সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 19)
হরকত ছাড়া:
قالوا طائركم معكم أئن ذكرتم بل أنتم قوم مسرفون ﴿١٩﴾
হরকত সহ:
قَالُوْا طَآئِرُکُمْ مَّعَکُمْ ؕ اَئِنْ ذُکِّرْتُمْ ؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ ﴿۱۹﴾
উচ্চারণ: কা-লূতাইরুকুম মা‘আকুম আইন যুক্কিরতুম বাল আনতুম কাওমুম মুছরিফূন।
আল বায়ান: তারা বলল, তোমাদের অমঙ্গলের কারণ তোমাদের সাথেই। তোমাদেরকে উপদেশ দেয়া হয়েছে বলেই কি এরূপ বলছ? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী কওম’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৯. তারা বললেন, তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সাথে(১); এটা কি এজন্যে যে, তোমাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে?(২) বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: রসূলগণ বলল- তোমাদের অমঙ্গলের কারণ তোমাদের সাথেই আছে (আর তা হল তোমাদের অপকর্ম)। তোমাদেরকে নসীহত করা হলেই কি (সেটাকে তোমরা তোমাদের অমঙ্গলের কারণ মনে কর)? আসলে তোমরা হচ্ছ এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।
আহসানুল বায়ান: (১৯) তারা বলল, ‘তোমাদের অমঙ্গল তোমাদের সঙ্গেই।[1] এ কি এ জন্য যে, তোমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে? বরং তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’
মুজিবুর রহমান: তারা বললঃ তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সাথে, এটা কি এ জন্য যে, আমরা তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি? বস্তুতঃ তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
ফযলুর রহমান: রসূলেরা বলল, “তোমাদের অশুভ তোমাদের সাথেই (রয়েছে)। তোমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে বলেই কি (তোমরা এরূপ বলছ)? আসলে তোমরা এক সীমালংঘনকারী জনগোষ্ঠী।”
মুহিউদ্দিন খান: রসূলগণ বলল, তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথেই! এটা কি এজন্যে যে, আমরা তোমাদেরকে সদুপদেশ দিয়েছি? বস্তুতঃ তোমরা সীমা লংঘনকারী সম্প্রদায় বৈ নও।
জহুরুল হক: তাঁরা বললেন, "তোমাদের পাখিগুলো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছে। তোমাদের তো স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে! বস্তুতঃ তোমরা হচ্ছ অমিতাচারী জাতি।
Sahih International: They said, "Your omen is with yourselves. Is it because you were reminded? Rather, you are a transgressing people."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৯. তারা বললেন, তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সাথে(১); এটা কি এজন্যে যে, তোমাদেরকে উপদেশ দেয়া হচ্ছে?(২) বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
তাফসীর:
(১) যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “প্রত্যেক ব্যক্তির কল্যাণ ও অকল্যাণের পরোয়ানা আমি তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছি।” [সূরা আল-ইসরা: ১৩]
(২) অর্থাৎ তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে উপদেশ দেয়াতে, আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়াতেই কি তোমরা আমাদের অলক্ষুণে মনে করছ? তোমরা তো সীমালজম্বানকারী সম্প্রদায়। [তাবারী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৯) তারা বলল, ‘তোমাদের অমঙ্গল তোমাদের সঙ্গেই।[1] এ কি এ জন্য যে, তোমাদেরকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে? বরং তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।”
