সূরা আল-আহযাব (আয়াত: 31)
হরকত ছাড়া:
ومن يقنت منكن لله ورسوله وتعمل صالحا نؤتها أجرها مرتين وأعتدنا لها رزقا كريما ﴿٣١﴾
হরকত সহ:
وَ مَنْ یَّقْنُتْ مِنْکُنَّ لِلّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ وَ تَعْمَلْ صَالِحًا نُّؤْتِهَاۤ اَجْرَهَا مَرَّتَیْنِ ۙ وَ اَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا کَرِیْمًا ﴿۳۱﴾
উচ্চারণ: ওয়া মাইঁ ইয়াকনুত মিনকুন্না লিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়া তা‘মাল সা-লিহান নু’তিহাআজরাহা-মাররাতাইনি ওয়া আ‘তাদনা-লাহা-রিযকান কারীমা-।
আল বায়ান: আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে এবং নেক আমল করবে আমি তাকে দু’বার তার প্রতিদান দেব এবং আমি তার জন্য প্রস্তুত রেখেছি সম্মানজনক রিয্ক।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩১. আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অনুগত হবে এবং সৎকাজ করবে তাকে আমরা পুরস্কার দেব দু'বার। আর তার জন্য আমরা প্ৰস্তুত রেখেছি সম্মানজনক রিযিক।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত হবে আর সৎ কাজ করবে, আমি তাকে দু’বার পুরস্কার দেব আর তার জন্য আমি সম্মানজনক রিযক প্রস্তুত রেখেছি।
আহসানুল বায়ান: (৩১) তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের প্রতি অনুগতা হবে ও সৎকাজ করবে, তাকে আমি দ্বিগুণ পুরস্কার দান করব।[1] আর তার জন্য আমি সম্মানজনক জীবিকা প্রস্তুত রেখেছি।
মুজিবুর রহমান: তোমাদের যে কেহ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি অনুগত হবে ও সৎ কার্য করবে তাকে আমি পুরস্কার দিব দু’বার এবং তার জন্য রেখেছি সম্মানজনক রিয্ক।
ফযলুর রহমান: (হে নবীর স্ত্রীগণ!) তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত থাকবে এবং সৎকাজ করবে আমি তাকে দুঞ্চবার তার পুরস্কার দেব। আর তার জন্য আমি এক সম্মানজনক জীবিকা (জান্নাত) প্রস্তুত করে রেখেছি।
মুহিউদ্দিন খান: তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত হবে এবং সৎকর্ম করবে, আমি তাকে দুবার পুরস্কার দেব এবং তার জন্য আমি সম্মান জনক রিযিক প্রস্তুত রেখেছি।
জহুরুল হক: আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ্র প্রতি ও তাঁর রসূলের প্রতি অনুগত হবে এবং সৎকর্ম করবে, আমরা তার প্রতিদান তাকে দেব দুই দফায়, আর আমরা তার জন্য প্রস্তুত রেখেছি এক সম্মানজনক জীবিকা।
Sahih International: And whoever of you devoutly obeys Allah and His Messenger and does righteousness - We will give her her reward twice; and We have prepared for her a noble provision.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩১. আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অনুগত হবে এবং সৎকাজ করবে তাকে আমরা পুরস্কার দেব দু´বার। আর তার জন্য আমরা প্ৰস্তুত রেখেছি সম্মানজনক রিযিক।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩১) তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের প্রতি অনুগতা হবে ও সৎকাজ করবে, তাকে আমি দ্বিগুণ পুরস্কার দান করব।[1] আর তার জন্য আমি সম্মানজনক জীবিকা প্রস্তুত রেখেছি।
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, যেমন শাস্তি দ্বিগুণ হবে অনুরূপ পুণ্য বা নেকীও দ্বিগুণ দেওয়া হবে। যেমন নবী (সাঃ) কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, إذًا لاَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ অর্থাৎ, ‘‘তখন আমি তোমাকে ইহজীবন ও পরজীবনে দ্বিগুণ শাস্তি আস্বাদন করাতাম।’’ (বানী ইসরাঈল ৭৫ আয়াত)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩০-৩১ নং আয়াতের তাফসীর:
মানুষ যে যত বড় তার কথা ও কাজ কর্মের ওজনও তত বড়। তারা যেমন ভাল কর্মের জন্য বড় প্রতিদান পায় তেমনি তাদেরকে ছোট ভুলের জন্য বড় মাশুল দিতে হয়। অনুরূপভাবে নাবী পতœীগণ মর্যাদার দিক দিয়ে সাধারণ নারীদের থেকে উত্তম। সুতরাং তারা ভাল কাজ করলে যেমন দ্বিগুণ প্রতিদান পাবে, অনুরূপভাবে কোন অবৈধ বা অশ্ল¬ীল কাজে লিপ্ত হলে শাস্তিও দ্বিগুণ হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
(مَنْ جَا۬ءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَه۫ خَيْرٌ مِّنْهَا ج وَهُمْ مِّنْ فَزَعٍ يَّوْمَئِذٍ اٰمِنُوْنَ - وَمَنْ جَا۬ءَ بِالسَّيِّئَةِ فَكُبَّتْ وُجُوْهُهُمْ فِي النَّارِ ط هَلْ تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ)
“যে কেউ সৎ কর্ম নিয়ে আসবে, সে তা হতে উত্তম প্রতিফল পাবে এবং সেদিন তারা ভয় হতে নিরাপদ থাকবে। যে কেউ অসৎ কর্ম নিয়ে আসবে, তাকে অধোমুখে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে (এবং তাদেরকে বলা হবে) ‘তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।” (সূলা নামল ২৭:৮৯-৯০)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(يُّضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيْه۪ مُهَانًا)
“কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে স্থায়ী হবে হীন অবস্থায়; (সূরা ফুরকান ২৫:৬৯) এখানে فَاحِشَةٍ বা অশ্লীল কাজ দ্বারা উদ্দেশ্য অসভ্য ও অশোভনীয় আচরণ। তবে কুরআনে যখন আলিফ-লাম নিয়ে الفاحشة শব্দটি এসেছে তখন তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ব্যভিচার।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. পরকালে মানুষের মর্যাদা অনুপাতে তাদের বিচারকার্য সম্পাদন করা হবে।
২. মর্যাদায় যত বেশি বড় হবে অন্যায় কাজে লিপ্ত হলে শাস্তিও তদ্রƒপ বড় হবে।
৩. আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুগত থাকতে হবে, তাদের নির্দেশের অবাধ্য হওয়া যাবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: এই আয়াতে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় ন্যায়পরায়ণতা ও অনুগ্রহের বর্ণনা দিচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ তোমাদেরকে তোমাদের অনুগত ও সকার্যের জন্যে দ্বিগুণ পুরস্কার প্রদান করা হবে। তোমাদের জন্যে জান্নাতে সম্মান জনক আহার্য প্রস্তুত রয়েছে। কেননা, তোমরা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর সাথে তাঁর বাসস্থানে অবস্থান করবে। আর রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর বাসস্থান ইল্লীঈনের উচ্চতম স্থানে অবস্থিত রয়েছে। এটা সমস্ত মানুষের বাসস্থান হতে উঁচুতে রয়েছে। এরই নাম ওয়াসিলা। এটা জান্নাতের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু মনযিল যার ছাদ হলো আল্লাহর আরশ।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।