল শাম ও ইরাক ব্যাপী। যা বর্তমান ফিলিস্তীনসহ সমগ্র ইরাক ও শাম (সিরিয়া) শামিল করে। যেমন ২৬ নম্বর আয়াতের বলা হয়েছে।



(৬) লোহাকে নরম করে দেয়া হয়েছিল। এ সম্পর্কে সূরা সাবার ১০-১১ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।

আর তাঁকে দান করেছিলেন হিকমত তথা নবুওয়াত ও মহা প্রজ্ঞা এবং আরো দান করেছেন মীমাংসাকারী জ্ঞান। আরো দান করেছেন সর্বপ্রকার বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিকতা যার মাধ্যমে তাঁর রাজ্যকে করেছিলেন সুদৃঢ়।



ইবাদতখানায় প্রবেশকারী বাদী-বিবাদীর বিচার



দাঊদ (আঃ) যেকোন ঘটনায় যদি বুঝতেন যে, এটি আল্লাহ তা‘আলার তরফ থেকে পরীক্ষা, তাহলে তিনি সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলার দিকে রুজু হতেন ও ক্ষমা প্রার্থনায় রত হতেন। এরই একটি উদাহরণ বর্ণিত হয়েছে নিম্নোক্ত ঘটনায়-



আল্লাহ তা‘আলা দাঊদ (আঃ)-কে মীমাংসা করার জ্ঞান দান করার পর দু’টি বিবাদমান ব্যক্তির বর্ণনা দিচ্ছেন যারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে দাঊদ (আঃ)-এর নিকট এসেছিল। যখন তারা তাঁর নিকট প্রবেশ করল তখন তিনি ভীত-বিহ্বল হলেন, বিবাদমান ব্যক্তি দু’টি তাঁকে বলল : আপনি ভয় পাবেন না, আমরা বিবাদমান দু’টি পক্ষ। একজন অপরজনের ওপর জুলুম করেছি, আপনি আমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিন, কোন প্রকার জুলুম বা অবিচার করবেন না এবং আমাদেরকে সঠিক পথ নির্দেশ করুন। তখন তারা তাদের ঝগড়ার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করল। একজন বলল, সে আমার ভাই, তার নিরানব্বইটি স্ত্রী রয়েছে আর আমার একটি মাত্র স্ত্রী, তারপরও সে আমার এ স্ত্রীকে তাকে দিয়ে দিতে বলে এবং আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এটি ছিল তাদের ঝগড়ার মূল ঘটনা।



তখন দাঊদ (আঃ) তাদের কথা অনুপাতে বিচার কার্য শুরু করলেন। তিনি বললেন : তোমার স্ত্রীকে তার স্ত্রীদের সাথে যুক্ত করার দাবী করে সে তোমার প্রতি জুলুম করেছে। অধিকাংশ শরীকরা একে অন্যের ওপর অবিচার করে থাকে, শুধুমাত্র মু’মিন ও সৎ কর্মপরায়ণ ব্যক্তি ব্যতীত। তবে তাদের সংখ্যা স্বল্প। এ মীমাংসা করার পর দাঊদ (আঃ) বুঝতে পারলেন যে, মহান রবের পক্ষ হতে এটা তার পরীক্ষা। তখন তিনি আল্লাহ তা‘আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং তাঁর অভিমুখী হলেন। এ আয়াত পাঠ করার পর সিজদাহ করতে হয়। দাঊদ (আঃ) এখানে সিজদাহ্ করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও এখানে অনুরূপ করেছেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং বললেন : আমার নিকট তার জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও শুভ পরিণাম। কেননা তিনি ছিলেন তাওবাহ্কারী এবং স্বীয় রাজ্যে তিনি ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠাকারী। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :



إِنَّ الْمُقْسِطِيْنَ عِنْدَ اللّٰهِ عَلَي مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ، عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ، وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِيْنٌ، الَّذِينَ يَعْدِلُوْنَ فِي حُكْمِهِمْ وَأَهْلِيهِمْ وَمَا وَلُوا



