সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 6)
হরকত ছাড়া:
لتنذر قوما ما أنذر آباؤهم فهم غافلون ﴿٦﴾
হরকত সহ:
لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَّاۤ اُنْذِرَ اٰبَآؤُهُمْ فَهُمْ غٰفِلُوْنَ ﴿۶﴾
উচ্চারণ: লিতুনযিরা কাওমাম্মাউনযিরা আ-বাউহুম ফাহুম গা-ফিলূন।
আল বায়ান: যাতে তুমি এমন এক কওমকে সতর্ক কর, যাদের পিতৃপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, কাজেই তারা উদাসীন।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬. যাতে আপনি সতর্ক করতে পারেন এমন এক জাতিকে যাদের পিতৃ পুরুষদেরকে সতর্ক করা হয় নি, সুতরাং তারা গাফিল।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যাতে তুমি সতর্ক করতে পার এমন এক সম্প্রদায়কে যাদের পিৃতপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, কাজেই তারা (আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে) উদাসীন।
আহসানুল বায়ান: (৬) যাতে তুমি সতর্ক করতে পার এমন এক জাতিকে, যাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, যার ফলে ওরা উদাসীন। [1]
মুজিবুর রহমান: যাতে তুমি সতর্ক করতে পার এমন এক জাতিকে যাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, যার ফলে তারা গাফিল।
ফযলুর রহমান: যাতে তুমি এমন একদল লোককে সতর্ক করতে পার যাদের পূর্বপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি; যার ফলে তারা অমনোযোগী (হয়ে আছে)।
মুহিউদ্দিন খান: যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্ব পুরুষগণকেও সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা গাফেল।
জহুরুল হক: যেন তুমি সতর্ক করতে পার সেই জাতিকে যাদের পিতৃপুরুষদের সতর্ক করা হয় নি, যার ফলে তারা অজ্ঞ রয়ে গেছে।
Sahih International: That you may warn a people whose forefathers were not warned, so they are unaware.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬. যাতে আপনি সতর্ক করতে পারেন এমন এক জাতিকে যাদের পিতৃ পুরুষদেরকে সতর্ক করা হয় নি, সুতরাং তারা গাফিল।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬) যাতে তুমি সতর্ক করতে পার এমন এক জাতিকে, যাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, যার ফলে ওরা উদাসীন। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, নবী (সাঃ)-কে রসূল এই জন্য মনোনীত করা হয়েছে এবং এই কিতাব (কুরআন) এই জন্য অবতীর্ণ করা হয়েছে, যাতে তিনি (সাঃ) ঐ সম্প্রদায়কে সতর্ক ও ভীতি প্রদর্শন করেন, যাদের মাঝে তাঁর পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি। যার ফলে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এরা সত্য ধর্ম থেকে বেখবর ছিল। এ বিষয়ে পূর্বে কয়েক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে যে, আরবদের নিকট ইসমাঈল (আঃ)-এর পরে নবী (সাঃ)-এর পূর্ব পর্যন্ত সরাসরি কোন নবী আসেননি। এখানেও তাই আলোচনা করা হয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: নামকরণ :
يس (ইয়া-সীন) এগুলো “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। এর আসল উদ্দেশ্য বা অর্থ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন। এ শব্দটি এ সূরার প্রথম আয়াতে উল্লেখ থাকায় উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে।
ফযীলত :
সূরা ইয়া-সীনের ফযীলতের ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, এটা কুরআনের অন্তর, মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট তা পাঠ করলে তার মৃত্যু সহজ হয়, কেউ রাত্রে এ সূরা পাঠ করলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, সূরা ইয়া-সীন একবার পাঠ করলে দশবার কুরআন খতম করার সমান সওয়াব পাওয়া যায় ইত্যাদি। এগুলোর প্রত্যেকটির সনদ বানোয়াট বা দুর্বল। এ সূরার ফযীলত সংক্রান্ত কোন সহীহ হাদীস পাওয়া যায় না। (ইবনু কাসীর)
১-৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
মক্কার কুরাইশরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রাসূল হিসেবে মেনে নিত না। হুদায়বিয়ার সন্ধি লেখার সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলী (রাঃ)-কে নির্দেশ দিয়ে বললেন লেখ :
هذا ما صالح عليه محمد رسول الله
অর্থাৎ এগুলো হচ্ছে সে-সব কথা যার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সন্ধি করলেন। এ কথার প্রেক্ষিতে কুরাইশদের পক্ষ থেকে বলা হল : আমরা যদি আপনাকে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল হিসেবে মেনে নিতাম তাহলে আপনার সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হত না। (আর রাহীকুল মাখতুম)
