আল কুরআন


সূরা ফাতির (আয়াত: 7)

সূরা ফাতির (আয়াত: 7)



হরকত ছাড়া:

الذين كفروا لهم عذاب شديد والذين آمنوا وعملوا الصالحات لهم مغفرة وأجر كبير ﴿٧﴾




হরকত সহ:

اَلَّذِیْنَ کَفَرُوْا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ ۬ؕ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَهُمْ مَّغْفِرَۃٌ وَّ اَجْرٌ کَبِیْرٌ ﴿۷﴾




উচ্চারণ: আল্লাযীনা কাফারূলাহুম ‘আযা-বুন শাদীদুওঁ ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসালিহা-তি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবীর।




আল বায়ান: যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব; আর যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭. যারা কুফরী করে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। আর যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা কুফুরী করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। আর যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা প্রতিফল।




আহসানুল বায়ান: (৭) যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি এবং যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। [1]



মুজিবুর রহমান: যারা কুফরী করে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি, কিন্তু যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।



ফযলুর রহমান: যারা কাফের তাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে। আর যারা ঈমানদার ও সৎকর্মশীল তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা আর মহান এক পুরস্কার (জান্নাত)।



মুহিউদ্দিন খান: যারা কুফর করে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব। আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।



জহুরুল হক: যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জন্য আছে কঠোর শাস্তি। পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে পরিত্রাণ ও এক বিরাট প্রতিদান।



Sahih International: Those who disbelieve will have a severe punishment, and those who believe and do righteous deeds will have forgiveness and great reward.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭. যারা কুফরী করে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। আর যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭) যারা অবিশ্বাস করে, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি এবং যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। [1]


তাফসীর:

[1] এখানেও আল্লাহ তাআলা অন্য স্থানের মত ঈমানের সাথে নেক আমলের কথা উল্লেখ করে তার গুরুত্বকে পরিষ্ফুটিত করে দিয়েছেন; যাতে মু’মিনগণ নেক আমল থেকে কোন সময় অমনোযোগী না হয়, যেহেতু ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের প্রতিশ্রুতি সেই ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত, যার সাথে নেক আমল থাকবে ।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭-৮ নং আয়াতের তাফসীর:



প্রথম আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের শাস্তি ও যেসব ঈমানদার সৎ আমল করে তাদের পুরস্কারের কথা বর্ণনা করেছেন।



(أَفَمَنْ زُيِّنَ لَه۫ سُوْ۬ءُ عَمَلِه)



‘যাকে তার খারাপ কাজ সুন্দর করে দেখানো হয়’ অর্থাৎ যাদের কাছে শয়তান খারাপ কাজগুলোকে চাকচিক্যময় করে তুলে ধরেছে, আর সে তা করতে ভাল মনে করে। যেমন অনেকের কুফরী করতে ভাল লাগে, ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করতে ভাল লাগে ইত্যাদি। হে নাবী! এসব লোকদেরকে তুমি হিদায়াত দিতে পারবে না। কারণ হিদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দিয়ে থাকেন, যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করে থাকেন। যারা পথভ্রষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আর তুমি তাদের হিদায়াতের আশায় পেছনে পেছনে ঘুরে নিজেকে ধ্বংস করে দিও না।



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلٰٓي اٰثَارِهِمْ إِنْ لَّمْ يُؤْمِنُوْا بِهٰذَا الْحَدِيْثِ أَسَفًا)



‏“তারা এ হাদীসকে (কুরআনকে) বিশ্বাস না করলে সম্ভবত তাদের পিছনে ঘুরে তুমি দুঃখে নিজেকে ধ্বংস করে দিবে।” (সূরা কাহফ ১৮:৬)



সুতরাং হিদায়াত দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, তাই কেবল আল্লাহ তা‘আলার কাছে হিদায়াত চাইতে হবে। কারণ তিনি হিদায়াত দিলে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর পথভ্রষ্ট করলে হিদায়াত দেওয়ারও কেউ নেই।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ভাল কাজ করলে ভাল প্রতিদান এবং মন্দ কাজ করলে মন্দ পরিণাম ভোগ করতে হবে।

২. দাওয়াত দেয়ার পরেও কোন কাফির-মুশরিক ঈমান না আনলে তার জন্য দুঃখ করা ঠিক নয়।

৩. শয়তান মানুষের কাছে খারাপ কাজগুলো এমনভাবে তুলে ধরে যে, অধিকাংশ মানুষ তা ভাল মনে করে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭-৮ নং আয়াতের তাফসীর:

উপরে উল্লিখিতি হয়েছে যে, শয়তানের অনুসারীদের স্থান জাহান্নাম। এ জন্যে এখানে বলা হচ্ছেঃ কাফিরদের জন্যে কঠিন শাস্তি রয়েছে, যেহেতু তারা শয়তানের অনুসারী ও রহমানের অবাধ্য। মুমিনদের যদি কোন পাপ হয়ে যায় তবে হয়তো আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আর তাদের যে পুণ্য রয়েছে তার তারা বড় রকমের বিনিময় লাভ করবে। কাফির ও বদকার লোকেরা তাদের দুষ্কর্মকে ভাল কাজ মনে করে নিয়েছে। মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ এরূপ বিভ্রান্ত লোকদের উপর তোমার কি ক্ষমতা আছে? হিদায়াত করা ও পথভ্রষ্ট করা আল্লাহর হাতে। সুতরাং তোমার তাদের জন্যে চিন্তা না করা উচিত। আল্লাহর লিখন জারী হয়ে গেছে। কাজের গোপন তথ্য সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক ছাড়া আর কেউ জানে না। পথভ্রষ্ট ও হিদায়াত করণেও তাঁর হিকমত নিহিত রয়েছে। তার কোন কাজই হিকমত বহির্ভূত নয়। বান্দার সমস্ত কাজ তার জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে।

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সমস্ত সৃষ্টজীবকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন। তারপর তিনি তাদের উপর নিজের নূর (জ্যোতি) নিক্ষেপ করেছেন। সুতরাং যার উপর ঐ নূর পড়েছে সে দুনিয়ায় এসে সরল-সোজা পথে চলেছে। আর ঐ দিন যে তাঁর নূর লাভ করেনি সে দুনিয়াতে এসেও হিদায়াত লাভে বঞ্চিত হয়েছে। এ জন্যে আমি বলি যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহর ইলম অনুযায়ী কলম চলে শুকিয়ে গিয়েছে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত যায়েদ ইবনে আবি আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) আমাদের নিকট বেরিয়ে আসেন, অতঃপর বলেনঃ “আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি (বান্দাকে) বিপথ হতে সুপথে আনয়ন করেন এবং যাকে চান তাকে পথভ্রষ্টতায় জড়িয়ে দেন।” (এ হাদীসটি খুবই গরীব বা দুর্বল)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।