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, ওটা তো তোমাদের স্বকৃত পাপকর্মের ফল, যা তোমাদের সঙ্গেই আছে, আমাদের সঙ্গে নয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৩-২১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একটি জনবসতির ঘটনা বর্ণনার নির্দেশ দিচ্ছেন, যে জনবসতির নিকট দু’জন রাসূল প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু সে বসতির লোকেরা দু’জন রাসূলকেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। তৎক্ষণাৎ তাদের দু’জনের শক্তি বৃদ্ধি কল্পে তৃতীয় আরেকজনকে নাবী হিসেবে পাঠানো হয়েছিল এবং নাবীগণ বললেন যে, আমরা তোমাদের নিকট দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছি, আমরা মিথ্যাবাদী না। নাবীগণের এ কথার উত্তরে জনবসতির অধিবাসীগণ বলল : তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ, সুতরাং দয়াময় আল্লাহ তা‘আলা কোন মানুষকে রাসূল করে পাঠাতে পারেন না। বরং তোমরা এ ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলছ। যেমন তাদের উক্তি :
(ذٰلِكَ بِأَنَّه۫ كَانَتْ تَّأْتِيْهِمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنٰتِ فَقَالُوْآ أَبَشَرٌ يَّهْدُوْنَنَا ز فَكَفَرُوْا وَتَوَلَّوْا وَّاسْتَغْنَي اللّٰهُ ط وَاللّٰهُ غَنِيٌّ حَمِيْدٌ)
“তা এ জন্য যে, তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনাবলীসহ আসতেন। তখন তারা বলত : মানুষই কি আমাদেরকে পথের সন্ধান দিবে? অতঃপর তারা কুফরী করল ও মুখ ফিরিয়ে নিলো; কিন্তু এতে আল্লাহর কিছু যায় আসে না। আর আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত।” (সূরা তাগাবুন ৬৪ : ৬)
জনবসতির কথার প্রত্যুত্তরে নাবীগণ তাদেরকে বললেন যে, আমাদের দায়িত্ব শুধু তোমাদের নিকট স্পষ্টভাবে আল্লাহ তা‘আলার বাণী পৌঁছে দেয়া আর এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিপালক অবগত আছেন যে, আমরা তোমাদের নিকট তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। তিনিই আমাদের ব্যাপারে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(قُلْ كَفٰي بِاللّٰهِ بَيْنِيْ وَبَيْنَكُمْ شَهِيْدًا)
“বল : ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।” (সূরা আনকাবুত ২৯ : ৫২) উপরোক্ত আলোচনা থেকে কয়েকটি বিষয় জানা যায় :
১. পূর্ববর্তী উম্মাতের কাছে যারা রাসূল হিসেবে এসেছেন তারা সবাই মানুষ ছিলেন এবং যাদের কাছে এসেছিলেন তারাও জানত যে, এরা আমাদের মত মানুষ। অতএব কেন আমরা এরূপ মানুষের কথা মানব। যেমন সূরা ইসরার ৯৪ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এক শ্রেণির মানুষ রয়েছে যারা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেয় কিন্তু তারা নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মাটির মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না। এ আয়াত থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
২. তারা যখন দু’জন রাসূলকে সাধারণভাবে অস্বীকার করল তখন আল্লাহ তা‘আলা তৃতীয় আরেকজনকে প্রেরণ করলেন এবং তারা বললেন : নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত রাসূল। তারপরেও যখন অস্বীকার করল, তখন রাসূলগণ বললেন : আল্লাহ তা‘আলা জানেন, অবশ্যই আমরা তোমাদের কাছে নিশ্চিত প্রেরিত রাসূল। অর্থাৎ তাদের অস্বীকার যত বাড়ল রাসূলদের কথার গুরুত্বও তত বাড়ল।
