সূরা সাবা (আয়াত: 46)
হরকত ছাড়া:
قل إنما أعظكم بواحدة أن تقوموا لله مثنى وفرادى ثم تتفكروا ما بصاحبكم من جنة إن هو إلا نذير لكم بين يدي عذاب شديد ﴿٤٦﴾
হরকত সহ:
قُلْ اِنَّمَاۤ اَعِظُکُمْ بِوَاحِدَۃٍ ۚ اَنْ تَقُوْمُوْا لِلّٰهِ مَثْنٰی وَ فُرَادٰی ثُمَّ تَتَفَکَّرُوْا ۟ مَا بِصَاحِبِکُمْ مِّنْ جِنَّۃٍ ؕ اِنْ هُوَ اِلَّا نَذِیْرٌ لَّکُمْ بَیْنَ یَدَیْ عَذَابٍ شَدِیْدٍ ﴿۴۶﴾
উচ্চারণ: কুল ইন্নামাআ‘ইজুকুম বিওয়া-হিদাতিন আন তাকূমূলিল্লা-হি মাছনা-ওয়া ফুরা-দা-ছু ম্মা তাতাফাক্কারূ মা-বিসা-হিবিকুম মিন জিন্নাতিন ইন হুওয়া ইল্লা-নাযীরুল লাকুম বাইনা ইয়াদাই ‘আযা-বিন শাদীদ।
আল বায়ান: বল, ‘আমি তো তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু’জন অথবা এক একজন করে দাঁড়িয়ে যাও, অতঃপর চিন্তা করে দেখ, তোমাদের সাথীর মধ্যে কোন পাগলামী নেই। সে তো আসন্ন কঠোর আযাব সম্পর্কে তোমাদের একজন সতর্ককারী বৈ কিছু নয়।’
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. বলুন, আমি তোমাদেরকে কেবল একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে দু-দুজন অথবা এক-একজন করে দাঁড়াও, তারপর তোমরা চিন্তা করে দেখা—তোমাদের সাথীর মধ্যে কোন উন্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী মাত্ৰ।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: বল- আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে নসীহত করছিঃ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে দু’ দু’জন বা এক একজন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা করে দেখ, তোমাদের সঙ্গী উন্মাদ নয়। সে তো সামনের কঠিন শাস্তি সম্পর্কে একজন সতর্ককারী মাত্র।
আহসানুল বায়ান: (৪৬) বল, ‘আমি তোমাদের একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু’জন করে অথবা একা একা দাঁড়াও এবং চিন্তা করে দেখ, তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মাদ) পাগল নয়।[1] সে তো আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ককারী মাত্র।’ [2]
মুজিবুর রহমান: বলঃ আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে দুই জন অথবা এক জন করে দাঁড়াও, অতঃপর তোমরা চিন্তা করে দেখ - তোমাদের সংগী আদৌ উন্মাদ নয়। সেতো আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের সতর্ককারী মাত্র।
ফযলুর রহমান: বল, “আমি তোমাদেরকে একটি (কাজের) উপদেশ দিচ্ছি: তোমরা আল্লাহর জন্য দুঞ্চজন দুঞ্চজন করে ও একজন একজন করে দাঁড়িয়ে যাও, তারপর চিন্তা করো; তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন পাগলামি নেই। সে তো এক কঠিন শাস্তির সামনে তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী মাত্র।”
মুহিউদ্দিন খান: বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর নামে এক একজন করে ও দু, দু জন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা-ভাবনা কর-তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন উম্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কাঠোর শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করেন মাত্র।
জহুরুল হক: তুমি বলো -- "আমি তো তোমাদের একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি -- তোমরা যেন আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে দুজন করে অথবা একা একা উঠে দাঁড়াও, তারপর ভেবে দেখো -- তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো জিন-ভূত নেই।" তিনি তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী বৈ তো নন, আসন্ন কঠোর শাস্তি সম্পর্কে।
