আল কুরআন


সূরা ফাতির (আয়াত: 33)

সূরা ফাতির (আয়াত: 33)



হরকত ছাড়া:

جنات عدن يدخلونها يحلون فيها من أساور من ذهب ولؤلؤا ولباسهم فيها حرير ﴿٣٣﴾




হরকত সহ:

جَنّٰتُ عَدْنٍ یَّدْخُلُوْنَهَا یُحَلَّوْنَ فِیْهَا مِنْ اَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَّ لُؤْلُؤًا ۚ وَ لِبَاسُهُمْ فِیْهَا حَرِیْرٌ ﴿۳۳﴾




উচ্চারণ: জান্না-তু‘আদনিইঁ ইয়াদখুলূনাহা-ইউহাল্লাওনা ফীহা-মিন আছা-বিরা মিন যাহাবিওঁ ওয়ালু’লুওয়া- ওয়া লিবা-ছুহুম ফীহা-হারীর।




আল বায়ান: চিরস্থায়ী জান্নাত, এতে তারা প্রবেশ করবে। যেখানে তাদেরকে স্বর্ণের চুড়ি ও মুক্তা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৩. স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে(১), সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।




তাইসীরুল ক্বুরআন: স্থায়ী জান্নাতে তারা প্রবেশ করবে। যেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তার কঙ্কণে অলঙ্কৃত করা হবে। যেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।




আহসানুল বায়ান: (৩৩) তারা প্রবেশ করবে স্থায়ী জান্নাতে,[1] যেখানে তাদের স্বর্ণ নির্মিত কঙ্কণ ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং যেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। [2]



মুজিবুর রহমান: তারা প্রবেশ করবে স্থায়ী জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক পরিচ্ছদ হবে রেশমের।



ফযলুর রহমান: তারা (কল্যাণকর কাজকর্মে অগ্রগামীরা) স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেখানে তাদেরকে সোনার কাঁকন ও মুক্তার অলংকার পরানো হবে। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।



মুহিউদ্দিন খান: তারা প্রবেশ করবে বসবাসের জান্নাতে। তথায় তারা স্বর্ণনির্মিত, মোতি খচিত কংকন দ্বারা অলংকৃত হবে। সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের।



জহুরুল হক: নন্দন কানন -- তারা এটিতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদের অলঙ্কৃত করানো হবে সোনা ও মুক্তোর কঙ্কন দিয়ে, আর তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ সেখানে হবে রেশমের।



Sahih International: [For them are] gardens of perpetual residence which they will enter. They will be adorned therein with bracelets of gold and pearls, and their garments therein will be silk.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৩. স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে(১), সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।


তাফসীর:

(১) মুফাস্‌সিরগণের একটি দলের মতে এ বাক্যের সম্পর্ক নিকটবর্তী দু'টি বাক্যের সাথেই রয়েছে। অর্থাৎ সৎকাজে অগ্রগামীরাই বড় অনুগ্রহের অধিকারী এবং তারাই এ জন্নাতগুলোতে প্রবেশ করবে। অন্যদিকে প্রথম দুটি দলের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের পরিণামের কথা চিন্তা করে এবং নিজেদের বর্তমান অবস্থা থেকে বের হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে পারে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, ওপরের সমগ্র আলোচনার সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। আর এর অর্থ হচ্ছে, এ তিনটি দলই শেষ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে, কোনপ্রকার হিসেব-নিকেশ ছাড়াই বা হিসেব নিকেশের পর এবং সব রকমের জবাবদিহি থেকে সংরক্ষিত থেকে অথবা কোন শাস্তি পাওয়ার পর যে কোন অবস্থাতেই হোক না কেন। কুরআনের পূর্বাপর আলোচনা এ ব্যাখ্যার প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। [দেখুন: ফাতহুল কাদীর] কারণ সামনের দিকে কিতাবের উত্তরাধিকারীদের মোকাবিলায় অন্যান্য দল সম্পর্কে বলা হচ্ছেঃ “আর যারা কুফরী করেছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন।”

এ থেকে জানা যায়, যারা এ কিতাবকে মেনে নিয়েছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং যারা এর প্রতি ঈমান আনতে অস্বীকার করেছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম। আবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিন্মোক্ত হাদীসও এর প্রতি সমর্থন জানায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যারা সৎকাজে এগিয়ে গেছে তারা জান্নাতে প্ৰবেশ করবে। কোনরকম হিসেবা-নিকেশ ছাড়াই। আর যারা মাঝপথে থাকবে তাদের হিসেব-নিকেশ হবে, তবে তা হবে হাল্কা। অন্যদিকে যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে তাদেরকে হাশরের দীর্ঘকালীন সময়ে আটকে রাখা হবে, তারপর তাদেরকে আল্লাহর রহমতের মধ্যে নিয়ে নেয়া হবে এবং এরাই হবে এমনসব লোক যারা বলবে, “সেই আল্লাহর শোকর যিনি আমাদের থেকে দুঃখ দূর করে দিয়েছেন।” [তাফসীর তাবারী: ২২/১৩৭]

