সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 153)
হরকত ছাড়া:
أصطفى البنات على البنين ﴿١٥٣﴾
হরকত সহ:
اَصْطَفَی الْبَنَاتِ عَلَی الْبَنِیْنَ ﴿۱۵۳﴾ؕ
উচ্চারণ: আসতাফাল বানা-তি ‘আলাল বানীন।
আল বায়ান: তিনি কি পুত্রসন্তানদের উপর কন্যা সন্তানদের বেছে নিয়েছেন?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৫৩. তিনি কি পুত্ৰ সন্তানের পরিবর্তে কন্যা সন্তান পছন্দ করেছেন?
তাইসীরুল ক্বুরআন: তিনি কি পুত্রদের চেয়ে কন্যাদেরকেই বেশি পছন্দ করেছেন?
আহসানুল বায়ান: (১৫৩) তিনি কি পুত্রসন্তানের পরিবর্তে কন্যাসন্তান পছন্দ করেছেন? [1]
মুজিবুর রহমান: তিনি কি পুত্র সন্তানের পরিবর্তে কন্যা সন্তান পছন্দ করতেন?
ফযলুর রহমান: তিনি কি (তাহলে) পুত্রের চেয়ে কন্যা বেশি পছন্দ করেছেন?
মুহিউদ্দিন খান: তিনি কি পুত্র-সন্তানের স্থলে কন্যা-সন্তান পছন্দ করেছেন?
জহুরুল হক: তিনি কি কন্যাদের পছন্দ করেছেন পুত্রদের পরিবর্তে?
Sahih International: Has He chosen daughters over sons?
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৫৩. তিনি কি পুত্ৰ সন্তানের পরিবর্তে কন্যা সন্তান পছন্দ করেছেন?
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৫৩) তিনি কি পুত্রসন্তানের পরিবর্তে কন্যাসন্তান পছন্দ করেছেন? [1]
তাফসীর:
[1] অথচ তারা নিজেদের জন্য কন্যাসন্তান নয়; বরং পুত্রসন্তান পছন্দ করে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৪৯-১৬০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
যে সকল কাফির-মুশরিক ফেরেশতাদের ইবাদত করত এবং তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার কন্যা সন্তান মনে করত বা এখনো এরূপ মনে করে তাদের বিশ্বাসকে খন্ডন করে দলীল পেশ করা হয়েছে। প্রথমত তাদের এ বিশ্বাস স্বয়ং তাদের প্রচলিত প্রথা-পদ্ধতির দিক দিয়ে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। কারণ, তারা কন্যা-সন্তানকে লজ্জার কারণ মনে করে। যে বস্তু নিজেদের জন্য লজ্জাজনক তা আল্লাহ তা‘আলার জন্য কেন লজ্জাজনক হবে না? তাদের কাছে এর কোন প্রমাণ আছে কি? কোন দাবী প্রতিষ্ঠার জন্য তিন রকম দলীল হতে পারে- ১. চাক্ষুষ প্রমাণ ২. ইতিহাস ভিত্তিক প্রমাণ অর্থাৎ এমন ব্যক্তির উক্তি যা সর্বজন স্বীকৃত। ৩. যুক্তিভিত্তিক দলীল। প্রথমোক্ত দলীল নিশ্চিত অনুপস্থিত, কারণ আল্লাহ তা‘আলা যখন ফেরেশতা সৃষ্টি করেন তখন তারা উপস্থিত ছিলো না। কাজেই ফেরেশতাগণ যে নারী, তা জানা সম্ভব নয়। সুতরাং তারা যেসব কথা বলে তা মনগড়া ও মিথ্যা।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী,
(أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنْثٰي - تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيْزٰي)
“তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র, আর তাঁর জন্য কন্যা সন্তান? এই প্রকার বন্টন তো অসঙ্গত।” (সূরা নাজ্ম ৫৩ : ২১-২২)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(أَفَأَصْفَاكُمْ رَبُّكُمْ بِالْبَنِيْنَ وَاتَّخَذَ مِنَ الْمَلٰ۬ئِكَةِ إِنَاثًا ط إِنَّكُمْ لَتَقُوْلُوْنَ قَوْلًا عَظِيْمًا)
‘‘তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে পুত্র সন্তানের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি কি নিজে ফেরেশতাদেরকে কন্যারূপে গ্রহণ করেছেন? তোমরা তো নিশ্চয়ই ভয়ানক কথা বলে থাক!” (সূরা বানী ইসরা-ঈল ১৭ : ৪০)
এ সম্পর্কে পূর্বে সূরা নাহ্ল-এর ৫৭-৫৯ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে। অতএব আল্লাহ তা‘আলা যে-সকল দোষত্র“টি থেকে মুক্ত সে-সকল দোষত্র“টি থেকে তাঁকে মুক্ত ঘোষণা করতে হবে, আর পবিত্রতার সাথে তাসবীহ বর্ণনা করতে হবে।
(وَجَعَلُوْا بَيْنَه۫ وَبَيْنَ الْجِنَّةِ نَسَبًا)
এখানে মুশরিকদের ঐ বিশ্বাসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তারা মনে করত- আল্লাহ তা‘আলা ও জিনদের মাঝে একটি দাম্পত্য সম্পর্ক রয়েছে।
ফেরেশতারা হল কন্যা, আর তাদের মাতা হল জিনেরা। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা ও জিনদের মাঝে বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছে। অথচ এ উক্তি কিভাবে সত্য হতে পারে? যদি তা-ই করা হতো তাহলে জিনদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কী জন্য তাঁর সামনে উপস্থিত করবেন, কী জন্য তাদের থেকে ভাল-মন্দ কাজের হিসাব নেবেন। তিনি কি আত্মীয়তা সম্পর্ক খেয়াল রাখবেন না? স্বয়ং জিনেরাও অবগত আছে যে, তাদেরকেও তাদের অপরাধের কারণে পাকড়াও করা হবে। সুতরাং কিভাবে জিনদের মাঝে ও আল্লাহ তা‘আলার মাঝে আত্মীয়তা সম্পর্ক থাকতে পারে? তাই তারা আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে যে সকল অশালীন কথা-বার্তা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র।
(إِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِيْنَ)