Sahih International: Say, "I only advise you of one [thing] - that you stand for Allah, [seeking truth] in pairs and individually, and then give thought." There is not in your companion any madness. He is only a warner to you before a severe punishment.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৬. বলুন, আমি তোমাদেরকে কেবল একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহ্–র উদ্দেশ্যে দু-দুজন অথবা এক-একজন করে দাঁড়াও, তারপর তোমরা চিন্তা করে দেখা—তোমাদের সাথীর মধ্যে কোন উন্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী মাত্ৰ।(১)
তাফসীর:
(১) আয়াতে কাফেরদেরকে দাওয়াত দেয়ার এক সুন্দর পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে বিনা চিন্তা-ভাবনা করে আমার অনুসরণ করতে বলছি না। অনুরূপভাবে তোমাদের কথাও ছেড়ে দিতে তোমাদের বলছি না। আমি তো শুধু এটাই বলব যে, তোমরা নিজেরা সব রকমের প্রবৃত্তি তাড়িত কথা পরিত্যাগ করে এ নবী সম্পর্কে চিন্তা করে দেখ, তিনি কিসের আহবান জানাচ্ছেন, এতে তার লাভ কি? তিনি কি আসলেই পাগলামীর মত কিছু বলছেন। যদি তোমরা এককভাবে চিন্তা করে কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে না পার, তবে দুইজন পরস্পর আলোচনা করে সিদ্ধান্তে যাও। যদি তোমরা এটা কর, তবে নিশ্চিত যে, তোমরা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছতে পারবে। [সা’দী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৬) বল, ‘আমি তোমাদের একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু”জন করে অথবা একা একা দাঁড়াও এবং চিন্তা করে দেখ, তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মাদ) পাগল নয়।[1] সে তো আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ককারী মাত্র।” [2]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আমি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম-পদ্ধতির ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করছি এবং একটি কথারই উপদেশ দিচ্ছি। আর তা এই যে, তোমরা জেদ ও ঔদ্ধত্য ছেড়ে দিয়ে শুধু আল্লাহর ওয়াস্তে একাকী বা দু’জন করে আমার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা কর, আমার জীবন তোমাদের মাঝেই অতিবাহিত হয়েছে এবং এখনো যে দাওয়াত আমি তোমাদেরকে দিচ্ছি তাতে কি এমন কোন বিষয় আছে, যাতে এই কথার প্রমাণ হয় যে, আমার মাঝে পাগলামি আছে? তোমরা যদি নিজেদের অন্ধ-পক্ষপাতিত্ব এবং মনের খেয়াল-খুশী থেকে মুক্ত হয়ে চিন্তা-ভাবনা কর, তাহলে অবশ্যই তোমরা বুঝতে পারবে যে, তোমাদের সাথীর মাঝে কোন পাগলামি নেই।
[2] অর্থাৎ তিনি তো শুধু তোমাদের হিদায়াতের জন্য এসেছেন, যাতে তোমরা সেই কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে পারো, যা হিদায়াতের পথে না চলার কারণে তোমাদেরকে ভোগ করতে হবে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাঃ) একদা সাফা পাহাড়ে চড়ে বললেন, ياصباحاه (সাবধান! সতর্ক হও!) যা শ্রবণ করে কুরাইশরা একত্রিত হয়ে গেল। তিনি তাদেরকে বললেন, ‘‘তোমরা বল, যদি আমি সংবাদ দিই যে, শত্রুদল সকাল বা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর হামলা করবে, তাহলে তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? তারা বলল, ‘কেন বিশ্বাস করব না? (আমাদের অভিজ্ঞতায় তুমি তো কখনো মিথ্যা বলনি।) তিনি (সাঃ) বললেন, ‘‘তবে তোমরা শুনে নাও যে, আমি তোমাদেরকে (আল্লাহর) কঠিন শাস্তি আসার পূর্বে সতর্ক করছি।’’ এই কথা শুনে আবু লাহাব বলল تَبًّا لَكَ! أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا ‘তুমি ধ্বংস হও। এই জন্য তুমি আমাদেরকে একত্রিত করেছিলে?’ যার ফলে আল্লাহ তাআলা সূরা تَبَّتْ يَدَآ اَبِيْ لَهَبٍ অবতীর্ণ করেছেন। (বুখারীঃ তাফসীর সূরা সাবা’)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৬ নং আয়াতের তাফসীর:
নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে এটা হল মক্কার কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রমাণ ও দাওয়াত যে, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ের উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা একনিষ্ঠতার সাথে সত্যানুসন্ধানের জন্য উঠে পড়, তা সমষ্টিগত হোক আর একাকী হোক, তারপর চিন্তা করে দেখ তোমাদের সাথী মুহাম্মাদ কি পাগল? তাঁর মাঝে কি পাগলের কোন গুণাগুণ আছে? তাঁর চলা-ফেরায়, কথা বার্তায়, লেবাস-পোষাকে? না কি তিনি একজন নাবী, যিনি তোমাদের সম্মুখে আগত কঠিন শাস্তি থেকে ভীতি প্রদর্শন করছেন? তোমরা যদি এসব চিন্তা করে দেখ তাহলে অবশ্যই জানতে পারবে যে, তিনি কোন পাগল নন, তিনি একজন রাসূল যিনি আগত কঠিন শাস্তি সম্পর্কে ভয় দেখাচ্ছেন।
তাছাড়া তোমরা কিভাবে পাগল বল? তিনি তোমাদের সাথে বড় হয়েছেন, তোমাদের এলাকার সন্তান, বহিরাগত কোন এলাকা থেকে আসেননি? সুতরাং তাঁকে পাগল বলা তোমাদের সমীচীন নয়। হাদীসে বলা হয়েছে।
ইবনু ‘আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফা পাহাড়ের ওপর আরোহণ করে বললেন: “ইয়া স্ববা-হা-হু” (আরবরা যখন দুঃখজনক কোন বিষয়ে ঘোষণা দিতেন তখন এ শব্দটি বা এ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করতেন) তখন কুরাইশরা তাঁর নিকট একত্রিত হলো। অতঃপর তারা বলল: তোমার কী হয়েছে? তখন তিনি বললেন: যদি আমি বলি যে, শত্র“ সৈন্য তোমাদের ওপর হামলা করতে আসছে এবং এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই যে, তারা সকালে বা সন্ধ্যায় তোমাদেরকে আক্রমণ করে বসবে, তাহলে কি তোমরা আমার কথাকে সত্য বলে মেনে নিবে? তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে ঐ শাস্তি থেকে ভয় দেখাচ্ছি যা তোমাদের সামনে রয়েছে। (সহীহ বুখারী হা: ৪৮০১)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূলত একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। তিনি কোন পাগল নন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে মুহাম্মদ (সঃ)! এই যে কাফিররা তোমাকে পাগল বলছে তুমি তাদেরকে বলে দাও- তোমরা এক কাজ কর, নিষ্ঠার সাথে চিন্তা কর এবং একে অপরকে জিজ্ঞেস করঃ মুহাম্মাদ (সঃ) কি পাগল? আর ঈমানদারীর সাথে একে অপরকে জবাবও দাও। তোমরা এককভাবেও চিন্তা কর এবং একে অপরকে জিজ্ঞেসও কর। কিন্তু শর্ত হলো এই যে, একগুয়েমী, হঠকারিতা এবং কথার পঁাচ মস্তিষ্ক হতে দূর করে দাও। এভাবে চিন্তা করলে তোমরা নিজেরাই জানতে ও বুঝতে পারবে যে, হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) পাগল নন। বরং তিনি সবারই শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিপদ থেকে সতর্ক করছেন যে বিপদ হতে তোমরা বে-খবর ও অসতর্ক রয়েছে ।
কোন কোন লোক এই আয়াত হতে একাকী এবং জামাআতে নামায পড়া উদ্দেশ্য মনে করেছেন। আর এর প্রমাণ হিসেবে একটি হাদীসও পেশ করেছেন। কিন্তু হাদীসটি দুর্বল। ঐ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমাকে তিনটি জিনিস দেয়া হয়েছে যা আমার পূর্বে অন্য কাউকেও দেয়া হয়নি। আমি এটা গর্ব বা ফখর করে বলছি না। আমার জন্যে গানীমাত বা যুদ্ধলব্ধ মাল হালাল করা হয়েছে যা আমার পূর্বে আর কারো জন্যে হালাল করা হয়নি। তারা গানীমতের মাল জমা করে জ্বালিয়ে দিতেন। আমি শ্বেত ও কৃষ্ণের নিকট প্রেরিত হয়েছি, অথচ প্রত্যেক নবী শুধু তার কওমের নিকট প্রেরিত হতেন। আর আমার জন্যে সমগ্র যমীনকে মসজিদ এবং অযুর জিনিস বানানো হয়েছে। আমি এর মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে থাকি। আর আমি যেখানেই থাকি না কেন, নামাযের সময় হয়ে গেলে সেখানেই নামায পড়ে নিই। আমার প্রতিপালক মহান আল্লাহ বলেনঃ তোমরা আল্লাহর সামনে আদবের সাথে দাড়িয়ে যাও। আর এক মাসের পথ পর্যন্ত আমাকে শুধু রু’ব বা প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে।” সনদের দিক থেকে এ হাদীসটি দুর্বল এবং খুব সম্ভব যে, এতে আয়াতের উল্লেখ এবং এর দ্বারা জামাআত অথবা একাকী নামায পড়ার অর্থ নেয়া, এটা বর্ণনাকারীর নিজেরই উক্তি এবং একে এমনভাবে বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে যে, বাহ্যতঃ শব্দগুলো হাদীসের বলে মনে হচ্ছে। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হাদীসগুলো সহীহ সনদসহ বহু সংখ্যক বর্ণিত আছে। কিন্তু কোনটাতেই এই শব্দগুলো নেই। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এই নবী (সঃ) তো তোমাদেরকে আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ককারী মাত্র। এটা একটু আগেই বলা হয়েছে যে, এগুলো সম্বন্ধে তারা কোন চিন্তা করে না ও সতর্ক হয় না।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা নবী (সঃ) সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করেন এবং আরবের প্রথা অনুযায়ী (আরবী) বলে উচ্চস্বরে ডাক দিতে লাগলেন। এটি একটি আলামত যে, কোন বিশেষ ব্যক্তি বিশেষ কোন কাজের জন্যে ডাক দিচ্ছে। প্রথামত লোকেরা এ ডাক শুনেই দৌড়িয়ে আসলো এবং সেখানে একত্রিত হলো। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ “শুননা, আমি যদি বলি যে, শত্রু সৈন্য তোমাদের উপর হামলা করতে আসছে এবং এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই যে, তারা সকালে বা সন্ধ্যায় তোমাদেরকে আক্রমণ করে বসবে, তাহলে কি তোমরা আমার কথাকে সত্য বলে মেনে নিবে?” উত্তরে সবাই সমস্বরে বললোঃ “হ্যা, আমরা আপনাকে সত্যবাদী বলে মেনে নিবো।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “আমি তোমাদেরকে ঐ আযাব থেকে ভয় দেখাচ্ছি যা তোমাদের সামনে রয়েছে। তার একথা শুনে অভিশপ্ত আবু লাহাব বললোঃ “তোমার হাত ভেঙ্গে যাক, এজন্যে কি তুমি আমাদেরকে একত্রিত করেছো?” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) এরই পরিপ্রেক্ষিতে সূরায়ে ‘লাহাব অবতীর্ণ হয়। এ হাদীসগুলো (আরবী) (২৬:২১৪)-এই আয়াতের তাফসীরে গত হয়েছে।
হযরত বুরাইদা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন এবং এসে তিনবার ডাক দিলেন। অতঃপর বললেনঃ “হে লোক সকল! আমার এবং তোমাদের দৃষ্টান্ত কি তা তোমরা জান কি?` উত্তরে তারা বললেনঃ “আল্লাহ তা'আলা এবং তাঁর রাসূলই (সঃ) খুব ভাল জানেন।” তিনি তখন বললেনঃ “আমার এবং তোমাদের দৃষ্টান্ত ঐ কওমের মত যাদের উপর শত্রু হামলা করার জন্যে ওঁৎ পেতে আছে। তারা তাদের লোক পাঠিয়েছে যে, সে যেন গিয়ে দেখে ও তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে তাদেরকে জানিয়ে দেয়। লোকটি যখন গিয়ে দেখলো যে, শত্রুরা তাদের দিকে এগিয়ে আসছে এবং নিকটে এসে গেছে তখন দ্রুতগতিতে সে তার কওমের দিকে এগিয়ে চললো এবং মনে করলো যে, তার পৌঁছার পূর্বেই হয় তো শক্ররা তার কওমের উপর হামলা করে দিতে পারে, তাই সে রাস্তাতেই তার কাপড় হেলাতে শুরু করলো যে, তারা যেন সতর্ক হয়ে যায়। কেননা, শত্রুরা এসেই পড়েছে। তিনবার তিনি একথাই বললেন।” (এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ (রঃ)
অন্য হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমি এবং কিয়ামত একই সাথে প্রেরিত হয়েছি। এটা খুব নিকটের ব্যাপার ছিল যে, কিয়ামত আমার পূর্বেই এসে যেতো।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।