সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 5)
হরকত ছাড়া:
رب السماوات والأرض وما بينهما ورب المشارق ﴿٥﴾
হরকত সহ:
رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ مَا بَیْنَهُمَا وَ رَبُّ الْمَشَارِقِ ؕ﴿۵﴾
উচ্চারণ: রাব্বুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা-ওয়া রাব্বুল মাশা-রিক।
আল বায়ান: তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার রব এবং রব উদয়স্থলসমূহের।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫. যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও তাদের অন্তর্বর্তী সবকিছুর রব এবং রব সকল উদয়স্থলের।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যিনি আসমান, যমীন আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে এবং সকল উদয় স্থলের মালিক।
আহসানুল বায়ান: (৫) যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং ওদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুর রক্ষক, রক্ষক পূর্বাচলের।[1]
মুজিবুর রহমান: যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের অন্তবর্তী সব কিছুর রাব্ব, এবং রাব্ব সকল উদয়স্থলের।
ফযলুর রহমান: যিনি আসমানের, জমিনের ও তাদের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রভু এবং (সূর্যের) উদয়স্থলসমূহের প্রভু।
মুহিউদ্দিন খান: তিনি আসমান সমূহ, যমীনও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচলসমূহের।
জহুরুল হক: যিনি মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর এবং এদের উভয়ের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রভু, আর যিনি উদয়স্থল সমূহেরও প্রভু,
Sahih International: Lord of the heavens and the earth and that between them and Lord of the sunrises.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫. যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও তাদের অন্তর্বর্তী সবকিছুর রব এবং রব সকল উদয়স্থলের।(১)
তাফসীর:
(১) সুদ্দী বলেন, এর বহু বচনের কারণ হচ্ছে, শীত কাল এবং গ্ৰীষ্ম কালে সূর্য উদিত হওয়ার স্থানের ভিন্নতা। তিনি আরও বলেন, সারা বছরে সূর্যের ৩৬০টি উদিত হওয়ার স্থান রয়েছে, অনুরূপভাবে সূর্যস্ত যাওয়ারও অনুরূপ স্থান রয়েছে। [তাবারী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫) যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং ওদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুর রক্ষক, রক্ষক পূর্বাচলের।[1]
তাফসীর:
[1] উদ্দ্যেশ্য হল, উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের প্রতিপালক ও রক্ষক। বহুবচন এই জন্য ব্যবহার করা হয়েছে যেমন অনেকে বলেন যে, বছরের দিনসমূহের সংখ্যা পরিমাণ উদয় ও অস্তস্থল আছে। সূর্য প্রতিদিন এক উদয়স্থল থেকে উদিত হয় এবং এক অস্তস্থলে অস্তমিত হয়। সূরা রাহমানে مشرقين এবং مغربين দ্বিবচন শব্দ ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ দুই উদয়াচল এবং দুই অস্তাচল। তার অর্থ সেই দুই উদয়াচল ও অস্তাচল যেখান থেকে সূর্য গ্রীষ্ম ও শীতকালে উদিত ও অস্তমিত হয়। অর্থাৎ প্রথমটি দূরবর্তী শেষ উদয়াচল ও অস্তাচল এবং দ্বিতীয়টি নিকটবর্তী শুরুর উদয়াচল ও অস্তাচল। আর যেখানে মাশরিক ও মাগরিব একবচন বর্ণনা করা হয়েছে তার অর্থ হল দিক; যেদিক থেকে সূর্য উদিত ও যে দিকে অস্তমিত হয়। (ফাতহুল ক্বাদীর)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: নামকরণ :
الصّٰفّٰتِ শব্দটি বহুবচন, এর একবচন হল صافة অর্থ সারিবদ্ধ হয়ে থাকা। সূরায় সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকা বলতে ফেরেশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে। অত্র সূরার প্রথম আয়াত ও ১৬৫ নম্বর আয়াতে এ শব্দটি উল্লেখ রয়েছে, সেখান থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে।
