সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 81)
হরকত ছাড়া:
أوليس الذي خلق السماوات والأرض بقادر على أن يخلق مثلهم بلى وهو الخلاق العليم ﴿٨١﴾
হরকত সহ:
اَوَ لَیْسَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ بِقٰدِرٍ عَلٰۤی اَنْ یَّخْلُقَ مِثْلَهُمْ ؕ بَلٰی ٭ وَ هُوَ الْخَلّٰقُ الْعَلِیْمُ ﴿۸۱﴾
উচ্চারণ: আওয়া লাইছাল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়াতি ওয়াল আরদা বিকা-দিরিন ‘আলা আইঁ ইয়াখলুকা মিছলাহুম বালা- ওয়া হুওয়াল খাল্লা-কুল ‘আলীম।
আল বায়ান: যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, তিনিই মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞানী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮১. যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সমর্থ নন? হ্যাঁ, নিশ্চয়। আর তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যিনি আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি সেই লোকদের অনুরূপ (আবার) সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হাঁ, অবশ্যই। তিনি মহা স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
আহসানুল বায়ান: (৮১) যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি ওদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সমর্থ নন?[1] অবশ্যই। আর তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
মুজিবুর রহমান: যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
ফযলুর রহমান: যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ (অন্য কিছু) সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? অবশ্যই; তিনিই তো সর্বজ্ঞ মহাস্রষ্টা।
মুহিউদ্দিন খান: যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
জহুরুল হক: আচ্ছা, যিনি মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হাঁ, বস্তুতঃ তিনিই তো মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞাতা।
Sahih International: Is not He who created the heavens and the earth Able to create the likes of them? Yes, [it is so]; and He is the Knowing Creator.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮১. যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সমর্থ নন? হ্যাঁ, নিশ্চয়। আর তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮১) যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি ওদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সমর্থ নন?[1] অবশ্যই। আর তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ।
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, মানুষের অনুরূপ। উদ্দেশ্য হল, তিনি কি মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম নন, যেমন তাদেরকে পূর্বে সৃষ্টি করেছেন? এখানে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকেই মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়েছে। যেমন অন্য স্থানে বলেছেন {لَخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ} অর্থাৎ, মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর।’’ (সূরা মু’মিন ৫৭ আয়াত) অনুরূপ বক্তব্য সূরা আহ্কাফের ৩৩ নং আয়াতেও রয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৭-৮৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
(اَوَ لَمْ یَرَ الْاِنْسَانُ... فَاِذَآ اَنْتُمْ مِّنْھُ تُوْقِدُوْنَ)
যারা বস্তুবাদীতে বিশ্বাসী, আখিরাতকে অস্বীকার করে তাদের সংশয় ও ভ্রান্ত বিশ্বাস দূরীকরণে এ আয়াতগুলোই যথেষ্ট। মানুষকে চিন্তা করার উৎসাহ দিয়ে প্রশ্নাকারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : মানুষ কি লক্ষ্য করে না যে, আমি তাকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছি? অর্থাৎ প্রথম অবস্থায় সে দুর্বল পানি ছাড়া কিছুই ছিল না, তারপর ক্রমান্বয়ে বড় হয়েছে। অতঃপর সে হয়ে পড়ল প্রকাশ্য বিতর্ককারী। তার জানা থাকা উচিত, যিনি প্রথমবার এ সামান্য পানি থেকে সৃষ্টি করতে পেরেছেন তিনি পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম। এ সম্পর্কে সূরা নাহলের ৪ ও ৮৯ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তিনি সবুজ বৃক্ষ হতে অগ্নি উৎপাদন করেন এবং মানুষ ওটা দ্বারা আগুন প্রজ্জ্বলিত করে। বলা হয়, আরবে দুটি এমন গাছ আছে যার নাম মার্খ ও আফার। এ গাছের দুটি ডাল একত্রিত করে ঘষা দিলে তা থেকে আগুন বের হয়। এখানে সবুজ বৃক্ষ থেকে অগ্নি উৎপাদন বলে ঐ গাছের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।।
(اَوَ لَیْسَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ... کُلِّ شَیْءٍ وَّاِلَیْھِ تُرْجَعُوْنَ)
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা নিজের ব্যাপক ও সীমাহীন ক্ষমতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি মানবজাতিকে প্রশ্ন করে বলছেন : যিনি আকাশসমূহ ও জমিন এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি এরূপ আরো কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম নন?
আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(لَخَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ)
“মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টি অবশ্যই অনেক বড় কাজ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা জানে না।” (সূরা মু’মিন ৪০ : ৫৭)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللّٰهَ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلٰٓي أَنْ يُّحْيِيَ الْمَوْتٰي ط بَلٰٓي إِنَّه۫ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ)
“তারা কি এটুকুও বোঝে না, যে আল্লাহ জমিন ও আসমান সৃষ্টি করলেন এবং এগুলো সৃষ্টি করতে তিনি ক্লান্ত হননি, সেই আল্লাহ মৃত্যুকে অবশ্যই জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন নয়? নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর শক্তিশালী।” (সূরা আহকাফ ৪৬ : ৩৩)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনি যখন কোন কিছু সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন তখন শুধু বলেন, হও, আর তা হয়ে যায়। এ সম্পর্কে সূরা নাহ্ল-এর ৪০ নম্বর আয়াতসহ সূরা আল বাক্বারাহ্-তেও আলোচনা করা হয়েছে।
সুতরাং পবিত্রতা বর্ণনা করছি সে প্রতিপালকের যাঁর হাতেই সার্বভৌম ক্ষমতা আর তাঁর দিকেই সকলকে ফিরে যেতে হবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(قُلْ مَنْۭ بِيَدِه۪ مَلَكُوْتُ كُلِّ شَيْءٍ وَّهُوَ يُجِيْرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ)
“জিজ্ঞাসা কর, ‘সকল কিছুর কর্তৃত্ব কার হাতে, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর ওপর আশ্রয়দাতা নেই, যদি তোমরা জান?’’ (সূরা মু’মিনূন ২৩ : ৮৮)
হাদীসে এসেছে, হুযাইফাহ্ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাত্রে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সালাতে দাঁড়ালাম। তিনি সাত রাক‘আতে সাতটি লম্বা সূরা পাঠ করলেন। অতঃপর যখন তিনি রুকূ‘ হতে মাথা উঠালেন তখন,
سَمِعَ اللّٰهُ لِمَنْ حَمِدَهُ
এ দু‘আটি পাঠ করেন এবং এ বাক্যগুলো
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ ذِي الْمَلَكُوْتِ وَالْجَبَرُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظْمَةِ
“সেই আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা যিনি যাবতীয় ক্ষমতা, দাপট, বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের মালিক” পাঠ করেন। (মুসনাদ আহমাদ ৫ : ৩৮৮)
সুতরাং সকল কিছুর রাজত্ব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার হাতে। তিনি ব্যতীত এগুলোর মালিক ও পরিচালনাকারী আর কেউ নেই, যে এগুলোর ওপর রাজত্ব করবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. মানুষ সহজেই যে-কোন অপরাধের ব্যাপারে আপত্তি পেশ করে থাকে।
২. মানুষ মরে গলে হাড়ে পরিণত হবার পরও তাকে পুনরায় জীবিত করা হবে।
৩. সমস্ত কিছুর মালিক আল্লাহ তা‘আলা এমনকি আগুনেরও। অন্য কেউ কোন কিছুর মালিক ও স্রষ্টা হতে পারে না। ইবাদত পাওয়ার হকদার তিনিই।
৪. সকলকে মৃত্যুর পর আল্লাহ তা‘আলার নিকটই ফিরে যেতে হবে।
৫. আল্লাহ তা‘আলা কোন কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করলে শুধুমাত্র ‘হও’ বলেন, আর তা হয়ে যায়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮১-৮৩ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা নিজের ব্যাপক ও সীমাহীন ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি আসমান এবং ওর সমস্ত জিনিস সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনকে ও ওর মধ্যকার সমস্ত বস্তুকেও তিনি সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যিনি এত বড় ক্ষমতার অধিকারী তিনি মানুষের মত ছোট মাখলুককে সৃষ্টি করতে অপারগ হবেন? এটা তো জ্ঞানেরও বিপরীত কথা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অবশ্যই আসমান ও যমীন সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টি করা হতে বহুগুণে বড় ও কঠিন।” (৪০-৫৭) এখানেও তিনি বলেনঃ যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে কি সমর্থ নন? আর এতে যখন তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান তখন অবশ্যই তিনি তাদেরকে তাদের মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম। যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা তার পক্ষে খুবই সহজ। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা কি দেখে না যে, যে আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তিনি ক্লান্ত হননি, তিনি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন? হ্যা, নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।” (৪৬:৩৩)।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হ্যা, তিনি নিশ্চয়ই মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন শুধু ওকে বলেনঃ হও, ফলে ওটা হয়ে যায়। অর্থাৎ কোন কিছুর ব্যাপারে তিনি একবারই মাত্র নির্দেশ দেন, বারবার নির্দেশ দেয়ার ও তাগীদ করার কোন প্রয়োজনই তাঁর হয় না।
