আল কুরআন


সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 84)

সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 84)



হরকত ছাড়া:

إذ جاء ربه بقلب سليم ﴿٨٤﴾




হরকত সহ:

اِذْ جَآءَ رَبَّهٗ بِقَلْبٍ سَلِیْمٍ ﴿۸۴﴾




উচ্চারণ: ইযজাআ রাব্বাহূবিকালবিন ছালীম।




আল বায়ান: যখন সে বিশুদ্ধচিত্তে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৪. স্মরণ করুন, যখন তিনি তার রবের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন বিশুদ্ধচিত্তে(১);




তাইসীরুল ক্বুরআন: সে যখন তার প্রতিপালকের কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে হাজির হল,




আহসানুল বায়ান: (৮৪) স্মরণ কর, সে তার প্রতিপালকের নিকট সুস্থ হৃদয়ে উপস্থিত হয়েছিল;



মুজিবুর রহমান: স্মরণ কর, সে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল বিশুদ্ধ চিত্তে।



ফযলুর রহমান: (স্মরণ করো) যখন সে খাঁটি অন্তরে তার প্রভুর দরবারে হাজির হয়েছিল।



মুহিউদ্দিন খান: যখন সে তার পালনকর্তার নিকট সুষ্ঠু চিত্তে উপস্থিত হয়েছিল,



জহুরুল হক: স্মরণ কর! তিনি তাঁর প্রভুর কাছে এসেছিলেন বিশুদ্ধ চিত্ত নিয়ে, --



Sahih International: When he came to his Lord with a sound heart



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৪. স্মরণ করুন, যখন তিনি তার রবের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন বিশুদ্ধচিত্তে(১);


তাফসীর:

(১) সুদ্দী বলেন, অর্থাৎ শির্কমুক্ত হয়ে আল্লাহর কাছে আসলেন। [তাবারী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৪) স্মরণ কর, সে তার প্রতিপালকের নিকট সুস্থ হৃদয়ে উপস্থিত হয়েছিল;


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮৩-৯৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তার প্রিয় বান্দা ও বন্ধু ইব্রাহীম (আঃ) কর্তৃক তাঁর পিতা ও সম্প্রদায়ের কাছে দা‘ওয়াত এবং তাদের প্রতিমাগুলোকে ভাঙ্গার ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতাকে যেভাবে দা‘ওয়াত দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে সূরা মারইয়াম-সহ অন্যান্য সূরাতেও আলোচনা করা হয়েছে।



شِيْعَة এর অর্থ দল, স্বমতাবলম্বী ও অনুসরণকারী। অর্থাৎ ইবরাহীম (আঃ) দীনদার ও তাওহীদবাদীদের সে দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা নূহ (আঃ)-এর মতই আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভের বিশেষ তাওফীক পেয়েছিলেন।



ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পিতা ও জাতিকে জিজ্ঞাসা করলেন; তোমরা কিসের ইবাদত করছ? নিজেরা মূর্তি তৈরি করে তাকেই মা‘বূদ বানিয়ে নিয়েছ? এরা তো প্রকৃতপক্ষে ইবাদতের যোগ্য নয়। তোমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে কী ধারণা কর? তিনি কি কোন অংশীর মুখাপেক্ষী, যে তার জন্য তোমরা তাঁর অংশী স্থাপন করছ। এরপর ইবরাহীম (আঃ) একটা সুযোগ খুঁজছিলেন- কিভাবে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া যায় যে, তারা যাদের ইবাদত করছে আসলে তাদের কোনই ক্ষমতা নেই। এমতাবস্থায় যখন তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের জাতীয় উৎসব ও খুশির দিনে তাঁকে (মেলায়) নিয়ে যাবার কথা বলেছিল তখন তিনি তাদের সাথে বের হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন- আমি অসুস্থ। আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন চিন্তা-ভাবনা করার জন্য অথবা তারা তারকারাজির পরিভ্রমণকে প্রভাবশালী মনে করত, তাদেরকে ভুল ধারণা দেয়ার জন্য। এখানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ না থাকলেও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। যার ফলে তিনি এ কথা বলেছেন। মূলত এটা মিথ্যা ছিল না। তিনি এখানে অসুস্থ বলে অন্যটি উদ্দেশ্য নিয়েছেন। অবশেষে তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁকে রেখে মেলায় চলে গেল। এ সুযোগে তিনি তাদের দেব-দেবীর ঘরে প্রবেশ করে তাদের মূর্তিগুলোকে ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন। এ সম্পর্কে সূরা ‘আম্বিয়া-’র ৫১-৭০ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. ইসলামের দিকে মানুষকে সুন্দরভাবে হিকমতের সাথে আহ্বান করা উচিত। যেমন ইবরাহীম (আঃ) তার পিতা ও জাতিকে আহ্বান করেছিলেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৩-৮৭ নং আয়াতের তাফসীর:

হযরত ইবরাহীম (আঃ) হযরত নূহ (আঃ)-এর ধর্মমতের উপরই ছিলেন। তিনি তাঁরই রীতি-নীতি ও চাল-চলনের উপর ছিলেন। তিনি তার প্রতিপালকের নিকট হাযির হয়েছিলেন বিশুদ্ধ চিত্তে। অর্থাৎ তিনি একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি আল্লাহকে সত্য বলে বিশ্বাস করতেন। কিয়ামত যে একদিন সংঘটিত হবে তা তিনি স্বীকার করতেন। মৃতকে যে পুনরুজ্জীবিত করা হবে সেটাও তিনি বিশ্বাস করতেন। শিরক ও কুফরীর তিনি ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি অপরকে তিরস্কারকারী ছিলেন না।

মহান আল্লাহ বলেন, যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে জিজ্ঞেস করেছিলঃ “তোমরা কিসের পূজা করছো?” অর্থাৎ তিনি মূর্তিপূজা ও অন্যান্য দেবদেবীর পূজার বিরোধিতা করলেন এবং সব কিছুকেই ঘৃণার চোখে দেখলেন। এজন্যেই মহান আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা কি তাহলে আল্লাহর পরিবর্তে অসত্য উপাস্য কামনা করছো, অতঃপর বিশ্বপ্রতিপালকের সম্বন্ধে তোমরা কিরূপ ধারণা পোষণ করছো?” অর্থাৎ তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের উপাসনা পরিত্যাগ কর এবং নিজেদের মিথ্যা ও অলীক মা’ৰূদদের ইচ্ছার কথা ছেড়ে দাও। অন্যথায় জেনে রেখো যে, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।