আল কুরআন


সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 71)

সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 71)



হরকত ছাড়া:

أولم يروا أنا خلقنا لهم مما عملت أيدينا أنعاما فهم لها مالكون ﴿٧١﴾




হরকত সহ:

اَوَ لَمْ یَرَوْا اَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِّمَّا عَمِلَتْ اَیْدِیْنَاۤ اَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مٰلِکُوْنَ ﴿۷۱﴾




উচ্চারণ: আওয়ালাম ইয়ারাও আন্না-খালাকনা- লাহুম মিম্মা- ‘আমিলাত আইদীনাআন‘আ-মান ফাহুম লাহা-মা-লিকূন।




আল বায়ান: তারা কি দেখেনি, আমার হাতের তৈরী বস্তুসমূহের মধ্যে আমি তাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তারা হল এগুলোর মালিক।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭১. আর তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমাদের হাত যা তৈরী করেছে তা থেকে তাদের জন্য আমরা সৃষ্টি করেছি গবাদিপশুসমূহ অতঃপর তারাই এগুলোর অধিকারী?(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা কি দেখে না যে আমার হাতে তৈরি জিনিসগুলোর মধ্যে আমি তাদের জন্য সৃষ্টি করেছি গৃহপালিত পশু আর এখন তারা এগুলোর মালিক!




আহসানুল বায়ান: (৭১) ওরা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি নিজ হাতে যা সৃষ্টি করেছি[1] তার মধ্যে ওদের জন্য সৃষ্টি করেছি পশু[2] এবং ওরাই এগুলির মালিক? [3]



মুজিবুর রহমান: তারা কি লক্ষ্য করেনা যে, নিজ হতে সৃষ্ট বস্তুর মধ্যে তাদের জন্য আমি সৃষ্টি করেছি গৃহ পালিত পশু এবং তারাই ওগুলির অধিকারী।



ফযলুর রহমান: তারা কি দেখে না যে, আমি তাদের জন্য নিজের (কুদরতী) হাতে তৈরী চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি এবং তারা তার মালিক হয়েছে?



মুহিউদ্দিন খান: তারা কি দেখে না, তাদের জন্যে আমি আমার নিজ হাতের তৈরী বস্তুর দ্বারা চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই এগুলোর মালিক।



জহুরুল হক: তারা কি লক্ষ্য করে নি যে আমরাই তো তাদের জন্য সৃষ্টি করেছি আমাদের হাত যা বানিয়েছে তা থেকে গবাদি-পশুগুলো, তারপর তারাই এগুলোর মালিক হয়ে যায়?



Sahih International: Do they not see that We have created for them from what Our hands have made, grazing livestock, and [then] they are their owners?



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭১. আর তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমাদের হাত যা তৈরী করেছে তা থেকে তাদের জন্য আমরা সৃষ্টি করেছি গবাদিপশুসমূহ অতঃপর তারাই এগুলোর অধিকারী?(১)


তাফসীর:

(১) আয়াতে চতুষ্পদ জন্তু সৃজনে মানুষের উপকারিতা এবং প্রকৃতির অসাধারণ কারিগরি উল্লেখ করার সাথে আল্লাহ তা'আলার আরও একটি মহা অনুগ্রহ বিধৃত হয়েছে। তা এই যে, চতুষ্পদ জন্তু সৃজনে মানুষের কোনই হাত নেই। এগুলো একান্তভাবে প্রকৃতির স্বহস্তে নির্মিত। আল্লাহ তা'আলা মুমিনকে কেবল চতুষ্পদ জন্তু দ্বারা উপকার লাভের সুযোগ ও অনুমতিই দেননি, বরং তাদেরকে এগুলোর মালিকও করে দিয়েছেন। ফলে তারা এগুলোতে সর্ব প্রকারে মালিকসুলভ অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নিজে এগুলোকে কাজে লাগাতে পারে অথবা এগুলো বিক্রি করে সে মূল্য দ্বারা উপকৃত হতে পারে। [দেখুন: তাবারী, সা’দী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭১) ওরা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি নিজ হাতে যা সৃষ্টি করেছি[1] তার মধ্যে ওদের জন্য সৃষ্টি করেছি পশু[2] এবং ওরাই এগুলির মালিক? [3]