হযরত আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই পাপী, কিন্তু যাদেরকে আমি মাফ করি। সুতরাং তোমরা আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবো। তোমাদের প্রত্যেকেই দরিদ্র, কিন্তু আমি যাদেরকে ধনবান করি। আমি বড় দানশীল এবং আমি বড় মর্যাদাবান। আমি যা ইচ্ছা করি তাই করে থাকি। আমার ইনআম বা পুরস্কারও একটা কালাম বা কথা এবং আমার আযাবও একটা কালাম। আমার ব্যাপার তো শুধু এই যে, যখন আমি কোন কিছুর ইচ্ছা করি তখন ওকে বলিঃ হও, ফলে তা হয়ে যায়।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)
মহান আল্লাহ বলেনঃ অতএব মহান ও পবিত্র তিনি যার হাতে রয়েছে প্রত্যেক বিষয়ের সার্বভৌম ক্ষমতা। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তুমি বল- তিনি কে যার হাতে প্রত্যেক জিনিসের সার্বভৌম ক্ষমতা রয়েছে?” (২৩:৮৮) আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “মহামহিমান্বিত তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব যার করায়ত্ব।” (৬৭:১) সুতরাং (আরবী) ও (আরবী) একই অর্থ। যেমন (আরবী) ও (আরবী) এবং (আরবী) ও -এর অর্থ একই। কেউ কেউ বলেছেন যে, (আরবী) দ্বারা দেহের জগত এবং দ্বারা রূহের জগতকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু প্রথমটিই সঠিক উক্তি এবং জমহর মুফাসসিরদেরও উক্তি এটাই।
হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) বলেনঃ “একদা রাত্রে আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে (তাহাজ্জুদের নামাযে) দাঁড়িয়ে যাই। তিনি রাক'আতগুলোতে সাতটি লম্বা সূরা পাঠ করেন। (আরবী) বলে তিনি রুকূ' হতে মাথা উত্তোলন করেন এবং (আরবী) এ কালেমাগুলো পাঠ করেন। তাঁর রুকূ দাঁড়ানো অবস্থার মতই দীর্ঘ ছিল এবং সিজদাও ছিল রুকূ'র মতই দীর্ঘ। আমার তো পদদ্বয় ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম আবু দাউদ (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত হুযাইফা (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন যে, তিনি একদা রাত্রে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে নামায পড়তে দেখেন। তিনি (আরবী) পড়ে সূরায়ে বাকারা সম্পূর্ণ পাঠ করেন এবং এরপর রুকূ'তে যান। রুকূতেও তিনি প্রায় দাঁড়ানোর মতই বিলম্ব করেন এবং (আরবী) পড়তে থাকেন। তারপর তিনি রুকূ' হতে মাথা উঠান এবং প্রায় ঐ পরিমাণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন এবং (আরবী) পড়তে থাকেন। তারপর সিজদায় যান এবং সিজদাতেও প্রায় দাঁড়ানো অবস্থার সমপরিমাণ সময় পর্যন্ত পড়ে থাকেন এবং সিজদায় তিনি (আরবী) পড়তে থাকেন। অতঃপর তিনি সিজদা হতে মস্তক উত্তোলন করেন। তাঁর অভ্যাস ছিল এই যে, দুই সিজদার মাঝে ঐ সময় পর্যন্ত বসে থাকতেন যে সময়টা তিনি সিজদায় কাটাতেন। ঐ সময় তিনি (আরবী) (হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন!) বলতেন। চার রাকআত নামায তিনি আদায় করেন। এই চার রাকআত নামাযে তিনি সূরায়ে বাকারা, সূরায়ে আলে ইমরান, সূরায়ে নিসা এবং সূরায়ে মায়েদাহ তিলাওয়াত করেন।” বর্ণনাকারী শু’বাহ (রাঃ)-এর সন্দেহ হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সূরায়ে মায়েদাহ অথবা সূরায়ে আনআম পাঠ করেছেন।” (এ মসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত আউফ ইবনে মালিক আশজায়ী (রাঃ) বলেনঃ “একদা রাত্রে আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করি। তিনি সূরায়ে বাকারা তিলাওয়াত করেন। রহমতের বর্ণনা রয়েছে এরূপ প্রতিটি আয়াতে তিনি থেমে যেতেন এবং আল্লাহ তা'আলার নিকট রহমত প্রার্থনা করতেন। তারপর তিনি রুকূ' করেন এবং এটাও দাড়ানো অবস্থা অপেক্ষা কম সময়ের ছিল না। রুকূতে তিনি (আরবী) পাঠ করেন। এরপর তিনি সিজদা করেন এবং ওটাও প্রায় দাঁড়ানো অবস্থার সমপরিমাণই ছিল এবং সিজদাতেও তিনি ওটাই পাঠ করেন। তারপর দ্বিতীয় রাকআতে তিনি সূরায়ে আলে-ইমরান পড়েন। এভাবেই তিনি এক এক রাকআতে এক একটি সূরা তিলাওয়াত করেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।