আল কুরআন


সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 30)

সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 30)



হরকত ছাড়া:

ياحسرة على العباد ما يأتيهم من رسول إلا كانوا به يستهزئون ﴿٣٠﴾




হরকত সহ:

یٰحَسْرَۃً عَلَی الْعِبَادِ ۚؑ مَا یَاْتِیْهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا کَانُوْا بِهٖ یَسْتَهْزِءُوْنَ ﴿۳۰﴾




উচ্চারণ: ইয়া-হাছরাতান ‘আলাল ‘ইবা-দি মা-ইয়া’তীহিম মির রাছূলিন ইল্লা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহযিউন।




আল বায়ান: আফসোস, বান্দাদের জন্য! যখনই তাদের কাছে কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩০. পরিতাপ বান্দাদের জন্য(১); তাদের কাছে যখনই কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তার সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: বান্দাহদের জন্য পরিতাপ! তাদের কাছে এমন কোন রসূলই আসেনি যাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেনি।




আহসানুল বায়ান: (৩০) পরিতাপ এমন দাসদের জন্য! [1] ওদের নিকট যখনই কোন রসূল এসেছে, তখনই ওরা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছে।



মুজিবুর রহমান: পরিতাপ বান্দাদের জন্য! তাদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তাকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছে।



ফযলুর রহমান: বড় আফসোস (আমার) বান্দাদের জন্য! তাদের কাছে যে রসূলই আসত তার সাথেই তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।



মুহিউদ্দিন খান: বান্দাদের জন্যে আক্ষেপ যে, তাদের কাছে এমন কোন রসূলই আগমন করেনি যাদের প্রতি তারা বিদ্রুপ করে না।



জহুরুল হক: হায় আফসোস বান্দাদের জন্য! তাদের কাছে এমন কোনো রসূল আসেন নি যাঁকে নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করেছে!



Sahih International: How regretful for the servants. There did not come to them any messenger except that they used to ridicule him.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩০. পরিতাপ বান্দাদের জন্য(১); তাদের কাছে যখনই কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তার সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে।(২)


তাফসীর:

(১) কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ, বান্দারা তাদের নফসের উপর যে অপরাধ করেছে, আল্লাহর নির্দেশকে বিনষ্ট করেছে, আল্লাহর ব্যাপারে তারা যে ঘাটতি করেছে সে জন্য তাদের নিজেদের উপর তাদের আফসোস। [তাবারী] মুজাহিদ বলেন, আল্লাহ বান্দাদের উপর আফসোস করলেন এ জন্যে যে, তারা তাদের রাসূলদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে। [তাবারী] ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত, এখানে حسرة এর অর্থ ويل বা দূর্ভোগ। [তাবারী] অথবা আয়াতের অর্থ, পরিতাপ সে সমস্ত বান্দাদের জন্য যাদের কাছে যখনই কোন রাসূল এসেছে তখনই তারা তাদের উপর মিথ্যারোপ করেছে, ফলে তারা ধ্বংস হয়েছে। [জালালাইন] অথবা আয়াতের অর্থ, হায় বান্দাদের জন্য আফসোস ও পরিতাপ! যখন তারা কিয়ামতের দিন আযাব দেখতে পাবে। কারণ তাদের কাছে দুনিয়াতে যখনই কোন রাসূল আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছেন তখনই তারা তার সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে। [মুয়াস্‌সার]


(২) এ আয়াতের ব্যাপকতা থেকে অন্য আয়াতে কেবল ইউনুস আলাইহিস সালামের জাতিকে ব্যতিক্রম ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, “অতঃপর কোন জনপদবাসী কেন এমন হল না। যারা ঈমান আনত এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসত? তবে ইউনুস এর সম্প্রদায় ছাড়া, তারা যখন ঈমান আনল তখন আমরা তাদের থেকে দুনিয়ার জীবনের হীনতাজনক শাস্তি দূর করলাম এবং তাদেরকে কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিলাম।” [সূরা ইউনুস: ৯৮]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩০) পরিতাপ এমন দাসদের জন্য! [1] ওদের নিকট যখনই কোন রসূল এসেছে, তখনই ওরা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছে।


তাফসীর:

[1] হতভাগ্য ঐ বান্দাগণ নিজেদের উপর আক্ষেপ ও আফসোস প্রকাশ করবে কিয়ামতের দিন আযাব দর্শনের পর এবং বলবে যে, যদি আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে আমরা অবহেলা না করতাম! অথবা আল্লাহ তাআলা বান্দার অবস্থার উপর আফসোস করছেন যে, তাদের নিকট যখনই কোন রসূল এসেছে, তখনই তারা তাঁদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩০-৩২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির জন্য আফসোস করে বলছেন, তাদের নিকট যখনই কোন রাসূল আগমন করেছে তখনই তারা তাঁদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছে। আর এ কারণে তারা কিয়ামতের মাঠে কতই না লজ্জিত হবে। অথচ তারা এ কথা চিন্তা করে না যে, তাদের পূর্বে কত শক্তিশালী জনগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি আর কোনদিন তাদের নিকট ফিরে আসবে না। তাদের সকলকে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে, আর আমিই তাদের এ ঠাট্টা-বিদ্রূপের শাস্তি প্রদান করব। আল্লাহ তা‘আলা বাণী,



