আল কুরআন


সূরা লুকমান (আয়াত: 11)

সূরা লুকমান (আয়াত: 11)



হরকত ছাড়া:

هذا خلق الله فأروني ماذا خلق الذين من دونه بل الظالمون في ضلال مبين ﴿١١﴾




হরকত সহ:

هٰذَا خَلْقُ اللّٰهِ فَاَرُوْنِیْ مَاذَا خَلَقَ الَّذِیْنَ مِنْ دُوْنِهٖ ؕ بَلِ الظّٰلِمُوْنَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ﴿۱۱﴾




উচ্চারণ: হা-যা-খালকুল্লা-হি ফাআরূনী মা-যা-খালকাল্লাযীনা মিন দূ নিহী বালিজ্জা-লিমূনা ফী দালা-লিম মুবীন।




আল বায়ান: এ আল্লাহর সৃষ্টি; অতএব আমাকে দেখাও, তিনি ছাড়া আর যারা আছে তারা কী সৃষ্টি করেছে! বরং যালিমরা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে রয়েছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১. এটা আল্লাহর সৃষ্টি! সুতরাং তিনি ছাড়া অন্যরা কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও। বরং যালিমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি। কাজেই আমাকে দেখাও তিনি ছাড়া অন্যেরা কী সৃষ্টি করেছে। বরং যালিমরা সুস্পষ্ট গুমরাহীতে ডুবে আছে।




আহসানুল বায়ান: (১১) এ আল্লাহর সৃষ্টি![1] তিনি ব্যতীত অন্যেরা কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও তো।[2] বরং সীমালংঘনকারীরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।



মুজিবুর রহমান: এটা আল্লাহর সৃষ্টি! তিনি ছাড়া অন্যরা কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও। সীমালংঘনকারীরাতো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।



ফযলুর রহমান: এটা আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি ব্যতীত অন্যরা কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে তা দেখাও তো। জালেমরা বরং স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যেই নিপতিত (রয়েছে)।



মুহিউদ্দিন খান: এটা আল্লাহর সৃষ্টি; অতঃপর তিনি ব্যতীত অন্যেরা যা সৃষ্টি করেছে, তা আমাকে দেখাও। বরং জালেমরা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত আছে।



জহুরুল হক: এইসব আল্লাহ্‌র সৃষ্টি! সুতরাং আমাকে দেখাও তো কী সৃষ্টি করতে পেরেছে তিনি ব্যতীত অন্যেরা। বস্তুত অন্যায়কারীরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।



Sahih International: This is the creation of Allah. So show Me what those other than Him have created. Rather, the wrongdoers are in clear error.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১. এটা আল্লাহর সৃষ্টি! সুতরাং তিনি ছাড়া অন্যরা কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও। বরং যালিমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ যখন এরা এ বিশ্ব-জাহানে আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোন সৃষ্টি চিহ্নিত করতে পারেনি এবং একথা সুস্পষ্ট যে, তারা তা করতে পারে না তখন তাদের যারা স্রষ্টা নয় এমন সত্ত্বকে আল্লাহর একচ্ছত্র ও সার্বভৌম কর্তৃত্বে শরীক করা, তাদের সামনে আনুগত্যের শিরা নত করা এবং তাদের কাছে প্রার্থনা করা ও অভাব মোচন করার জন্য আবেদন জানানোকে সুস্পষ্ট নিৰ্বদ্ধিতা ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে?


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১১) এ আল্লাহর সৃষ্টি![1] তিনি ব্যতীত অন্যেরা কি সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও তো।[2] বরং সীমালংঘনকারীরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।


তাফসীর:

[1] هٰذَا (এ) শব্দ দ্বারা আল্লাহর ঐ সকল সৃষ্টিকৃত বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যার উল্লেখ পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে রয়েছে।

[2] যাদের তোমরা ইবাদত কর এবং সাহায্যের জন্য যাদেরকে ডেকে থাকো তারা আকাশ ও পৃথিবীর কোন্ বস্তুটি সৃজন করেছে? তাদের সৃজনকৃত একটি বস্তুও দেখাও তো। অতএব যখন সকল বস্তুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তাআলা, তখন ইবাদতের একমাত্র অধিকারীও তিনিই। তিনি ছাড়া বিশ্বজগতে আর এমন কেউ নেই, যে ইবাদতের যোগ্য হতে পারে এবং তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা যেতে পারে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর:



প্রথমত মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কুদরতের বর্ণনা দিয়ে বলেন: তিনি আকাশমণ্ডলী নির্মাণ করেছেন খুঁটি ছাড়া যা তোমরা স্বচক্ষে দেখতে পারছ। এ সম্পর্কে সূরা রাদের ২ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পবর্তমালা যাতে সৃষ্টিজীবকে নিয়ে ঢলে না পড়ে। এ সম্পর্কেও সূরা নাহলের ১৫ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তিনিই পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জীবজন্তু। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمِنْ اٰيٰتِه۪ خَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَثَّ فِيْهِمَا مِنْ دَا۬بَّةٍ ط وَهُوَ عَلٰي جَمْعِهِمْ إِذَا يَشَا۬ءُ قَدِيْرٌ)



