আল কুরআন


সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 30)

সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 30)



হরকত ছাড়া:

فأعرض عنهم وانتظر إنهم منتظرون ﴿٣٠﴾




হরকত সহ:

فَاَعْرِضْ عَنْهُمْ وَ انْتَظِرْ اِنَّهُمْ مُّنْتَظِرُوْنَ ﴿۳۰﴾




উচ্চারণ: ফাআ‘রিদ‘আনহুম ওয়ানতাজির ইন্নাহুম মুনতাজিরূন।




আল বায়ান: অতএব তুমি তাদের থেকে বিমুখ থাক, আর অপেক্ষা কর, নিশ্চয় তারা অপেক্ষমাণ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩০. অতএব আপনি তাদেরকে উপেক্ষা করুন এবং অপেক্ষা করুন, তারাও তো অপেক্ষমান।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: কাজেই তুমি তাদেরকে এড়িয়ে চল আর (আল্লাহর ফয়সালার জন্য) অপেক্ষা কর, তারাও (সেই ফয়সালার জন্য আছে) অপেক্ষমান।




আহসানুল বায়ান: (৩০) অতএব তুমি ওদেরকে উপেক্ষা কর[1] এবং অপেক্ষা কর।[2] নিশ্চয় ওরাও অপেক্ষা করছে।[3]



মুজিবুর রহমান: অতএব তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর এবং অপেক্ষা কর; তারাও অপেক্ষা করছে।



ফযলুর রহমান: অতএব, তাদের থেকে ফিরে এসো এবং অপেক্ষা করো, নিশ্চয়ই তারাও অপেক্ষা করছে।



মুহিউদ্দিন খান: অতএব আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন এবং অপেক্ষা করুন, তারাও অপেক্ষা করছে।



জহুরুল হক: অতএব তাদের থেকে তুমি ফিরে এস এবং ইন্তাজার কর, নিঃসন্দেহ তারাও প্রতীক্ষারত রয়েছে।



Sahih International: So turn away from them and wait. Indeed, they are waiting.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩০. অতএব আপনি তাদেরকে উপেক্ষা করুন এবং অপেক্ষা করুন, তারাও তো অপেক্ষমান।(১)


তাফসীর:

(১) যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, “নাকি তারা বলে, সে একজন কবি? আমরা তার মৃত্যুর প্রতীক্ষা করছি। বলুন, “তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা আত-তূর: ৩০–৩১]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩০) অতএব তুমি ওদেরকে উপেক্ষা কর[1] এবং অপেক্ষা কর।[2] নিশ্চয় ওরাও অপেক্ষা করছে।[3]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, সেই মুশরিকদের নিকট থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও এবং দাওয়াত ও তবলীগের কাজ আপন গতিতে চালাতে থাক। যে অহী তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ কর। যেমন দ্বিতীয় স্থানে বলা হয়েছে, (اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ) অর্থাৎ, তোমার নিকট তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে যে প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ করা হয়েছে, তুমি তারই অনুসরণ করে চল। তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। (সূরা আন্আমঃ ১০৬ আয়াত)

[2] অর্থাৎ, অপেক্ষা কর যে, আল্লাহর ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে এবং তিনি তোমার বিরোধীদের উপর তোমাকে বিজয়ী করবেন। তা নিঃসন্দেহে পূর্ণ হবেই।

[3] অর্থাৎ, এই সকল কাফেররা অপেক্ষায় আছে যে, সম্ভবতঃ পয়গম্বর (সাঃ) নিজেই মুসীবতের শিকার হবেন ও তাঁর দাওয়াত শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পৃথিবী দেখে নিয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাঃ)-এর সাথে কৃত ওয়াদা পূরণ করেছেন এবং তাঁর উপর মুসীবতের অপেক্ষমাণ বিরোধীদেরকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেছেন কিংবা তাদেরকে তাঁর দাস বানিয়ে দিয়েছেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৮-৩০ নং আয়াতের তাফসীর:



কাতাদাহ (رحمه الله) বলেন:



