সূরা আল-আহযাব (আয়াত: 50)
হরকত ছাড়া:
يا أيها النبي إنا أحللنا لك أزواجك اللاتي آتيت أجورهن وما ملكت يمينك مما أفاء الله عليك وبنات عمك وبنات عماتك وبنات خالك وبنات خالاتك اللاتي هاجرن معك وامرأة مؤمنة إن وهبت نفسها للنبي إن أراد النبي أن يستنكحها خالصة لك من دون المؤمنين قد علمنا ما فرضنا عليهم في أزواجهم وما ملكت أيمانهم لكيلا يكون عليك حرج وكان الله غفورا رحيما ﴿٥٠﴾
হরকত সহ:
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اِنَّاۤ اَحْلَلْنَا لَکَ اَزْوَاجَکَ الّٰتِیْۤ اٰتَیْتَ اُجُوْرَهُنَّ وَ مَا مَلَکَتْ یَمِیْنُکَ مِمَّاۤ اَفَآءَ اللّٰهُ عَلَیْکَ وَ بَنٰتِ عَمِّکَ وَ بَنٰتِ عَمّٰتِکَ وَ بَنٰتِ خَالِکَ وَ بَنٰتِ خٰلٰتِکَ الّٰتِیْ هَاجَرْنَ مَعَکَ ۫ وَ امْرَاَۃً مُّؤْمِنَۃً اِنْ وَّهَبَتْ نَفْسَهَا لِلنَّبِیِّ اِنْ اَرَادَ النَّبِیُّ اَنْ یَّسْتَنْکِحَهَا ٭ خَالِصَۃً لَّکَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَ ؕ قَدْ عَلِمْنَا مَا فَرَضْنَا عَلَیْهِمْ فِیْۤ اَزْوَاجِهِمْ وَ مَا مَلَکَتْ اَیْمَانُهُمْ لِکَیْلَا یَکُوْنَ عَلَیْکَ حَرَجٌ ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا ﴿۵۰﴾
উচ্চারণ: ইয়াআইয়ূহান্নাবিইয়ুইন্না আহলালনা-লাকা আযওয়া-জাকাল্লা-তীআ-তাইতা উজূরাহুন্না ওয়ামা-মালাকাত ইয়ামীনুকা মিম্মাআফা-আল্লা-হু ‘আলাইকা ওয়া বানা-তি ‘আম্মিকা ওয়া বানা-তি ‘আম্মা-তিকা ওয়া বানা-তি খা-লিকা ওয়া বানা-তি খা-লা-তিকাল্লা-তী হা-জার না মা‘আকা ওয়ামরাআতাম মু’মিনাতান ইওঁ ওয়াহাবাত নাফছাহা-লিন্নাবিইয়ি ইন আরা-দান নাবিইয়ুআইঁ ইয়াছতানকিহাহা- খালিসাতাল্লাকা মিন দূ নিল মু’মিনীনা কাদ ‘আলিমনা-মা-ফারাদনা-‘আলাইহিম ফীআযওয়া-জিহিম ওয়ামা-মালাকাত আইমা-নুহুম লিকাইলা-ইয়াকূনা ‘আলাইকা হারাজুওঁ ওয়া কা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা-।
আল বায়ান: হে নবী, আমি তোমার জন্য তোমার স্ত্রীদেরকে হালাল করেছি যাদেরকে তুমি মোহরানা দিয়েছ, আর আল্লাহ তোমাকে ফায়* হিসেবে যা দিয়েছেন তন্মধ্যে যারা তোমার মালিকানাধীন তাদেরকেও তোমার জন্য হালাল করেছি এবং (বিয়ের জন্য বৈধ করেছি) তোমার চাচার কন্যা, ফুফুর কন্যা, মামার কন্যা, খালার কন্যাকে, যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে, আর কোন মুমিন নারী যদি নবীর জন্য নিজকে হেবা করে, নবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে সেও তার জন্য বৈধ। এটা বিশেষভাবে তোমার জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়; আমি তাদের ওপর তাদের স্ত্রীদের ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তাদের ব্যাপারে যা ধার্য করেছি তা আমি নিশ্চয় জানি; যাতে তোমার কোন অসুবিধা না হয়। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫০. হে নবী! আমরা আপনার জন্য বৈধ করেছি আপনার স্ত্রীগণকে, যাদের মাহর আপনি দিয়েছেন এবং বৈধ করেছি ফায় হিসেবে আল্লাহ আপনাকে যা দান করেছেন তাদের মধ্য থেকে যারা আপনার মালিকানাধীন হয়েছে তাদেরকে। আর বিয়ের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচার কন্যা ও ফুফুর কন্যাকে, মামার কন্যা ও খালার কন্যাকে যারা আপনার সঙ্গে হিজরত করেছে এবং এমন মুমিন নারীকে (বৈধ করেছি) যে নবীর জন্যে নিজেকে সমর্পণ করে, যদি নবী তাকে বিয়ে করতে চায়— এটা বিশেষ করে আপনার জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়; যাতে আপনার কোন অসুবিধা না হয়। আমরা অবশ্যই জানি মুমিনদের স্ত্রী এবং তাদের মালিকানাধীন দাসীগণ সম্বন্ধে তাদের উপর যা নির্ধারিত করেছি।(১) আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তাইসীরুল ক্বুরআন: হে নবী (সা.)! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীগণকে যাদের মোহরানা তুমি প্রদান করেছ; আর বৈধ করেছি আল্লাহ ফায় (বিনা যুদ্ধে লব্ধ) হিসেবে তোমাকে যা দান করেছেন তার মধ্য হতে যারা তোমার মালিকানাধীন হয়েছে তাদেরকে, আর তোমার চাচার কন্যা ও ফুফুর কন্যাকে, তোমার মামার কন্যা ও তোমার খালার কন্যাকে যারা তোমার সঙ্গে হিজরাত করেছে। আর কোন মু’মিন নারী যদি নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করে আর নবী যদি তাকে বিয়ে করতে চায় সেও বৈধ, এটা মু’মিনদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে তোমার জন্য যাতে তোমার কোন অসুবিধে না হয়। মু’মিনগণের জন্য তাদের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার তা জানা আছে। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আহসানুল বায়ান: (৫০) হে নবী! নিশ্চয় আমি তোমার জন্য তোমার স্ত্রীগণকে বৈধ করেছি যাদেরকে তুমি মোহরানা প্রদান করেছ[1] এবং বৈধ করেছি তোমার অধিকারভুক্ত দাসিগণকে যাদেরকে আমি যুদ্ধবন্দিনীরূপে দান করেছি[2] এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি তোমার চাচাতো ভগিনী, ফুফাতো ভগিনী, মামাতো ভগিনী ও খালাতো ভগিনীকে; যারা তোমার সঙ্গে দেশ ত্যাগ করেছে[3] এবং কোন বিশ্বাসীনী নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করলে এবং নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে (সেও তোমার জন্য বৈধ।)[4] --এ (বিধান) বিশেষ করে তোমারই জন্য; অন্য বিশ্বাসীদের জন্য নয়;[5] বিশ্বাসীদের স্ত্রী এবং তাদের দাসিগণ সম্বন্ধে যা নির্ধারিত করেছি তা আমি জানি।[6] (এ বিধান এ জন্য) যাতে তোমার কোন অসুবিধা না হয়।[7] আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
মুজিবুর রহমান: হে নাবী! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীদেরকে, যাদের মোহর তুমি প্রদান করেছ এবং বৈধ করেছি ‘ফায়’ হিসাবে আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তন্মধ্য হতে যারা তোমার মালিকানাধীন হয়েছে তাদেরকে এবং বিয়ের জন্য বৈধ করেছি তোমার চাচার কন্যা ও ফুফুর কন্যাকে, মামার কন্যা ও খালার কন্যাকে, যারা তোমার সাথে দেশ ত্যাগ করেছে এবং কোন মু’মিনা নারী নাবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করলে, এবং নাবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে সেও বৈধ। এটা বিশেষ করে তোমারই জন্য, অন্য মু’মিনদের জন্য নয়; যাতে তোমার কোন অসুবিধা না হয়। মু’মিনদের স্ত্রী এবং তাদের মালিকানাধীন দাসীদের সম্বন্ধে যা আমি নির্ধারিত করেছি তা আমি জানি। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
ফযলুর রহমান: হে নবী! আমি তোমার জন্য বৈধ করেছি তোমার স্ত্রীদেরকে, যাদেরকে তুমি মোহরানা দিয়েছো এবং তোমার মালিকানাধীন দাসীদেরকে, যাদেরকে আল্লাহ তোমার জন্য দান করেছেন। আর (বিয়ে করার জন্য বৈধ করেছেন) তোমার চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ও খালাতো বোনদেরকে যারা তোমার সাথে হিজরত করেছে এবং (বিনা মোহরানায় বিয়ে করা বৈধ করেছেন) এমন কোন মুমিন নারীকে যে নিজেকে নবীর কাছে সমর্পণ করে, যদি নবী তাকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক হয়। (এই বিনা মোহরানায় বিয়ে করা) কেবলমাত্র তোমার জন্য (বৈধ), (সাধারণ) মুমিনদের জন্য নয়। তাদের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে তাদের ওপর যা ধার্য করেছি তা তো আমার জানাই আছে। (মোহরানার ব্যাপারে তোমার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে) যাতে তোমার কোন অসুবিধা না হয়। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
মুহিউদ্দিন খান: হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
জহুরুল হক: হে প্রিয় নবী! আমরা তোমার জন্য তোমার স্ত্রীদের বৈধ করেছি যাদের তুমি তাদের দেনমোহর আদায় করেছ, আর যাদের তোমার ডান হাত ধরে রেখেছে, তাদের মধ্য থেকে যাদের আল্লাহ্ তোমাকে যুদ্ধের দানরূপে দিয়েছেন, আর তোমার চাচার মেয়েদের ও তোমার ফুফুর মেয়েদের এবং তোমার মামার মেয়েদের ও তোমার মাসীর মেয়েদের -- যারা তোমার সঙ্গে হিজরত করেছে, আর কোনো মুমিন নারী যদি সে নবীর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে, যদি নবীও তাকে বিবাহ করতে চান -- এটি বিশেষ করে তোমার জন্য, মুমিনগণকে বাদ দিয়ে। আমরা অবশ্যই জানি তাদের জন্য আমরা কী বিধান দিয়েছি তাদের স্ত্রীদের সন্বন্ধে আর তাদের ডান হাত যাদের ধরে রেখেছে তাদের সন্বন্ধে, যেন তোমার উপরে বাধা না থাকে। আর আল্লাহ্ হচ্ছেন পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