সুবিচারক ও ন্যায়পরায়ণ লোকেরা নূরের মিম্বরের ওপর দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার ডান দিকে অবস্থান করবে, আল্লাহ তা‘আলার উভয় হাতই ডান হাত তারা ঐ সব সুবিচারক যারা তাদের পরিবার-পরিজন ও অধিনস্তদের প্রতি সুবিচার করবে।” (সহীহ মুসলিম হা. ১৮২৭)



উপরোক্ত পাঁচটি আয়াতে বা অন্য কোথাও এরূপ কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি যে, সে পরীক্ষা কী ছিল, দাঊদ (আঃ) কী ভুল করেছিলেন, যে কারণে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এবং যা আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। ফলে সে প্রাচীন যুগের কোন ঘটনার ব্যাখ্যা নাবী ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে এ যুগে দেয়া সম্ভব নয়। তাই ধারণা ও কল্পনার মাধ্যমে যেটাই বলা হবে, তাতে ভ্রান্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে। কিন্তু পথভ্রষ্ট ইয়াহূদী পণ্ডিতেরা তাদের স্বগোত্রীয় এ মর্যাদাবান নাবীর উক্ত ঘটনাকে এমন নোংরাভাবে পেশ করেছে, যা কল্পনা করতেও গা শিউরে ওঠে। বলা হয়েছে, দাঊদ (আঃ)-এর নাকি ৯৯ জন স্ত্রী ছিল। এ সত্ত্বেও তিনি তাঁর এক সৈন্যের স্ত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। অতঃপর উক্ত সৈনিককে হত্যা করে তার স্ত্রীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আল্লাহ তা‘আলা দু’জন ফেরেশতাকে বাদী ও বিবাদীর বেশে পাঠিয়ে তাকে শিক্ষা দেন। (নাঊযুবিল্লাহ)



تَسَوَّرُ অর্থ হলো প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করা।



أيد এটা يد থেকে নয় বরং ادييد-এর মাসদার اَيِّدْ। অর্থ শক্তি ও প্রবলতা।



نَعْجَةٌ শব্দটি আরবরা স্ত্রী, খাসী, দুম্বী ইত্যাদি অর্থে ব্যবহার করে থাকে। তবে এখানে স্ত্রী অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। (কুরতুবী, সা‘দী, অত্র আয়াতের তাফসীর)



এরপর আল্লাহ তা‘আলা দাঊদ (আঃ)-কে বলে সকল বিচারকদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, তারা যেন মানুষের মধ্যে সুবিচার করে এবং নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ না করে। কেননা নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করলে তা সত্য পথ হতে বিচ্যুত করে দেবে। আর এ কারণে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।



সংশয় নিরসন :



(وَظَنَّ دَاو۫دُ اَنَّمَا فَتَنَّاھُ)



‘আর দাঊদ বুঝতে পারলেন যে, আমি তাকে পরীক্ষা করেছি।’ উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে জালালাইনে বলা হয়েছে, ‘অর্থাৎ উক্ত মহিলার প্রতি আসক্তির মাধ্যমে আমরা তাকে পরীক্ষায় ফেলেছি।’ ভিত্তিহীন এ তাফসীরের মাধ্যমে নাবীগণের উচ্চ মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। বিশেষ করে দাঊদ (আঃ)-এর মত একজন রাসূলের ওপরে পরনারীর প্রতি আসক্ত হওয়ার অমার্জনীয় অপবাদ আরোপ করা হয়েছে। অথচ এটি পরিষ্কারভাবে ইয়াহূদী-খ্রিস্টানদের বানোয়াট গল্প ব্যতীত কিছুই নয়।



সূরা সোয়াদ-এর সিজদার বিধান



এ সিজদাহ জরুরী নয়, এটা সিজদায়ে শোকর। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন : এখানে সিজদাহ্ বাধ্যতামূলক নয়। তিনি বলেন : তবে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এতে সিজদাহ্ করতে দেখেছি। (সহীহ বুখারী হা. ১০৬৯)



ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এখানে সিজদাহ্ করার পর বলেন : দাঊদ (আঃ)-এর জন্য এ সিজদাহ্ ছিল তাওবার এবং আমাদের জন্য এ সিজদাহ্ হলো শোকরের।” (সহীহ বুখারী হা. ১০৬৯)



আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা মিম্বারের ওপর সূরা সোয়াদ পাঠ করেন। সিজদার আয়াত পর্যন্ত পৌঁছে তিনি মিম্বার হতে অবতরণ করেন ও সিজদাহ্ করেন। তাঁর সাথে অন্যান্য সবাই সিজদাহ্ করেন।



অন্য একদিন তিনি মিম্বারের ওপর এ সূরাটি পাঠ করেন। যখন তিনি সিজদার আয়াতে পৌঁছেন তখন সকলে সিজদার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তখন তিনি বলেন : এটা ছিল দাঊদ (আঃ)-এর তাওবার সিজদাহ্, তোমরাও সিজদার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছ? অতঃপর তিনি মিম্বার হতে নেমে সিজদাহ্ করেন। (আবূ দাঊদ হা. ১৪১০)



তিলাওয়াতে সিজদার বিধান সম্পর্কে সূরা আল আ‘রাফ-এ আলোচনা করা হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন যদিও কাফির-মুশরিকরা মনে করে যে, আকাশ ও জমিন অনর্থক সৃষ্টি করা হয়েছে তথাপি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি। এগুলো যথাযথ কারণেই সৃষ্টি করা হয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,



(أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنٰكُمْ عَبَثًا وَّأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُوْنَ‏)‏



‘তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না?’ (সূরা মু’মিনূন ২৩ : ১১৫)



এগুলো সৃষ্টি করার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষা করা, কে সৎ কর্ম করে আর কে অসৎ কর্ম করে? যাতে করে তিনি সৎ কর্মপরায়ণদেরকে জান্নাতে এবং অসৎ কর্মপরায়ণদেরকে জাহান্নামে দিতে পারেন। কারণ উভয়ের প্রাপ্তি সমান হতে পারে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. পর্বতমালা, বিহংগকুলসহ সবকিছুই আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করে।

২. দাঊদ (আঃ)-এর মর্যাদা সম্পর্কে জানা গেল।

৩. সদা-সর্বদা ন্যায় বিচার করতে হবে। কখনো জুলুম করা যাবে না।

৪. নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে কোন কাজ করা যাবে না।

৫. অনিয়ম দেখলে প্রকৃত অবস্থা জানা পর্যন্ত সবর করা উচিত।

৬. যারা আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যে শারীরিক ও আন্তরিকভাবে সুদৃঢ় আল্লাহ তা‘আলা তাদের গুণাগুণ বর্ণনা করেন।

৭. ইসতিগফার, ইবাদত বিশেষ করে সালাত পাপসমূহ মোচন করে দেয়।

৮. কেউ কারো ওপর জুলুম করলে সে বলতে পারবে যে, অমুক ব্যক্তি আমার ওপর জুলুম করেছে।

৯. স্বাভাবিক ভীতি নবুওয়াতের ও ওলীত্বের পরিপন্থী নয়।

১০. ন্যায় প্রতিষ্ঠাই ইসলামী রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

১১. দায়িত্বশীল নিয়োগের জন্য সর্বপ্রথম দেখার বিষয় হচ্ছে চরিত্র ও দীনদারিত্ব।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৭-২০ নং আয়াতের তাফসীর:

(আরবী) দ্বারা জ্ঞান ও আমল সম্পর্কীয় শক্তি বুঝানো হয়েছে এবং শুধু শক্তিও অর্থ হয়ে থাকে। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এখানে আনুগত্যের শক্তি উদ্দেশ্য। হযরত দাউদ (আঃ)-কে ইবাদতের শক্তি এবং ইসলামের বোধশক্তি দান করা হয়েছিল। এটা উল্লিখিত আছে যে, তিনি রাত্রির এক তৃতীয়াংশ সময় তাহাজ্জুদ নামাযে কাটিয়ে দিতেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় নামায হলো হযরত দাউদ (আঃ)-এর রাত্রির নামায এবং সবচেয়ে পছন্দনীয় রোযা হলো হযরত দাউদ (আঃ)-এর দিনের রোযা। হযরত দাউদ (আঃ) অর্ধরাত্রি শুয়ে থাকতেন এবং এক তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত নামায পড়তেন। তারপর এক ষষ্ঠাংশ রাত পর্যন্ত আবার ঘুমিয়ে থাকতেন। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন রোযাহীন অবস্থায় থাকতেন। আর দ্বীনের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে কখনো পৃষ্ঠ প্রদর্শন করতেন না। আর সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার প্রতি আকৃষ্ট হতেন এবং তাঁর দিকে রুজু করতেন।”

মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে, এরা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে পর্বতমালা! তোমরা দাউদ (আঃ)-এর সঙ্গে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং বিহংগকুলকেও।” (৩৪:১০) আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ অনুযায়ী হযরত দাউদ (আঃ)-এর সাথে পর্বতমালা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো। অনুরূপভাবে পক্ষীকুলও তার শব্দ শুনে তাঁর সাথে আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করতে শুরু করতো। উড়ন্ত পাখী তার পার্শ্ব দিয়ে গমন করতো। ঐ সময় তিনি তাওরাত পাঠ করলে তার সাথে পাখীরাও তাওরাত পাঠে নিমগ্ন হয়ে পড়তো এবং উড়া বন্ধ করে বসে যেতো।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) মক্কা বিজয়ের দিন চাশতের সময় হযরত উম্মে হানী (রাঃ)-এর ঘরে আট রাকআত নামায পড়েন।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমার ধারণা এই যে, এটাও নামাযের সময়। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “তারা তার সাথে সকাল-সন্ধ্যায় আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতো।”

আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে নাওফিল (রাঃ) বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) চাশতের নামায পড়তেন না। আমি একদা তাঁকে হযরত উম্মে হানী (রাঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম এবং তাকে বললামঃ একে আপনি ঐ হাদীসটি শুনিয়ে দেন যা আমাকে শুনিয়েছিলেন। তখন হযরত উম্মে হানী (রাঃ) বললেনঃ “মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার বাড়ীতে আমার কাছে আসলেন এবং এসে একটি বরতনে পানি ভর্তি করিয়ে নিলেন। অতঃপর কাপড়ের পর্দা করে নিয়ে গোসল করতে বসলেন। এরপর ঘরের এক কোণে পানি ছিটিয়ে দিয়ে চাশতের আট রাকআত নামায আদায় করলেন। এতে তার কিয়াম, রুকূ', সিজদা এবং উপবেশন প্রায় সমান ছিল।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হাদীসটি শুনে যখন সেখান হতে বেরিয়ে আসলেন তখন তিনি বলতে লাগলেনঃ “আমি কুরআন কারীম সম্পূর্ণটাই পাঠ করেছি, কিন্তু চাশতের নামায কি তা আমি জানতাম না। আজ জানলাম যে, এটা (আরবী)-এই আয়াতের মধ্যেই রয়েছে। ইশরাক দ্বারা চাশতকে বুঝানো হয়েছে। এরপর তিনি তাঁর পূর্ব উক্তি হতে ফিরে আসেন।

মহান আল্লাহ বলেন যে, পক্ষীকুলও হযরত দাউদ (আঃ)-এর সাথে আল্লাহর তাসবীহ পাঠে অংশ নিতো।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমি দাউদ (আঃ)-এর রাজ্যকে সুদৃঢ় করেছিলাম। বাদশাহদের যতগুলো জিনিসের প্রয়োজন সবই তাঁকে দেয়া হয়েছিল। প্রত্যহ চার হাজার রক্ষী বাহিনী তার পাহারায় নিযুক্ত থাকতো। পূর্বযুগীয় কোন কোন। গুরুজন হতে বর্ণিত আছে যে, পালাক্রমে প্রতি রাত্রে তেত্রিশ হাজার প্রহরী পাহারা দিতো এবং এক রাত্রে যারা পাহারা দিতো, এক বছর পর্যন্ত তাদের আর পালা আসতো না। চল্লিশ হাজার লোক সর্বক্ষণ তার খিদমতে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় প্রস্তুত থাকতো।

একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, হযরত দাউদ (আঃ)-এর যুগে বানী ইসরাঈলের দু’জন লোকের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একজন অপরজনকে এই অপবাদ দেয় যে, সে তার গরু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে। অপর ব্যক্তি এ অপরাধ অস্বীকার করে। হযরত দাউদ (আঃ) বাদীর নিকট প্রমাণ তলব করেন। কিন্তু সে প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ হয়। হযরত দাউদ (আঃ) তখন তাদেরকে বললেনঃ “আগামীকাল তোমাদের বিচার মীমাংসা করা হবে।` রাত্রে হযরত দাউদ (আঃ)-কে স্বপ্নে হুকুম দেয়া হয় যে, তিনি যেন বাদী লোকটিকে হত্যা করেন। সকালে তোক দু'টিকে ডাকিয়ে নিয়ে হযরত দাউদ (আঃ) বাদীকে হত্যা করার আদেশ জারি করেন। তখন বাদী লোকটি বলেঃ “হে আল্লাহর নবী (আঃ)! আপনি আমাকেই হত্যা করার নির্দেশ দিলেন, অথচ এ লোকটি আমার গরু গসব করে নিয়েছে।” তখন তিনি বললেনঃ “দেখো, এটা আমার হুকুম নয়, বরং আল্লাহর ফায়সালা। সুতরাং এ হুকুম টলতে পারে না। অতএব তুমি প্রস্তুত হয়ে যাও।` সে তখন বললোঃ “হে আল্লাহর নবী (আঃ)! আল্লাহর শপথ! আমি যা দাবী করেছি সেই কারণে আল্লাহ আমাকে হত্যা করার নির্দেশ আপনাকে দেননি। এবং সে যে আমার গরু গসব করে নিয়েছে এ দাবীতে আমি অবশ্যই সত্যবাদী। বরং আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়ার কারণ শুধু আমিই জানি। ব্যাপার এই। যে, আজ রাত্রে আমি এ লোকটির পিতাকে প্রতারিত করে হত্যা করেছি এবং এটা আমি ছাড়া আর কেউই জানে না। এরই প্রতিশোধ হিসেবে আল্লাহ আপনাকে আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তাকে হত্যা করে দেয়া হলো। এ ঘটনার পর প্রত্যেকের অন্তরে হযরত দাউদ (আঃ)-এর ভীতি স্থাপিত হলো।

এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি তাকে হিকমত দিয়েছিলাম। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এখানে হিকমত অর্থ বোধশক্তি, জ্ঞান ও নিপুণতা। মুররাহ (রঃ) বলেন যে, এখানে হিকমত অর্থ ন্যায়পরায়ণতা ও সঠিকতা। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর-অর্থ হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাতে যা রয়েছে। তার অনুসরণ। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, এখানে হিকমতের অর্থ হলো নবুওয়াত।

মহান আল্লাহর উক্তিঃ আর আমি তাকে দিয়েছিলাম ফায়সালাকারী বাগ্মিতা অর্থাৎ বিবাদ মীমাংসার সুন্দর নীতি। যেমন সাক্ষী নেয়া, কসম খাওয়ানো। অর্থাৎ বাদীর নিকট সাক্ষ্য-প্রমাণ চাওয়া এবং বিবাদীর নিকট হতে শপথ নেয়া। ফায়সালার জন্যে নবীদের (আঃ) ও সৎ লোকদের পন্থা এটাই ছিল। এই উম্মতের মধ্যেও এই পন্থাই চালু আছে। হযরত দাউদ (আঃ) মুকদ্দমার গভীরে পৌঁছে যেতেন এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন। তাঁর মুখের ভাষাও খুব পরিষ্কার ছিল এবং তিনি হুকুমও দিতেন ইনসাফ মুত্যবিক। তিনিই (আরবী) কথার সূচনা করেন এবং (আরবী) ঐ দিকেই ইঙ্গিত করছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।