উক্ত আয়াতের الْفَتْحُ দ্বারা উদ্দেশ্য হল ‘ফয়সালা’। মুজাহিদ বলেন: ‘কিয়ামতের দিন’, উভয়ের উদ্দেশ্য একই। অর্থাৎ কাফির-মুশরিকরা শাস্তির ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করে বলত, হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তুমি আমাদেরকে যে দিনের প্রতিশ্রতি দিয়েছ এবং তোমার সঙ্গী-সাথীদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে থাক সে ফয়সালা বা কিয়ামত দিবস কখন আসবে? তাদের এ কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যখন ঐ সময় উপস্থিত হবে অর্থাৎ কিয়ামত সংঘঠিত হবে তখন কাফিরদের ঈমান কোনই উপকারে আসবে না এবং তাদেরকে তাওবা করার অবকাশ দেয়া হবে না যে, তারা শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(فَلَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا قَالُوْآ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَحْدَه۫ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِه۪ مُشْرِكِيْنَ- فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيْمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا ط سُنَّتَ اللّٰهِ الَّتِيْ قَدْ خَلَتْ فِيْ عِبَادِه۪ ج وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكٰفِرُوْنَ)



“অতঃপর যখন তারা আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন বললো, আমরা এক আল্লাহতেই ঈমান আনলাম এবং আমরা তাঁর সাথে যাদেরকে শরীক করতাম তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করলাম। তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল তখন তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না। আল্লাহর এই বিধান পূর্ব হতেই তাঁর বান্দাদের মধ্যে চলে আসছে এবং সে ক্ষেত্রে কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” (সূরা মু’মিন ৪০:৮৪-৮৫)



এভাবে আরো অনেক আয়াতে বলা হয়েছে যে, কাফিররা কিয়ামতের দিন ঈমান আনবে কিন্তু তাদের সে ঈমান কোন কাজে আসবে না।



অতএব হে মুহাম্মাদ, যখন তারা পরিহাসচ্ছলে তোমার দাওয়াত বর্জন করল এবং তোমাকে মিথ্যা মনে করে দ্রুত ফয়সালা কামনা করছে তখন তোমার দায়িত্ব হল তাদেরকে উপেক্ষা করে চলা এবং ফয়সালার দিনের জন্য অপেক্ষা করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(أَمْ يَقُوْلُوْنَ شَاعِرٌ نَّتَرَبَّصُ بِه۪ رَيْبَ الْمَنُوْنِ - قُلْ تَرَبَّصُوْا فَإِنِّيْ مَعَكُمْ مِّنَ الْمُتَرَبِّصِيْنَ)



“তারা কি বলতে চায় যে, সে একজন কবি? আমরা তার জন্য কালের বিপর্যয়ের (মৃত্যুর) অপেক্ষা করছি। বল, তোমরা অপেক্ষা কর, অবশ্য আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা তূর ৫২:৩০-৩১)



সুতরাং একজন আল্লাহ তা‘আলার পথে আহ্বানকারী যখন মানুষকে আহ্বান করবেন তখন তিনি বিভিন্ন অবান্তর প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন, তাতে মনোবল না হারিয়ে যথাসাথ্য দাওয়াতী কাজ চালিয়ে যেতে হবে, হতে পারে আল্লাহ তা‘আলা এর মাঝে কোন কল্যাণ রেখেছেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. শাস্তি বা মৃত্যু এসে গেলে তখন ঈমান আনয়নে কোন ফায়দা হবে না।

