সূরা সাবা (আয়াত: 41)
হরকত ছাড়া:
قالوا سبحانك أنت ولينا من دونهم بل كانوا يعبدون الجن أكثرهم بهم مؤمنون ﴿٤١﴾
হরকত সহ:
قَالُوْا سُبْحٰنَکَ اَنْتَ وَلِیُّنَا مِنْ دُوْنِهِمْ ۚ بَلْ کَانُوْا یَعْبُدُوْنَ الْجِنَّ ۚ اَکْثَرُهُمْ بِهِمْ مُّؤْمِنُوْنَ ﴿۴۱﴾
উচ্চারণ: কা-লূছুবহা-নাকা আনতা ওয়ালিইয়ুনা-মিন দূ নিহিম বাল কা-নূইয়া‘বুদূ নাল জিন্না আকছারুহুম বিহিম মু’মিনূন।
আল বায়ান: তারা (ফেরেশতারা) বলবে, ‘আপনি পবিত্র মহান, আপনিই আমাদের অভিভাবক, তারা নয়। বরং তারা জিনদের পূজা করত। এদের অধিকাংশই তাদের প্রতি ঈমান রাখত’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪১. ফেরেশতারা বলবে, আপনি পবিত্র, মহান! আপনিই আমাদের অভিভাবক, তারা নয়; বরং তারা তো ইবাদাত করত জিনদের। তাদের অধিকাংশই জিনদের প্রতি ঈমান রাখত।
তাইসীরুল ক্বুরআন: ফেরেশতারা বলবে- পবিত্র মহান তুমি, তুমিই আমাদের অভিভাবক, তারা নয়। বরং তারা জ্বিনদের পূজা করত; ওদের অধিকাংশই ওদের প্রতি বিশ্বাসী ছিল।
আহসানুল বায়ান: (৪১) ফিরিশতারা বলবে, ‘তুমি পবিত্র মহান! আমাদের সম্পর্ক তোমারই সাথে; ওদের সাথে নয়।[1] বরং ওরা তো পূজা করত জ্বিনদের[2] এবং ওদের অধিকাংশই ছিল তাদেরই প্রতি বিশ্বাসী।’
মুজিবুর রহমান: মালাইকা বলবেঃ আপনি পবিত্র, মহান! আমাদের সাহায্যকারী আপনিই, তারা নয়, তারাতো পূজা করত জিনদের এবং তাদের অধিকাংশই ছিল তাদের প্রতি বিশ্বাসী।
ফযলুর রহমান: ফেরেশতারা বলবে, “তুমি মহীয়ান! তুমিই আমাদের মিত্র, ওরা নয়। ওরা বরং জ্বিনদের পূজা করত। ওদের অধিকাংশ তাদের প্রতি বিশ্বাসী।”
মুহিউদ্দিন খান: ফেরেশতারা বলবে, আপনি পবিত্র, আমরা আপনার পক্ষে, তাদের পক্ষে নই, বরং তারা জিনদের পূজা করত। তাদের অধিকাংশই শয়তানে বিশ্বাসী।
জহুরুল হক: তারা বলবে -- "তোমারই মহিমা হোক! তুমিই আমাদের মনিব, তারা নয়, বরং তারা উপাসনা করত জিনদের, তাদের অধিকাংশই ছিল ওদের প্রতি বিশ্বাসী।"
Sahih International: They will say, "Exalted are You! You, [O Allah], are our benefactor not them. Rather, they used to worship the jinn; most of them were believers in them."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪১. ফেরেশতারা বলবে, আপনি পবিত্র, মহান! আপনিই আমাদের অভিভাবক, তারা নয়; বরং তারা তো ইবাদাত করত জিনদের। তাদের অধিকাংশই জিনদের প্রতি ঈমান রাখত।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪১) ফিরিশতারা বলবে, ‘তুমি পবিত্র মহান! আমাদের সম্পর্ক তোমারই সাথে; ওদের সাথে নয়।[1] বরং ওরা তো পূজা করত জ্বিনদের[2] এবং ওদের অধিকাংশই ছিল তাদেরই প্রতি বিশ্বাসী।”
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, ফিরিশতাগণও ঈসা (আঃ)-এর মত আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে এ ব্যাপারে সম্পর্কহীনতার কথা প্রকাশ করবেন এবং বলবেন যে, আমরা তো তোমার বান্দা এবং তুমি আমাদের অভিভাবক, ওদের সাথে আমাদের কি সম্পর্ক?
