আল কুরআন


সূরা লুকমান (আয়াত: 1)

সূরা লুকমান (আয়াত: 1)



হরকত ছাড়া:

الم ﴿١﴾




হরকত সহ:

الٓـمّٓ ۚ﴿۱﴾




উচ্চারণ: আলিফ লাম মীম।




আল বায়ান: আলিফ- লাম -মীম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১. আলিফ-লাম-মীম;




তাইসীরুল ক্বুরআন: আলিফ-লাম-মীম।




আহসানুল বায়ান: (১) আলিফ, লাম, মীম ; [1]



মুজিবুর রহমান: আলিফ লাম মীম



ফযলুর রহমান: আলিফ লাম মীম [পবিত্র কোরআনে কোন কোন সূরার শুরুতে শব্দসংক্ষেপের আদলে সন্নিবেশিত এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন হরফমালার প্রকৃত তাৎপর্য আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না]।



মুহিউদ্দিন খান: আলিফ-লাম-মীম।



জহুরুল হক: আলিফ, লাম, মীম।



Sahih International: Alif, Lam, Meem.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১. আলিফ-লাম-মীম;


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১) আলিফ, লাম, মীম ; [1]


তাফসীর:

[1] এই সূরার শুরুতেও ‘হরূফে মুক্বাত্ত্বাআত’ (বিচ্ছিন্ন অক্ষরমালা) আছে। যার অর্থ আল্লাহ ছাড়া কেউ অবগত নয়। এর পরেও কোন কোন মুফাস্সির এর দুটো বড় গুরুত্বপূর্ণ যৌক্তিকতা বর্ণনা করেছেন। প্রথম এই যে, এই কুরআন এই শ্রেণীরই বিচ্ছিন্ন অক্ষরমালা দ্বারা সুবিন্যস্ত ও লিপিবদ্ধ, যার অনুরূপ কোন লিপি পেশ করতে আরববাসীরা অসমর্থ হয়েছে। সুতরাং এ কথা প্রমাণ দেয় যে, এই কুরআন আল্লাহরই অবতীর্ণ করা একটি গ্রন্থ এবং যার প্রতি তা অবতীর্ণ করা হয়েছে তিনি সত্যই রসূল। তিনি যে শরীয়ত নিয়ে এসেছেন মানুষ তার মুখাপেক্ষী এবং মানুষের পরিশুদ্ধি ও সৌভাগ্যের পরিপূর্ণতা একমাত্র এই শরীয়ত দ্বারাই সম্ভব।  দ্বিতীয় এই যে, কাফেররা নিজেদের সাথীদেরকে এই  কুরআন শ্রবণ করা থেকে বিরত রাখত এই ভয়ে যে, তারা তা শ্রবণ করে প্রভাবিত হয়ে মুসলমান হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন সূরা বিচ্ছিন্ন  অক্ষরমালা  দ্বারা আরম্ভ  করেছেন, যাতে  তারা তা শ্রবণ করতে বাধ্য হয়। কারণ এই বর্ণনা-ভঙ্গি অভিনব ও নতুন ছিল। (আইসারুত তাফাসীর) আর আল্লাহই অধিক জানেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: নামকরণ:



এ সূরাতে লুকমান (عليه السلام) সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবৃত হয়েছে বিধায় এ নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া লুকমান (لقمان) শব্দটি এ সূরায় উল্লেখ রয়েছে। লুকমান (عليه السلام) নাবী ছিলেন, না সৎ বান্দা ছিলেনন সে সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসছে।



সূরার শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে মহা গ্রন্থ আল কুরআন তাদের জন্য হিদায়াত যারা মুহসিন, অতঃপর মুহসিনের পরিচয়, যারা অসার কথা ও গান-বাজনা ইত্যাদি নিয়ে মগ্ন থাকে তাদের অবস্থা এবং আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়্যাহ সম্পর্কে, তারপর আল্লাহ তা‘আলার নেক বান্দা লুকমান (عليه السلام) তাঁর ছেলেকে উপদেশ প্রদান করেছেন তা নিয়ে এসেছেন, একশ্রেণির মানুষ রয়েছে যারা ওয়াহীর অনুসরণ বাদ দিয়ে বাপ-দাদার ভ্রান্ত তরীকা অনুসরণ করে তাদের কথা, বান্দার প্রতি আল্লাহ তা‘আলার কয়েকটি নেয়ামতের কথা এবং সবশেষে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করার নির্দেশ দিয়ে গায়েবের চাবিকাঠি যে একমাত্র তাঁর কাছে সে সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন।