(وَإِنَّ كُلًّا لَّمَّا لَيُوَفِّيَنَّهُمْ رَبُّكَ أَعْمَالَهُمْ ط إِنَّه۫ بِمَا يَعْمَلُوْنَ خَبِيْرٌ)



“যখন সময় আসবে তখন অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তাদের প্রত্যেককে তার কর্মফল পুরাপুরি দেবেন। তারা যা করে তিনি সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।” (সূরা হূদ ১১ : ১১১)



তাদের এ সকল ঠাট্টা-বিদ্রূপের ফলে কিয়ামতের মাঠে তারা লজ্জিত হবে এবং বলবে, কেন আমরা রাসূলগণকে মিথ্যা মনে করেছিলাম এবং কেনইবা তাদের অবাধ্য হয়েছিলাম? কিন্তু তখন আর এ আফসোস করে কোনই লাভ হবে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰي يَدَيْهِ يَقُوْلُ يٰلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُوْلِ سَبِيْلًا - يٰوَيْلَتٰي لَيْتَنِيْ لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيْلًا)‏‏



“জালিম ব্যক্তি সেদিন নিজ দু’হাত‎ দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে সৎ পথ অবলম্বন করতাম! ‘হায়, দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!” (সূরা ফুরকান ২৫ : ২৮)



সুতরাং রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা করা তাঁর জীবদ্দশায় অথবা মৃত্যুর পরেও হতে পারে। যেমন মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা, অপমানজনক কথা বলা অথবা তাঁর হাদীসকে উপক্ষো করে চলা। আমাদের এসব থেকে সতর্ক হওয়া আবশ্যক। কেননা এসব কাজ ঈমান বিনষ্টের কারণ।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. যারা সত্য পথের অনুসারী, যারা মানুষকে দীনের পথে আহ্বান করে তাদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রুপমূলক কথা-বার্তা বলা যাবে না।

২. অপরাধীরা কিয়ামতের মাঠে লজ্জিত হবে।

৩. রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে ঠাট্টা করা ঈমান বিনষ্টের অন্যতম কারণ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩০-৩২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের উপর দুঃখ ও আফসোস করছেন যে, কাল। কিয়ামতের দিন তারা কতই না লজ্জিত হবে! তারা সেদিন বারবার বলবেঃ “হায়! আমরা নিজেরাই তো নিজেদের অমঙ্গল ডেকে এনেছি।” কোন কোন কিরআতে (আরবী) রয়েছে। ভাবার্থ এই যে, কিয়ামতের দিন। আযাব দেখে তারা হাত মলবে যে, কেন তারা রসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং কেন আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল?

দুনিয়ায় তাদের অবস্থা তো এই ছিল যে, যখনই তাদের কাছে কোন রাসূল এসেছেন তখনই তারা কোন চিন্তা-ভাবনা না করেই তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছে এবং মন খুলে তাঁদের সাথে বেআদবী করেছে ও তাদেরকে অবজ্ঞা করেছে।

যদি তারা একটু চিন্তা করতো তবে বুঝতে পারতো যে, তাদের পূর্বে বহু মানব গোষ্ঠীকে আল্লাহ্ ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাদের কেউই রক্ষা পায়নি এবং কেউই তাদের কাছে ফিরে আসেনি।

এর দ্বারা দারিয়া সম্প্রদায়ের দাবীকে খণ্ডন করা হয়েছে। তারা বলে যে, মানুষ এই দুনিয়া হতে চলে যাবে এবং পরে আবার এই দুনিয়াতেই ফিরে আসবে।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ অবশ্যই তাদের সকলকে একত্রে আমার নিকট উপস্থিত করা হবে। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সমস্ত মানুষকে কিয়ামতের দিন হিসাব নিকাশের জন্যে হাযির করা হবে এবং সেখানে প্রত্যেক ভাল মন্দের প্রতিদান দেয়া হবে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের প্রত্যেককেই তোমার প্রতিপালক তাদের আমলের পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করবেন।”(১১:১১১) এক কিরআতে (আরবী) রয়েছে। এ সময় (আরবী) শব্দটি (আরবী) বা হ্যা বাচক হবে। আর (আরবী) পড়ার সময় (আরবী) শব্দটি (আরবী) বা না বাচক হবে এবং (আরবী) শব্দটি (আরবী)-এর অর্থ দেবে। তখন অর্থ হবেঃ কেউ নয় কিন্তু সবাই আমার নিকট হাযিরকত হবে। দ্বিতীয় কিরআতের ভাবার্থ এটাই হবে। এসব। ব্যাপারে মহান আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।