তাদের এ কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বিজ্ঞানময় কুরআনের শপথ করে বলেন যে, তুমি অবশ্যই একজন প্রেরিত রাসূল এবং সরল সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত।
আল্লাহ বলেন :
وَيَقُوْلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَسْتَ مُرْسَلًا ط قُلْ كَفٰي بِاللّٰهِ شَهِيْدًاۭ بَيْنِيْ وَبَيْنَكُمْ لا وَمَنْ عِنْدَه۫ عِلْمُ الْكِتٰبِ))
“যারা কুফরী করেছে তারা বলে, ‘তুমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল নও।’ বল : ‘আল্লাহ এবং যাদের নিকট কিতাবের জ্ঞান আছে, তারা আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।’’ (সূরা রা‘দ ১৩ : ৪৩)
আল্লাহ অন্যত্র বলেন,
(تِلْكَ اٰيٰتُ اللّٰهِ نَتْلُوْهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ ط وَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِيْنَ)
“এগুলো আল্লাহর নিদর্শন যা তোমার নিকট সত্যরূপে পাঠ করছি আর নিশ্চয়ই তুমি রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা বাকারাহ ২ : ২৫২)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা এ কুরআন অবতীর্ণ করার মূখ্য উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলেন : মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ এ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে সকল লোকদেরকে আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি ও জাহান্নামের ভয় দেখাতে পারেন যাদের পূর্বপুরুষদেরকে ভীতি-প্রদর্শন করা হয়নি, তারা এ সম্পর্কে গাফেল ছিল। কারণ আল্লাহ কোন জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ না করে শাস্তি দেন না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِيْنَ حَتّٰي نَبْعَثَ رَسُوْلًا)
“আমি রাসূল না পাঠান পর্যন্ত কাউকেও শাস্তি দেই না।” (সূরা ইসরা ১৭ : ১৫)
এখানে মূলত উদ্দেশ্য আরবরা, কেননা তাদের নিকট পূর্বে দীর্ঘ সময়ব্যাপী কোন ভীতি প্রদর্শনকারী আসেনি। তবে আরবগণ উদ্দেশ্য হলেও সকল মানব জাতি এতে শামিল। (ইবনু কাসীর)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তাদের অধিকাংশের জন্য الْقَوْلُ (বাণী) অর্থাৎ তাঁর শাস্তির বাণী অবধারিত হয়ে গেছে, সুতরাং তারা ঈমান আনবে না। আল্লাহ তা‘আলা ঈমান ও কুফর এবং জাহান্নাম ও জান্নাতের উভয় পথ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। ঈমানের পথে দাওয়াত দেয়ার জন্য নাবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তারপরেও একশ্রেণির মানুষ ঈমানের পথ বর্জন করে কুফরীর পথ অবলম্বন করবে। তাদের ব্যাপারেই আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির কথা অবধারিত হয়ে গেছে যেহেতু, তারা ঈমান আনবে না। পূর্ববর্তী নাবীদের উম্মাতের অধিকাংশ ব্যক্তিরাই ঈমান বর্জন করে কুফরীর পথ অবলম্বন করেছিল। এ উম্মাতেরও প্রথম দিকে এমন ছিল, কিয়ামত পর্যন্ত এরূপ থাকবে। সুতরাং তাদেরকে যতই সরল পথে আহ্বান করা হোক তারা ঈমান আনবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَلَوْ شِئْنَا لَاٰتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدٰهَا وَلٰكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّيْ لَأَمْلَئَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِيْنَ)
“আমি যদি ইচ্ছা করতাম, তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সরল সঠিক পথ দান করতাম, কিন্তু আমার এ বাণী নির্ধারিত হয়ে রয়েছে যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয়কে দিয়েই জাহান্নাম পরিপূর্ণ করব।” (সূরা সাজদাহ ৩২ : ১৩)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :
(إِنَّ الَّذِيْنَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَتُ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ- وَلَوْ جَا۬ءَتْهُمْ كُلُّ اٰيَةٍ حَتّٰي يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيْمَ) “
নিশ্চয়ই যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রতিপালকের বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে, তারা ঈমান আনবে না, যদিও তাদের নিকট সর্বপ্রকার নিদর্শন আসে, যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।” (সূরা ইউনুস ১০ : ৯৬-৯৭)
সুতরাং দীনের দাওয়াত পাওয়ার পরেও একশ্রেণির মানুষ কুফরী করবে, তাই বলে দাওয়াতী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা যাবে না, কারণ হিদায়াতের মালিক আল্লাহ তা‘আলা। কার মাধ্যমে কাকে হিদায়াত দেবেন তা আল্লাহ ভাল জানেন। অতএব দীনের দাওয়াতী কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল এবং সরল-সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