Sahih International: O Prophet, indeed We have made lawful to you your wives to whom you have given their due compensation and those your right hand possesses from what Allah has returned to you [of captives] and the daughters of your paternal uncles and the daughters of your paternal aunts and the daughters of your maternal uncles and the daughters of your maternal aunts who emigrated with you and a believing woman if she gives herself to the Prophet [and] if the Prophet wishes to marry her, [this is] only for you, excluding the [other] believers. We certainly know what We have made obligatory upon them concerning their wives and those their right hands possess, [but this is for you] in order that there will be upon you no discomfort. And ever is Allah Forgiving and Merciful.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫০. হে নবী! আমরা আপনার জন্য বৈধ করেছি আপনার স্ত্রীগণকে, যাদের মাহর আপনি দিয়েছেন এবং বৈধ করেছি ফায় হিসেবে আল্লাহ আপনাকে যা দান করেছেন তাদের মধ্য থেকে যারা আপনার মালিকানাধীন হয়েছে তাদেরকে। আর বিয়ের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচার কন্যা ও ফুফুর কন্যাকে, মামার কন্যা ও খালার কন্যাকে যারা আপনার সঙ্গে হিজরত করেছে এবং এমন মুমিন নারীকে (বৈধ করেছি) যে নবীর জন্যে নিজেকে সমর্পণ করে, যদি নবী তাকে বিয়ে করতে চায়— এটা বিশেষ করে আপনার জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়; যাতে আপনার কোন অসুবিধা না হয়। আমরা অবশ্যই জানি মুমিনদের স্ত্রী এবং তাদের মালিকানাধীন দাসীগণ সম্বন্ধে তাদের উপর যা নির্ধারিত করেছি।(১) আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তাফসীর:
(১) কাতাদাহ বলেন, আল্লাহ তাদের উপর যা ফরয করেছেন তার অন্যতম হচ্ছে, কোন মহিলাকে অভিভাবক ও মাহর ব্যতীত বিয়ে করবে না। আর থাকতে হবে দু’জন গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য, আর তাদের জন্য চার জন নারীর অধিক বিয়ে করা জায়েয নয়, তবে যদি ক্রীতদাসী হয় সেটা ভিন্ন কথা। [তাবারী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫০) হে নবী! নিশ্চয় আমি তোমার জন্য তোমার স্ত্রীগণকে বৈধ করেছি যাদেরকে তুমি মোহরানা প্রদান করেছ[1] এবং বৈধ করেছি তোমার অধিকারভুক্ত দাসিগণকে যাদেরকে আমি যুদ্ধবন্দিনীরূপে দান করেছি[2] এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি তোমার চাচাতো ভগিনী, ফুফাতো ভগিনী, মামাতো ভগিনী ও খালাতো ভগিনীকে; যারা তোমার সঙ্গে দেশ ত্যাগ করেছে[3] এবং কোন বিশ্বাসীনী নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করলে এবং নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে (সেও তোমার জন্য বৈধ।)[4] --এ (বিধান) বিশেষ করে তোমারই জন্য; অন্য বিশ্বাসীদের জন্য নয়;[5] বিশ্বাসীদের স্ত্রী এবং তাদের দাসিগণ সম্বন্ধে যা নির্ধারিত করেছি তা আমি জানি।[6] (এ বিধান এ জন্য) যাতে তোমার কোন অসুবিধা না হয়।[7] আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তাফসীর:
[1] শরীয়তে কিছু আহ্কাম নবী (সাঃ)-এর জন্য নির্দিষ্ট, যেগুলিকে নবী (সাঃ)-এর বৈশিষ্ট্য বলা হয়। যেমন উলামাদের এক দলের মত অনুযায়ী তাহাজ্জুদের নামায তাঁর জন্য ফরয ছিল, সাদাকা তাঁর জন্য হারাম ছিল, অনুরূপ কিছু বিশেষত্বের বর্ণনা কুরআন কারীমের এই স্থানে করা হয়েছে, যা বিবাহ সম্পর্কিত। যে সকল স্ত্রীদের নবী (সাঃ) মোহর আদায় করে দিয়েছেন তাঁরা হালাল তাতে তাঁরা সংখ্যায় যতই হন না কেন। তিনি সাফিয়্যা (রাঃ) ও জুওয়াইরিয়া (রাঃ) -কে স্বাধীন করাকেই তাঁদের মোহর ধার্য করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি সকল স্ত্রীদের মোহর নগদ আদায় করে দিয়েছিলেন; শুধু উম্মে হাবীবা (রাঃ) ছাড়া। কারণ তাঁর মোহর বাদশাহ নাজাশী আদায় করেছিলেন।
[2] সুতরাং সাফিয়্যা (রাঃ) ও জুওয়াইরিয়া (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর মালিকানায় এলে তিনি তাঁদেরকে মুক্ত করে বিবাহ করেছিলেন এবং রায়হানা (রাঃ) ও মারিয়া কিবত্বিয়া (রাঃ) ক্রীতদাসী হিসাবেই নবী (সাঃ)-এর নিকট ছিলেন।
[3] এর অর্থ হল যেমন নবী (সাঃ) হিজরত করেছিলেন, অনুরূপ তাঁরাও মক্কা থেকে মদীনা হিজরত করেছিলেন। যেহেতু নবী (সাঃ)-এর সাথে কোন নারী হিজরত করেননি।
[4] অর্থাৎ, নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট যদি কোন মহিলা নিজেকে নিবেদন করে এবং তিনি তাকে বিবাহ করতে ইচ্ছুক হন, তাহলে দেনমোহর ছাড়াই তাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করা তাঁর জন্য হালাল।
[5] উপরোক্ত বিধান শুধু নবী (সাঃ)-এর জন্য। অন্য মু’মিনদের জন্য আবশ্যিক যে, সে (রীতিমতো) মোহর আদায় করবে, তবেই বিবাহ বৈধ হবে।
[6] অর্থাৎ, বিবাহ বন্ধনের যে শর্ত ও অধিকারসমূহ যা আমি ফরয করেছি; যেমনঃ কেউ একই সঙ্গে চারের অধিক স্ত্রী বিবাহ বন্ধনে রাখতে পারে না, (মহিলার জন্য) অলী বা অভিভাবকের সম্মতি, সাক্ষী ও মোহর আবশ্যিক। তবে ক্রীতদাসী হলে যতজন ইচ্ছা রাখতে পারা যায়। কিন্তু বর্তমানে ক্রীতদাসীর (দাসত্ব) প্রথাই তো নেই।
