আল কুরআন


সূরা আল-আহযাব (আয়াত: 63)

সূরা আল-আহযাব (আয়াত: 63)



হরকত ছাড়া:

يسألك الناس عن الساعة قل إنما علمها عند الله وما يدريك لعل الساعة تكون قريبا ﴿٦٣﴾




হরকত সহ:

یَسْـَٔلُکَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَۃِ ؕ قُلْ اِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللّٰهِ ؕ وَ مَا یُدْرِیْکَ لَعَلَّ السَّاعَۃَ تَکُوْنُ قَرِیْبًا ﴿۶۳﴾




উচ্চারণ: ইয়াছআলুকান্না-ছু‘আনিছছা-‘আতি কুল ইন্নামা- ‘ইলমুহা-‘ইনদাল্লা-হি ওয়ামাইউদরীকা লা‘আল্লাছছা-‘আতা তাকূনুকারীবা-।




আল বায়ান: লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, আর তোমার কি জানা আছে, কিয়ামত হয়ত খুব নিকটে!




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৩. লোকেরা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, এর জ্ঞান শুধু আল্লাহর নিকটই আছে। আর কিসে আপনাকে জানাবে, সম্ভবত কিয়ামত শীঘ্রই হয়ে যেতে পারে?




তাইসীরুল ক্বুরআন: লোকে তোমাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, তার জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে। কিসে তোমাকে জানাবে- সম্ভবতঃ ক্বিয়ামত নিকটেই।




আহসানুল বায়ান: (৬৩) লোকে তোমাকে কিয়ামত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘এর জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে।’ আর তোমাকে কিসে জানাবে? সম্ভবতঃ কিয়ামত শীঘ্রই হয়ে যেতে পারে।



মুজিবুর রহমান: লোকেরা তোমাকে কিয়ামাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বলঃ এর জ্ঞান শুধু আল্লাহরই আছে। তুমি এটা কি করে জানবে যে, সম্ভবতঃ কিয়ামাত শীঘ্রই হয়ে যেতে পারে?



ফযলুর রহমান: মানুষ তোমাকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, “তার কথা কেবল আল্লাহই জানেন।” তুমি কী জান? কেয়ামত হয়তো শিগগিরই হবে।



মুহিউদ্দিন খান: লোকেরা আপনাকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহর কাছেই। আপনি কি করে জানবেন যে সম্ভবতঃ কেয়ামত নিকটেই।



জহুরুল হক: লোকে তোমাকে ঘড়িঘন্টা সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে। তুমি বলো -- "তার জ্ঞান তো কেবল আল্লাহ্‌রই কাছে।" আর কেমন করে তোমাকে বোঝানো যাবে -- হতে পারে সেই ঘড়িঘন্টা নিকটবর্তী হয়ে গেছে?



Sahih International: People ask you concerning the Hour. Say," Knowledge of it is only with Allah. And what may make you perceive? Perhaps the Hour is near."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬৩. লোকেরা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, এর জ্ঞান শুধু আল্লাহর নিকটই আছে। আর কিসে আপনাকে জানাবে, সম্ভবত কিয়ামত শীঘ্রই হয়ে যেতে পারে?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬৩) লোকে তোমাকে কিয়ামত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘এর জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে।” আর তোমাকে কিসে জানাবে? সম্ভবতঃ কিয়ামত শীঘ্রই হয়ে যেতে পারে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬৩-৬৮ নং আয়াতের তাফসীর:



(يَسْأَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ........)



অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কষ্টদানকারী এসব ব্যক্তিরা কিয়ামতকে অসম্ভব ও মিথ্যা মনে করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করে যে, তা কখন হবে। আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উত্তর শিখিয়ে দিচ্ছেন যে, বলে দাও এর সঠিক জ্ঞান তো একমাত্র মহান আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কেউই রাখে না। এ সম্পর্কে সূরা আন‘আমের ৫৯ নং এবং সূরা লুকমানের ৩৪ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের কঠিন দিনে কাফির-মুশরিকদের কী অবস্থা হবে সে কথা বর্ণনা করেছেন। তারা হল অভিশপ্ত জাতি, তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং তথায় তারা চিরকাল বসবাস করবে। সেখানে তাদের কোন বন্ধু থাকবে না এবং থাকবে না কোন সাহায্যকারী। সেখানে তাদের চেহারাকে জাহান্নামের মধ্যে ওলট-পালট করা হবে এবং তারা তখন বলবে, হায়! যদি আমরা আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতাম। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلٰي يَدَيْهِ يَقُوْلُ يٰلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُوْلِ سَبِيْلًا -‏ يٰوَيْلَتٰي لَيْتَنِيْ لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيْلًا -‏ لَقَدْ أَضَلَّنِيْ عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَا۬ءَنِيْ ط وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُوْلًا)‏