এ বিষয়বস্তু সম্বলিত বিভিন্ন উক্তি মুহাদ্দিসগণ বিভিন্ন সাহাবী যেমন, উমর, উসমান, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আয়েশা, আবু সাঈদ খুদরী, এবং বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম থেকে উদ্ধৃত করেছেন। আর একথা বলা নিষ্প্রয়োজন যে, সাহাবীগণ এহেন ব্যাপারে কোন কথা ততক্ষণ পর্যন্ত বলতে পারেন না, যতক্ষণ না তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখে শুনে থাকবেন। [বিস্তারিত বর্ণনা দেখুন: কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৩) তারা প্রবেশ করবে স্থায়ী জান্নাতে,[1] যেখানে তাদের স্বর্ণ নির্মিত কঙ্কণ ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং যেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। [2]


তাফসীর:

[1] অনেকে বলেন, শুধু সৎকর্মে অগ্রগামী ব্যক্তিরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিন্তু এ কথা ঠিক নয়। কুরআনের পূর্বাপর বাগধারার দাবী অনুযায়ী তিন দলই জান্নাতী হবে। তবে একথা স্বতন্ত্র যে সৎকর্মে অগ্রগামী ব্যক্তিগণ বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং মধ্যপন্থী ব্যক্তিগণ সহজ ও সরল হিসাবের পর এবং নিজের প্রতি অত্যাচারিগণ সুপারিশ অথবা শাস্তি ভোগ করার পর জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ কথাই হাদীস দ্বারা স্পষ্ট হয়। মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহ বলেন, ‘এই উম্মত হচ্ছে উম্মাতে মারহূমাহ (করুণার পাত্র), যালেম বা গুনাহগারদেরকে ক্ষমা করা হবে, মধ্যপন্থীরা আল্লাহর নিকট জান্নাতে থাকবে এবং সৎকর্মে অগ্রগামী ব্যক্তিরা আল্লাহর নিকট সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবে।’ (ইবনে কাসীর)

[2] মহানবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘রেশম ও দীবাজ (এক প্রকার মোটা রেশম) পৃথিবীতে পরিধান করো না। কারণ, যে তা পৃথিবীতে পরিধান করবে, সে তা আখেরাতে পরিধান করতে পাবে না।’’ (বুখারী -মুসলিম)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩৩-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্বের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, উম্মাতে মুহাম্মাদীর যাদেরকে কিতাবের উত্তরাধীকারী করা হয়েছে অর্থাৎ উল্লিখিত তিন শ্রেণি প্রতিদান এ আয়াতগুলো উল্লেখ করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তারা চিরসুখের সাথে জান্নাতে বসবাস করবে: তথায় তাদের কোনই দুঃখ-কষ্ট থাকবে না। এ সমস্ত লোকেরা অর্থাৎ উম্মাতে মুহাম্মাদীর যে তিন শ্রেণির লোক রয়েছে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তথায় তাদেরকে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে। যেমন সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, আবূ হুরাইরাহ্ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: মু’মিনের অলংকার ঐ পর্যন্ত হবে যে পর্যন্ত ওযূর পানি পৌঁছে থাঁকে। (সহীহ মুসলিম হা: ৬০৯) এবং সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। যেমন হাদীসে বলা হয়েছে, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশম পরিধান করবে সে আখিরাতে রেশম পরিধান করতে পারবে না” এবং তিনি আরো বলেন: তোমরা স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করো না। দুনিয়ায় এগুলো তাদের (কাফিরদের) জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের অর্থাৎ ঈমানদারদের জন্য।” (সহীহ বুখারী হা: ৫৮৩৩, ৫৮৩১, সহীহ মুসলিম হা: ২০৬৭, ৫৩০৪)



আর জান্নাতীরা তথায় এ সকল ভোগ-বিলাস যখন উপভোগ করবে তখন এ বলে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করবে যে, সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা ও দুঃশ্চিন্তা দূরীভূত করে দিয়েছেন এবং তথায় তাদের কোন কিছুর অভাব থাকবে না আর তারা আরো বলবে যে, প্রশংসা মাত্রই ঐ আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাস দিয়েছেন। যেখানে ক্লেশ ও ক্লান্তি আমাদেরকে স্পর্শ করে না। আল্লাহ তা‘আলার এ অনুগ্রহ ব্যতীত আমাদের তা লাভ করা সম্ভব ছিল না।



সহীহ হাদীসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: তোমাদের কাকেও তার ‘আমাল কখনো জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকেও না? তিনি বললেন: আমাকেও না। তবে আমাকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমাত ও অনুগ্রহ দ্বারা আচ্ছাদিত করে রেখেছেন।” (সহীহ বুখারী হা: ৬৪৬৭, সহীহ মুসলিম হা: ৭৪১)



সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে, আবূ সা‘ঈদ খুদরী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতীদেরকে বলবেন, হে জান্নাতবাসীরা! তারা উত্তর দিবে হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা হাজির আছি। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা উত্তর দিবে আমাদের কী হলো যে, আমরা সন্তুষ্ট হব না অথচ আপনি আমাদেরকে ঐ জিনিস দান করেছেন যা এর পূর্বে আপনার আর কোন সৃষ্টিকে দেননি। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: আমি তোমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম জিনিস দান করব। তারা বলবে: হে আমাদের রব! এর চেয়ে উত্তম জিনিস আর কী আছে? আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি অবধারিত হয়ে গেছে। এরপর আমি আর কোনদিন তোমাদের ওপর রাগান্বিত হব না। (সহীহ বুখারী হা: ৬৫৪৯, সহীহ মুসলিম হা: ২৮২৯, ১৮৩)



আল্লাহ তা‘আলার বাণী,



(كُلُوْا وَاشْرَبُوْا هَنِيْـٓئًامَّبِمَآ أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ)‏



“তোমরা খাও এবং পান কর‎ তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনসমূহে যা করেছিলে তার বিনিময়ে।” (সূরা হাক্কাহ ৬৯:২৪)



সুতরাং জান্নাতীরা জান্নাতে চির সুখে বসবাস করবে, কোন কিছুর ঘাটতি থাকবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. জান্নাতীদের জন্য জান্নাতে স্বর্ণ নির্মিত কংকন ও রেশমের পোশাক থাকবে।

২. জান্নাতীরা কোন প্রকার দুঃখ-কষ্ট ভোগ করবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩৩-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ্ তা'আলা খবর দিচ্ছেনঃ সৌভাগ্যবান লোকদেরকে আমি আমার কিতাবের ওয়ারিশ করেছি, আর কিয়ামতের দিন তাদেরকে আমি চিরস্থায়ী নিয়ামত বিশিষ্ট জান্নাতে প্রবিষ্ট করবো। সেখানে আমি তাদেরকে স্বর্ণ ও মুক্তা নির্মিত কংকন পরাবো। যেমন সহীহ হাদীসে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “মুমিনের অলংকার ঐ পর্যন্ত হবে যে পর্যন্ত অযুর পানি পৌছে থাকে।”

সেখানে তাদের পোশাক হবে খাঁটী রেশমের, দুনিয়ায় তাদেরকে যা পরিধান করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “দুনিয়ায় যে ব্যক্তি রেশম পরিধান করবে, আখিরাতে সে তা পরিধান করতে পাবে না।” তিনি আরো বলেছেনঃ “এটা (রেশম) তাদের (কাফিরদের) জন্যে দুনিয়ায় এবং তোমাদের (মুসলমানদের) জন্যে আখিরাতে।”

হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) জান্নাতবাসীদের অলংকারের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ “তাদেরকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার পরানো হবে। সেগুলো মণি-মুক্তা দ্বারা জড়ানো হবে। তাদের (মাথার) উপর রাজা-বাদশাহৃদের মুকুটের মত মুকুট থাকবে যা মণি-মুক্তা দ্বারা নির্মিত হবে। তারা হবে নব্য যুবক। তাদের দাড়ি-গোঁফ গজাবে না। তাদের চোখে সুরমা দেয়া থাকবে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

তারা বলবেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন। যিনি আমাদের থেকে দুনিয়া ও আখিরাতের চিন্তা, উদ্বেগ, লজ্জা ও অনুতাপ দূর করে দিয়েছেন।

হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “যারা লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ (আরবী) পাঠ করে তাদের কবরে ও হাশরের ময়দানে কোন ভয়-ভীতি থাকবে না। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি যে, তারা তাদের মাথা হতে মাটি ঝেড়ে ফেলছে এবং বলছেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের ভয়-ভীতি ও দুঃখ দুর্দশা দূর করে দিয়েছেন।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠকারীদের মৃত্যুর সময়, কবরে এবং কবর হতে উঠবার সময় কোনই ভয়-ভীতি থাকবে না। আমি যেন দেখতে পাচ্ছি যে, পুনরুত্থানের সময় তারা তাদের মাথা হতে মাটি ঝেড়ে ফেলছে এবং বলছেঃ প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন। আমাদের প্রতিপালক তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী'।” (এ হাদীসটি তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, তাদের বড় বড় পাপগুলো ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে এবং ছোট ছোট নেকীগুলো মর্যাদার সাথে কবুল করা হয়েছে।

তারা আরো বলবেঃ ‘শোকর আল্লাহর যিনি নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে স্থায়ী আবাস দিয়েছেন। আমাদের আমল তো এর যোগ্যই ছিল না। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের কাউকেও তার আমল কখনো জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবে না।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনাকেও না?” তিনি উত্তরে বললেনঃ “হ্যা, আমাকেও , তবে এ অবস্থায় যে, আমার প্রতি আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ হবে।”

তারা বলবেঃ এখানে তো ক্লেশ আমাদেরকে স্পর্শ করে না এবং ক্লান্তিও স্পর্শ করে না।' রূহ্-এ আলাদা খুশী এবং দেহেও আলাদা শান্তি। দুনিয়ায় তাদেরকে আল্লাহর পথে যে কষ্ট ভোগ করতে হয়েছিল এটা তারই প্রতিদান। আজ শুধু শান্তি আর শান্তি। তাদেরকে বলে দেয়া হবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা পানাহার কর তৃপ্তি সহকারে, তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে।” (৬৯:২৪)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।