সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 35)
হরকত ছাড়া:
ليأكلوا من ثمره وما عملته أيديهم أفلا يشكرون ﴿٣٥﴾
হরকত সহ:
لِیَاْکُلُوْا مِنْ ثَمَرِهٖ ۙ وَ مَا عَمِلَتْهُ اَیْدِیْهِمْ ؕ اَفَلَا یَشْکُرُوْنَ ﴿۳۵﴾
উচ্চারণ: লিইয়া’কুলূমিন ছামারিহী ওয়ামা-‘আমিলাতহু আইদীহিম আফালা-ইয়াশকুরূন।
আল বায়ান: যাতে তারা তার ফল খেতে পারে, অথচ তাদের হাত তা বানায়নি। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৫. যাতে তারা খেতে পারে তার ফলমূল হতে অথচ তাদের হাত এটা সৃষ্টি করেনি। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্ৰকাশ করবে না?
তাইসীরুল ক্বুরআন: যাতে তারা তার ফল খেতে পারে- যা তারা তাদের হাত দিয়ে বানায়নি। তাহলে কেন তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না?
আহসানুল বায়ান: (৩৫) যাতে ওরা ভক্ষণ করতে পারে তার ফলমূল,[1] যা ওদের হাতের সৃষ্টি নয়।[2] তবুও কি ওরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?
মুজিবুর রহমান: যাতে তারা আহার করতে পারে এর ফলমূল হতে, অথচ তাদের হাত ওটা সৃষ্টি করেনি। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেনা?
ফযলুর রহমান: যাতে তারা এর ফল খেতে পারে; অথচ এটা তাদের হাতের সৃষ্টি নয়। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?
মুহিউদ্দিন খান: যাতে তারা তার ফল খায়। তাদের হাত একে সৃষ্টি করে না। অতঃপর তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না কেন?
জহুরুল হক: যেন তারা এর ফলমূল থেকে আহার করতে পারে, অথচ তাদের হাতে এটি বানায় নি। তবু কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?
Sahih International: That they may eat of His fruit. And their hands have not produced it, so will they not be grateful?
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৫. যাতে তারা খেতে পারে তার ফলমূল হতে অথচ তাদের হাত এটা সৃষ্টি করেনি। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্ৰকাশ করবে না?
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৫) যাতে ওরা ভক্ষণ করতে পারে তার ফলমূল,[1] যা ওদের হাতের সৃষ্টি নয়।[2] তবুও কি ওরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, কিছু জায়গায় পানির ঝরনা প্রবাহিত করেন, যার পানি দ্বারা উৎপাদিত ফল মানুষ ভক্ষণ করে থাকে।
[2] ইমাম জারীর (রহঃ) এর নিকট এখানে ما নাফিয়াহ (নেতিবাচক)। অর্থাৎ উৎপন্ন ফল-ফসল আল্লাহ তাআলার বান্দাদের প্রতি এক বিশেষ অনুগ্রহ। তাতে বান্দার প্রচেষ্টা, মেহনত, পরিশ্রম ও কষ্টের কোন হাত নেই। এর পরেও তারা আল্লাহর এই সকল নিয়ামতের উপর তাঁর শুকরিয়া জ্ঞাপন কেন করে না? অনেকের নিকট ما মওসূলাহ যা الَّذِيْ এর অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, যাতে তারা সেই ফল ভক্ষণ করে এবং ঐ বস্তুও ভক্ষণ করে, যা তাদের হাত তৈরি করেছে। হাতের কর্ম বলতে জমি চাষ করে তাতে বীজ বপন করা, সেচন ও দেখাশোনা করা, অনুরূপ ফল খাওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি; যেমন তার রস বের করে পান করা, বিভিন্ন ফল-ফ্রুটকে একত্রিত করে আচার, জেলি, মোরব্বা ইত্যাদি বানিয়ে খাওয়া ইত্যাদি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৩-৩৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় ক্ষমতা ও বান্দার প্রতি তাঁর অনুগ্রহের কথা বর্ণনা করেছেন। খড়ায় ফেটে চৌচির হয়ে যায় এমন মৃত ভূমিকে তিনি বৃষ্টি দিয়ে জীবিত করেন, তা থেকে শস্য উৎপন্ন করেন, ফল-ফলাদি যেমন- খেজুর, আঙ্গুর ইত্যাদির বাগান তৈরি করেন যাতে করে মানুষ খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারে। এ সম্পর্কে সূরা নাহলসহ অন্যান্য সূরাতেও আলোচনা করা হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তিনি প্রত্যেক জিনিস জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে যেমন- নারী-পুরুষ করে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন তেমনি প্রত্যেকটি জিনিস যা আমরা