আল কুরআন


সূরা ফাতির (আয়াত: 22)

সূরা ফাতির (আয়াত: 22)



হরকত ছাড়া:

وما يستوي الأحياء ولا الأموات إن الله يسمع من يشاء وما أنت بمسمع من في القبور ﴿٢٢﴾




হরকত সহ:

وَ مَا یَسْتَوِی الْاَحْیَآءُ وَ لَا الْاَمْوَاتُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُسْمِعُ مَنْ یَّشَآءُ ۚ وَ مَاۤ اَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَّنْ فِی الْقُبُوْرِ ﴿۲۲﴾




উচ্চারণ: ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আহইয়াউ ওয়ালাল আমওয়া-তু ইন্নাল্লা-হা ইউছমি‘উ মাইঁ ইয়াশাউ ওয়ামাআনতা বিমুছমি‘ইম মান ফিল কুবূর।




আল বায়ান: আর জীবিতরা ও মৃতরা এক নয়;* নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শুনাতে পারেন, কিন্তু যে ব্যক্তি কবরে আছে তাকে তুমি শুনাতে পারবে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২২. এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছে শোনান; আর আপনি শোনাতে পারবেন না যারা কবরে রয়েছে তাদেরকে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর জীবিত ও মৃতও সমান নয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন শোনান; যারা ক্ববরে আছে তুমি তাদেরকে শোনাতে পার না।




আহসানুল বায়ান: (২২) এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত।[1] আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শ্রবণ করান; [2] আর তুমি মৃতকে শোনাতে পার না। [3]



মুজিবুর রহমান: আর সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শ্রবণ করান। তুমি শোনাতে সমর্থ হবেনা যারা কাবরে রয়েছে তাদেরকে।



ফযলুর রহমান: এবং সমান নয় জীবিত আর মৃত। আল্লাহ যাকে চান শোনাতে পারেন, কিন্তু যারা কবরে আছে তাদেরকে তুমি শোনাতে পার না।



মুহিউদ্দিন খান: আরও সমান নয় জীবিত ও মৃত। আল্লাহ শ্রবণ করান যাকে ইচ্ছা। আপনি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নন।



জহুরুল হক: আর জীবন্ত এবং মৃতও একসমান নয়। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা করেন তাকে শুনিয়ে থাকেন, আর যারা কবরে রয়েছে তাদের তুমি শোনাতে সক্ষম নও।



Sahih International: And not equal are the living and the dead. Indeed, Allah causes to hear whom He wills, but you cannot make hear those in the graves.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২২. এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছে শোনান; আর আপনি শোনাতে পারবেন না যারা কবরে রয়েছে তাদেরকে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২২) এবং সমান নয় জীবিত ও মৃত।[1] আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শ্রবণ করান; [2] আর তুমি মৃতকে শোনাতে পার না। [3]


তাফসীর:

[1] أحياء থেকে উদ্দেশ্য হল ঈমানদার মানুষ এবং أموات থেকে উদ্দেশ্য হল কাফের ও অবিশ্বাসী মানুষ অথবা আলেম ও জাহেল অথবা জ্ঞানী ও অজ্ঞ মানুষ।

[2] অর্থাৎ, আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করতে চান এবং জান্নাত যার ভাগ্যে থাকে, তাকে দলীল শ্রবণ ও তা গ্রহণ করার সুমতি দান করেন।

[3] অর্থাৎ, যেরূপ কবরে মৃত ব্যক্তিকে কোন কথা শুনানো যায় না, অনুরূপ কুফরী ও অবিশ্বাস যাদের অন্তরকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে, হে নবী! তুমি তাদেরকে সত্যের বাণী শুনাতে পারবে না। উদ্দেশ্য এই যে, যেমন মৃত্যু ও কবরে দাফন হওয়ার পর মৃতব্যক্তি কোন উপকার লাভ করতে পারে না, তেমনি কাফের ও মুশরিক; যাদের জীবনে দুর্ভাগ্য লিপিবদ্ধ আছে, দাওয়াত ও তবলীগ দ্বারা তাদের কোন উপকার হয় না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৯-২৬ নং আয়াতের তাফসীর



(وَمَا يَسْتَوِي الْأَعْمٰي وَالْبَصِيْرُ)