২. কেউ যদি ইসলামের বিরোধিতা করে তাহলে তাকে ঘৃণা করা দোষের কিছু নয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৮-৩০ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের তাড়াহুড়ার খবর দিচ্ছেন যে, তারা তাচ্ছিল্যের সাথে বলতোঃ “হে নবী (সঃ)! তুমি যে বলে থাকো এবং তোমার সঙ্গীসাথীদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে থাকো যে, তুমি আমাদের উপর বিজয় লাভ করবে এবং আমাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, সে সময় কখন আসবে? আমরা তো তোমাকে বহুদিন থেকেই পরাজিত, অধীনস্থ ও দুর্বল দেখতে পাচ্ছি। এখন তুমি আমাদেরকে আমাদের উপর তোমার বিজয় লাভের সময়টা বলে দাও।” তাদের একথার উত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আল্লাহর আযাব যখন এসে যাবে এবং যখন তাঁর গযব ও ক্রোধ পতিত হবে, তা দুনিয়াতেই হালে বা আখিরাতেই হালে, তখন না ঈমান আনয়নে কোন উপকার হবে, না তাদেরকে কোন অবকাশ দেয়া হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যখন তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ দলীল-প্রমাণসহ আসলো তখন তাদের কাছে যে জ্ঞান আছে তা নিয়ে তারা খুশী হয়ে গেল (দু’টি আয়াত পর্যন্ত)।” (৪০:৮৩)। এর দ্বারা মক্কা বিজয় উদ্দেশ্য নয়। কেননা, মক্কা বিজয়ের দিন তো রাসূলুল্লাহ (সঃ) কাফিরদের ইসলাম গ্রহণ ককূল করে নিয়েছিলেন এবং প্রায় দু'হাজার লোক ইসলাম কবুল করেছিল। যদি এই বিজয় দ্বারা মক্কা বিজয় উদ্দেশ্য হতো তবে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের ইসলাম গ্রহণ ককূল করতেন না। যেমন এখানে বলা হয়েছে যে, সেই দিন কাফিরদের ঈমান আনয়ন তাদের কোন কাজে আসবে না। এখানে (আরবি)-এর অর্থ হচ্ছে ফায়সালা। যেমন কুরআন কারীমের এক জায়গায় আছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তুমি আমার ও তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দাও।” (২৬:১১৮) অন্য এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “তুমি বল- আল্লাহ আমাদেরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর আমাদের মধ্যে তিনি ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করবেন।” (৩৪:২৬) আর একটি আয়াতে আছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তারা ফায়সালা প্রার্থনা করছে এবং যারা উদ্ধত ও হঠকারী তারা ধ্বংস হয়ে গেছে।” (১৪:১৫) আরো এক জায়গায় আছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “এর পূর্বে তারা কাফিরদের উপর বিজয় প্রার্থনা করতো।” (২:৮৯) অন্য এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “যদি তোমরা ফায়সালা কামনা কর তবে ফায়সালা তো তোমাদের কাছে এসেই গেছে।” (৮:১৯)

এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “(হে নবী সঃ)! অতএব তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর এবং অপেক্ষা কর, তারাও অপেক্ষা করছে।” অর্থাৎ তুমি এই মুশরিকদেরকে উপেক্ষা কর এবং তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা জনগণের কাছে পৌঁছাতে থাকো। যেমন অন্য আয়াতে তিনি বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অহী করা হয়েছে তার তুমি অনুসরণ কর, তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই।” (৬:১০৭)

মহান আল্লাহ বলেনঃ তুমি তোমার প্রতিপালকের ওয়াদাকে সত্য বলে মেনে নাও। তাঁর কথা অপরিবর্তনীয়, তাঁর কথা সত্য। সত্বরই তিনি তোমাকে তোমার বিরুদ্ধাচারীদের উপর বিজয় দান করবেন। তিনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। তারাও অপেক্ষমান রয়েছে। তারা চায় যে, তোমার উপর কোন বিপদ আপতিত হালে। কিন্তু তাদের এ মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে না। আল্লাহ তা'আলা নিজের লোকদেরকে ভুলেন না। তাদেরকে তিনি পরিত্যাগও করেন না। যারা আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলে এবং তাঁর ফরমান অন্যদের কাছে পৌঁছিয়ে দেয় তারা আল্লাহর সাহায্য হতে বঞ্চিত হতে পারে না। কাফির ও মুশরিকরা মুমিনদের উপর যে বিপদ-আপদ দেখতে চায় তাই তিনি তাদের উপরই নাযিল করে থাকেন। তারা আল্লাহর আযাবের শিকার হবেই। আমাদের জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।