উক্ত গ্রাম কোথায় ও তিনজন প্রেরিত রাসূল কারা ছিলেন তা নিয়ে কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে কোন কোন মুফাসসিরদের ধারণা, সে গ্রামটি ছিল আন্তাকিয়া। যেমন ইবনু আব্বাস, কা‘ব ও ওহাব বিন মুনাব্বাহ (রাঃ) বলেছেন। মু’জামুল বুলদানের বর্ণনানুযায়ী ‘আন্তাকিয়া’ শাম দেশের একটি প্রাচীন নগরী। যা তার সমৃদ্ধি ও স্থাপত্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। এ নগরীর দুর্গ ও নগর প্রাচীন দর্শনীয় বস্তু ছিল। এতে খ্রিস্টানদের বড় বড় স্বর্ণ-রৌপ্যের কারুকার্য খচিত সুশোভিত গির্জা অবস্থিত রয়েছে। এটি একটি উপকূলীয় নগরী। ইসলামী আমলে শামবিজয়ী সাহাবী আবূ ওবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) এ শহরটি জয় করেছিলেন। নাবী তিনজন ছিলেন- সাদেক, সাদুক ও শামুল। (ইবনু কাসীর)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ এলাকাবাসীর ঘটনা বর্ণনা করার নির্দেশ দেয়ার কারণ হলো যাতে মক্কাবাসীসহ পৃথিবীর মানুষ জানতে পারে মুহাম্মাদ কোন নতুন নাবী নন, পূর্বে অনেক নাবী এসেছেন এবং এটাও যেন জানতে পারে, রাসূল গায়েব জানেন না বরং ওয়াহী মারফত পূর্ববর্তীদের এসব ঘটনা জেনেছেন। রাসূলগণ যে দাওয়াত নিয়ে এসেছেন তা বর্জন করলে ধ্বংস অনিবার্য এ কথাও যাতে জেনে নিতে পারে।
(إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ) تطير
অর্থ কুলক্ষণ গ্রহণ করা। অর্থাৎ তারা রাসূলগণকে বলল, তোমাদের আগমনে আমরা অকল্যাণকর ও আমাদের জন্য অশুভ মনে করছি। যদি তোমরা চলে না যাও তাহলে পাথর মেরে হত্যা করব এবং আমাদের থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে।
(قَالُوْا طَآئِرُكُمْ مَّعَكُمْ)
অর্থাৎ তাদের কথার উত্তরে রাসূলগণ বললেন : তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথেই, কেননা তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। যেমন সালেহ (আঃ)-এর সম্প্রদায় বলেছিল :
(قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَنْ مَّعَكَ ط قَالَ طَآئِرُكُمْ عِنْدَ اللّٰهِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُوْنَ)
“তারা বলল : ‘তোমাকে ও তোমার সঙ্গে যারা আছে তাদেরকে আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি।’ সে বলল : ‘তোমাদের অকল্যাণ আল্লাহর ইখতিয়ারে, বস্তুত তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।’’ (সূরা নামল ২৭ : ৪৭) এমনকি তারা সত্যের দা‘ওয়াত গ্রহণ করা থেকে বিরতই থাকল এবং রাসূলগণকে হত্যা করার পরিকল্পনা করল।
ঐ জনবসতির একজন মু’মিন ব্যক্তি ছিল যে শহরের শেষ প্রান্তে বসবাস করত। সে তাদের নিকট ছুটে আসলো ও বলল : হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা প্রেরিত ব্যক্তি (রাসূলগণ)-দের অনুসরণ করো। অনুসরণ করো তাদের যারা তোমাদের নিকট কোনই পারিশ্রমিক চায় না। তাঁদের স্বার্থের জন্য নয়, বরং তোমাদের কল্যাণার্থেই তাঁরা তোমাদেরকে সৎ পথের দিকে আহ্বান করছেন। সুতরাং তাঁদের আহ্বানে তোমাদের সাড়া দেয়া উচিত এবং তাঁদের আনুগত্য করা কর্তব্য। এতদসত্ত্বেও তারা ঈমান আনল না, রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং তাঁদেরকে অকল্যাণের কারণ মনে করল। এ লোকটির নাম কী ছিল তা নিয়ে অনেক মতামত পাওয়া যায়। তবে অনেকে বলেছেন : তার নাম ইয়াসিন হাবীব।