এটি একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ সূরা। সূরার শুরুতে আনুগত্যশীল কয়েক শ্রেণির ফেরেশতার শপথ করে আল্লাহ তা‘আলার একত্বের কথা বলা হয়েছে, কাফির-মুশরিকরা পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করে অথচ তা সত্য-সে কথা তুলে ধরা হয়েছে। জালিমদেরকে দলবদ্ধভাবে হাশর করা হবে, ভ্রান্ত পথের অনুসৃতরা অনুসারীদেরকে দোষারোপ করবে, কিন্তু তাতে কোন উপকার হবে না, বরং সবাই জাহান্নামে যাবে, জান্নাতীদের আরাম-আয়েশের কথা এবং জাহান্নাম ও তার অধিবাসীদের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। পৃথিবীর প্রথম রাসূল নূহ (আঃ)-এর মধ্য হতে জাতির যারা মহা প্লাবন থেকে বেঁেচ গিয়েছিল এবং যারা নিমজ্জিত হয়েছিল তাদের কথা, ইবরাহীম (আঃ)-এর মূর্তি ভাঙার ঐতিহাসিক ঘটনা এবং পুত্র ইসমাঈলকে কুরবানীর ঘটনা, মূসা (আঃ) ও ফির‘আউনের ঘটনা, ইউনুস (আঃ)-এর ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। সূরার শেষের দিকে মুশরিকদের কর্তৃক ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার কন্যা বলে সাব্যস্ত করা থেকে আল্লাহ তা‘আলার পবিত্রতা ঘোষণা করা, নাবী-রাসূল ও যারা দীনের অনুসারী তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার সহযোগিতার আশ্বাস এবং সর্বশেষ যাদের আঙ্গিনায় আযাব চলে আসে তাদের সকাল যে খুবই ভয়াবহ হয় তা আলোচনা করা হয়েছে।
১-৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ (রাঃ)-সহ অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে
الصفات , الزجرات , التاليات
শব্দগুলো দ্বারা ফেরেশতাদের বুঝানো হয়েছে এবং তাদেরই তিনটি বিশেষণ উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম বিশেষণ হচ্ছে : (وَالصّٰـٓفّٰتِ صَفًّا) ‘শপথ! তাদের যারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’ الصّٰـٓفّٰتِ শব্দটি صف থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ কোন জনসমষ্টিকে এক সরল রেখায় সন্নিবেশিত করা (কুরতুবী)। তাই আয়াতের অর্থ হল সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো ফেরেশতাগণ।
অন্যত্র আল্লাহ ফেরেশতাদের সম্পর্কে বলেন :
(وَّإِنَّا لَنَحْنُ الصَّآفُّوْنَ - وَإِنَّا لَنَحْنُ الْمُسَبِّحُوْنَ)
“আর আমরা তো সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান। এবং আমরা তাসবীহ পাঠে নিয়োজিত আছি।” (সূরা সফফাত ৩৭ : ১৬৫-১৬৬)
ফেরেশতারা আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যপূর্ণ কাজে প্রাচীরের ন্যায় সারিবদ্ধ। ইবনু আব্বাস (রাঃ), হাসান বাসরী (রহঃ) প্রমুখ বলেন : ফেরেশতারা সদাসর্বদা শূন্যপথে সারিবদ্ধ হয়ে আল্লাহ তা‘আলার আদেশের অপেক্ষায় থাকে। যখনই কোন আদেশ করা হয় তখনই তা কার্যে পরিণত করে।
শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ :
আলোচ্য আয়াত থেকে জানা গেল যে, দীনের প্রত্যেক কাজে নিয়ম ও শৃঙ্খলা ও উত্তম রীতি-নীতির প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত এবং এটা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয়। বলাবাহুল্য, আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত হোক আর তাঁর অন্য যে-কোন আদেশ পালন হোক, সারিবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে এলোমেলোভাবে একত্রিত হয়েও ফেরেশতারা করতে পারত। কিন্তু এহেন বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে তাদেরকে সারিবদ্ধ হওয়ার কথা বলে উক্ত গুণটিকে উত্তম এবং প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সালাতে সারিবদ্ধ বা কাতারবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব : বস্তুত অত্র আয়াতে মানবজাতিকেও ইবাদতের সময় সারিবদ্ধ হওয়ার প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে এবং জোর তাকিদ দেওয়া হয়েছে।
