সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 34)
হরকত ছাড়া:
إنا كذلك نفعل بالمجرمين ﴿٣٤﴾
হরকত সহ:
اِنَّا کَذٰلِکَ نَفْعَلُ بِالْمُجْرِمِیْنَ ﴿۳۴﴾
উচ্চারণ: ইন্না-কাযা-লিকা নাফ‘আলুবিলমুজরিমীন।
আল বায়ান: অপরাধীদের সাথে আমি এমন আচরণই করে থাকি।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৪. নিশ্চয় আমরা অপরাধীদের সাথে এরূপ করে থাকি।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অপরাধীদের প্রতি আমি এ রকমই (আচরণ) করে থাকি।
আহসানুল বায়ান: (৩৪) অপরাধীদের প্রতি আমি এরূপই করে থাকি। [1]
মুজিবুর রহমান: অপরাধীদের প্রতি আমি এরূপই করে থাকি।
ফযলুর রহমান: অপরাধীদের সাথে আমি এরূপ আচরণই করি।
মুহিউদ্দিন খান: অপরাধীদের সাথে আমি এমনি ব্যবহার করে থাকি।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ এইরূপই আমরা অপরাধীদের প্রতি করে থাকি।
Sahih International: Indeed, that is how We deal with the criminals.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৪. নিশ্চয় আমরা অপরাধীদের সাথে এরূপ করে থাকি।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৪) অপরাধীদের প্রতি আমি এরূপই করে থাকি। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, সর্বপ্রকার পাপীষ্ঠদের সাথে এটাই আমার ব্যবহার। সুতরাং এখন তারা সকলে আমার শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৭-৩৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
যারা দুনিয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যকে অনুসরণ করত এবং যাদেরকে অনুসরণ করত তারা পরস্পর তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হবে এবং একে অপরকে দোষারোপ করবে- সে সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হয়েছে।
(قَالُوْآ إِنَّكُمْ كُنْتُمْ تَأْتُوْنَنَا عَنِ الْيَمِيْنِ)
এ বাক্যে الْيَمِيْنِ শব্দের একাধিক অর্থ হতে পারে। এক অর্থ শক্তি ও বল। অর্থাৎ তোমরা বেশ প্রবলভাবে আমাদের নিকট আসতে এবং বল প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে। দ্বিতীয় অর্থ হল- শপথ। তাই কেউ কেউ বলেছেন- তোমরা আমাদের নিকট শপথ করে বলতে, আমাদের ধর্মই সঠিক। অন্য আরো একটি অর্থ হল ডান, এখানে বাম দিকের কথাটিও উহ্য রয়েছে। অর্থাৎ তোমরা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করার জন্য ডান-বাম চতুর্দিক থেকে আসতে। যেমন শয়তান বলেছিল-
(ثُمَّ لَاٰتِيَنَّهُمْ مِّنْۭ بَيْنِ أَيْدِيْهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَآئِلِهِمْ ط وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شٰكِرِيْنَ)
‘‘অতঃপর আমি তাদের নিকট আসবই তাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ , ডান ও বাম দিক হতে এবং তুমি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবে না।’’ (সূরা আ‘রাফ ৭ : ১৭)
এভাবে দুর্বল লোকেরা নিজেদের ওজর আপত্তি পেশ করলে সবল লোকেরা বলবে- আরে! আমাদের দোষ দিচ্ছো কেন? তোমাদের ওপর আমাদের তো কোন ক্ষমতাই ছিল না, তোমরাই সীমালংঘন করেছিলে, তোমরা ঈমান আননি, আর এখন আমাদের দোষ দিচ্ছো? তারা হাশরের ময়দানে এবং জাহান্নামে যাওয়ার পরে এরূপ কথা কাটাকাটি করবে।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَإِذْ يَتَحَا۬جُّوْنَ فِي النَّارِ فَيَقُوْلُ الضُّعَفٰ۬ؤُا لِلَّذِيْنَ اسْتَكْبَرُوْآ إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُّغْنُوْنَ عَنَّا نَصِيْبًا مِّنَ النَّارِ - قَالَ الَّذِيْنَ اسْتَكْبَرُوْا إِنَّا كُلٌّ فِيْهَآ إِنَّ اللّٰهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ)
“যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হবে তখন দুর্বলেরা অহংকারীদেরকে বলবে : আমরা তো তোমাদেরই অনুসারী ছিলাম, এখন কি তোমরা আমাদের হতে জাহান্নামের আগুনের কোন অংশ নিবারণ করতে পারবে? দাম্ভিকেরা বলবে : আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি; নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের ফায়সালা করে ফেলেছেন।” (সূরা মু’মিন ৪০ : ৪৭-৪৮)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :
(قَالَ الَّذِيْنَ حَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ رَبَّنَا هٰ۬ؤُلَا۬ءِ الَّذِيْنَ أَغْوَيْنَا ج أَغْوَيْنٰهُمْ كَمَا غَوَيْنَا ج تَبَرَّأْنَآ إِلَيْكَ ز مَا كَانُوْآ إِيَّانَا يَعْبُدُوْنَ)
“যাদের জন্য শাস্তি অবধারিত হয়েছে তারা বলবে : হে আমাদের প্রতিপালক এদেরকেই আমরা বিভ্রান্ত করেছিলাম; এদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম যেমন আমরাও বিভ্রান্ত হয়েছিলাম; আপনার সমীপে আমরা দায়িত্ব হতে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি। এরা আমাদের ‘ইবাদত করত না।’’ (সূরা ক্বাসাস ২৮ : ৬৩) এ ছাড়াও সূরা সাবার ৩১-৩২, সূরা আহযাবের ৬৭-৬৮ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।
(فَأَغْوَيْنٰكُمْ إِنَّا كُنَّا غَاوِيْنَ)
অর্থাৎ তারা পূর্বে যে কথা অস্বীকার করে বলেছিল, তোমাদের ওপর আমাদের এমন কী জোর ছিল যে, তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম। পরবর্তীতে তা-ই স্বীকার করবে এই বলে যে- হ্যাঁ, সত্যই আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম। কিন্তু এ স্বীকারোক্তি এ সতর্কবাণীর সাথে হবে যে, এর জন্য আমাদেরকে দায়ী বা দোষী করবে না। কারণ আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম, আমরা এর জন্য তোমাদেরকেও আমাদের মতই বানাতে চেয়েছিলাম এবং তোমরা সহজেই আমাদের পথ অবলম্বন করেছিলে। যেমন শয়তানও সেদিন বলবে : “যখন বিচার কার্য সম্পন্ন হবে তখন শয়তান বলবে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি, আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি। তোমাদের ওপর আমার তো কোন আধিপত্য ছিল না, আমি কেবল তোমাদেরকে আহ্বান করেছিলাম এবং তোমরা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ কর না, তোমরা নিজেদেরই প্রতি দোষারোপ কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমাকে উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নও। তোমরা যে পূর্বে আমাকে আল্লাহর শরীক করেছিলে আমি তা অস্বীকার করছি, নিশ্চয়ই জালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা ইবরাহীম ১৪ : ২২) কিন্তু সেখানে তাদের এসকল ওযর-আপত্তি কোনই কাজে আসবে না। তাদের সকলকেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(وَلَنْ يَّنْفَعَكُمُ الْيَوْمَ إِذْ ظَّلَمْتُمْ أَنَّكُمْ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُوْنَ)