“জালিম ব্যক্তি সেদিন নিজ দুহাত‎ দংশন করতে করতে বলবে, ‘হায়! আমি যদি রাসূলের সাথে সৎপথ অবলম্বন করতাম! ‘হায়! দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! ‘আমাকে তো সে বিভ্রান্ত‎ করেছিল কুরআন থেকে আমার নিকট তা পৌঁছার পর।’ শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক।” (সূরা ফুরকান ২৫:২৭-২৯)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لَوْ كَانُوْا مُسْلِمِيْنَ)‏



“কখনও কখনও কাফিররা আকাক্সক্ষা করবে যে, তারা যদি মুসলিম হত!” (সূরা হিজর ১৫:২)



এরপর ঐ সকল কাফিররা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতাগণ ও বড় বড় লোকদের আনুগত্য করেছি, যার ফলে তারা আমাদেরকে গোমরাহ করেছে। সুতরাং আজ তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন। কিন্তু তাদের ওজর কোনই কাজে আসবে না। তথায় তাদের সকলকেই শাস্তি দেয়া হবে। কারো প্রতি কোন প্রকার অনুগ্রহ করা হবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া আর কারো নেই।

২. বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে ধর্ম মানা যাবে না।

৩. বড় বড় নেতা হলেই যে তারা সৎ পন্থী, এমনটি মনে করা যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬৩-৬৮ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, লোকেরা তাঁকে। কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেও তার সে সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই। এর জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা'আলারই রয়েছে। সূরায়ে আরাফেও এই বর্ণনা আছে এবং এই সূরায়ও রয়েছে। সূরায়ে আ'রাফ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এই সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে মদীনায়। এর দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত কিয়ামতের সঠিক জ্ঞান রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ছিল না। তবে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদেরকে এটুকু জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, কিয়ামত অতি নিকটবর্তী। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “কিয়ামত আসন্ন, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।” (৫৪:১) আরো বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় আসন্ন, কিন্তু তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে রয়েছে।” (২১:১) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আল্লাহর আদেশ আসবেই, সুতরাং ওটা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না।” (১৬:১)

মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিশপ্ত করেছেন অর্থাৎ তাদেরকে স্বীয় রহমত হতে দূর করে দিয়েছেন। আর তাদের জন্যে (পরকালে) প্রস্তুত রেখেছেন জ্বলন্ত অগ্নি।

তারা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে। অর্থাৎ সেখান হতে তারা বের হতেও পারবে না এবং নিষ্কৃতিও লাভ করবে না। সেখানে তাদের অভিযোগ শুনবার মত কেউ থাকবে না। সেখানে তাদের জন্যে এমন কোন বন্ধু-বান্ধব থাকবে না যারা তাদেরকে কিছুমাত্র সাহায্য করতে পারে বা ঐ কঠিন বিপদ হতে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিতে পারে। তাদেরকে উল্টোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারা সেদিন আফসোস করে বলবেঃ হায়! আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম ও তাঁর রাসূল (সঃ)-কে মানতাম! যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে খবর দিয়েছেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যালিম ব্যক্তি সেই দিন নিজ হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবেঃ হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে সৎপথ অবলম্বন করতাম! হায়, দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধু রূপে গ্রহণ না করতাম! আমাকে সে তো বিভ্রান্ত করেছিল আমার নিকট উপদেশ পৌছবার পর। শয়তান তো মানুষের জন্যে মহা প্রতারক।` (২৫:২৭-২৯) মহামহিমান্বিত আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “কখনো কখনো কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, তারা যদি মুসলিম হতো!” (১৫:২)

অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ এখানে ঐ কাফিরদের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেনঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করেছিলাম এবং তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। আমরা ভেবেছিলাম যে, আমাদের নেতারা সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। তাদের কাছে হক ও সত্য আছে। কিন্তু এখন আমরা বুঝতে পারছি যে, তারা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যার উপর ছিল। তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে। সুতরাং হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে আপনি দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন। একতো এই কারণে যে, তারা নিজেরা কুফরী করেছে। আর দ্বিতীয় কারণ এই যে, তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করে আমাদের সর্বনাশ সাধন করেছে। আর তাদেরকে মহা অভিসম্পাত দিন!

একটি কিরআতে (আরবি) এর স্থলে (আরবি) শব্দ রয়েছে। দুটোরই ভাবার্থ একই। যেমন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাকে একটি দু'আ শিখিয়ে দিন যা আমি আমার নামাযে পাঠ করবো।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “তুমি নিম্নের দু'আটি পড়বেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আমার নফসের উপর বহু যুলুম করেছি। এবং আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। সুতরাং আপনার পক্ষ হতে আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর দয়া করুন, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) তাখরীজ করেছেন) কেউ কেউ এ কথাও বলেছেন যে, দু'আয় (আরবি) ও (আরবি) এই দু’টি শব্দই মিলিয়ে নেয়া উচিত। কিন্তু এটা ঠিক নয়। বরং সঠিক কথা এটাই যে, কোন সময় বলতে (আরবি) হবে এবং কোন সময় (আরবি) বলতে হবে। যেটা ইচ্ছা সেটাই বলা যাবে কিন্তু দুটোকেই এক সাথে জমা করা যাবে না। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।