অর্থাৎ কেবল আল্লাহ তা‘আলার বিশুদ্ধ বান্দারাই আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে এমন কথা বলে না যা তাঁর শানে উপযোগী নয়। এ ক্ষেত্রে মু’মিনরাই স্বচ্ছ ও নির্ভেজাল প্রমাণভিত্তিক আকীদাহ পোষণ করে থাকে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার কোন সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী-পরিজন নেই।
২. যারা আল্লাহ তা‘আলার জন্য সন্তান নির্ধারণ করে তারা র্শিক করল। আর আল্লাহ তা‘আলা সর্ব প্রকার শরীক থেকে মুক্ত।
৩. ফেরেশতারা আল্লাহ তা‘আলার সন্তান নয়, বরং তাঁর একান্ত অনুগত বান্দা।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৪৯-১৬০ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের অহমিকার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা নিজেদের জন্যে তো পুত্র সন্তান পছন্দ করছে, আর আল্লাহর জন্যে নির্ধারণ করছে কন্যা সন্তান। তাদের কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে শুনলে তাদের মুখ কালো হয়ে যায়, অথচ তারা আল্লাহর জন্যে ওটাই সাব্যস্ত করে। তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ তাদেরকে জিজ্ঞেস কর তো যে, এটা কি ধরনের বন্টন যে, তোমাদের জন্যে তো পুত্র সন্তান, আর আল্লাহর জন্যেই রয়েছে কন্যা সন্তান?
এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ আমি কি ফেরেশতাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছিলাম, আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে? যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা ঐ ফেরেশতাদেরকে নারী রূপে সাব্যস্ত করেছে যারা রহমানের (আল্লাহর) বান্দা, তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে? সত্বরই তাদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তারা জিজ্ঞাসিত হবে।”(৪৩:১৯) প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের মিথ্যা উক্তি মাত্র যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে, অথচ তিনি সন্তান থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র। এর ফলে তাদের তিনটি মিথ্যা ও তিনটি কুফরী পরিলক্ষিত হয়। (এক) ফেরেশতারা আল্লাহর সন্তান। (দুই) তারা আবার কন্যা। (তিন) তারা নিজেরাই ফেরেশতাদের পূজা করে। পরিশেষে এমন কোন জিনিস আল্লাহকে বাধ্য করেছে যে, তিনি নিজের জন্যে পুত্র গ্রহণ করেননি, বরং গ্রহণ করেছেন কন্যা? অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তোমাদেরকে তিনি দান করেছেন পুত্র আর নিজের জন্যে ফেরেশতাদেরকে গ্রহণ করেছেন কন্যারূপে? এটা তো তোমাদের অতি নিম্ন পর্যায়ের বাজে ও ভিত্তিহীন কথা!” আরো বলা হয়েছেঃ “তোমাদের কি বিবেক বুদ্ধি নেই যে, তোমরা যুক্তিহীন কথা বলছো? তোমরা কি বুঝ না যে, আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করা খুবই বড় অপরাধ? তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? তোমাদের কি সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ আছে? যদি থেকে থাকে তবে তা পেশ কর? অথবা তোমাদের কাছে যদি কোন ঐশী বাণী থাকে তবে তাই আনয়ন কর? এটা এমনই এক বাজে কথা যে, এর স্বপক্ষে কোন জ্ঞানসম্মত ও শরীয়ত সম্মত দলীল প্রমাণ নেই। থাকতেই পারে না।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তারা আল্লাহ ও জ্বিন জাতির মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করেছে। অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তাদেরকেও শাস্তির জন্যে উপস্থিত করা হবে।
‘ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা' মুশরিকদের এই দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে হযরত আবু বকর (রাঃ) প্রশ্ন করেনঃ “তাহলে তাদের মাতা কারা?” উত্তরে তারা বলেঃ “জ্বিন প্রধানদের কন্যারা।” অথচ অবস্থা এই যে, স্বয়ং জ্বিনেরা জানে এবং বিশ্বাস করে যে, যারা এই রূপ বলে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে। তাদের মধ্যে আল্লাহর কতক শত্রু এমনই চরম পরিচয় দেয় যে, শয়তানকে তারা আল্লাহর ভাই বলে থাকে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিকা) আল্লাহ তাআলা এ থেকে আমাদেরকে নিরাপদে রাখুন! তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও বহু ঊর্ধে রয়েছেন। পরে যে ইসতিসনা বা স্বতন্ত্র করা। হয়েছে তা হলো ইসতিসনা মুনকাতি এবং তা (আরবী)-এর সাথে করা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় (আরবী) ক্রিয়া পদটির সর্বনামে সমগ্র মানব জাতিকে বুঝাবে। এতে ঐ সব লোককে পৃথক করা হবে, যারা সত্যের অনুগত এবং সমস্ত নবী রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, এই ইসতিসনা হচ্ছে (আরবী)-এর জন্যে অর্থাৎ তাদের সকলকেই আযাবে পতিত হতে হবে, কিন্তু তারা নয় যারা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা। এ উক্তিটির ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।