“আর আজ তোমাদের (এ অনুুতাপ) অবশ্যই কোন উপকারে আসবে না, যেহেতু তোমরা জুলুম করেছিলে। নিশ্চয়ই তোমরা তো সবাই শাস্তিতে শরীক।” (সূরা যুখরুফ ৪৩ : ৩৯)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন : “আল্লাহ বলবেন, ‘তোমাদের পূর্বে যে জিন ও মানবদল গত হয়েছে তাদের সাথে তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ কর’। যখনই কোন দল তাতে প্রবেশ করবে তখনই অপর দলকে তারা অভিসম্পাত করবে, এমনকি যখন সকলে তাতে একত্রিত হবে তখন তাদের পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল; সুতরাং এদেরকে দ্বিগুণ আগুনের শাস্তি দাও। ‘আল্লাহ বলবেন, ‘প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ রয়েছে, কিন্তু তোমরা জান না।’’ (সূরা আ‘রাফ ৭ : ৩৮)
এ সম্পর্কে সূরা আহ্যাবের ৬৭-৬৮ নম্বর, সূরা সাবা-’র ৩১-৩৩ নম্বর আয়াতে আরো আলোচনা গত হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ সকল শাস্তির আরো কারণ বর্ণনা করে বলেন, তারা যে শুধু র্শিক করত তা নয় বরং তারা আল্লাহ তা‘আলার বিধানের ব্যাপারে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, অহংকার করত এবং এ কথাও বলত যে, আমরা কি একজন কবির কথায় আমাদের মা‘বূদদেরকে পরিত্যাগ করব? সুতরাং তা কখনো হতে পারে না। যার ফলে তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার উক্ত শাস্তি বাস্তবায়িত হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. কিয়ামতের মাঠে অপরাধীরা একে অন্যকে দোষারোপ করবে কিন্তু তাতে কোনই ফায়দা হবে না।
২. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবি ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সত্যসহ প্রেরিত আল্লাহ তা‘আলার রাসূল।
৩. গর্ব-অহংকার পরিত্যাগ করতে হবে, কেননা গর্ব-অহংকার মানুষকে সত্য হতে বিমুখ করে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২৭-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করছেন যে, কাফিররা জাহান্নামের মধ্যে যেভাবে জ্বলতে থাকবে ও পরস্পর দ্বন্দ্বে ও তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হবে ঠিক তেমনিভাবে তারা কিয়ামতের মাঠে একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “দুর্বলরা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবেঃ আমরা তোমাদের অনুসারী ছিলাম, সুতরাং আজ কি তোমরা আমাদেরকে শাস্তির কিছু অংশ থেকে রক্ষা করবে না? ক্ষমতাদপীরা উত্তরে বলবেঃ আমরা নিজেরাও তো তোমাদের সাথে জাহান্নামে রয়েছি, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বান্দাদের মধ্যে প্রকৃত ফায়সালা করেছেন।”(৪০:৪৭-৪৮) আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হায়! যদি তুমি দেখতে যালিমদেরকে, যখন তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান করা হবে তখন তারা পরস্পর বাদ-প্রতিবাদ লুতে থাকবে, যাদেরকে দুর্বল মনে করা হতো তারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবেঃ তোমরা না থাকলে আমরা অবশ্যই মুমিন হতাম। যারা ক্ষমতাদর্পী ছিল তারা যাদেরকে দুর্বল মনে করা হতো তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের নিকট সৎ পথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে ওটা হতে নিবৃত্ত করেছিলাম? বস্তুতঃ তোমরাই তো ছিলে অপরাধী। যাদেরকে দুর্বল মনে করা হতো তারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবেঃ প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিবারাত্র চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলে যে, যেন আমরা আল্লাহকে অমান্য করি এবং তার শরীক স্থাপন করি। যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন অনুতাপ গোপন রাখবে এবং আমি কাফিরদের গলদেশে শৃংখল পরাবো। তাদেরকে তারা যা করতো তারই প্রতিফল দেয়া হবে।”