সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 23)
হরকত ছাড়া:
أأتخذ من دونه آلهة إن يردن الرحمن بضر لا تغن عني شفاعتهم شيئا ولا ينقذون ﴿٢٣﴾
হরকত সহ:
ءَاَتَّخِذُ مِنْ دُوْنِهٖۤ اٰلِهَۃً اِنْ یُّرِدْنِ الرَّحْمٰنُ بِضُرٍّ لَّا تُغْنِ عَنِّیْ شَفَاعَتُهُمْ شَیْئًا وَّ لَا یُنْقِذُوْنِ ﴿ۚ۲۳﴾
উচ্চারণ: আআত্তাখিযুমিন দুনিহীআ-লিহাতান ইয়ঁইউরিদনির রাহমা-নুবিদু ররিল লা-তুগনি ‘আন্নী শাফা-‘আতুহুম শাইআওঁ ওয়ালা-ইউনকিযূন।
আল বায়ান: আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য ইলাহ গ্রহণ করব? যদি পরম করুণাময় আমার কোন ক্ষতি করার ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবে না’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৩. আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য ইলাহ গ্ৰহণ করব?(১) রহমান আমার কোন ক্ষতি করতে চাইলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি কি তাঁর পরিবর্তে (অন্য) সব ইলাহ্ গ্রহণ করব? করুণাময় আল্লাহ যদি আমার কোন ক্ষতি করতে চান তবে আমার জন্য তাদের সুপারিশ কোনই কাজে আসবে না, আর তারা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না।
আহসানুল বায়ান: (২৩) আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য উপাস্য গ্রহণ করব? পরম দয়াময় আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে ওদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং ওরা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না।[1]
মুজিবুর রহমান: আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য মা‘বূদ গ্রহণ করব? দয়াময় (আল্লাহ) আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবেনা এবং তারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবেনা।
ফযলুর রহমান: “আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করব? করুণাময় যদি আমার কোন ক্ষতি চান তাহলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবে না।
মুহিউদ্দিন খান: আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্যান্যদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করব? করুণাময় যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনই কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না।
জহুরুল হক: "আমি কি তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য উপাস্যদের গ্রহণ করব, পরম করুণাময় যদি আমাকে দুঃখ-দুর্দশা দিতে চাইতেন তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না, আর তারা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না?
Sahih International: Should I take other than Him [false] deities [while], if the Most Merciful intends for me some adversity, their intercession will not avail me at all, nor can they save me?
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৩. আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য ইলাহ গ্ৰহণ করব?(১) রহমান আমার কোন ক্ষতি করতে চাইলে তাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না।
তাফসীর:
(১) আল্লামা শানকীতী বলেন, এর অর্থ, আমি তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদাত কর তাদের ইবাদাত করব না। আমার আল্লাহ যদি আমার কোন ক্ষতির ইচ্ছা করেন, তবে এ মাবুদগুলো আমার কোন কাজে আসবে না। তারা আমার থেকে সে ক্ষতিকে প্রতিহত করতে পারবে না। আর আমাকে বিপদ থেকেও উদ্ধার করতে পারবে না। এ আয়াতে এ সমস্ত উপাস্যরা যে কোন উপকার করতে পারে না বলে বর্ণিত হয়েছে, তা অন্য আয়াতেও এসেছে। যেমন, “বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছি কি, আল্লাহ্ আমার অনিষ্ট করতে চাইলে তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সে অনুগ্রহকে রোধ করতে পারবে? বলুন, ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’ নির্ভরকারীগণ তাঁর উপরই নির্ভর করে।” [সূরা আয-যুমার: ৩৮] “বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ইলাহ মনে কর তাদেরকে ডাক, অতঃপর দেখবে যে, তোমাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করার বা পরিবর্তন করার শক্তি তাদের নেই।” [সূরা আল-ইসরা: ৫৬]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৩) আমি কি তাঁর পরিবর্তে অন্য উপাস্য গ্রহণ করব? পরম দয়াময় আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে ওদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং ওরা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না।[1]
তাফসীর:
[1] এখানে সেই বাতিল উপাস্যদের অক্ষমতা ও অসহায়তার কথা প্রকাশ করা হয়েছে, যাদের উপাসনা তাঁর সম্প্রদায় করত এবং শিরকের সেই ভ্রষ্টতা থেকে নিস্তার দেওয়ার জন্য তাদের নিকট রসূল প্রেরণ করা হয়েছিল। ‘উদ্ধার করতেও পারবে না’ কথাটির অর্থ হল, যদি আল্লাহ আমার কোন ক্ষতি সাধন করতে চান, তবে এ (বাতিল উপাস্য)রা আমাকে রক্ষা করতে পারবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২২-২৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
ঐ ব্যক্তি যে শহরে একাই মু’মিন ছিল এবং শহরের শেষ প্রান্তে বসবাস করত সে নিজ সম্প্রদায়ের নিকট তাঁর নিজের আমল ও আক্বীদার কথা বর্ণনা করে শুনাচ্ছেন। আমি তো শুধু এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করি। যেহেতু তিনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন তাহলে কেন আমি তাঁর ইবাদত করব না? এটাও নয় যে, আমরা তাঁর ক্ষমতার বাইরে চলে গেছি, তাই তাঁর সাথে আমাদের কোনই সম্পর্ক নেই? বরং আমরা তাঁর ক্ষমতাধীন, আমাদের সবাইকেই তাঁর সামনে একত্রিত হতে হবে। আমি কি আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে অন্য মা‘বূদ গ্রহণ করব; যদি দয়াময় আল্লাহ তা‘আলা আমার কোন ক্ষতি করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোন উপকারে আসবে না এবং তারা আমাকে মুক্তও করতে পারবে না। সুতরাং কেন তাদের ইবাদত করব?
আল্লাহ তা‘আলার বাণী,
(قُلْ أَفَرَأَيْتُمْ مَّا تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللّٰهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّه۪ٓ أَوْ أَرَادَنِيْ بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِه۪ ط قُلْ حَسْبِيَ اللّٰهُ ط عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُوْنَ)
“বল : তোমরা কি ভেবে দেখছ যে, আল্লাহ আমার অনিষ্ট চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কি সেই অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সে অনুগ্রহকে বন্ধ করতে পারবে? বল : আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তারই ওপর নির্ভর করে।” (সূরা যুমার ৩৯ : ৩৮)
অতএব আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে ঐ বাতিল মা‘বূদদেরকে যদি আমি আহ্বান করি যারা কোনই উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না তাহলে আমি অবশ্যই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পড়ব। তাই আমি তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান নিয়ে আসলাম। তোমরা আমার কথা শুন অর্থাৎ রাসূলদের রিসালাতের অনুসরণ করো। এ কথা বলার পর পরই তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করল। (তাফসীর সা‘দী)
(قِيْلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ)
অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা ঈমানদার লোকটির মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থা বর্ণনা করে বলছেন : মৃত্যুর পর লোকটিকে বলা হলো যে, তুমি জান্নাতে প্রবেশ করো। তখন লোকটি তার সম্প্রদায়ের জন্য আফসোস করে বলল : যদি আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা আমার এ মর্যাদার কথা জানতে পারত যে, আমার প্রতিপালক আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাকে সম্মানিত করেছেন! তাহলে তারাও ঈমান আনত।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা দিচ্ছেন, পরবর্তীতে তাদের নিকট আর কোনই সতর্ককারী পাঠানো হয়নি এবং তার কোন প্রয়োজনও ছিল না। তারা মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করার ফলে তাদের ওপর এসেছিল এক মহানাদ, যা তাদেরকে ধ্বংস ও নিথর নিস্তব্ধ করে দিয়েছিল।
সুতরাং যেসব জনবসতির নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দাওয়াত পৌঁছবে কিন্তু তারা তা মেনে নিবে না তাহলে তাদের ওপর এরূপ ধ্বংসাত্মক শাস্তি আপতিত হবে, তা থেকে মুক্তির উপায় থাকবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. সৎ কর্মের প্রতিদান জান্নাত, যারা ঈমানের সাথে সৎ কর্ম করবে তাদের জন্যই এ প্রতিদান।
২. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কেউ কোন উপকার বা ক্ষতি করার মালিক নয়।
৩. আল্লাহ তা‘আলাকে ছাড়া অন্যের পূজা বা উপাসনা করা স্পষ্ট বিভ্রান্তি।
৪. নাবী, রাসূল ও সৎ ব্যক্তিদের হত্যা করার পরিণাম খুবই খারাপ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২২-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:
ঐ সৎ লোকটি, যে আল্লাহর রাসূলদেরকে অবিশ্বাস, প্রত্যাখ্যান ও অপমান করতে দেখে দৌড়িয়ে এসেছিল এবং যে স্বীয় কওমকে নবীদের আনুগত্য করার জন্যে উৎসাহিত করছিল, সে এখন নিজের আমল ও আকীদার কথা তাদের সামনে পেশ করলো এবং তাদেরকে মূলতত্ত্ব সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে ঈমানের দাওয়াত দিলো। সে তাদেরকে বললোঃ “আমি তো শুধু এক ও অংশীবিহীন আল্লাহরই ইবাদত করি। একমাত্র তিনিই যখন আমাকে সষ্টি করেছেন তখন কেন আমি তার ইবাদত করবো না? এটাও নয় যে, আমরা এখন তার ক্ষমতার বাইরে চলে গেছি, সুতরাং তার সাথে আমাদের এখন আর কোন সম্পর্ক নেই? না, না। বরং আমাদের সবকেই আবার তার সামনে একত্রিত হতে হবে। ঐ সময় তিনি আমাদেরকে আমাদের ভাল ও মন্দের পুরোপুরি প্রতিদান প্রদান করবেন। এটা কতই না লজ্জার কথা যে, আমি ঐ সৃষ্টিকর্তা ও ক্ষমতাবানকে
ছেড়ে অন্যদের উপাসনা করবো, যে না কোন ক্ষমতা রাখে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার উপর কোন বিপদ আসলে ঐ বিপদ দূর করতে পারে, না দয়াময় আল্লাহ আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে তাদের কোন সুপারিশ আমার কোন কাজে আসতে পারে! আমার প্রতি আপতিত কোন বিপদ হতে তারা আমাকে উদ্ধার করতে পারবে না। যদি আমি এরূপ করি তবে অবশ্যই আমি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পড়বো। হে আমার কওম! তোমরা তোমাদের যে প্রকৃত মা'বুদকে অস্বীকার করছো, জেনে রেখো যে, আমি তার প্রতি ঈমান এনেছি। অতএব, তোমরা আমার কথা শোনো।” এই আয়াতের ভাবার্থ এও হতে পারে যে, ঐ সৎ লোকটি আল্লাহ্ তা'আলার ঐ রাসূলদেরকে বলেছিলঃ “আপনারা আমার ঈমানের উপর সাক্ষী থাকুন। আমি ঐ আল্লাহর সত্তার উপর ঈমান এনেছি যিনি আপনাদেরকে সত্য রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন। তাহলে লোকটি যেন ঐ রাসূলদেরকে নিজের ঈমানের উপর সাক্ষী করছে। পূর্বের চেয়ে এই অর্থটি বেশী স্পষ্ট। এসব ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত কা'ব (রাঃ), হযরত অহাব (রাঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, ঐ লোকটি এ কথা বলামাত্র তারা তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং তাকে হত্যা করে ফেলে। তথায় এমন কেউ ছিল না যে তার পক্ষ অবলম্বন করে তাদেরকে বাধা প্রদান করে। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, তারা তাকে পাথর মারতে থাকে আর সে মুখে উচ্চারণ করেঃ “হে আল্লাহ! আমার কওমকে আপনি হিদায়াত দান করুন, যেহেতু তারা জানে না। এমতাবস্থায় তারা তাকে শহীদ করে দেয়। আল্লাহ্ তার প্রতি দয়া করুন!
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।