বিঃদ্রঃ কুরআন যে সকল ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের নাম বা অন্য কিছু অস্পষ্ট করে ছেড়ে দিয়েছে এবং সহীহ হাদীসে তার কোন বর্ণনা নেই তা জানা কোন জরুরী বিষয় নয়। বরং এগুলো নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ধর্মকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করার শামিল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. রাসূলগণের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে তাদের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া। কাউকে মানার জন্য বাধ্য করা নয়। বর্তমানে ‘আলিম সমাজের দায়িত্বও তা-ই। তারা মানুষকে হক্বের পথে দা‘ওয়াত দিবে।
২. দা‘ওয়াতী কাজ করে বিনিময় গ্রহণ না করাটাই উত্তম। যেমন নাবী-রাসূলগণ বিনিময় গ্রহণ করেননি। তবে যদি এর জন্য এমন সময় ব্যয় হয় যে কারণে পরিবারের ব্যয়-ভার উপার্জন করতে সময় পাওয়া যায় না তাহলে উপযুক্ত পরিমাণ বিনিময় নেওয়া যেতে পারে।
৩. রাসূলগণ মানুষ, তাদেরকে রিসালাত দেয়া হয়েছে মানুষকে সঠিক পথের দিকে আহ্বান করার জন্য।
৪. যা জানলে কোন উপকারে আসবে না তা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৮-১৯ নং আয়াতের তাফসীর:
ঐ গ্রামবাসীরা রাসূলদেরকে বললোঃ “তোমাদের আগমনে আমরা বরকত ও কল্যাণ লাভ করিনি, বরং আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। জেনে রেখো যে, তোমরা যদি তোমাদের এ কাজ হতে বিরত না হও, বরং এসব কথাই বলতে থাকো তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবো এবং আমাদের পক্ষ হতে তোমাদের উপর বেদনাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।” রাসূলগণ উত্তরে বললেনঃ “তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সাথে। তোমাদের কাজই খারাপ। তোমাদের উপর বিপদ আপতিত হবার এটাই কারণ হবে। তোমরা যেমন কাজ করবে তেমনই ফল পাবে।
এ কথাই ফিরাউন ও তার লোকেরা হযরত মূসা (আঃ) ও তাঁর কওমের মুমিনদেরকে বলেছিল। যখন তারা কোন আরাম ও শান্তি লাভ করতো তখন বলতোঃ “আমরা তো এর প্রাপকই ছিলাম। আর যখন তাদের উপর কোন বিপদ আপতিত হতো তখন হযরত মূসা (আঃ) ও মুমিনদেরকে কুলক্ষণে মনে করতো। যার জবাবে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ... (আরবী) অর্থাৎ “জেনে রেখো যে, আল্লাহর কাছে তাদের অমঙ্গল তাদের সাথেই।” অর্থাৎ তাদের বিপদাপদের কারণ তাদের খারাপ আমল, যার শাস্তি আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের উপর আপতিত হচ্ছে।
হযরত সালেহ (আঃ)-এর কওমও তাঁকে এ কথাই বলেছিল এবং তিনিও এ জবাবই দিয়েছিলেন। স্বয়ং হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-কেও একথাই বলা হয়েছিল। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তাদের কাছে কোন কল্যাণ পৌঁছে তখন তারা বলেঃ এটা আল্লাহর পক্ষ হতে এবং যখন কোন অকল্যাণ পৌঁছে তখন বলেঃ এটা তোমার পক্ষ হতে। তুমি বলঃ সবই আল্লাহর পক্ষ হতে সুতরাং এই কওমের কি হয়েছে যে, তারা কথা বুঝতেই চাচ্ছে না?”(৪:৭৮)
নবীরা তাদেরকে বললেনঃ এটা কি এজন্যে যে, আমরা তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি এবং তোমাদের মঙ্গল কামনা করছি তোমাদেরকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করছি? তোমরা আমাদেরকে তোমাদের অমঙ্গলের কারণ মনে করে ফেললে এবং আমাদেরকে ভয় দেখাতে লাগলে! আর তোমরা আমাদের সাথে মুকাবিলা করতে প্রস্তুত হয়ে গেলে! প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়। দেখো, আমরা তোমাদের মঙ্গল কামনা করছি, আর তোমরা আমাদের অমঙ্গল কামনা করছে। একটু চিন্তা করে বলতো, এটা কি ইনসাফের কাজ হচ্ছে? বড় আফসোসের বিষয় যে, তোমরা ইনসাফের সীমালংঘন করে ফেলেছে এবং ইনসাফ হতে বহু দূরে সরে পড়েছো!
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।