সাহাবী হুযাইফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : তিনটি বিষয়ে আমাদেরকে সকল মানুষের ওপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আমাদের কাতারগুলোকে করা হয়েছে ফেরেশতাদের কাতারের মতো। সমস্ত জমিনকে আমাদের জন্য মাসজিদ (সিজদা দেয়ার উপযুক্ত) করে দেয়া হয়েছে এবং এর মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্র করে দেয়া হয়েছে যখন পানি না পাওয়া যাবে। (সহীহ মুসলিম হা. ৫২২)
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : “ফেরেশতারা তাদের প্রতিপালকের সামনে যেভাবে দণ্ডায়মান হয় তোমরা সালাতে সেভাবে দণ্ডায়মান হও না কেন? সাহাবীগণ বলেন : আমরা বললাম, ফেরেশতারা কিভাবে দণ্ডায়মান হয়? তিনি বললেন : তাঁরা প্রথম কাতার পরিপূর্ণ করে নেয় এবং কাতারগুলোকে মিলিয়ে নেয়।” (সহীহ মুসলিম হা. ৪৩০)
ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতে আমাদের কাঁধের ওপর হাত রেখে বলতেন সোজা হও, আগ পিছ থেকো না। অন্যথায় তোমাদের অন্তরে অনৈক্য সৃষ্টি হবে। (সহীহ মুসলিম হা. ৪৩২) সুতরাং সালাতে কাতার পূর্ণ করা এবং সোজা করার গুরুত্ব অপরিসীম। এটা ঐক্যের প্রতীক, ভেদাভেদ দূরীকরণের মাধ্যম এবং ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টির উপায়।
দ্বিতীয় বিশেষণ হচ্ছে : الزّٰجِرٰتِ এটা زجر থেকে উৎপন্ন। অর্থ হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া, ধমক দেয়া। এ বলে এখানে সে সকল ফেরেশতাদের বিশেষণ বর্ণনা করা হয়েছে যারা মেঘমালা হাঁকিয়ে নিয়ে যায়। অথবা যে সকল ফেরেশতারা বিভিন্ন ওয়াজ নসিহত এবং নাবীদের কাছে যে ওয়াহী করা হয় তার মাধ্যমে মাখলুককে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কাজ হতে বাধা দেয়।
তৃতীয় বিশেষণ হচ্ছে : التَّالِيَاتِ দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার যিক্র আদায়কারী ও কালাম তেলাওয়াতকারী ফেরেশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে। যারা সকাল সন্ধ্যায় উক্ত কাজে নিয়োজিত।
আল্লাহ তা‘আলা এ সকল আনুগত্যশীল ফেরেশতাদের শপথ করে বলছেন, তোমাদের প্রতিপালক একক, তাঁর কোন শরীক নেই। এভাবে শপথ করে আল্লাহ তা‘আলার এককত্ব বা তাওহীদের বাণী উল্লেখ করার কারণ হল মক্কার মুশরিকরা বহু মা‘বূদে বিশ্বাসী এবং একজন মা‘বূদ হওয়া অস্বীকার করত ও এতে আশ্চর্যবোধ করত।
যেমন আল্লাহ বলেন :
(أَجَعَلَ الْاٰلِهَةَ إلٰهًا وَّاحِدًا ﺊ إِنَّ هٰذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ)
“সে কি বহু উপাস্যের স্থানে একজন মাত্র উপাস্য সাব্যস্ত করে দিয়েছে? বস্তুত এটা এক আশ্চর্য ব্যাপার।” (সূরা সোয়াদ ৩৮ : ৫)
আল্লাহর এককত্বের প্রমাণস্বরূপ পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তিনি আসমান ও জমিন এবং উভয়ের মাঝে অবস্থিত সব কিছুর প্রতিপালক এবং তিনি সকল উদয় স্থলের প্রতিপালক।” সুতরাং মা‘বূদ একজন, আর তিনি হলেন আল্লাহ।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَإِلٰهُكُمْ إِلٰهٌ وَّاحِدٌ ج لَآ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ)
“আর তোমাদের মা‘বূদ একমাত্র আল্লাহ। তিনি ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা‘বূদ নেই। তিনি করুণাময়, অতি দয়ালু।” (সূরা বাকারাহ ২ : ১৬৩)
অতএব যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্যান্য দেব-দেবীর পূজা করে সেসব দেব-দেবী প্রকৃত মা‘বূদ নয়, তারা ইবাদত পাওয়ার হকদার নয়। ইবাদত পাওয়ার প্রকৃত হকদার হলেন তিনি যিনি আকাশ ও জমিনসহ সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনিই হচ্ছেন আল্লাহ তা‘আলা। তাই আমরা তাঁর ইবাদত করব, অন্য কারো নয়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. ফেরেশতারা যেভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে মিলিয়ে দাঁড়ায় অনুরূপ মানুষেরও উচিত সালাতে একজন অপরজনের সাথে মিলে দাঁড়ানো, মাঝখানে কোন ফাঁকা না রাখা।