[2] জ্বিন বলতে শয়তানকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ এরা আসলে শয়তানের পূজারী কারণ সেই তাদেরকে মূর্তিপূজা করাতো এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট করত। যেমন অন্য জায়গাতে বলেছেন, (إِنْ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ إِلَّا إِنَاثًا وَإِنْ يَدْعُونَ إِلَّا شَيْطَانًا مَرِيدًا) অর্থাৎ, তাঁর (আল্লাহর) পরিবর্তে তারা কেবল দেবীদের পূজা করে এবং তারা কেবল বিদ্রোহী শয়তানের পূজা করে। (সূরা নিসা ১১৭ আয়াত)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪০-৪২ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের মাঠে সকলকে একত্রিত করার পর কাফির-মুশরিকদেরকে লজ্জিত ও অপমানিত করার উদ্দেশ্যে ফেরেশ্তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন যে, এরাই কি তোমাদের ইবাদত করত? অর্থাৎ তোমরা কি তাদেরকে বলেছিলে তোমাদের ইবাদত করার জন্য? না কি তারাই পথভ্রষ্ট ছিল? যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ فَيَقُوْلُ أَأَنْتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِيْ هٰٓؤُلَا۬ءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِيْلَ)
“এবং যেদিন তিনি একত্র করবেন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ‘ইবাদত করত তাদেরকে, সেদিন তিনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘তোমরাই কি আমার এ বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলে, না তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছিল?’’ (সূরা ফুরকান ২৫:১৭)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَإِذْ قَالَ اللّٰهُ يَا عِيْسَي ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُوْنِيْ وَأُمِّيَ إِلٰهَيْنِ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ط قَالَ سُبْحٰنَكَ مَا يَكُوْنُ لِيْٓ أَنْ أَقُوْلَ مَا لَيْسَ لِيْ بِحَقٍّ ط إِنْ كُنْتُ قُلْتُه۫ فَقَدْ عَلِمْتَه۫ ط تَعْلَمُ مَا فِيْ نَفْسِيْ وَلَآ أَعْلَمُ مَا فِيْ نَفْسِكَ ط إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ)
“আর (স্মরণ কর) আল্লাহ যখন বললেন: ‘হে মারিয়ামের ছেলে ঈসা! তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আমাকে ও আমার জননীকে দুই ইলাহরূপে গ্রহণ কর?’ সে বলবে, ‘তোমার প্রবিত্রতা বর্ণনা করছি! যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভনীয় নয়। যদি আমি তা বলতাম তবে তুমি তো তা জানতে। আমার অন্তরের কথা তো তুমি অবগত আছ, কিন্তু তোমার অন্তরের কথা আমি অবগত নই; তুমি তো অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।’’ (সূরা মায়িদাহ ৫:১১৬)
উত্তরে ফেরেশতারা বলবে যে, হে আমাদের রব! আপনি পবিত্র, মহান; আপনার কোন শরীক নেই। আপনি আমাদের রব, আমরা আপনাকেই অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছি, আপনার আগনুত্য ও ইবাদত করি। অন্য কারো সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। মূলত তারা জিন, শাইত্বানের পূজা করত। আর তারা তাদেরই প্রতি বিশ্বাসী ছিল। আল্লাহ তা‘আলার বাণী,
(إِنْ يَّدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِه۪ٓ إِلَّآ إِنٰثًا ج وَإِنْ يَّدْعُوْنَ إِلَّا شَيْطٰنًا مَّرِيْدًا - لَّعَنَهُ اللّٰهُ م وَقَالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيْبًا مَّفْرُوْضًا)