দেখতে পাই আর যা দেখতে পাই না সবকিছু তিনি জোড়ায় জোড়ায় তথা নর-নারী করে সৃষ্টি করেছেন। পূর্বকালে মানুষ জানত না উদ্ভিদেরও পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ রয়েছে। অথচ কুরআন এ উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কে ১৪০০ বছর আগে বলে দিয়েছে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, প্রত্যেক উদ্ভিদের পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ আছে। এমনকি সমজাতীয় লিঙ্গ বিশিষ্ট উদ্ভিদেরও পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ আছে। বর্তমানে মানুষ যা জানে না ও পরবর্তীতে যা আবিস্কার হবে সেগুলোসহ সব বিপরীত লিঙ্গ করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী,
(وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُوْنَ)
“আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায়-জোড়ায়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।” (সূরা যারিয়াত ৫১ : ৪৯)
শুধুমাত্র মহান আল্লাহর কোন জোড়া নেই। তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর সমকক্ষ ও সমতুল্য কিছুই নেই। তিনি সকল অপরিপূর্ণতা থেকে পবিত্র।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. পৃথিবী সহ যত সৃষ্ট বস্তু রয়েছে সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
২. আল্লাহ তা‘আলা সকল কিছুকে যুগল করে সৃষ্টি করেছেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৩-৩৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ আমার অস্তিত্বের উপর, আমার সীমাহীন ক্ষমতার উপর এবং মৃতকে জীবিত করার উপর এটাও একটি নিদর্শন যে, মৃত যমীন, যা শুষ্ক অবস্থায় পড়ে রয়েছে যাতে কোন সজীবতা ও শ্যামলতা নেই, যাতে তৃণ-লতা প্রভৃতি কিছুই জন্মে না, তাতে যখন আকাশ হতে বৃষ্টিপাত হয় তখন তা নবজীবন লাভ করে এবং সবুজ-শ্যামল হয়ে ওঠে। চতুর্দিকে ঘাস-পাতা গজিয়ে ওঠে এবং নানা প্রকারের ফল-ফুল দৃষ্টি গোচর হয়। তাই মহান আল্লাহ্ বলেনঃ আমি ঐ মৃত যমীনকে জীবিত করে তুলি এবং তাতে উৎপন্ন করি বিভিন্ন প্রকারের শস্য, যার কিছু কিছু তোমরা নিজেরা খাও এবং কিছু কিছু তোমাদের গৃহপালিত পশু খেয়ে থাকে। ঐ যমীনে আমি তৈরী করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং তাতে প্রবাহিত করি নদ-নদী, যা তোমাদের বাগান ও শস্যক্ষেত্রকে পানিপূর্ণ ও সবুজ-শ্যামল করে থাকে। এটা এই কারণে যে, যাতে দুনিয়াবাসী এর ফলমূল হতে ভক্ষণ করতে পারে, শস্যক্ষেত্র ও উদ্যান হতে উপকার লাভ করতে পারে এবং বিভিন্ন প্রয়োজন পুরো করতে পারে। এগুলো আল্লাহর রহমত ও তার ক্ষমতাবলে পয়দা হচ্ছে, অন্য কারো ক্ষমতাবলে নয়। মানুষের হস্ত এগুলো সৃষ্টি করেনি। মানুষের না আছে এগুলো উৎপন্ন করার শক্তি, না আছে। এগুলো রক্ষা করার ক্ষমতা এবং না আছে এগুলো পাকাবার ও তৈরীর করার অধিকার। এটা শুধু আল্লাহ তা'আলারই কাজ এবং তারই মেহেরবানী। আর তাঁর অনুগ্রহের সাথে সাথে এটা তার ক্ষমতার নিদর্শনও বটে। সুতরাং মানুষের কি হয়েছে যে, তারা তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে না? এবং তাঁর অসংখ্য নিয়ামতরাশি তাদের কাছে থাকা সত্ত্বেও তাঁর অনুগ্রহ স্বীকার করছে না? একটি ভাবার্থ এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, বাগানের ফল তারা খায় এবং নিজের হাতে বপনকৃত জিনিস তারা পেয়ে থাকে। যেমন হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কিরআতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের হাত যে কাজ করেছে তা হতে (তারা ভক্ষণ করে থাকে)।
পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং তারা যাদেরকে জানে না তাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেছেন জোড়া জোড়া করে। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ অর্থাৎ “প্রত্যেক জিনিসকে আমি জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছি যাতে তোমরা উপদেশ লাভ কর।”(৫১:৪৯)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।