আল কুরআন


সূরা আর-রুম (আয়াত: 60)

সূরা আর-রুম (আয়াত: 60)



হরকত ছাড়া:

فاصبر إن وعد الله حق ولا يستخفنك الذين لا يوقنون ﴿٦٠﴾




হরকত সহ:

فَاصْبِرْ اِنَّ وَعْدَ اللّٰهِ حَقٌّ وَّ لَا یَسْتَخِفَّنَّکَ الَّذِیْنَ لَا یُوْقِنُوْنَ ﴿۶۰﴾




উচ্চারণ: ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়ালা-ইয়াছতাখিফফান্নাকাল্লাযীনা লা-ইঊকিনূন।




আল বায়ান: অতএব, তুমি সবর কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা হক। আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬০. অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।(১) আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়। তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: কাজেই তুমি ধৈর্য ধর, আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে না, তারা যেন তোমাকে উত্তেজিত না করতে পারে।




আহসানুল বায়ান: (৬০) অতএব তুমি ধৈর্য ধর,[1] নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন অবশ্যই তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।[2]



মুজিবুর রহমান: অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।



ফযলুর রহমান: অতএব, তুমি ধৈর্য ধর, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য; যারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে না তারা যেন তোমাকে (তোমার রিসালতের দায়িত্ব পালনে) নিরুদ্যম না করে।



মুহিউদ্দিন খান: অতএব, আপনি সবর করুন। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। যারা বিশ্বাসী নয়, তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।



জহুরুল হক: অতএব তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্‌র ওয়াদা ধ্রুব-সত্য। আর যারা দৃঢ়বিশ্বাস রাখে না তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।



Sahih International: So be patient. Indeed, the promise of Allah is truth. And let them not disquiet you who are not certain [in faith].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬০. অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।(১) আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়। তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।(২)


তাফসীর:

(১) সুতরাং আপনাকে যে কাজের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাতে ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতেও লেগে থাকুন, তাদের কাছ থেকে বিমুখ হওয়া দেখলেও তা যেন আপনাকে আপনার কাজ থেকে বিমুখ না করে। আর বিশ্বাস করুন যে, আল্লাহর ওয়াদা হক। এতে কোন সন্দেহ নেই। এটা বিশ্বাস থাকলে আপনার পক্ষে ধৈর্য ধারণ করা সহজ হবে। কারণ, বান্দা যখন জানতে পারে যে, তার কাজ নষ্ট হচ্ছে না, বরং সে সেটাকে পূর্ণমাত্রায় পাবে, তখন এ পথে যত কষ্টের মুখোমুখিই সে হোক না কেন, সে সেটাকে ভ্ৰক্ষেপ করবে না, কঠিন কাজও তার জন্য সহজ হয়ে যায়, বেশী কাজও তার কাছে অল্প মনে হয়, আর তার পক্ষে ধৈর্য ধারণ করা সহজ হয়ে যায়। [সা’দী]


(২) কারণ, তাদের ঈমান দুর্বল হয়ে গেছে, তাদের দৃঢ়তা কমে গেছে, তাই তাদের বিবেক হাল্কা হয়ে গেছে, তাদের সবর কমে গেছে। সুতরাং আপনি তাদের থেকে সাবধান থাকুন। আপনি যদি তাদের থেকে সাবধান না থাকেন, তবে তারা আপনাকে বিচলিত করে দিতে পারে, আপনাকে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের উপর থেকে সরিয়ে দিতে পারে। কারণ, সাধারণত মন চায় তাদের মত হতে। আয়াত থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, প্রত্যেক মুমিনই দৃঢ়বিশ্বাসী, স্থির বিবেকসম্পন্ন, তাই তার জন্য ধৈর্য ধারণ করা সহজ। পক্ষান্তরে প্রত্যেক দুর্বল বিশ্বাসী, অস্থিরমতি থাকে। [সা'দী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬০) অতএব তুমি ধৈর্য ধর,[1] নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন অবশ্যই তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।[2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তাদের বিরোধিতা ও শত্রুতা এবং তাদের কষ্টদায়ক কথার উপর ধৈর্য ধর। কারণ আল্লাহ তাআলা তোমাকে যে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা অবশ্যই সত্য এবং তা যেভাবেই হোক পূর্ণ হবে।

[2] অর্থাৎ, তোমাকে ক্রোধান্বিত করে ধৈর্য-সহ্য ত্যাগ করতে অথবা নমনীয়তা অবলম্বন করতে বাধ্য না করে ফেলে। বরং তুমি তোমার নিজ কর্তব্যে অবিচলিত থাকবে এবং তা হতে এতটুকুও বিচ্যুত হবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৮-৬০ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা এ কুরআনে প্রত্যেক প্রকারের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন যা আল্লাহ তা‘আলার একত্বের প্রমাণ বহন করে। তথাপি যারা কাফির, যারা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনে না তাদের সম্মুখে যত প্রকার দৃষ্টান্তই উপস্থাপন করা হোক না কেন তারা এগুলোকে জাদু ও মিথ্যা জিনিস বলে আখ্যায়িত করবে। মূলত যারা কাফির তাদের অবস্থাই এরূপ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَوْ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ كِتٰبًا فِيْ قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوْهُ بِأَيْدِيْهِمْ لَقَالَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ إِنْ هٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِيْنٌ)‏