২. আল-কুরআন হলো বিজ্ঞানময় কিতাব, এর প্রতিটি আদেশ, নিষেধ ও নির্দেশনা বিজ্ঞানসম্মত।
৩. কুরআন অবতীর্ণ করার আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সরল-সঠিক পথের দিশা দেওয়া, যাতে ইহকালে শান্তি ও আখিরাতে নাজাত লাভ করতে পারে।
৪. দাওয়াত দিলে সবাই ঈমান আনবে এমন নয়, বরং যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির বাণী অবধারিত হয়ে গেছে তারা ঈমান আনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক বস্তুরই একটি দিল বা অন্তর রয়েছে। কুরআন কারীমের দিল হলো সূরায়ে ইয়াসীন।” (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটা গারীব হাদীস এবং এর একজন বর্ণনাকারী অজ্ঞাত)
হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি রাত্রে সূরায়ে ইয়াসীন পাঠ করে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং যে সূরায়ে দুখান পাঠ করে তাকেও মাফ করে দেয়া হয়।” (এ হাদীসটি হাফিয আবু ইয়া’লা (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এর ইসনাদ খুবই উত্তম)
হযরত মুগাফফাল ইবনে ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “সূরায়ে বাকারাহ হলো কুরআনের কুজ বা চূড়া। এর একটি আয়াতের সাথে আশিজন করে ফেরেশতা অবতরণ করেন এবং এর একটি আয়াত অর্থাৎ আয়াতুল কুরসী আরশের নীচ হতে নেয়া হয়েছে এবং এর সাথে মিলানো হয়েছে। সূরায়ে ইয়াসীন কুরআনের দিল বা হৃদয়। এটাকে যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও আখিরাতের বাসনায় পাঠ করে, আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেন। তোমরা এ সূরাটি তোমাদের ঐ ব্যক্তির সামনে পাঠ করো যে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে।” উলামায়ে কিরামের উক্তি রয়েছে যে, যে কঠিন কাজের সময় সূরায়ে ইয়াসীন পাঠ করা হয় আল্লাহ তা'আলা ঐ কঠিন কাজ সহজ করে দেন। মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছে এরূপ ব্যক্তির সামনে এ সূরাটি পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা রহমত ও বরকত নাযিল করেন এবং তার রূহ সহজভাবে বের হয়। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। মাশায়েখও বলেন যে, এরূপ সময়ে সূরায়ে ইয়াসীন পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা আসানী করে থাকেন। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “আমার উম্মতের প্রত্যেকেই এই সূরাটি মুখস্থ করুক এটা আমি কামনা করি ।” (এ হাদীসটি বাযযার (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
১-৭ নং আয়াতের তাফসীর:
(আরবী) বা বিচ্ছিন্ন ও কর্তিত শব্দগুলো যা সূরাসমূহের শুরুতে এসে থাকে, যেমন এখানে (আরবী) এসেছে, এগুলোর পূর্ণ বর্ণনা আমরা সূরায়ে বাকারার কুতে দিয়ে এসেছি। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। কেউ কেউ বলেছেন যে, (আরবী) -এর অর্থ হলোঃ “হে মানুষ!' অন্য কেউ বলেন যে, হাবশী অষায় এটা ‘হে মানুষ।' এ অর্থে এসে থাকে। আবার কেউ কেউ বলেন যে, এটা আল্লাহ্ তা'আলার নাম।
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ শপথ জ্ঞানগর্ভ কুরআনের, যার আশে পাশেও বাতিল আসতে পারে না। এরপর তিনি বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর সত্য রাসূল। তুমি সরল সঠিক পথে রয়েছে। আর তুমি আছো পবিত্র দ্বীনের উপর। তুমি যে সরল পথে রয়েছে তা হলো দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর পথ। এই দ্বীন অবতীর্ণ করেছেন তিনি যিনি মহা মর্যাদাবান এবং মুমিনদের উপর বিশেষ দয়াকারী। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! নিশ্চয়ই তুমি সরল সোজা পথের দিকে পথ প্রদর্শন করে থাকো।” যা ঐ আল্লাহর পথ যিনি আসমান ও যমীনের মালিক এবং যার নিকট সমস্ত কাজের ফলাফল। যাতে তুমি সতর্ক করতে পার এমন এক জাতিকে যাদের পিতৃপুরুষদেরকে সতর্ক করা হয়নি, যার ফলে তারা গাফিল। শুধু তাদেরকে সম্বোধন করার অর্থ এই নয় যে, অন্যেরা এর থেকে পৃথক। যেমন কিছু লোককে সম্বোধন করণে জনসাধারণ তা হতে বাদ পড়ে যায় না। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে সারা দুনিয়ার জন্যে পাঠানো হয়েছিল। যেমন এটা (আরবী) (৭:১৫৮)-এই আয়াতের তাফসীরে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তাদের অধিকাংশের জন্যে সেই বাণী অর্থাৎ তার শাস্তির বাণী অবধারিত হয়ে গেছে, সুতরাং তারা ঈমান আনবে না। তারা তো অবিশ্বাস করতেই থাকবে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।