‘আর সমান নয় অন্ধ ও দৃষ্টিমান ব্যক্তি’ এখানে অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন লোকের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে যে, অন্ধ অর্থাৎ যারা আল্লাহ তা‘আলার দীনের ব্যাপারে অন্ধ তারা এবং যারা আল্লাহ তা‘আলার দীনের ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান রাখে ও অনুসরণ করে তারা কখনো সমান হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলার বাণী,



(مَثَلُ الْفَرِيْقَيْنِ كَالْأَعْمٰي وَالْأَصَمِّ وَالْبَصِيْرِ وَالسَّمِيْعِ ط هَلْ يَسْتَوِيٰنِ مَثَلًا ط أَفَلَا تَذَكَّرُوْنَ)



“দু শ্রেণির লোকের উপমা যেমন একজন অন্ধ ও বধির এবং অপরজন চুক্ষুস্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্ন তুলনায় এ দু’টি কি সমান?” (সূরা হূদ ১১:২৪)



উক্ত আয়াতে অন্ধ দ্বারা কুফর এবং চাক্ষুমান দ্বারা ঈমান বুঝানো হয়েছে। সুতরাং কুফর ও ঈমান কখনো সমান হতে পারে না।



الظُّلُمٰتُ বা অন্ধকার দ্বারা উদ্দেশ্য হলোন কুফরীর অন্ধকার, অর্থাৎ যারা পথভ্রষ্ট তারা।



النُّوْرُ বা আলো দ্বারা উদ্দেশ্য হলোন ঈমানের আলো, অর্থাৎ যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত তারা।



الظِّلُّ বা ছায়া, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জান্নাত।



الْحَرُوْرُ বা গরম, উত্তপ্তন এর দ্বারা মূলত জাহান্নামকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে।



الْأَحْيَا۬ءُ বা জীবিত, এর দ্বারা মু’মিনদেরকে বুঝানো হয়েছে কিংবা ‘আলিম বা জ্ঞানী লোকে।



الْأَمْوَاتُ বা মৃত, এর দ্বারা কাফিরদেরকে বুঝানো হয়েছে অথবা মুর্খ লোককে। যেমন সূরা আন‘আমের ১২২ নং আয়াতে ও সূরা ইয়াসিনের ৭০ নং আয়াতেও বলা হয়েছে। সুতরাং যারা ঈমানদার ও সঠিক পথের অনুসারী তারা, আর যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করে ও অন্ধকার পথের পথিক তারা কখনো সমান নয়। বরং ঈমানদাররাই সফলকাম।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَا يَسْتَوِيْٓ أَصْحٰبُ النَّارِ وَأَصْحٰبُ الْجَنَّةِ ط أَصْحٰبُ الْجَنَّةِ هُمُ الْفَآئِزُوْنَ)‏



“জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসী সমান নয়। জান্নাতবাসীরাই সফলকাম।” (সূরা হাশর ৫৯:২০)



(وَمَآ أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَّنْ فِي الْقُبُوْرِ)



‘যারা কবরে আছে তুমি তাদেরকে শুনাতে পারবে না’ অর্থাৎ যেমনিভাবে কবরে মৃত আত্মাকে তুমি শুনাতে পারবে না, যতই তাদেরকে ডাক যারা আল্লাহ তা‘আলার দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এমন জীবিত ব্যক্তিদেরকেও তুমি বোঝাতে পারবে না। তাদেরকে যতই বোঝানোর চেষ্টা করো না কেন তারা বুঝতে চাইবে না। এ সম্পর্কে সূরা নাম্ল-এর ৮০ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকটই তিনি পথ প্রদর্শনকারী রাসূল প্রেরণ করেছেন। এমন কোনই সম্প্রদায় নেই যাদের প্রতি কোন সতর্ককারী পাঠানো হয়নি। আল্লাহ তা‘আলার বাণী,



(وَّلِكُلِّ قَوْمٍ هَادٍ)‏



“এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আছে পথ প্রদর্শক।” (সূরা রাদ ১৩:৭)



সুতরাং কিয়ামত দিবসে কারো আপত্তি পেশ করার কোনই সুযোগ থাকবে না যে, আমাদের নিকট সত্য নিয়ে কোন লোক আগমন করেনি। সকলের নিকটই সতর্ককারী পাঠানো হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মু’মিন আর কাফির কখনো সমান হতে পারে না, বরং মু’মিনরাই সফলকাম।