“তাঁর (আল্লাহ) পরিবর্তে তারা দেবীরই পূজা করে এবং বিদ্রোহী শয়তানেরই পূজা করেন আল্লাহ তাকে লা‘নাত করেন এবং সে বলে, ‘আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের এক নির্দিষ্ট অংশকে আমার অনুসারী করে নেব।” (সূরা নিসা ৪:১১৭-১১৮)
কাফির-মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যদের যাদের ইবাদত করত, তারা কিয়ামতের দিন কোন উপকার ও ক্ষতি কিছুই করতে পারবে না। আল্লাহ তা‘আলা এসব মুশরিকদেরকে বলবেন: তোমরা যে শাস্তির কথা অস্বীকার করতে তা আস্বাদন করো।
সুতরাং প্রত্যেককে সতর্ক হওয়া উচিত, আমরা কেন আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের কাছে চাইতে যাব, কেন অন্যের ইবাদত করব? তারা তো কিয়ামতের দিন কোন উপকার তো দূরের কথা ক্ষতিও করতে পারবে না। বরং আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য যাদের ইবাদত করা হয়ন তারা সেদিন অস্বীকার করে বলবেন আমরা তাদেরকে আমাদের ইবাদত করতে বলিনি, বরং তারা শয়তান ও জিনদের ইবাদত করেছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামতের মাঠে সকলকে একত্রিত করা হবে।
২. কাউকে রব হিসেবে যদি পূজা করা হয়ে থাকে, তাহলে তাকেও জিজ্ঞেস করা হবে যদিও সে ফেরেশ্তা কিংবা নাবী-রাসূল যে কেউ হোক না কেন।
৩. আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য যাদের ইবাদত করা হয় তারা কিয়ামতের দিন তা অস্বীকার করবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪০-৪২ নং আয়াতের তাফসীর:
মুশরিকদেরকে লজ্জিত, নিরুত্তর এবং ওযর বিহীন করার জন্যে, ফেরেশতাদেরকে তাদের সামনে জিজ্ঞেস করা হবে, যাদের কৃত্রিম ছবি তৈরী করে মুশরিকরা পূজা অর্চনা করতো এই অশায় যে, তারা তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাবে, বলা হবেঃ তোমরা কি এই মুশরিকদেরকে তোমাদের ইবাদত করতে বলেছিলে? যেমন আল্লাহ তা'আলা সূরায়ে ফুরকানে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরাই কি আমার এই বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলে, না তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছিল?”(২৫:১৭) আর যেমন হযরত ঈসা (আঃ)-কে বলেছিলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলে ? তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমাকে ও আমার জননীকে মা'বূদ রূপে গ্রহণ কর? সে বলবেঃ আপনিই মহিমান্বিত! যা বলার অধিকার আমার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভন নয়।”(৫:১১৬) অনুরূপভাবে ফেরেশতারা বলবেনঃ আপনি পবিত্র ও মহান। আপনার কোন শরীক নেই। আমরা নিজেরাই তো আপনার বান্দা। আমরা এই মুশরিকদের প্রতি অসন্তুষ্ট। এখনও আমরা তাদের হতে পৃথক। তারা তো পূজা করতো শয়তানদের। শয়তানরাই তাদের জন্যে মূর্তি-পূজাকে শোভনীয় করেছিল। আর তারাই তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। তাদের অধিকাংশেরই বিশ্বাস শয়তানের উপরই ছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা আল্লাহকে ছেড়ে নারীদের পূজা করে এবং তারা উদ্ধত ও দুষ্ট-মতি শয়তানের পূজা করে যার প্রতি আল্লাহ লা'নত করেছেন ।”(৪:১১৭-১১৮)
সুতরাং হে মুশরিকের দল! তোমরা যাদের সাথে সম্পর্ক জুড়ে দিয়েছিলে তাদের একজনও তোমাদের কোন উপকার করতে পারবে না। এই কঠিন দিনে তাদের সবাই তোমাদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে। কারণ তাদের কারো কোন প্রকারের উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা নেই। আজ আমি আল্লাহ স্বয়ং এই যালিম মুশরিকদেরকে বলবোঃ তোমরা যে অগ্নি-শাস্তি অস্বীকার করতে তা আস্বাদন কর।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।