[7] এটা ‘إنَّا أحْلَلْنَا’ এর সাথে সম্পৃক্ত অর্থাৎ উপরি উল্লিখিত সকল মহিলা নবী (সাঃ)-এর জন্য এই কারণে বৈধ, যাতে নবী (সাঃ) অসুবিধা মনে না করেন এবং তিনি তাদের মধ্যে কাউকে বিবাহ করাতে মনে পাপবোধ না করেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫০-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতদ্বয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিবাহের কিছু বিধি-বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যেগুলো কেবল তার নিজের জন্যই নির্দিষ্ট, অন্য কোন মু’মিন ব্যক্তিবর্গের জন্য নয়।
(إِنَّآ أَحْلَلْنَا لَكَ أَزْوَاجَكَ اللّٰاتِيْٓ اٰتَيْتَ أُجُوْرَهُنَّ)
‘আমি তোমার জন্য তোমার সেই স্ত্রীদেরকে হালাল করেছি যাদের মাহর তুমি প্রদান করেছ’ অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সকল স্ত্রীদেরকে মাহর দিয়ে বিবাহ করেছেন তারা সকলেই তাঁর জন্য বৈধ। যদিও এ বিধান সকল মু’মিনদের জন্য; কিন্তু মু’মিনরা মাহর দিয়েও চারের অধিক স্ত্রী একত্রে রাখতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যত স্ত্রীকে মাহর দিয়েছিলেন সকলেই তাঁর জন্য বৈধ ছিল। কেননা এ বিধান যখন অবতীর্ণ হয় তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী চারের অধিক ছিল। আর এটা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্যই নির্দিষ্ট।
(وَمَا مَلَكَتْ يَمِيْنُكَ مِمَّآ أَفَا۬ءَ اللّٰهُ عَلَيْكَ)
‘সেই নারীদেরকেও যাদেরকে আল্লাহ তোমার মালিকানাধীন করেছেন গণিমতরূপে’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অধীনে যে সকল দাসী রয়েছে তারা সকলেই তাঁর জন্য বৈধ। যদিও এখানে ‘‘ফাই” এর মাল হিসেবে যে দাসী হস্তগত হয় তার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ”ফাই” এর মাল ছাড়াও তার অধিনস্ত যে কোন দাসী তাঁর জন্য বৈধ করা হয়েছে। এটা শুধু রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং সকল মু’মিনদের জন্যই এটা বৈধ যে, তাদের অধিকারভুক্ত দাসীদের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করা। এমনকি সাধারণ লোকদের দাসী অন্যের হস্তগত হলে সে তার সঙ্গে সহবাস করতে পারবে, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীরা যেমন অন্যের জন্য বৈধ নয় তদ্রƒপ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাসীরাও অন্যের জন্য বৈধ নয়। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে অনেকে চুক্তিভিত্তিক কাজের মেয়েদের তৎকালীন দাসীদের সাথে তুলনা করে এদের সাথেও ঐরুপ আচরণ করতে চায় যা কখনোই সঠিক হবেনা, কারণ তাদের অধিকাংশই মুসলিম স্বাধীন নারী যারা অভাবের তাড়নায় অন্যের বাড়ীতে কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করে তারা যেকোন মূহুর্তে কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে কিন্তু তৎকালীন দাসীদের এ ক্ষমতা ছিলনা। বিধায় বর্তমানে কাজের মেয়ে হিসেবে যারা অন্যের বাড়ীতে কাজ করে তারা দাসী নয় এবং তাদের সাথে দাসীদের আচরণও করা যাবেনা। তবে অবশ্যই বিবাহের মাধ্যমে তাদের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলে কোন সমস্যা নেই।
(وَبَنٰتِ عَمِّكَ وَبَنٰتِ عَمّٰتِكَ)
অর্থাৎ হে নাবী! যেসকল স্ত্রীদেরকে মাহর দিয়েছ ও যারা দাসী হিসেবে তোমার অধিনস্থ হয়েছে তাদের ন্যায় তোমার চাচা, ফুফু এবং মামা ও খালার কন্যাদেরকে বিবাহ করা বৈধ করা হয়েছে। এতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আলাদা কোন বিশেষত্ব নেই, কারণ সাধারণ মু’মিনরাও তো তাদের বিবাহ করতে পারবে। বিশেষত্ব হল এসব নারীদের মধ্যে যারা মদীনাতে হিজরত করে এসেছে তাদেরকেই বিবাহ করতে পারবে। সারকথা এই যে, সাধারণ উম্মাতের জন্য পিতৃ ও মাতৃকুলের এসব কন্যা কোন শর্ত ছাড়াই বিবাহ করা বৈধন হিজরত করুক আর না-ই করুক। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য কেবল তারাই হালাল যারা তাঁর সাথে হিজরত করেছে। “সাথে হিজরত” করার জন্য সফরের সঙ্গে থাকা অথবা একই সাথে হিজরত করা জরুরী নয়। বরং যে কোন প্রকারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ন্যায় হিজরত করাই উদ্দেশ্য। ফলে এসব কন্যার মধ্যে যারা কোন কারণে হিজরত করেনি তাদেরকে বিবাহ করার নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য বৈধ নয়।
(وَامْرَأَةً مُّؤْمِنَةً إِنْ وَّهَبَتْ نَفْسَهَا.....)