১-৫ নং আয়াতের তাফসীর:



الم (আলিফ-লাম-মীম) এ জাতীয় “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষর সম্পর্কে সূরা বাকারার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যারা সৎ আমল করে তথা সালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে এ সকল লোকদের জন্য কুরআন হল হিদায়াত ও রহমতস্বরূপ। আর তারাই হল মুহসিন বা সৎ কর্মপরায়ণ।



محسن- এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। প্রথম অর্থ হল, পিতা-মাতা, আত্মীয়, হকদার ও অভাবীদের সাথে সদ্ব্যবহারকারী। দ্বিতীয় অর্থ হলন সৎ কর্মপরায়ণ, অর্থাৎ অসৎ কর্ম থেকে দূরে থেকে সৎ কর্ম সম্পাদনকারী। তৃতীয় অর্থ হল, আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে ভীত হয়ে ইখলাস ও একাগ্রতার সাথে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতকারী। যেমন হাদীসে জিবরীলে বলা হয়েছে, “ইহসান” হলন তুমি এমনভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত কর, যাতে মনে হয় যেন তুমি আল্লাহ তা‘আলাকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি তুমি তাঁকে না দেখতে পাও তাহলে জেনে রেখ, তিনি তোমাকে দেখছেন। (সহীহ বুখারী হা: ৫০, সহীহ মুসলিম হা: ৮)



আর এখানে কুরআনকে সৎ কর্ম পরায়ণদের জন্য হিদায়াত ও রহমত বলা হয়েছে, অথচ কুরআন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াত ও রহমতস্বরূপ। এভাবে বলার কারণ হল যেহেতেু সৎ কর্ম পরায়ণগণই কুরআন দ্বারা উপকৃত হয়ে থাকে তাই তাদের কথা বলা হয়েছে। এ সকল সৎ কর্মশীলরাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত, এরাই সফলকাম। এরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে।



এখানে সালাত ও যাকাতের সাথে বিশেষভাবে পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করার অন্যতম কারণ হল পরকালের প্রতি ঈমান না থাকলে কোন প্রকার সৎ আমল কবূল করা হবে না এবং তা ঈমানের অন্যতম একটি রুকন যা ছাড়া ঈমান সঠিক হবে না।



সুতরাং সফলতা অর্জনের প্রধান উপায় হল সঠিক ঈমান ও সৎআমল। ঈমান ও আমল ছাড়া কারো মাধমে পরকালে সফল হওয়া যাবে না। তাই আমাদেরকে সৎ আমলের প্রতি সচেষ্ট হওয়া উচিত, বিশেষ করে সালাত, সিয়াম, যাকাত ইত্যাদি।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যারা সৎ কর্মপরায়ণ তারা কুরআন থেকে উপকৃত হয়।

২. মু’মিনদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা সালাত আদায় করে, যাকাত প্রদান করে এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।

৩. পরকালের প্রতি ঈমান না থাকলে কোন প্রকার আমল কবূল করা হবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১-৫ নং আয়াতের তাফসীর

সূরায়ে বাকারার তাফসীরের প্রারম্ভেই হুরূফে মুকাত্তাআ’তের অর্থ ও মতলব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

যারা শরীয়তের পূর্ণ অনুসারী তাদের জন্যে এই কুরআন হিদায়াত, শিক্ষা ও রহমত স্বরূপ। যারা নামায কায়েম করার সময় নামাযের রু, সময় ইত্যাদির পূর্ণ হিফাযতের সাথে সাথে নফল, সুন্নাত ইত্যাদিও পূর্ণভাবে আদায় করে। যারা ফরয যাকাত আদায় করে, আত্মীয়দের প্রতি দয়া দাক্ষিণ্য করে ও তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করে, দানশীলতার কাজ নিষ্ঠার সাথে চালিয়ে যায় এবং আখিরাতের পুরস্কার ও শাস্তির প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখে বলে আল্লাহর দিকে পরিপূর্ণভাবে আকৃষ্ট হয়ে থাকে। যারা পুণ্যের কাজ করে যায় এবং মহান প্রতিপালকের পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি রাখে। যারা রিয়াকারী বা লোক দেখানো কাজ করে না এবং লোকদের প্রশংসাও চায় না। এ ধরনের গুণবিশিষ্ট লোকেরাই সঠিক পথ প্রাপ্ত এবং এরাই তারা যারা দ্বীন ও দুনিয়ায় হবে সফলকাম ও কৃতকার্য।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।