২. সকল কিছুর প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই।
৩. ফেরেশতারা যেভাবে সুন্দর করে দায়িত্ব পালন করে মানুষেরও উচিত অনুরূপ সুন্দরভাবে আল্লাহ তা‘আলার দেয়া দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করা।
৪. সকল ইবাদতের হকদার একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, যেহেতু তিনিই সকল কিছুর স্রষ্টা।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে হালকাভাবে নামায পড়ার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি সূরায়ে সাফফাত পড়ে আমাদের ইমামতি করতেন।” (এ হাদীসটি ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
১-৫ নং আয়াতের তাফসীর:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, এই তিন শপথের দ্বারা ফেরেশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে। অন্যান্য গুরুজনদেরও এটাই উক্তি। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, ফেরেশতাদের সারি আকাশের উপরে রয়েছে।
হযরত হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সমস্ত মানুষের উপর তিনটি বিষয়ে আমাদেরকে মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাদের সারিকে ফেরেশতাদের সারির মত করা হয়েছে, সমগ্র যমীনকে আমাদের জন্যে মসজিদ বানানো হয়েছে এবং পানি না পাওয়া অবস্থায় মাটিকে আমাদের জন্যে অযুর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ফেরেশতারা তাঁদের প্রতিপালকের সামনে যেভাবে সারিবদ্ধ হয়ে দণ্ডায়মান হন সেই ভাবে তোমরা সারিবদ্ধ হওনা কেন?” সাহাবীগণ (রাঃ) আর করলেনঃ “ফেরেশতারা কিভাবে তাদের প্রতিপালকের সামনে কাতারবন্দী হন?” রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “তারা প্রথম সারিকে পূরণ করে নেন এবং অন্যান্য সারিগুলোকেও সম্পূর্ণভাবে মিলিয়ে নেন। (ইমাম মুসলিম (রঃ), ইমাম আবু দাঊদ (রঃ), ইমাম নাসাঈ (রঃ) এবং ইমাম ইবনে মাজাহ (রঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
(আরবী) (যারা কঠোর পরিচালক) এ আয়াতের তাফসীরে সুদ্দী (রঃ) প্রমুখ গুরুজন মেঘ-বৃষ্টিকে একদিক থেকে অন্যদিকে ধমক দিয়ে পরিচালনকারী ফেরেশতার দল অর্থে এটা ব্যবহৃত হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন। রাবী ইবনে আনাস (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, উক্ত আয়াতের ভাবার্থ হচ্ছেঃ কুরআন কারীম যে জিনিস হতে বাধা প্রদান করেছে তা থেকে তারা এক পদও অগ্রসর হন না।
(আরবী) (যারা যিকর আবৃত্তিতে রত), সুদ্দী (রঃ)-এর মতে এঁরা হলেন ঐ ফেরেশতা যারা আল্লাহ্ পয়গাম বান্দাদের নিকট আনয়ন করে থাকেন। যেমন মহান আল্লাহ্ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এবং (শপথ তাদের) যারা মানুষের হৃদয়ে পৌছিয়ে দেয় উপদেশঅনুশোচনা স্বরূপ বা সতর্কতা স্বরূপ।”
এই শপথসমূহের পর এখন যে বিষয়ের উপর শপথ করা হয়েছে তার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে ও তোমাদের সবারই সত্য ও সঠিক মা'বুদ একমাত্র আল্লাহ। যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এতোদুভয়ের অন্তর্বর্তী সব কিছুর প্রতিপালক, এবং প্রতিপালক সকল উদয়স্থলের। তিনিই আকাশের উপর তারকারাজি, চন্দ্র এবং সূর্যকে কাজে নিয়োজিত রেখেছেন, যেগুলো পূর্ব দিকে উদিত হয় ও পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। মাশরিকের উল্লেখ করে মাগরিবের ইঙ্গিত থাকার কারণে ওর উল্লেখ করা হয়নি। অন্য আয়াতে উল্লেখ করাও হয়েছে। যেমন ঘোষিত হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনিই দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের নিয়ন্তা।”(৫৫:১৭) অর্থাৎ শীতকালের ও গ্রীষ্মকালের উদয় ও অস্তের স্থানের প্রতিপালক তিনিই।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।