আল কুরআন


সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 115)

সূরা আস-সাফফাত (আয়াত: 115)



হরকত ছাড়া:

ونجيناهما وقومهما من الكرب العظيم ﴿١١٥﴾




হরকত সহ:

وَ نَجَّیْنٰهُمَا وَ قَوْمَهُمَا مِنَ الْکَرْبِ الْعَظِیْمِ ﴿۱۱۵﴾ۚ




উচ্চারণ: ওয়া নাজ্জাইনা-হুমা ওয়া কাওমাহুমা-মিনাল কারবিল ‘আজীম।




আল বায়ান: আর আমি তাদেরকে ও তাদের কওমকে মহাসংকট থেকে নাজাত দিয়েছিলাম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১৫. এবং তাদেরকে এবং তাদের সম্প্রদায়কে আমরা উদ্ধার করেছিলাম মহাসংকট থেকে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর তাদের দু’জনকে এবং তাদের জাতিকে মহা বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম।




আহসানুল বায়ান: (১১৫) এবং তাদের ও তাদের সম্প্রদায়কে আমি মহাসংকট হতে উদ্ধার করেছিলাম। [1]



মুজিবুর রহমান: এবং তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে আমি উদ্ধার করেছিলাম মহা সংকট হতে।



ফযলুর রহমান: এবং তাদেরকে ও তাদের সমপ্রদায়কে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।



মুহিউদ্দিন খান: তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে উদ্ধার করেছি মহা সংকট থেকে।



জহুরুল হক: আর তাঁদের দুজনকে ও তাঁদের লোকদলকে আমরা ভীষণ সংকট থেকে উদ্ধার করেছিলাম।



Sahih International: And We saved them and their people from the great affliction,



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১৫. এবং তাদেরকে এবং তাদের সম্প্রদায়কে আমরা উদ্ধার করেছিলাম মহাসংকট থেকে।(১)


তাফসীর:

(১) সুদ্দী বলেন, মহাসংকট বলে ডুবে যাওয়া বুঝানো হয়েছে। [তাবারী] তবে হাসান বসরী বলেন, মহাসংকট বলে ফেরআউনের বংশধরদের বুঝানো হয়েছে। [তাবারী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১১৫) এবং তাদের ও তাদের সম্প্রদায়কে আমি মহাসংকট হতে উদ্ধার করেছিলাম। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, ফিরআউনের দাসত্ব ও তার অত্যাচার থেকে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১১৪-১২২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



এখানে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীদ্বয় মূসা ও হারূন (আঃ)-এর আলোচনা নিয়ে এসেছেন। তিনি তাঁদেরকে নবুওয়াত ও রিসালাত দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন এবং (الْكَرْبِ الْعَظِيْمِ) তথা ফির‘আউনের অত্যাচার ও দাসত্ব থেকে তাঁদেরকে নাজাত দিয়েছেন। এ সম্পর্কে পূর্বে একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে। অতএব এখানে ঐ ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১১৪-১২২ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে মহামহিমান্বিত আল্লাহ হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত হারূন (আঃ)-এর প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তার বর্ণনা দিচ্ছেন এবং তাঁদেরকে ও যেসব লোক তাঁদের সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে ফিরাউনের ন্যায় শক্তিশালী শত্রুর কবল হতে মুক্তি দেয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। সে তাদেরকে জঘন্যভাবে অবনমিত করতো এবং তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করতো ও কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখতো। ফিরাউন তাদের দ্বারা নিকৃষ্ট ও নিম্ন পর্যায়ের সেবা গ্রহণ করতো। এরূপ নিকৃষ্টতম শত্রুকে আল্লাহ তাদের চোখের সামনে ধ্বংস করে দেন এবং হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত হারূন (আঃ)-এর কওমকে বিজয় দান করেন। ফিরাউন ও তার লোকদের ভূসম্পত্তি ও ধন-দৌলতের মালিক তাদেরকে বানিয়ে দেন যেগুলো তারা যুগ যুগ ধরে জমা করে রেখেছিল।

অতঃপর মহান আল্লাহ হযরত মূসা (আঃ)-কে অতি স্পষ্ট, সত্য ও প্রকাশ্য মহাগ্রন্থ তাওরাত দান করেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-কে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী কিতাব (তাওরাত) দান করেছিলাম, যা ছিল হিদায়াত ও জ্যোতি স্বরূপ।”(২১:৪৮)।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি উভয়কে দিয়েছিলাম বিশদ কিতাব এবং তাদেরকে পরিচালিত করেছিলাম সরল পথে অর্থাৎ কথায় ও কাজে। আর আমি তাদের উভয়কে পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি। অর্থাৎ তাদের পরবর্তী লোকেরা তাঁদের প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতে থাকবে। এর ব্যাখ্যায় মহান আল্লাহ বলেনঃ সবাই তাদের উপর সালাম বর্ষণ করে থাকে।

এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরক পুরস্কৃত করে থাকি। তারা উভয়েই ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।