সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 77)
হরকত ছাড়া:
أولم ير الإنسان أنا خلقناه من نطفة فإذا هو خصيم مبين ﴿٧٧﴾
হরকত সহ:
اَوَ لَمْ یَرَ الْاِنْسَانُ اَنَّا خَلَقْنٰهُ مِنْ نُّطْفَۃٍ فَاِذَا هُوَ خَصِیْمٌ مُّبِیْنٌ ﴿۷۷﴾
উচ্চারণ: আওয়ালাম ইয়ারাল ইনছা-নুআন্না-খালাকনা-হুমিননুতফাতিন ফাইযা-হুওয়া খাসীমুম মুবীন।
আল বায়ান: মানুষ কি দেখেনি যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ সে (বনে যায়) একজন প্রকাশ্য কুটতর্ককারী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৭. মানুষ কি দেখে না যে, আমরা তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী।
তাইসীরুল ক্বুরআন: মানুষ কি দেখে না যে আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু হতে? অতঃপর সে হয়ে গেল সুস্পষ্ট ঝগড়াটে।
আহসানুল বায়ান: (৭৭) মানুষ কি ভেবে দেখে না যে, আমি তাকে শুক্রবিন্দু হতে সৃষ্টি করেছি? অতঃপর তখনই সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী হয়ে পড়ে।
মুজিবুর রহমান: মানুষ কি দেখেনা যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্র বিন্দু হতে? অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী।
ফযলুর রহমান: মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে (নাপাক) বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছি? আর সে কিনা হয়ে যায় প্রকাশ্য ঝগড়াটে।
মুহিউদ্দিন খান: মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি বীর্য থেকে? অতঃপর তখনই সে হয়ে গেল প্রকাশ্য বাকবিতন্ডাকারী।
জহুরুল হক: আচ্ছা, মানুষ কি দেখে না যে আমারা তাকে নিশ্চয়ই এক শুক্রকীট থেকে সৃষ্টি করেছি? তারপর, কি আশ্চর্য! সে একজন প্রকাশ্য বিতর্ককারী হয়ে যায়।
Sahih International: Does man not consider that We created him from a [mere] sperm-drop - then at once he is a clear adversary?
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৭. মানুষ কি দেখে না যে, আমরা তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৭) মানুষ কি ভেবে দেখে না যে, আমি তাকে শুক্রবিন্দু হতে সৃষ্টি করেছি? অতঃপর তখনই সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী হয়ে পড়ে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৭-৮৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
(اَوَ لَمْ یَرَ الْاِنْسَانُ... فَاِذَآ اَنْتُمْ مِّنْھُ تُوْقِدُوْنَ)
যারা বস্তুবাদীতে বিশ্বাসী, আখিরাতকে অস্বীকার করে তাদের সংশয় ও ভ্রান্ত বিশ্বাস দূরীকরণে এ আয়াতগুলোই যথেষ্ট। মানুষকে চিন্তা করার উৎসাহ দিয়ে প্রশ্নাকারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : মানুষ কি লক্ষ্য করে না যে, আমি তাকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছি? অর্থাৎ প্রথম অবস্থায় সে দুর্বল পানি ছাড়া কিছুই ছিল না, তারপর ক্রমান্বয়ে বড় হয়েছে। অতঃপর সে হয়ে পড়ল প্রকাশ্য বিতর্ককারী। তার জানা থাকা উচিত, যিনি প্রথমবার এ সামান্য পানি থেকে সৃষ্টি করতে পেরেছেন তিনি পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম। এ সম্পর্কে সূরা নাহলের ৪ ও ৮৯ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তিনি সবুজ বৃক্ষ হতে অগ্নি উৎপাদন করেন এবং মানুষ ওটা দ্বারা আগুন প্রজ্জ্বলিত করে। বলা হয়, আরবে দুটি এমন গাছ আছে যার নাম মার্খ ও আফার। এ গাছের দুটি ডাল একত্রিত করে ঘষা দিলে তা থেকে আগুন বের হয়। এখানে সবুজ বৃক্ষ থেকে অগ্নি উৎপাদন বলে ঐ গাছের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।।
(اَوَ لَیْسَ الَّذِیْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ... کُلِّ شَیْءٍ وَّاِلَیْھِ تُرْجَعُوْنَ)
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা নিজের ব্যাপক ও সীমাহীন ক্ষমতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি মানবজাতিকে প্রশ্ন করে বলছেন : যিনি আকাশসমূহ ও জমিন এবং এতদুভয়ের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি এরূপ আরো কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম নন?
আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(لَخَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ)
“মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টি অবশ্যই অনেক বড় কাজ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা জানে না।” (সূরা মু’মিন ৪০ : ৫৭)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللّٰهَ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلٰٓي أَنْ يُّحْيِيَ الْمَوْتٰي ط بَلٰٓي إِنَّه۫ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ)
“তারা কি এটুকুও বোঝে না, যে আল্লাহ জমিন ও আসমান সৃষ্টি করলেন এবং এগুলো সৃষ্টি করতে তিনি ক্লান্ত হননি, সেই আল্লাহ মৃত্যুকে অবশ্যই জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন নয়? নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর শক্তিশালী।” (সূরা আহকাফ ৪৬ : ৩৩)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনি যখন কোন কিছু সৃষ্টি করার ইচ্ছা করেন তখন শুধু বলেন, হও, আর তা হয়ে যায়। এ সম্পর্কে সূরা নাহ্ল-এর ৪০ নম্বর আয়াতসহ সূরা আল বাক্বারাহ্-তেও আলোচনা করা হয়েছে।
সুতরাং পবিত্রতা বর্ণনা করছি সে প্রতিপালকের যাঁর হাতেই সার্বভৌম ক্ষমতা আর তাঁর দিকেই সকলকে ফিরে যেতে হবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(قُلْ مَنْۭ بِيَدِه۪ مَلَكُوْتُ كُلِّ شَيْءٍ وَّهُوَ يُجِيْرُ وَلَا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ)
“জিজ্ঞাসা কর, ‘সকল কিছুর কর্তৃত্ব কার হাতে, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর ওপর আশ্রয়দাতা নেই, যদি তোমরা জান?’’ (সূরা মু’মিনূন ২৩ : ৮৮)
হাদীসে এসেছে, হুযাইফাহ্ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাত্রে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সালাতে দাঁড়ালাম। তিনি সাত রাক‘আতে সাতটি লম্বা সূরা পাঠ করলেন। অতঃপর যখন তিনি রুকূ‘ হতে মাথা উঠালেন তখন,
سَمِعَ اللّٰهُ لِمَنْ حَمِدَهُ
এ দু‘আটি পাঠ করেন এবং এ বাক্যগুলো
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ ذِي الْمَلَكُوْتِ وَالْجَبَرُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظْمَةِ
“সেই আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা যিনি যাবতীয় ক্ষমতা, দাপট, বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের মালিক” পাঠ করেন। (মুসনাদ আহমাদ ৫ : ৩৮৮)
সুতরাং সকল কিছুর রাজত্ব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার হাতে। তিনি ব্যতীত এগুলোর মালিক ও পরিচালনাকারী আর কেউ নেই, যে এগুলোর ওপর রাজত্ব করবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. মানুষ সহজেই যে-কোন অপরাধের ব্যাপারে আপত্তি পেশ করে থাকে।
২. মানুষ মরে গলে হাড়ে পরিণত হবার পরও তাকে পুনরায় জীবিত করা হবে।
৩. সমস্ত কিছুর মালিক আল্লাহ তা‘আলা এমনকি আগুনেরও। অন্য কেউ কোন কিছুর মালিক ও স্রষ্টা হতে পারে না। ইবাদত পাওয়ার হকদার তিনিই।
৪. সকলকে মৃত্যুর পর আল্লাহ তা‘আলার নিকটই ফিরে যেতে হবে।
৫. আল্লাহ তা‘আলা কোন কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করলে শুধুমাত্র ‘হও’ বলেন, আর তা হয়ে যায়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৭-৮০ নং আয়াতের তাফসীর:
মুজাহিদ (রঃ), ইকরামা (রঃ), উরওয়া ইবনে যুবায়ের (রঃ), সুদ্দী (রঃ) এবং কাতাদা (রঃ) বলেন যে, একদা অভিশপ্ত উবাই ইবনে খালফ একটি দুর্গন্ধময় পচা সড়া হাড় হাতে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে আসে। হাড়টির ক্ষুদ্রাংশগুলো বাতাসে উড়ছিল। এসে সে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলেঃ “বল তো, এগুলোতে আল্লাহ পুনর্জীবন দান করবেন?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হ্য। আল্লাহ তা'আলা তোমাকে ধ্বংস করবেন। এরপর তোমাকে তিনি পুনর্জীবিত করবেন এবং তোমার হাশর হবে জাহান্নামে। ঐ সময় এই সূরার শেষের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, সড়া হাড়টি নিয়ে আগমনকারী লোকটি ছিল আসী ইবনে ওয়ায়েল। আর একটি বর্ণনায় আছে যে, এটা ছিল আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এর ঘটনা। কিন্তু এতে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। কেননা, এটা মক্কী সূরা। আর আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তো ছিল মদীনায়। যাই হোক, এ আয়াতগুলো সাধারণভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। (আরবী)-এর উপর যে আলিফ-লাম রয়েছে তা জিনসী। যে কেউই পুনরুত্থানকে অস্বীকারকারী হবে তার জন্যেই এটা জবাব হবে। ভাবার্থ হলোঃ এ লোকগুলোর নিজেদের সৃষ্টির সূচনার প্রতি চিন্তা করা উচিত যে, তাদেরকে এক ঘৃণ্য ও তুচ্ছ শুক্রবিন্দু হতে সৃষ্টি করা হয়েছে। এর পূর্বে তো তাদের কোন অস্তিত্বই ছিল না। এর পরেও মহামহিমান্বিত আল্লাহর অসীম ক্ষমতাকে অস্বীকার করার কি অর্থ হতে পারে? মহান আল্লাহ এ বিষয়টিকে আরো বহু আয়াতে বর্ণনা করেছেন। যেমন এক জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি (শুক্র) হতে সৃষ্টি করিনি? অতঃপর আমি ওটাকে স্থাপন করি এক নিরাপদ আধারে।”(৭৭:২০-২১) অন্য এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী)
অর্থাৎ “আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু হতে।”(৬৭:২)
হযরত বিশর ইবনে জাহহাশ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বীয় হস্তে থুথু ফেলেন। অতঃপর তিনি তাতে অঙ্গুলী রেখে বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে আদম সন্তান! তোমরা কি আমাকেও অপারগ ও শক্তিহীন করতে পার? আমি তোমাদেরকে এরূপ (থুথুর মত তুচ্ছ)। জিনিস হতে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমাদেরকে ঠিক ঠাক করে দিয়েছি। তারপর তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে চলাফেরা করতে শুরু করেছে এবং ধন-সম্পদ জমা করতে ও দরিদ্রদেরকে সাহায্যদানে বিরত রাখতে চলেছে। অতঃপর প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়েছে তখন বলতে শুরু করেছেঃ “এখন আমি আমার মাল আল্লাহর পথে সাদকা করছি। কিন্তু এখন সাদকা করার সময় কোথায়?” মোটকথা, নিকৃষ্ট শুক্রবিন্দু হতে সৃষ্ট মানুষ যুক্তিবাদী হচ্ছে এবং পুনর্জীবনকে অস্বীকার করছে ও অসম্ভব বলছে। তারা এখন ঐ মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর শক্তিকে অস্বীকার করছে যিনি আসমান, যমীন এবং সমস্ত মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। যদি তারা চিন্তা করতো তবে এই আযীমুশশান মাখলুকের সৃষ্টি ছাড়াও নিজেদেরই জন্মলাভকে আল্লাহ তা'আলার দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করার ক্ষমতার এক বড় নিদর্শনরূপে পেতো। কিন্তু তার জ্ঞান চক্ষুর উপর তো পর্দা পড়ে গেছে।
মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি তাদেরকে বল- এই অস্থিতে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই যিনি এটা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, একদা হযরত উকবা ইবনে আমর (রাঃ) হযরত হুযাইফা (রাঃ)-কে বলেনঃ “আপনি রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে শুনেছেন এমন কোন হাদীস আমাদেরকে শুনিয়ে দিন।” তখন হযরত হুযাইফা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “একটি লোকের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে সে তার ওয়ারিশদেরকে অসিয়ত করে যে, তারা যেন তার মৃত্যুর পর বহু কাঠ সংগ্রহ করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং তাতে তার মৃত দেহকে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেয়। তারপর যেন ঐ ভষ্ম সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়। তার কথামত ওয়ারিশরা তাই করে। এরপর আল্লাহ তাআলা যখন তার ভঙ্গুলো একত্রিত করতঃ তাকে পুনর্জীবন দান করেন তখন তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “তুমি কেন এরূপ করেছিলে?` সে উত্তরে বলেঃ “আপনার ভয়ে (আমি এরূপ করেছিলাম। তখন আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন। হযরত উকবা ইবনে আমর (রাঃ) তখন বলেনঃ “আমিও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এটা বলতে শুনেছি। পথ চলতে চলতে তিনি এটা বর্ণনা করেছিলেন।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) তাদের সহীহ গ্রন্থে এটা তাখরীজ করেছেন)
একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, লোকটি বলেছিলঃ “আমার ভষ্মগুলো বাতাসে উড়িয়ে দিবে। কিছু বাতাসে উড়াবে এবং কিছু সমুদ্রে ভাসিয়ে দিবে।” সমুদ্রে যতগুলো ভষ্ম ছিল সমুদ্র ওগুলো আল্লাহর নির্দেশক্রমে জমা করে দেয় এবং অনুরূপভাবে বাতাসও তা জমা করে। অতঃপর আল্লাহ পাকের ফরমান হিসেবে লোকটি জীবিতাবস্থায় দাড়িয়ে যায় (শেষ পর্যন্ত)।
এরপর প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ স্বীয় ক্ষমতার আরো নিদর্শন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ তিনি তোমাদের জন্যে সবুজ বৃক্ষ হতে অগ্নি উৎপাদন করেন এবং তোমরা তা দ্বারা প্রজ্বলিত কর। প্রথমে এ গাছ ঠাণ্ডা ও সিক্ত ছিল। অতঃপর আমি ওকে শুকিয়ে দিয়ে তা হতে অগ্নি উৎপাদন করেছি। সুতরাং আমার কাছে কোন কিছুই ভারী ও শক্ত নয়। সিক্তকে শুষ্ক করা, শুষ্ককে সিক্ত করা, জীবিতকে মৃত করা এবং মৃতকে জীবিত করা প্রভৃতি সবকিছুরই ক্ষমতা আমার আছে। একথাও বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা মিরখ ও ইফার গাছকে বুঝানো হয়েছে যা হিজাযে জন্মে। ওর সবুজ শাখাগুলোকে পরস্পর ঘর্ষণ করলে চকমকির মত আগুন বের হয়। যেমন আরবে একটি বিখ্যাত প্রবাদ (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেক গাছেই আগুন আছে এবং মিরখ ও ইফার মর্যাদা লাভ করেছে।” বিজ্ঞ ব্যক্তিদের উক্তি এই যে, আঙ্গুর গাছ ছাড়া সব গাছেই আগুন রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।