তাফসীর:

[1] এতে অন্য কারো অংশীদার হওয়ার কথা খন্ডন করা হয়েছে। অর্থাৎ, যা আমি নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি; যার সৃষ্টিতে অন্য কারোর কোন প্রকার অংশ নেই।

[2]- أَنْعَامٌ نَعَمٌ এর বহুবচন। যার অর্থ চতুষ্পদ জন্তু; অর্থাৎ উট, গরু, ছাগল এবং ভেঁড়া-দুম্বা।

[3] অর্থাৎ, তারা তা ইচ্ছামত ব্যবহার করে। যদি আমি তাদের মধ্যে (অন্য কিছু জন্তুর মত) হিংস্রতা ভরে দিতাম, তাহলে এই সকল পশু পোষ না মেনে তাদের কাছ থেকে দূরে পালাত এবং তা তাদের অধীনে ও মালিকানায় আসত না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭১-৭৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



(اَوَ لَمْ یَرَ الْاِنْسَانُ....)



-এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা সওয়ারের বাহন দিয়ে মানুষের প্রতি অনুগ্রহের বর্ণনা দিচ্ছেন। আল্লাহ তা‘আলা চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন এবং ওগুলোকে মানুষের অধীন করে দিয়েছেন। সুতরাং এসব নিয়ামত পেয়ে মানুষের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। এগুলোর কিছু মানুষ ভক্ষণ করে এবং কিছু বাহন হিসেবে ব্যবহার করে। এ সম্পর্কে সূরা নাহ্ল-এর প্রথম দিকে আলোচনা করা হয়েছে।



(لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ نَصْرَھُمْ.....)



এখানে মক্কার কাফির-মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যে সকল মূর্তির পূজা করত তা মূলত বাতিল ও ভ্রান্ত, এসব মূর্তি তাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখে না, তারা কোন প্রকার সাহায্য করতেও সক্ষম নয় সে কথাই আলোচনা করা হয়েছে এবং সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনাও প্রদান করছেন যে, তিনি যেন এ সকল বাতিল পন্থীদের কথায় মন খারাপ না করেন। এ সকল বিষয় সম্পর্কে পূর্বে একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা প্রত্যেকের জন্য জরুরী।

২. সর্বপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের একমাত্র মালিক আল্লাহ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭১-৭৩ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় ইনআম ও ইহসানের বর্ণনা দিয়েছেন যে, তিনি নিজেই এই চতুষ্পদ জন্তুগুলো সৃষ্টি করেছেন ও মানুষের অধিকারভুক্ত করে দিয়েছেন। একটি ছোট ছেলেও উটের লাগাম ধরে তাকে থামিয়ে দিতে পারে। উটের মত শক্তিশালী জন্তুর একশ সংখ্যার একটি দলকে ঐ ছোট ছেলেটি অনায়াসে হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

মহান আল্লাহ বলেনঃ এগুলোর কতককে মানুষ তাদের বাহন করে থাকে। তাদের পিঠে আরোহণ করে তারা বহু দূরের পথ অতিক্রম করে এবং তাদের আসবাবপত্রও তাদের পিঠের উপর চাপিয়ে থাকে। আর কতকগুলোর গোশত তারা ভক্ষণ করে। অতঃপর ওগুলোর পশম, চামড়া ইত্যাদি দ্বারা বহু উপকার লাভ করে থাকে। তারা এগুলোর দুধ পান করে। আবার ওগুলোর প্রস্রাবও ওষুধ রূপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়াও আরো বহু উপকার তারা পায়। এর পরেও কি তাদের আল্লাহর এই নিয়ামতগুলোর জন্যে তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত নয়? তাদের কি উচিত নয় যে, তারা শুধু এগুলোর সৃষ্টিকর্তারই ইবাদত করে? তাঁর একত্ববাদকে মেনে নেয়? এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকেও শরীক না করে?





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।