‘আর কোন মু’মিন নারী যদি নাবীর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে’ এখানে আরো একটি বিধান হল যদি কোন মু’মিন মহিলা নিজেকে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য হেবা করে দেয়, তাহলে নাবী চাইলে তাকে বিবাহ করতে পারেন। এতে কোন মোহরের প্রয়োজন হবে না।
এটা শুধু রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নির্দিষ্ট, অন্য কোন মানুষের জন্য নয়। তাদেরকে শরয়ী নিয়ম অনুসারেই মাহর দিয়ে বিবাহ করতে হবে।
হাদীসে এসেছে: সাহল বিন সাদ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এক মহিলা এসে বলল: হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি আমার নিজেকে আপনার জন্য হেবা বা দান করে দিলাম। অতঃপর মহিলাটি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। তখন একটি লোক দাঁড়িয়ে বলল। হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনার যদি তাকে প্রয়োজন না থাকে তাহলে আমার সাথে বিবাহ দিয়ে দিন। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তোমার নিকট এমন কিছু আছে কি যা তুমি তাকে মাহর হিসেবে দেবে? লোকটি বলল: আমার এই লুঙ্গি ব্যতীত আর কিছুই নেই। যদি তুমি তাকে লুঙ্গি দিয়ে দাও তাহলে তোমার পরার কোন লুঙ্গি থাকবে না। তুমি কিছু খুঁজে দেখ। তখন লোকটি খুঁজে বলল: আমি কিছুই পাইনি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তুমি একটি লোহার আংটি হলেও খোঁজ কর। লোকটি খুঁজে কিছুই পেল না। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: তোমার কি কুরআন মুখস্ত আছে? সে বলল: হ্যাঁ অমুক অমুক সূরা। (সে সূরাগুলোর নাম বলল।) তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি তোমাকে তার সাথে বিবাহ দিলাম তোমার কুরআনের মুখস্থ সূরাগুলো শিক্ষা দেয়ার বিনিময়ে। (সহীহ বুখারী হা: ৫১২১, সহীহ বুখারী হা: ১৪২৫)
ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন: বিবাহ বন্ধন অথবা অধীনস্থ দাসী ছাড়া নিজেকে হেবা করেছে এমন কোন নারী ছিলেন না। কেউ বলেছেন; ছিল। ইমাম কুরতুবী (رحمه الله) বলেন, দ্বিতীয় মত সমর্থনে বুখারী মুসলিমে হাদীস রয়েছে, আয়িশাহ (رضي الله عنها) বলেন: আমি ঐ সকল নারীদের প্রতি ঈর্ষা করতাম যারা নিজেদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য হেবা করত। আমি বলতাম: মহিলাদের কি লজ্জা হয় না তারা একজন পুরুষের জন্য নিজেকে হেবা করে দেয়। এমনকি নাযিল হল-
(تُرْجِيْ مَنْ تَشَا۬ءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِيْٓ إِلَيْكَ مَنْ تَشَا۬ءُ)
-‘তুমি তোমার স্ত্রীদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পৃথক রাখতে পার এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পার’ আয়িশাহ (رضي الله عنها) বলেন: আল্লাহ তা‘আলার শপথ! আপনার প্রভু দেখি আপনার মতানুপাতেই ফয়সালা দিয়ে থাকেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭৮৮, সহীহ মুসলিম হা: ১৪৬৪) আয়িশাহ (رضي الله عنها) বলেন: খাওলাহ বিনতে হাকীম (رحمه الله) ঐ সকল নারীদের অন্তর্ভুক্ত যারা নিজেদেরকে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য হেবা করেছেন। (সহীহ বুখারী হা: ৫১১৩)
আয়াতে مؤمنة শব্দ দ্বারা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, সাধারণ মানুষের জন্য আহলে কিতাবের মেয়েদেরকে বিবাহ করা বৈধ হলেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এটা বৈধ ছিল না। বরং এক্ষেত্রে ঈমানদার হওয়া প্রধান শর্ত।
(تُرْجِيْ مَنْ تَشَا۬ءُ مِنْهُنَّ.......) শানে নুযূল:
আয়িশাহ (رضي الله عنها) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ঐ সকল মহিলাদের ওপর হিংসা করতাম যারা নিজেদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য হেবা করত এবং আমি বলতাম, মহিলারা বিনা মাহরে নিজেকে হেবা করে? তখন আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতটি নাযিল করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭৮৮, সহীহ মুসলিম হা: ১৪৬৩, ১৪৭৬)
تُرْجِيْ শব্দটি ارجاء থেকে উদ্ভূত, অর্থ পেছনে রাখা, আর وَتُؤْوِيْ শব্দটি ايواء থেকে উদ্ভূত, অর্থ নিকটে আনা। আয়াতের অর্থ হচ্ছে: তুমি স্ত্রীগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারবে এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারবে। এটা রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নির্দিষ্ট একটি বিধান যা উম্মতের জন্য প্রযোজ্য নয়। সাধারণ উম্মতের মধ্যে কারো একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে সমতা বিধান করা জরুরী এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করা হারাম। সমতার মানে ভরণ-পোষণ ও রাত্রি যাপনের সমতা রক্ষা করা। অর্থাৎ প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে সমান সংখ্যক রাত্রি যাপন করতে হবে, কম-বেশি করা যাবে না এবং সমান ভরণ-পোষণ দিতে হবে। কিন্তু‘ এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে, ইচ্ছা করলে পালা বণ্টন না করলেও কোন অপরাধ হবে না। তিনি যার সাথে ইচ্ছা তার সাথেই রাত্রি যাপন করতে পারবেন। কারো পালা আসলে তার সাথে রাত্রি যাপন না করে অন্যের সাথে রাত্রি যাপন করলে বা যার পালা আসেনি তার সাথে রাত্রি যাপন করাতে তাঁর কোনই অপরাধ নেই। আয়াতের শেষাংশে আরও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে যে, তুমি যে স্ত্রীকে একবার দূরে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছ, ইচ্ছা করলে তাকে পুনরায় কাছে রাখতে পারবে। (وَمَنِ ابْتَغَيْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكَ) বাক্যের অর্থও তাই।
আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মানার্থে তাকে স্ত্রীদের মাঝে সমতা বিধান করার হুকুম থেকে মুক্ত রেখেছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এতদসত্বেও তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে পালা বণ্টন করে দিতেন। আর এ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার পেছনে একটাই উদ্দেশ্য ছিল যে, যাতে করে তাঁর স্ত্রীরা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট থাকেন। কোন প্রকার মনোমালিন্য না হয়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. চারের অধিক স্ত্রী একসঙ্গে রাখা কেবল রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য বৈধ, কিন্তু উম্মাতের জন্য চারটির অধিক বৈধ নয়।
২. রাসূলের স্ত্রীগণ যেমন অন্যের জন্য বৈধ নয়, অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাসীগণও অন্যের জন্য বৈধ নয়।
৩. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কোন মহিলা নিজেকে হেবা করলে কোন প্রকার মাহর ছাড়াই তাকে বিবাহ বৈধ, সাধারণ মু’মিনদের জন্য মাহর দেয়া ওয়াজিব।
৪. মু’মিন ছাড়া আহলে কিতাবের মেয়েদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য বিবাহ করা বৈধ ছিল না।
৫. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পালা বণ্টন করাটা অবশ্যক ছিল না। তথাপি তিনি পালা বণ্টন করে নিতেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেনঃ তুমি যেসব স্ত্রীর মহর আদায় করে দিয়েছে তারা তোমার জন্যে হালাল। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সমস্ত স্ত্রীর মহর ছিল সাড়ে বারো উকিয়া, যার মূল্য হয় তখনকার পাঁচশ' দিরহাম। উম্মল মুমিনীন হযরত হাবীবা বিনতে আবি সুফিয়ান (রাঃ)-এর মহর ছিল এই পরিমাণই। হ্যরত নাজ্জাশী (রঃ) নিজের পক্ষ হতে চারশ’ দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) দিয়েছিলেন। অনুরূপভাবে উম্মুল মুমিনীন হযরত সুফিয়া বিনতে হুওয়াই (রাঃ)-এর মহর ছিল শুধু তাঁকে আযাদী দান। খাইবারের ইয়াহুদীদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে মুক্ত করে দিয়ে বিয়ে করে নেন।
হযরত জুওয়াইরিয়া বিনতে হারেসা মুসতালেকিয়্যাহ যত অর্থের উপর মুকাতাবা করেছিলেন, তার সমুদয় অর্থ রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শাম্মাস (রাঃ)-কে আদায় করে দিয়ে তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সমস্ত স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। এভাবেই যেসব বাদী গানীমাতের মাল স্বরূপ তাঁর অধীনে এসেছিল সেগুলোও তাঁর জন্যে হালাল ছিল। সুফিয়া (রাঃ) ও জুওয়াইরিয়্যা (রাঃ)-এর মালিক হয়েছিলেন রাসূলুল্লাহ (সঃ)। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে আযাদ করে দিয়ে বিবাহ করেছিলেন। রাইহানা বিনতে শামাউন্ নারিয়্যাহ ও মারিয়া কিবতিয়্যারও তিনি মালিক ছিলেন। হযরত মারিয়া (রাঃ)-এর গর্ভে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর একটি সন্তানও হয়েছিল যার নাম ছিল ইবরাহীম। যেহেতু বিবাহের ব্যাপারে নাসারা ও ইয়াহূদীদের ভিতরে খুব বাড়াবাড়ী প্রচলিত ছিল এবং সেভাবেই কাজ করা হয়েছিল, সেহেতু আদল ও ইনসাফ বিশিষ্ট সহজ ও স্বচ্ছ শরীয়ত মধ্যম পন্থা প্রকাশ করে দিয়েছে। নাসারাগণ সাত পিড়ী পর্যন্ত যে পুরুষ বা স্ত্রী লোকের নসবনামা (বংশ তালিকা) পেতো না তার বিবাহ জায়েয বলে মেনে নিতো না। ইয়াহূদীরা ভাই বা বোনের ছেলে মেয়েদেরকে বিবাহ করে নিতো। ইসলাম ভাতিজী ও ভাগিনীর সাথে বিবাহ অবৈধ ঘোষণা করেছে। চাচার মেয়ে, ফুফুর মেয়ে, মামার মেয়ে ও খালার মেয়ের সাথে বিবাহ ইসলাম জায়ে রেখেছে। এ আয়াতের শব্দগুলো কতই না চমৎকার! (আরবি) (চাচা) এবং (আরবি) (মামা) এ শব্দগুলোকে এক বচন ব্যবহার করা হয়েছে। আর (ফুফুরা) এবং (আরবি) (খালারা) এই শব্দগুলোকে বহু বচন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে পুরুষ লোকদের স্ত্রীলোকদের উপর এক ধরনের ফযীলত বা মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেমন বলা হয়েছেঃ(আরবি) (ডান ও বাম হতে) (১৬:৪৮) (আরবি) (তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোকের দিকে বের করে আনেন) (২:২৫৭) এবং(আরবি) (তিনি অন্ধকার ও আলো করেছেন)। (৬:১) এখানে ডানের ফযীলত বামের উপর এবং আলোর ফযীলত অন্ধকারের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারণ (আরবি) শব্দটিকে বহু বচন এবং (আরবি) শব্দটিকে এক বচন ব্যবহার করা হয়েছে। অনুরূপভাবে (আরবি) শব্দটিকে বহু বচন এবং শব্দটিকে এক বচন ব্যবহার করা হয়েছে। এর আরো বহু উপমা দেয়া যেতে পারে।