(৩৪:৩১-৩৩) অনুরূপ বর্ণনা এখানেও রয়েছে যে, তারা তাদের নেতৃবর্গকে বলবেঃ তোমরা আমাদের ডান দিকে ছিলে। অর্থাৎ যেহেতু আমরা তোমাদের চেয়ে কম শক্তি সম্পন্ন ছিলাম এবং তোমরা আমাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিলে সেই হেতু তোমরা আমাদেরকে জোরপূর্বক ন্যায় হতে অন্যায়ের দিকে ফিরিয়ে দিতে। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, কাফিররা এ কথা শয়তানদেরকে বলবে।
কাতাদা (রঃ) বলেন যে, একথা মানুষ জ্বিনদেরকে বলবে। মানুষ তাদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদেরকে ভাল কাজ হতে ফিরিয়ে মন্দ কাজ করতে উত্তেজিত করতে, পাপের কাজকে আমাদের চোখে সুন্দর করে দেখাতে এবং ভাল ও পুণ্যের কাজকে কঠিন ও মরূপে প্রদর্শন করতে। হক হতে ফিরিয়ে দিতে এবং বাতিলের প্রতি আমাদেরকে প্রভাবিত করতে। কোন কোন সময় যখন আমাদের মনে পুণ্য কাজের প্রতি খেয়াল জাগতো তখন তোমরা প্রতারণা করে আমাদেরকে তা হতে সরিয়ে দিতে। ইসলাম, ঈমান এবং পুণ্য লাভ হতে তোমরা আমাদেরকে বঞ্চিত করেছে, তাওহীদ হতে আমাদেরকে বহু দূরে তোমরা নিক্ষেপ করেছো। তোমাদেরকে আমাদের মঙ্গলকামী ও শুভাকাঙ্ক্ষী মনে করে আমরা তোমাদেরকে আমাদের সব গোপন কথা বলেছিলাম ও তোমাদেরকে বিশ্বস্ত ভেবেছিলাম। তোমাদের কথা আমরা মেনে চলতাম এবং তোমাদেরকে ভাল মানুষ মনে করতাম।
মহান আল্লাহ শক্তিশালী নেতৃবৃন্দের উক্তি উদ্ধৃত করেনঃ বরং তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না। অর্থাৎ দুর্বলদের অভিযোগ শুনে জ্বিন ও মানুষের মধ্যে যারা নেতৃস্থানীয় ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিল তারা ঐ দুর্বলদেরকে উত্তরে বলবেঃ আমাদের কোন দোষ নেই। তোমরা নিজেরাই তো অন্যায়কারী ছিলে। তোমাদের অন্তর ঈমান হতে দূরে ছিল। কুফরী ও পাপের কাজে তোমরা সদা লিপ্ত থাকতে।
তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না। বস্তুতঃ তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়। তোমাদের মনের মধ্যে অবাধ্যতা ও দুষ্টামি ছিল। তাই তোমরা আমাদের কথা মান্য করেছিলে এবং নবীদের আনয়নকৃত সত্যকে পরিত্যাগ করেছিলে। তারা যা নিয়ে এসেছিলেন তার স্বপক্ষে তারা প্রমাণও পেশ করেছিলেন। এতদসত্ত্বেও তোমরা তাদের বিরোধিতা করেছিলে। তাই আমাদের সবারই উপর আল্লাহর আযাবের বাণী সত্যভাবে স্থির হয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আমরা তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলেছিলাম ও বিভ্রান্ত করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাও ছিলাম বিভ্রান্ত।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ তারা সবাই সেই দিন শাস্তিতে শরীক হবে। অর্থাৎ নিজ নিজ কাজ অনুযায়ী সবাই জাহান্নামী। আর অপরাধীদের প্রতি আমি এরূপই করে থাকি। যখন তাদেরকে বলা হতো যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই তখন তারা গর্বভরে বলতোঃ আমরা কি এক পাগল কবির কথায় আমাদের মা’বৃদদেরকে বর্জন করবো? অর্থাৎ তারা অহংকার ভরে তাওহীদের বাণী উচ্চারণ করতো না, যে বাণী মুমিনরা উচ্চারণ করতো।