২. প্রত্যেক জাতির নিকট সৎ ব্যক্তিদের জন্য সুসংবাদ আর অবাধ্যদের জন্য সতর্ককারীরূপে রাসূল প্রেরণ করা হয়েছে।

৩. যারা আল্লাহ তা‘আলার দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের পরিণতি খুব ভয়াবহ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৯-২৬ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা বলছেন যে, মুমিন ও কাফির সমান হয় না, যেমন সমান হয় অন্ধ ও চক্ষুষ্মন, অন্ধকার ও আলো, ছায়া ও রৌদ্র এবং জীবিত ও মৃত। যেমন এগুলোর মাঝে আকাশ পাতালের পার্থক্য রয়েছে, ঠিক তেমনই ঈমানদার ও কাফিরদের মাঝে সীমাহীন পার্থক্য বিরাজমান। মুমিন কাফিরের সম্পূর্ণ বিপরীত। কাফির হচ্ছে অন্ধ, অন্ধকার ও গরম লু হাওয়ার মত। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা মৃত ছিল তাদেরকে আমি জীবিত করে দিয়েছি, তাদেরকে নূর বা আলো দিয়েছি, সেগুলো নিয়ে তারা লোকদের মাঝে চলাফেরা করে, তারা কি তাদের মত যারা অন্ধকারে চলাফেরা করে?(৬:১২২) আর এক আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “দু'টি দলের দৃষ্টান্ত অন্ধ ও বধির এবং চক্ষুষ্মন ও শ্রবণশক্তি সম্পন্ন লোকের মত, এ দু’দলের দৃষ্টান্ত কি সমান?”(১১:২৪) মুমিনের তো চোখ আছে ও কান আছে। সে আলোক প্রাপ্ত। সে সরল সঠিক পথে রয়েছে। সে ছায়া ও নহর বিশিষ্ট জান্নাতে প্রবেশ করবে। অপরপক্ষে, কাফির অন্ধ ও বধির। সে দেখতেও পায় না, শুনতেও পায় না। অন্ধকারে সে জড়িয়ে পড়েছে। অন্ধকার হতে বের হতে পারে না। সে জাহান্নামে পৌঁছে যাবে যা অত্যন্ত গরম ও কঠিন তাপবিশিষ্ট এবং দাহনকারী আগুনের ভাণ্ডার।

আল্লাহ যাকে চাইবেন শুনিয়ে দিবেন অর্থাৎ এমনভাবে শুনবার তাওফীক দিবেন যে, সে শুনে কবূলও করে নিবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ যারা কবরে আছে তাকে তুমি (হযরত মুহাম্মাদ সঃ) শুনাতে সমর্থ হবে না। অর্থাৎ কেউ যখন মরে যায় এবং তাকে সমাধিস্থ করা হয় তখন তাকে ডাকা যেমন বৃথা, তেমনই কাফিররাও যে, তাদেরকে হিদায়াতের দাওয়াত দেয়া বৃথা। অনুরূপভাবে মুশরিকদের উপরেও দুর্ভাগ্য ছেয়ে গেছে। সুতরাং তাদের হিদায়াত লাভের কোন আশা নেই। হে নবী (সঃ)! তুমি তাদেরকে কখনো হিদায়াতের উপর আনতে পার না। তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র। তোমার কাজ শুধু আমার বাণী মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া। হিদায়াত করা ও পথভ্রষ্ট করার মালিক আল্লাহ।

হযরত আদম (আঃ) থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে রাসূল আসতে থেকেছেন যাতে তাদের কোন ওযর বাকী না থাকে। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেক কওমের জন্যেই একজন হিদায়াতকারী রয়েছে।” (১৩:৭) অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই আমি রাসূল পাঠিয়েছিলাম।” (১৬:৩৬) কাজেই এদের এই নবী (সঃ)-কে অবিশ্বাস ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা কোন নতুন কথা নয়। এদের পূর্বের লোকেরাও তাদের রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছিল। তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন, গ্রন্থাদি ও দীপ্তিমান কিতাবসহ এসেছিল। তবুও তারা তাদেরকে বিশ্বাস করেনি। তাদের অবিশ্বাস করার পরিণাম এই হয়েছিল যে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তার শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করেছিলেন এবং তাঁর শাস্তি ছিল কতই না ভয়ংকর।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।