সূরা ফাতির (আয়াত: 38)
হরকত ছাড়া:
إن الله عالم غيب السماوات والأرض إنه عليم بذات الصدور ﴿٣٨﴾
হরকত সহ:
اِنَّ اللّٰهَ عٰلِمُ غَیْبِ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ اِنَّهٗ عَلِیْمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوْرِ ﴿۳۸﴾
উচ্চারণ: ইন্নাল্লা-হা ‘আ-লিমুগাইবিছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইন্নাহূ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূ র।
আল বায়ান: নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয়ের জ্ঞানী, অন্তরসমূহে যা রয়েছে সে বিষয়েও তিনি সবিশেষ অবগত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৮. নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয় অবগত। নিশ্চয় অন্তরে যা রয়েছে সে সম্বন্ধে তিনি সম্যক জ্ঞাত।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ আসমান যমীনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত। অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি বিশেষভাবে জ্ঞাত।
আহসানুল বায়ান: (৩৮) নিশ্চয় আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় অবগত আছেন।[1] নিশ্চয় তিনি অন্তরে যা রয়েছে, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। [2]
মুজিবুর রহমান: আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় অবগত আছেন। অন্তরে যা রয়েছে সে সম্বন্ধে তিনি সবিশেষ অবহিত।
ফযলুর রহমান: আল্লাহ আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয় অবগত আছেন। তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও ভালভাবে অবহিত রয়েছেন।
মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ আসমান ও যমীনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত। তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও সবিশেষ অবহিত।
জহুরুল হক: আল্লাহ্ নিশ্চয়ই মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়-বস্তুর সম্যক জ্ঞাতা। তিনি বুকের ভেতরে যা রয়েছে সে-সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।
Sahih International: Indeed, Allah is Knower of the unseen [aspects] of the heavens and earth. Indeed, He is Knowing of that within the breasts.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৮. নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয় অবগত। নিশ্চয় অন্তরে যা রয়েছে সে সম্বন্ধে তিনি সম্যক জ্ঞাত।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৮) নিশ্চয় আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় অবগত আছেন।[1] নিশ্চয় তিনি অন্তরে যা রয়েছে, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। [2]
তাফসীর:
[1] এখানে এ কথা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য এটাও হতে পারে যে, তোমরা পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছ এবং দাবী করছ যে, এবারে অবাধ্যতার পরিবর্তে আনুগত্য ও শিরকের পরিবর্তে তাওহীদকে বেছে নেবে। কিন্তু আমি জানি যে, তোমরা এমন করবে না। যদি তোমাদেরকে পৃথিবীতে পুনরায় পাঠিয়ে দেওয়াই হয়, তবে তোমরা তাই করবে, যা পূর্বে করতে। যেমন অন্য স্থানে আল্লাহ তাআলা বলেন, (وَلَوْ رُدُّوا لَعَادُوا لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ) অর্থাৎ, যদি তাদেরকে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে যা করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল, পুনরায় তারা তাই করবে। আর অবশ্যই তারা মিথ্যাবাদী। (সূরা আন্আম ২৮ আয়াত)
[2] এখানে পূর্ব কথার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা আকাশ ও পৃথিবীর যাবতীয় রহস্য সম্পর্কে কেন অবগত হবেন না, অথচ তিনি অন্তরের কথা ও রহস্য সম্পর্কে অবগত আছেন, যা সব থেকে বেশী লুক্কায়িত বস্তু।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৮-৪১ নং আয়াতের তাফসীর:
আকাশ ও জমিনের সকল গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই জানেন এমনকি মানুষের অন্তরের খবরও জানেন, সে কথাই এখানে ব্যক্ত করা হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনিই মানুষকে জমিনে একজনকে অন্যজনের প্রতিনিধি করেছেন। অর্থাৎ একজন জমিনে আসবে, তার সময় শেষে চলে যাবে আবার অন্যজন দুনিয়াতে আসবে, জমিন আবাদ করবে, এভাবেই কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَا۬ءَ الْأَرْضِ)
“এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেন।” (সূরা নামল ২৭:৬২)
অতঃপর তিনি বলেন: কেউ যদি কুফরী করে তাহলে তার শাস্তি তাকেই পেতে হবে। আর কাফিরদের কুফরী কোনই ফায়দা দেয় না, শুধু আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং তাদের নিজেদেরই ক্ষতি হয়।
(قُلْ اَرَءَیْتُمْ شُرَکَا۬ءَکُمُ.... اِنَّھ۫ کَانَ حَلِیْمًا غَفُوْرًاﭸ)
আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর সকল মুশরিকদেরকে আহ্বান করে বলেন: তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্য যাদের ইবাদত কর, সমস্যা নিরসনে ও কল্যাণ লাভের জন্য আহ্বান কর, আমাকে দেখাও তো তারা পৃথিবীর কোন কিছু সৃষ্টি করেছে কি? অথবা আকাশ-জমিন সৃষ্টি করাতে তাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে কিনা? নাকি আমি তোমাদেরকে এমন কিতাব দিয়েছি যাতে শিরক করার কথা উল্লেখ রয়েছে ফলে তোমরা সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছ। না, এসব কিছুই নেই, বরং পূর্বে যত কিতাব নাযিল করা হয়েছে বা যত নাবী কিতাব নিয়ে এসেছেন তাতে এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার নির্দেশই ছিল।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَآ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ إِلَّا نُوْحِيْٓ إِلَيْهِ أَنَّه۫ لَآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنَا فَاعْبُدُوْنِ)
“আমি তোমার পূর্বে যখন কোন রাসূল প্রেরণ করেছি তার প্রতি এ ওয়াহী করেছি, ‘আমি ব্যতীত অন্য কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই; সুতরাং আমারই ‘ইবাদত কর।’’ (সূরা আম্বিয়া ২১:২৫)
তাহলে এসব মুশরিকরা কেন আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য বাতিল মা‘বূদের ইবাদত করে? তারা যদি কোন কিছু সৃষ্টিই না করতে পারে তাহলে তারা কিভাবে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য হতে পারে? সুতরাং একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত করতে হবে, কারণ তিনি সবকিছুর স্রষ্টা। যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনিই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। এ সম্পর্কে সূরা আল ফুরক্বান-এর ৩ ও সূরা র্আ রা‘দ-এর ১৬ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ এসব মুশরিক জালিমরা একে অপরকে যে প্রতিশ্র“তি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে যেসব শিরক করে তাদের কাছে তার তো কোন প্রমাণ নেই। তাই বিভিন্ন আশা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে নিজেদের পথে আহ্বান করে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনিই আকাশমণ্ডলী ও জমিনকে স্থির করে রাখেন যাতে তা স্থানচ্যুত না হয়, নড়াচড়া না করতে পারে ও ঢলে না পড়ে। কেননা আকাশ-জমিন সর্বদা কম্পন করতে থাকলে, নড়াচড়া করলে তাতে বসবাস করা সম্ভব হবে না, সর্বদা মানুষ শংকিত থাকবে কখন যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে আর আকাশ ভেঙ্গে পড়লে বা জমিন কম্পন করতে থাকলে আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্থির করে রাখার নেই।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَيُمْسِكُ السَّمَا۬ءَ أَنْ تَقَعَ عَلَي الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِه۪ ط إِنَّ اللّٰهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوْفٌ رَّحِيْمٌ)
“আর তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাতে তা পতিত না হয় পৃথিবীর ওপর তাঁর অনুমতি ব্যতীত। আল্লাহ নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।” (সূরা হাজ্জ ২২:৬৫)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(وَمِنْ اٰيٰتِه۪ٓ أَنْ تَقُوْمَ السَّمَا۬ءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِه۪)
“আর তার দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, তারই আদেশে আসমান ও জমিন স্থির আছে।” (সূরা রূম ৩০:২৫)
অতএব আল্লাহ তা‘আলা যদি এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ না করেন তাহলে এমন কেউ নেই যে, এগুলোর লক্ষচ্যুত হওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সকল কিছু সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একচ্ছত্র মালিক আল্লাহ তা‘আলাই, অন্য কোন অংশীদার নয়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শিরক করে তাদের কোন প্রমাণ নেই, আল্লাহ তা‘আলা কোন কিতাবে এরূপ করার নির্দেশ দেননি।
২. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই আকাশ ও জমিনের নিয়ন্ত্রণকারী, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৮-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় ব্যাপক ও অসীম জ্ঞানের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি আসমান ও যমীনের সবকিছুই পূর্ণরূপে অবগত রয়েছেন। মানুষের অন্তরের গোপন কথাও তাঁর কাছে পরিষ্কার। তিনি স্বীয় বান্দার প্রত্যেক কাজের বিনিময় প্রদান করবেন। মহান আল্লাহ বলেনঃ তিনি তোমাদের এককে অপরের প্রতিনিধি করে দিয়েছেন। কাফিরদের কুফরীর শাস্তি তাদেরকেই পেতে হবে। তারা যতো কুফরীর দিকে অগ্রসর হয়, তাদের উপর আল্লাহর অসন্তুষ্টি ততো বেড়ে যায়। ফলে তাদের ক্ষতিও আরো বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে মুমিনের বয়স যতো বেশী হয় ততই তার পুণ্য বৃদ্ধি পায় এবং মর্যাদা বেড়ে যায়। আর আল্লাহ তাআলার কাছে তা গৃহীত হয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।