আল কুরআন


সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 128)

সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 128)



হরকত ছাড়া:

إلا عباد الله المخلصين ﴿١٢٨﴾




হরকত সহ:

اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الْمُخْلَصِیْنَ ﴿۱۲۸﴾




উচ্চারণ: ইল্লা-‘ইবাদাল্লা-হিল মুখলাসীন।




আল বায়ান: আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) মনোনীত বান্দাগণ ছাড়া ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২৮. তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র।




তাইসীরুল ক্বুরআন: কিন্তু আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাহদেরকে নয়।




আহসানুল বায়ান: (১২৮) তবে আল্লাহর বিশুদ্ধচিত্ত দাসদের কথা স্বতন্ত্র।



মুজিবুর রহমান: তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র।



ফযলুর রহমান: আল্লাহর বাছাইকৃত বান্দাদের ব্যতীত।



মুহিউদ্দিন খান: কিন্তু আল্লাহ তা’আলার খাঁটি বান্দাগণ নয়।



জহুরুল হক: শুধু আল্লাহ্‌র একনিষ্ঠ বান্দাদের ব্যতীত।



Sahih International: Except the chosen servants of Allah.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১২৮. তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১২৮) তবে আল্লাহর বিশুদ্ধচিত্ত দাসদের কথা স্বতন্ত্র।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১২৩-১৩২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় বান্দা ও নাবী ইলিয়াস (আঃ) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এছাড়া সূরা আন‘আমের ৮৩-৮৫ নম্বর আয়াতে ১৮ জন নাবীর তালিকায়ও তাঁর নাম রয়েছে। ইলিয়াস (আঃ) হলেন হারুন (আঃ)-এর বংশোদ্ভূত হিযক্বীল (আঃ)-এর পর এবং আল-ইয়াসা‘ (আঃ)-এর পূর্বে দামেষ্কের পশ্চিমে বা‘লাবাক্কা (بعلبك) অঞ্চলে বানী ইসলাঈলের প্রতি প্রেরিত একজন নাবী। অনেকে সে জায়াগার নাম সামেরা বলেছেন যা ফিলিস্তিনের মধ্যে পশ্চিমে অবস্থিত। সেখানকার মানুষ বা’আল (بعل) নামক এক মূর্তির উপাসনা করত। তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা‘আলার ভয় প্রদর্শন করলেন এবং মূর্তির পূজা করতে নিষেধ করলেন। তাদের সামনে স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলার অনুদান তুলে ধরলেন যে, তিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্বপরুষদেরকে সৃষ্টি করেছে, তোমাদেরকে উত্তম অবয়ব দান করেছেন। সুতরাং তোমরা সে আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে বা‘আল দেবতার ইবাদত করছ? কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁর কথায় কর্ণপাত করল না, বরং তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং শির্কের ওপর অটল রইল। অবশেষে তারা শাস্তির হক্বদার হয়ে গেল।



(إِلْ يَاسِيْنَ) ‘ইলয়াসীন’ ইলিয়াস শব্দের রূপান্তর। যেমন রূপান্তরে তুরে সাইনা-কে তুরে সীনীনও বলা হয়।



ইলয়াস (আঃ) কে কোন কোন কিতাবে ঈলিয়াও বলা হয়েছে। কুরআনের অধিকাংশ জায়গায় নাবী ও রাসূলদের বর্ণনা করার পর এ বাক্যটি ব্যবহার করা হয়েছে যে, সে আমার মু’মিন বান্দাদের একজন ছিল। এর দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে- (১) তাঁর মহান চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ, যা ঈমানের জরুরী অংশ। যাতে সে-সকল মানুষ, যারা অনেক নাবীদের চারিত্রিক দুর্বলতার কথা বলে থাকে, তাদের কথা খন্ডন হয়ে যায়। যেমন বর্তমান তাওরাত ও ইনজিলে অনেক নাবীদের বিষয়ে এরূপ মনগড়া কেচ্ছা কাহিনী বর্ণিত রয়েছে। (২) ঐ সকল মানুষের ধারণা খন্ডন, যারা অনেক নাবীদের গুণাবলীতে অতিরঞ্জিত করে, তাদের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার গুণ ও ক্ষমতা সাব্যস্ত করে। অর্থাৎ তারা অব্যশই নাবী ছিলেন, আর ছিলেন আল্লাহ তা‘আলার বান্দা বা দাস। তারা না ছিলেন মা‘বূদ, বা তাঁর অংশ, আর না ছিলেন তাঁর অংশীদার।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. বানী ইসরাঈল আহলে কিতাব হওয়া সত্ত্বেও এবং তাদের মাঝে অসংখ্য নাবী-রাসূলের আগমন সত্ত্বেও সঠিক শিক্ষা ও প্রচারের অভাবে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়েছিল। অনুরূপ মুসলিমদের মাঝে বিশুদ্ধ আকীদাহ ও আমলের প্রচার ও প্রসার না থাকায় অনেকে পীরপূজা, কবর পূজা ইত্যাদিতে লিপ্ত।

২. মানুষের মাঝে আল্লাহ তা‘আলার মহত্ত্ব ও বাতিল মা‘বূদের দুর্বলতা তুলে ধরতে হবে, তাহলে বাতিল মা‘বূদ সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর হবে।