“আমি যদি তোমার প্রতি কাগজে লিখিত কিতাবও নাযিল করতাম আর তারা যদি তা হাত দিয়ে স্পর্শ করত তবুও কাফিরগণ বলত, ‘এটা স্পষ্ট জাদু ব্যতীত কিছুই নয়।” (সূরা আন‘আম ৬:৭)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(إِنَّ الَّذِيْنَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَتُ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ وَلَوْ جَا۬ءَتْهُمْ كُلُّ اٰيَةٍ حَتّٰي يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيْمَ)



“নিশ্চয়ই যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রতিপালকের বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে, তারা ঈমান আনবে না, যদিও তাদের নিকট প্রত্যেকটি নিদর্শন আসে (তবুও তারা ঈমান আনবে না) যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।” (সূরা ইউনুস ১০:৯৭)



(يَطْبَعُ اللّٰهُ) অর্থাৎ তাদের অন্তরে এমন পর্দা দিয়ে দেন ফলে কল্যাণ তাদের অন্তরে প্রবেশ করে না, কোন জিনিসের প্রকৃত অবস্থা জানেনা, বরং সত্যকে মিথ্যা মনে করে আর মিথ্যাকে সত্য মনে করে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা সূরার সর্বশেষে তাঁর নির্দেশ পালনে এবং কাফিরদের কষ্টে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তাদের এ সকল কথাবার্তার ওপর ধৈর্যধারণ করতে এবং বিচলিত না হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। মু’মিনদেরকে উত্তম প্রতিদান ও কাফিরদেরকে উপযুক্ত শাস্তির যে প্রতিশ্র“তি আল্লাহ তা‘আলা দিয়েছেন তা নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং যারা পরকালে বিশ্বাসী নয়, তাদের কথায় মনঃক্ষুণœ হয়ে দীনের পথ থেকে সরে পড়ো না। বরং ধৈর্য ধর আল্লাহ তা‘আলা ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. দীনের পথে চলতে গিয়ে সকল বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

সূরা রূম-এর তাফসীর সমাপ্ত


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৮-৬০ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ সত্যকে আমি এই পাক কালামে পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি ও দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝিয়েছি যাতে সত্য তাদের কাছে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। আর যেন তারা তাঁর আনুগত্যে আত্মনিয়োগ করে। তাদের কাছে যে কোন মুজিযাই আসুক না কেন, সত্যের নিদর্শন তারা যতই দেখুক না কেন, কোন চিন্তা-ভাবনা না করেই তারা অবশ্যই বলবেঃ তোমরা তো মিথ্যাশ্রয়ী। এটা যাদু, বাতিল ও মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যাদের উপর তোমার প্রতিপালকের কথা বাস্তবায়িত হয়েছে তারা সমস্ত নিদর্শন দেখলেও ঈমান আনয়ন করবে না যে পর্যন্ত না তারা বেদনাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।” (১০:৯৬-৯৭)

তাই এখানে মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যাদের জ্ঞান নেই আল্লাহ এইভাবে তাদের অন্তরে মোহর করে দেন। হে নবী (সঃ)! তুমি তাদের বিরুদ্ধাচরণ ও শত্রুতার উপর ধৈর্যধারণ কর। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। অবশ্যই তিনি একদিন তোমাকে তাদের উপর জয়যুক্ত করবেন এবং তোমাকে সাহায্য করবেন। দুনিয়া ও আখিরাতে তিনি তোমাকে ও তোমার অনুসারীদেরকে বিরুদ্ধাচরণকারীদের উপর বিজয় দান করবেন। তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও, কাজের উপর দৃঢ় থাকো। তোমার কাজ হতে এক ইঞ্চি পরিমাণও এদিক-ওদিক হয়ো না। এরই মধ্যে সমস্ত হিদায়াত লুক্কায়িত আছে, বাকীগুলো সবই বাতিলের। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, একদা হযরত আলী (রাঃ) ফজরের নামায পড়ছিলেন এমন সময় একজন খারেজী তার নাম ধরে নিম্নের আয়াতটি পাঠ করেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমার কাছে এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছে অহী করা হয়েছে যে, যদি তুমি শিরক কর তবে অবশ্যই তোমার আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (৩৯:৬৫)

এটা শুনে হযরত আলী (রাঃ) নীরব হলেন এবং সে যা বললো তা বুঝলেন অতঃপর নামাযের মধ্যেই তিনি জবাবে (আরবি)-এই আয়াতটিই তিলাওয়াত করলেন। অর্থাৎ “তুমি ধৈর্যধারণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে।” (এটা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) ও ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর ইসনাদও সুন্দর এবং মতনও উত্তম)

এই পবিত্র সূরাটির ফযীলত এবং ফজরের নামাযে এটা পড়া মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নে দেয়া হল :

নবী (সঃ)-এর সহাবীদের এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়ছিলেন। এই নামাযে তিনি এই সূরায়ে রূম তিলাওয়াত করেন। ইত্যবসরে কিরআতে তাঁর মনে সংশয় সৃষ্টি হয়। নামায শেষে তিনি সাহাবীদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে এমনও কতকগুলো লোক আমাদের সাথে নামাযে শামিল হয়ে যায় যারা ভালভাবেও নিয়মিত অযু করে না। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা নামাযে দাঁড়াবে তারা যেন উত্তমরূপে অযু করে নেয়।

এই হাদীসটি দ্বারা একটি বিস্ময়কর রহস্য উদঘাটিত হলো এবং একটি বড় খবর এই পাওয়া গেল যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মুক্তাদীদের অযু সম্পূর্ণরূপে ঠিক হওয়ার ক্রিয়া বা প্রভাব তার উপরও পড়েছিল। সুতরাং এটা প্রমাণিত হলো যে, ইমামের নামাযের সাথে মুক্তাদীদের নামাযও মুআল্লাক বা দোদুল্যমান।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।