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি মানব জাতির সাথে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যে পর্যন্ত না তারা বলে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই সে ইসলামের হক ছাড়া তার মাল ও জান আমা হতে বাঁচিয়ে নিবে এবং তার হিসাব মহামহিমান্বিত আল্লাহর নিকট রয়েছে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
এ বিষয়টিই আল্লাহর কিতাবেও রয়েছে এবং এক অহংকারী সম্প্রদায়ের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যে, তারা এ কালেমা উচ্চারণ করতে গর্বভরে অস্বীকার করছিল।
আবুল আ'লা (রাঃ) বলেন যে, কিয়ামতের দিন ইয়াহূদীদেরকে আনয়ন করা হবে, অতঃপর তাদেরকে বলা হবেঃ “তোমরা দুনিয়াতে কার ইবাদত করতে?” উত্তরে তারা বলবেঃ “আমরা আল্লাহর এবং উযায়ের (আঃ)-এর ইবাদত কাম।” তখন তাদেরকে বাম পাশে রাখার নির্দেশ দেয়া হবে। তারপর খৃষ্টানদেরকে এনে জিজ্ঞেস করা হবেঃ “তোমরা কার ইবাদত করতে?” তারা উত্তর দিবেঃ “আমরা আল্লাহর ও ঈসা (আঃ)-এর ইবাদত করতাম।” এদেরকেও বাম পাশে রাখার হুকুম করা হবে। এরপর মুশরিকদেরকে আনয়ন করে বলা হবেঃ “আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই।” তখন তারা অহংকার করবে। তিনবার তাদেরকে এ কথা বলা হবে এবং তিনবারই তারা অহংকার প্রকাশ করবে। তাদেরকেও বাম দিকে রাখার নির্দেশ দেয়া হবে। আবু নাযা (রাঃ) বলেন যে, তাদেরকে পাখীর চেয়েও বেশী দ্রুতগতিতে নিয়ে যাওয়া হবে। আবুল আ'লা (রাঃ) বলেন যে, এরপর মুসলিমদের আনয়ন করা হবে এবং তাদেরকে প্রশ্ন করা হবেঃ “তোমরা কার ইবাদত করতে?” তারা জবাবে বলবেঃ “আমরা আল্লাহ তাআলার ইবাদত করতাম। তখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ “তোমরা তাঁকে দেখলে চিনতে পারবে কি?` তারা উত্তর দিবেঃ “হ্যা পারবো।” আবার তাদেরকে প্রশ্ন করা হবেঃ “তোমরা তো তাঁকে দেখোনি, সুতরাং কি করে তাঁকে চিনতে পারবে?” তারা উত্তর দিবেঃ “আমরা জানি যে, কেউই তার সমকক্ষ নয়।” তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাদেরকে স্বীয় পরিচয় প্রদান করবেন এবং তাদেরকে মুক্তি দিবেন।
কাফির ও মুশরিকরা কালেমায়ে তাওহীদ শুনে উত্তর দিতোঃ “আমরা কি একজন কবি ও পাগলের কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করবো?” অর্থাৎ তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে কবি ও পাগল বলে আখ্যায়িত করতো। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মিথ্যাবাদী প্রমাণিত করতঃ তাদের মত খণ্ডন করে বলেনঃ “বরং এই নবী (সঃ) সত্য নিয়ে এসেছে এবং সমস্ত রাসূলকে সে সত্য বলে স্বীকার করেছে। অন্যান্য নবীরা (আঃ) ইতিপূর্বে এই নবী (সঃ) সম্বন্ধে যে গুণাবলী ও পবিত্রতার বর্ণনা দিয়েছিলেন যেসবের সঠিক প্রমাণ তিনি নিজেই। পূর্ববর্তী নবীগণ (আঃ) যেসব হুকুম বর্ণনা করেছেন, তিনিও সেসবেরই বর্ণনা দিয়ে থাকেন। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী সঃ)! তোমাকে ঐ কথাই বলা হচ্ছে যা তোমার পূর্ববর্তী রাসূলদেরকে (আঃ) বলা হয়েছিল।”(৪১:৪৩)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।