মহান আল্লাহ বলেনঃ যারা তোমার সাথে দেশ ত্যাগ করেছে। হযরত উম্মে হানী (রাঃ) বলেনঃ “আমার কাছে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর পয়গাম এলো। আমি আমার অপারগতা প্রকাশ করলাম। তিনি তা মেনে নিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতটি নাযিল করলেন। আমি তার জন্যে বৈধকৃত স্ত্রীদের মধ্যেও ছিলাম না এবং তার সাথে হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্তও না। বরং আমি মক্কা বিজয়ের পর ঈমান এনেছিলাম। আমি ছিলাম আযাদকৃতদের অন্তর্ভুক্ত।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
তাফসীর কারকগণও একথাই বলেছেন। আসল কথা হলো যারা মদীনায় রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে হিজরত করেছেন। হযরত কাতাদা (রঃ) হতে একটি রিওয়াইয়াত আছে যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কিরআতে (আরবি) রয়েছে। এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেনঃ কোন মুমিনা নারী নবী (সঃ)-এর নিকট নিজেকে নিবেদন করলে এবং নবী (সঃ) তাকে বিয়ে করতে চাইলে সেও বৈধ। এ আদেশ দুটি শর্তের উপর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ হে নবী (সঃ)! মুমিনা নারী তোমার জন্যে বৈধ যদি সে নিজেকে তোমার নিকট নিবেদন করে যে, তুমি ইচ্ছা করলে তাকে বিনা মহরে বিয়ে করতে পার। যেমন আল্লাহ তা'আলা হযরত নূহ (আঃ) সম্পর্কে খবর দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আর আমি তোমাদেরকে নসীহত করলেও আমার নসীহত তোমাদের কোন উপকারে আসবে না যদি আল্লাহ তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন।” (১১:৩৪) এবং হযরত মূসা (আঃ)-এর উক্তির মত। তিনি বলেছিলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “হে আমার কওম! যদি তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনে থাকো। তবে তার উপরই ভরসা কর যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হও।” (১০:৮৪)
আর এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যদি মুমিনা নারী নবী (সঃ)-এর নিকট নিজেকে নিবেদন করে।”
হযরত সাহল ইবনে সা'দ সায়েদী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে একটি মহিলা এসে বলেঃ “হে আল্লাহর রাসুল (সঃ)! আমি নিজেকে আপনার জন্যে নিবেদন করেছি।” অতঃপর সে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। তখন একটি লোক দাঁড়িয়ে গিয়ে বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যদি তার প্রয়োজন আপনার না তাকে তবে আমার সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিন?` রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেনঃ “তাকে তুমি মহর হিসেবে দিতে পার এমন কোন জিনিস তোমার কাছে আছে কি?” উত্তরে লোকটি বললো: “আমার কাছে আমার এই লুঙ্গিটি ছাড়া আর কিছুই নেই।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বললেনঃ “একটি লোহার আংটি হলেও তুমি খোজ কর।” তখন সে খোঁজ করলো, কিন্তু কিছুই পেলো না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাকে বললেনঃ “তোমার কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ আছে কি?” লোকটি জবাব দিলো: “হ্যা, আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাকে বললেনঃ “তাহলে তুমি তাকে কুরআন শিক্ষাদানের বিনিময়ে বিয়ে করে নাও। (হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) এটা তাখরীজ করেছেন)
হযরত সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা হযরত আনাস (রাঃ)-এর নিকট বসেছিলেন এবং ঐ সময় তাঁর নিকট তাঁর কন্যাও ছিল। হযরত আনাস বলেন যে, একটি স্ত্রীলোক নবী (সঃ)-এর কাছে এসে বলেঃ “আমার কোন প্রয়োজন আপনার আছে কি?” তখন তাঁর কন্যাটি বলেঃ “মহিলাটির লজ্জা-শরম কত কম!” তার একথা শুনে হযরত আনাস (রাঃ) তাকে বলেনঃ “ঐ মহিলা তোমার চেয়ে বরং ভাল যে, সে নিজেকে নবী (সঃ)-এর নিকট নিবেদন করেছে। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারী (রঃ) এটা তাখরীজ করেছেন)
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি মহিলা নবী (সঃ)-এর নিকট এসে বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার এ রকম এ রকম একটি মেয়ে আছে।” অতঃপর সে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দিলো। অতঃপর বললো: “আমি চাই যে, আপনি আমার এ মেয়েকে বিয়ে করে নিন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার এ প্রস্তাবে সম্মতি প্রদান করলেন। মহিলাটি কিন্তু তার কন্যার প্রশংসা করতেই থাকলো। এমনকি শেষ পর্যন্ত সে বললো যে, তার মেয়ে কখনো রোগে ভোগেনি এবং তার মাথায় কখনো ব্যথা হয়নি। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “তোমার মেয়ের আমার প্রয়োজন নেই।” (এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে মহিলাটি নবী (সঃ)-এর নিকট নিজেকে নিবেদন করেছে সে হলো হযরত খাওলা বিনতে হাকীম (রাঃ)। (এটা ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