“তাঁর মহা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হল আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এতদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো; তিনি যখন ইচ্ছা তখনই তাদেরকে সমবেত করতে সক্ষম।” (সূরা শূরা ৪২:৯২) এবং একমাত্র তিনিই আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং সেই বৃষ্টির পানি দ্বারা জমিন হতে সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদ উৎপন্ন করেন। যেমনটি আলোচনা করা হয়েছে সূরা নাহলের ১০ ও ১১ নং আয়াতে।



এ পৃথিবীতে মানুষ, জীন, গরু-ছাগল, উট, গাছ-পালাসহ যত প্রকার সৃষ্টি রয়েছে সবকিছুই একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করেছেন, অন্য কেউ নয়। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার ১৬৪ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



এসব সৃষ্টি ও নেয়ামত দেয়ার পর আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদের লক্ষ্য করে বলেছেন: এ সব আমি সৃষ্টি করেছি, তোমাদের অংশীরা কিছু সৃষ্টি করে থাকলে তা দেখাও?



মূলত তারা কিছুই সৃষ্টি করেনি, কারণ তারা সে ক্ষমতা রাখে না। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَاتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِه۪ٓ اٰلِهَةً لَّا يَخْلُقُوْنَ شَيْئًا وَّهُمْ يُخْلَقُوْنَ وَلَا يَمْلِكُوْنَ لِأَنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَّلَا نَفْعًا وَّلَا يَمْلِكُوْنَ مَوْتًا وَّلَا حَيٰوةً وَّلَا نُشُوْرًا‏)‏



“আর তারা তাঁর পরিবর্তে মা‘বূদরূপে গ্রহণ করেছে অন্যদেরকে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং তারা নিজেদের অপকার অথবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না এবং মৃত্যু, জীবন ও পুরুত্থানের ওপরও কোন ক্ষমতা রাখে না।” (সূরা ফুরকান ২৫:৩)



সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যের ইবাদত করে তারা কোন ক্ষমতাই রাখে না। তাহলে তারা কিভাবে ইবাদত পেতে পারে? তাই আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদত করা নিতান্তই স্পষ্ট বিভ্রান্তি। অতএব সর্বপ্রকার শিরক থেকে বিরত থাকা একান্ত জরুরী।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, অন্য কেউ নয়।

২. আল্লাহ তা‘আলার সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না।

৩. পর্বতমালা না থাকলে পৃথিবী নড়াচড়া করত, ফলে তখন তাতে বসবাস করা সম্ভব হত না।

৪. সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই, তাই সকল ইবাদত পাওয়ার হকদার তিনিই।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা এখানে স্বীয় ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন। যমীন, আসমান ও সমগ্র সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা তিনিই। আসমানকে তিনি কোন স্তম্ভ ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন এবং উচ্চে স্থাপন করে রেখেছেন। আসলে আকাশের কোন স্তম্ভই নেই, যদিও মুজাহিদ (রঃ) বলেছেন যে, স্তম্ভ মানুষ দেখতে পায় না। এ প্রশ্নের পূর্ণ বিবরণ সূরায়ে রাআ’দের তাফসীরে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন।

ধরাধামকে দৃঢ় করার জন্যে ও নড়াচড়া করা হতে বাঁচাবার জন্যে তিনি এর উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছেন যাতে মানুষ ভূমিকম্প ও ঝাঁকুনি হতে রক্ষা পায়। তিনি এতো বেশী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নানা প্রকার জীব-জন্তু সৃষ্টি করেছেন যেগুলোর সংখ্যা নিরূপণ কেউই করতে পারে না।

তিনি যে একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা তা বর্ণনা করার পর তিনিই যে আহার্যদাতা তার বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনিই আসমান হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং এর মাধ্যমে জমি হতে সর্বপ্রকারের কল্যাণকর উদ্ভিদ তিনি উদাত করে থাকেন। এগুলো দেখতেও সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু এবং খেলে কোন ক্ষতিও হয় না, বরং উপকার হয়। শাবী (রঃ) বলেছেন যে, যমীনের সৃষ্টের মধ্যে মানুষও একটি সৃষ্টি। জান্নাতীরা সম্মানিত এবং জাহান্নামীরা হীন ও নিন্দনীয়।

এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার এই সমুদয় সৃষ্টি তো তোমাদের চোখের সামনে রয়েছে। এখন তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে পূজনীয় মেনে নিয়েছে এবং পূজা করতে রয়েছে তাদের সৃষ্টবস্তু কোথায়? তারা যখন সৃষ্টিকর্তা নয় তখন তারা পূজনীয়ও হতে পারে না। সুতরাং তাদের উপাসনা করা চরম অন্যায় ও অবিচার নয় কি? প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সাথে শিকারীদের অপেক্ষা বড় অন্ধ, বধির, অজ্ঞান এবং নির্বোধ আর কে আছে?





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।