৩. সর্বদা সমাজের কতক ন্যায়নিষ্ঠ মানুষকে তাওহীদের দাওয়াতে আত্মনিয়োগ করতে হবে। কারণ তাওহীদবিহীন কোন ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১২৩-১৩২ নং আয়াতের তাফসীর:

হযরত কাতাদা (রঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (র) বলেনঃ “বলা হয় যে, ইলিয়াস ছিল হযরত ইদরীস (আঃ)-এর নাম। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, ইলিয়াসই ছিলেন ইদরীস (আঃ)। যহাক (রঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা হযরত হাকীল নবী (আঃ)-এর পরে তাঁকে বানী ইসরাঈলের মধ্যে প্রেরণ করেন। বানী ইসরাঈল ঐ সময় ‘বা'আল’ নামক মূর্তির পূজা। করতো। হযরত ইলিয়াস (আঃ) তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকলেন এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপাসনা করতে নিষেধ করলেন। তাদের বাদশাহ তা কবুল করে নেয়। কিন্তু পরে সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে যায়। অতঃপর তারা সবাই ভ্রান্ত পথেই রয়ে যায়। তাদের কেউই তার উপর ঈমান আনলো না। আল্লাহর নবী (আঃ) তাদের উপর বদ দূআ করেন। ফলে তিন বছর ধরে সেখানে বৃষ্টিপাত বন্ধ তাকে। তখন তারা সবাই হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর কাছে এসে বলেঃ “আপনি দুআ করুন! আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হলেই আমরা কসম করে বলছি যে, আমরা ঈমান আনয়ন করবো।” হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর দু'আর ফলে আল্লাহ তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। কিন্তু এর পরেও তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে কুফরীর উপরই অটল থেকে গেল। তাদের এ আচরণ দেখে হযরত ইলিয়াস (আঃ) আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলেন যে, তাঁকে যেন আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়। হযরত ইয়াসা ইবনে উখতূব (আঃ) তাঁর নিকটই লালিত পালিত হয়েছিলেন। হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর এই দু’আর পর তাকে নির্দেশ দেয়া হলো যে, তিনি যেন অমুক নির্দিষ্ট স্থানে গমন করেন এবং সেখানে যে যানবাহন পাবেন তাতেই যেন আরোহণ করেন। যথাস্থানে পৌঁছে তিনি নূরের একটি ঘোড়া দেখতে পান এবং তাতেই আরোহণ করেন। আল্লাহ তাকেও জ্যোতির্ময় করলেন এবং পাখা প্রদান করলেন। তিনি ফেরেশতাদের সাথে স্বীয় পাখার উপর ভর করে উড়তে লাগলেন। এই ভাবে একজন মানুষ আসমানী ও যমীনী ফেরেশতায় পরিণত হয়ে গেলেন। (অহাব ইবনে মুনাব্বাহ (রঃ) আহলে কিতাব হতে এটা বর্ণনা করেছেন। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ)

মহান আল্লাহ বলেন যে, ইলিয়াস (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ “তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না যে, তাকে ছেড়ে অন্যের উপাসনা কর?” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) অর্থ হলো ‘রব’ বা প্রতিপালক। ইকরামা (রঃ) বলেন যে, এটা ইয়ামনীদের ভাষা। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এটা ইযদ শানুআদের ভাষা। ইবনে ইসহাক (রঃ) বলেন:“আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, তারা একটি মহিলার মূর্তির পূজা করতো। তার নাম ছিল বা'আল। আবদুর রহমান (রঃ) বলেন যে, ওটা একটা মূর্তি ছিল। শহরবাসীরা ওর পূজা করতো। ঐ শহরের নামও ছিল বাআলাক'। হযরত ইলিয়াস (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা সকলের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়েছে? অথচ আল্লাহ তো তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের সৃষ্টিকর্তা এবং প্রতিপালক। একমাত্র তিনিই তো ইবাদতের যোগ্য।`

প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, কাজেই তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির জন্যে উপস্থিত করা হবে। তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র ।” তাদেরকে তিনি রক্ষা করবেন।

আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ আমি ইলিয়াস (আঃ)-এর জন্যে পরবর্তী লোকদের উত্তম প্রশংসা প্রচলিত রেখেছি যে, প্রত্যেক মুসলমান তার উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ করে থাকে।

(আরবী) শব্দের দ্বিতীয় রূপ (আরবী) রয়েছে। যেমন (আরবী) কে (আরবী) বলা হয়। এটা বানু আসাদ গোত্রের ভাষা। অনুরূপভাবে (আরবী) -কে (আরবী) এবং (আরবী) কে (আরবী) বলা হয়ে থাকে। ফল কথা, এটা আরবে সুপ্রচলিত শব্দ। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর এক কিরআতে (আরবী) পড়া হয়েছে। অর্থাৎ (আরবী) বা মুহাম্মাদ (সঃ)-এর বংশধর।

মহান আল্লাহ বলেনঃ “এই ভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই সে ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্যতম।” এর তাফসীর পূর্বেই গত হয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।