অন্য রিওয়াইয়াতে আছে যে, ইনি বানী সালীম গোত্রভুক্ত ছিলেন। আর একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, তিনি অত্যন্ত সতী-সাধ্বী রমণী ছিলেন। হতে পারে যে, উম্মে সালীমই ছিলেন হযরত খাওলা (রাঃ) আবার তিনি অন্য কোন মহিলাও হতে পারেন। হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব (রাঃ), হযরত উমার ইবনুল হাকাম (রাঃ) এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উবাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তেরোটি বিবাহ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জন ছিলেন কুরায়েশ গোত্রভুক্ত। তাঁরা হলেনঃ হযরত খাদীজা (রা), হযরত আয়েশা (রাঃ), হযরত হাফসা (রাঃ), হযরত উম্মে হাবীবা (রাঃ), হযরত সাওদা (রাঃ)। এবং হযরত উম্মে সালমা (রাঃ)। তিনজন ছিলেন বানু আমির ইবনে সাসা গোত্রভুক্ত। দু’জন ছিলেন বানু হিলাল ইবনে আমির গোত্রভুক্ত। তাঁরা হলেন হযরত মায়মূনা বিনতে হারিস (রাঃ), ইনি তিনিই যিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে নিজেকে নিবেদন করেছিলেন এবং হযরত যয়নাব, উম্মুল মাসাকীন (রাঃ)। একজন ছিলেন বানু বকর ইবনে কিবলা গোত্রভুক্ত। ইনি ঐ মহিলা যিনি দুনিয়াকে পছন্দ করেছিলেন। একজন স্ত্রী ছিলেন বানুল জুন গোত্রভুক্ত, যিনি ছিলেন আশ্রয় প্রার্থিনী। আর একজন স্ত্রী ছিলেন যয়নাব বিনতে জাহশ আসাদিয়্যা (রাঃ)। আর দু’জন ছিলেন বন্দিনী। তাঁরা হলেন: সুফিয়া বিনতে হুওয়াই ইবনে আখতাব (রাঃ) এবং জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিস ইবনে আমর ইবনুল মুসতালিক আল খুযাইয়্যা (রাঃ)।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, যে মুমিনা নারী নিজেকে নবী (সঃ)-এর নিকট নিবেদন করেছিলেন তিনি হলেন মায়মূনা বিনতে হারিস (রাঃ)। কিন্তু এতে ইনকিতা বা ছেদ-কাটা রয়েছে। এ রিওয়াইয়াতটি মুরসাল। এটা প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে যে, হযরত যয়নাব (রাঃ), যার কুনইয়াত ছিল উম্মুল মাসাকীন, তিনি হলেন যয়নাব বিনতে খুযাইমা (রাঃ)। তিনি ছিলেন আনসারিয়্যা। তিনি নবী (সঃ)-এর জীবদ্দশাতেই তাঁর নিকট ইন্তেকাল করেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। উদ্দেশ্য এই যে, যারা নিজেদেরকে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ইখতিয়ারে দিয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা অনেকেই ছিলেন। যেমন হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমি
রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঐ সব স্ত্রী হতে আত্মগরিমায় থাকতাম যারা নিজেদেরকে তাঁর নিকট নিবেদন করেছিলেন। আমি বিস্ময় বোধ করতাম যে, কেমন করে স্ত্রীলোক নিজেকে নিবেদন করতে পারে! অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা নিম্ন লিখিত আয়াতটি অবতীর্ণ করেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “তুমি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট হতে দূরে রাখতে পার এবং যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট স্থান দিতে পার এবং তুমি যাকে দূরে রেখেছে, তাকে কামনা করলে তোমার কোন অপরাধ নেই।” (৩৩:৫১) তখন আমি বললামঃ আপনার প্রতিপালক তো আপনার পথ খুবই সহজ ও প্রশস্ত করে দিয়েছেন।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে এমন কোন স্ত্রীলোক ছিল না যে নিজেকে তাঁর কাছে নিবেদন করেছে। (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রাঃ) বর্ণনা করেছেন) ইউনুস ইবনে বুকায়ের (রাঃ) এর ভাবার্থ বর্ণনা করেছেন যে, যেসব স্ত্রীলোলে নিজেদেরকে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট নিবেদন করেছে তাদের একজনকেও তিনি গ্রহণ করেননি, যদিও এটা তার জন্যে জায়েয ও বিশিষ্ট ছিল। কেননা, এটা তাঁর ইচ্ছার উপর ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেছেনঃ (আারবি)
অর্থাৎ “নবী (সঃ) যদি তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা করে।` মহান আল্লাহ বলেনঃ এটা বিশেষ করে তোমারই জন্যে, অন্য মুমিনদের জন্যে নয়। তবে যদি মহর আদায় করে তাহলে জায়েয হবে। যেমন হযরত বন্ধু বিনতে ওয়াশিক (রাঃ) নিজেকে নিবেদন করে দিয়েছিলেন। যখন তাঁর স্বামী মারা যান তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফায়সালা করলেন যে, তার বংশের অন্যান্য মহিলাদের মত তাকে মহর দিতে হবে। এভাবেই শুধু সহবাসের পর মহর আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) এ হুকুমের বাইরে রয়েছেন। ঐ স্ত্রী লোকদেরকে কিছু দেয়া তাঁর উপর ওয়াজিব ছিল না। তাঁকে এ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছিল যে, তিনি বিনা মহরে, বিনা ওলীতে এবং বিনা সাক্ষীতে বিবাহ করার অধিকার প্রাপ্ত হয়েছিলেন। যেমন হযরত যয়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ)-এর ঘটনা। হযরত কাতাদা (রঃ) বর্ণনা করেছেনঃ কোন স্ত্রী লোকের এ অধিকার নেই যে, বিনা মহরে ও বিনা ওলীতে সে কারো কাছে নিজেকে বিবাহের জন্যে পেশ করতে পারে। এটা শুধু রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর জন্যেই খাস ছিল।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ মুমিনদের স্ত্রী এবং তাদের মালিকানাধীন দাসীগণ সম্বন্ধে যা নির্ধারিত করেছি তা আমি জানি। অর্থাৎ কোন পুরুষ এক সাথে চারের অধিক স্ত্রী রাখতে পারে না। হ্যা, তবে স্ত্রীদের ছাড়াও সে দাসীদেরকে রাখতে পারে এবং তাদের ব্যাপারে কোন সংখ্যা নির্ধারিত নেই। অনুরূপভাবে মুমিনদের জন্যে ওলী, মহর ও সাক্ষীরও শর্ত রয়েছে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উম্মতের জন্যে এই নির্দেশ। কিন্তু তার জন্যে এই ধরা-বাঁধা কোন বিধান নেই এবং এ কাজে তার কোন দোষও নেই।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।