সূরা আর-রুম (আয়াত: 53)
হরকত ছাড়া:
وما أنت بهادي العمي عن ضلالتهم إن تسمع إلا من يؤمن بآياتنا فهم مسلمون ﴿٥٣﴾
হরকত সহ:
وَ مَاۤ اَنْتَ بِهٰدِ الْعُمْیِ عَنْ ضَلٰلَتِهِمْ ؕ اِنْ تُسْمِعُ اِلَّا مَنْ یُّؤْمِنُ بِاٰیٰتِنَا فَهُمْ مُّسْلِمُوْنَ ﴿۵۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া মাআনতা বিহা-দিল ‘উময়ি ‘আন দালা-লাতিহিম ইন তুছমি‘উ ইল্লা-মাইঁ ইউ’মিনু বিআ-য়া-তিনা-ফাহুম মুছলিমূন।
আল বায়ান: আর তুমি অন্ধদেরকেও তাদের ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াতে আনতে পারবে না, তুমি শুধু তাদেরই শুনাতে পারবে যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, কারণ তারা আত্মসমর্পনকারী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৩. আর আপনি অন্ধদেরকেও পথে আনতে পারবেন না তাদের পথভ্ৰষ্টতা থেকে। যারা আমাদের আয়াতসমূহে ঈমান রাখে শুধু তাদেরকেই আপনি শুনাতে পারবেন; কারণ তারা আত্মসমর্পণকারী।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তুমি অন্ধদেরকেও তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরিয়ে পথে আনতে পারবে না। যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে তুমি কেবল তাদেরকেই শুনাতে পারবে, কারণ তারা (আল্লাহর প্রতি) আত্মসমর্পণকারী।
আহসানুল বায়ান: (৫৩) আর অন্ধকেও ওদের পথভ্রষ্টতা হতে পথে আনতে পারবে না।[1] যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে, শুধু তাদেরকেই তোমার কথা শোনাতে পারবে,[2] কারণ তারা আত্মসমর্পণকারী। [3]
মুজিবুর রহমান: আর তুমি অন্ধকেও ফিরিয়ে আনতে পারবে না তাদের পথভ্রষ্টতা হতে। যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে শুধু তাদেরকেই তুমি শোনাতে পারবে, কারণ তারা আত্মসমর্পনকারী।
ফযলুর রহমান: তুমি অন্ধদেরকেও তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে পথে আনতে পারবে না। তুমি কেবল তাদেরকেই (আহবান) শোনাতে পারবে যারা আমার নিদর্শনসমূহ বিশ্বাস করে, কারণ তারা (আমার) অনুগত।
মুহিউদ্দিন খান: আপনি অন্ধদেরও তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে পথ দেখাতে পারবেন না। আপনি কেবল তাদেরই শোনাতে পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে। কারন তারা মুসলমান।
জহুরুল হক: আর তুমি অন্ধদেরও তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে পথপ্রদর্শক হতে পারবে না। তুমি তো শোনাতে পার শুধু তাকে যে আমাদের বাণীসমূহে বিশ্বাস করে, ফলে তারা মুসলিম হয়।
Sahih International: And you cannot guide the blind away from their error. You will only make hear those who believe in Our verses so they are Muslims [in submission to Allah].
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৩. আর আপনি অন্ধদেরকেও পথে আনতে পারবেন না তাদের পথভ্ৰষ্টতা থেকে। যারা আমাদের আয়াতসমূহে ঈমান রাখে শুধু তাদেরকেই আপনি শুনাতে পারবেন; কারণ তারা আত্মসমর্পণকারী।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৩) আর অন্ধকেও ওদের পথভ্রষ্টতা হতে পথে আনতে পারবে না।[1] যারা আমার নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে, শুধু তাদেরকেই তোমার কথা শোনাতে পারবে,[2] কারণ তারা আত্মসমর্পণকারী। [3]
তাফসীর:
[1] এই জন্য যে, তারা চক্ষু দ্বারা যথাযথ উপকারিতা অর্জন অথবা অন্তর্দৃষ্টির দর্শন থেকে বঞ্চিত। তারা ভ্রষ্টতার যে ঘূর্ণিপাকে নিমজ্জিত, তা হতে কিভাবে বের হবে?
[2] অর্থাৎ, এরা শ্রবণ করা মাত্র ঈমান আনয়ন করে। কারণ এরা হল চিন্তাশীল ব্যক্তি; এরা অসীম ক্ষমতার প্রভাব দেখে প্রকৃত প্রভাবশালীর পরিচয় অর্জন করতে পারে।
[3] অর্থাৎ, হকের কাছে আত্মসমর্পণ করে, ন্যায়কে স্বীকার করে নেয় এবং তা মেনে চলে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫২-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সূরা নামলের ৮০-৮১ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫২-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! কবরের মৃত ব্যক্তিদেরকে কিছু শুনানো তোমার সাধ্যের অতীত। মৃত ব্যক্তি, যারা কবরে আছে, তাদেরকে তোমার কথা শুনানো যেমন অসম্ভব, তেমনিই কানে যারা বধির, যারা শুনেও শুনে না, যারা তোমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাদেরকেও তুমি তোমার কথা শুনাতে পারবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি হক হতে অন্ধ হয়ে গেছে তাকে তুমি পথ দেখাতে ও হিদায়াত করতে পারবে না। হ্যা, আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম। যদি তিনি চান তবে মৃতকে জীবিতদের কথা শুনাতে পারেন। সুপথ দেখানো ও পথভ্রষ্ট করা তাঁরই কাজ। তুমি তো শুধু তাকেই শুনাতে পার যে ঈমানের নিকটবর্তী, আল্লাহর কাছে নতশির হতে প্রস্তুত ও তাঁর ফরমাবরদার বা বাধ্য। এরা হক কথা শুনে এবং মানে। এগুলো তো হলো মুসলমানদের অবস্থা। আর পূর্বে যেগুলোর বর্ণনা দেয়া হলো সেগুলো কাফিরদের অবস্থা। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “তারাই আহ্বানে সাড়া দেবে যারা কান লাগিয়ে (আল্লাহর কালাম) শুনে এবং মৃতদেরকে আল্লাহ পুনরুজ্জীবিত করবেন, অতঃপর তারই নিকট তারা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (৬:৩৬)
একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, বদরের যুদ্ধে যেসব মুশরিক মুসলমানদের হাতে নিহত হয়েছিল এবং যাদেরকে বদরের উপত্যকায় নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তাদের মৃত্যুর তিন দিন পরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন তাদেরকে সম্বোধন করে ধমকের সুরে লজ্জিত করছিলেন তখন হযরত উমার (রাঃ) তাঁর নিকট আর করেছিলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যারা মরে গেছে তাদেরকে আপনার এভাবে সম্বোধন করার কারণ কি (তারা কি শুনতে পাচ্ছে)?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছিলেনঃ “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর কসম! আমি তাদেরকে যা বলছি তা তোমরা ততোটা শুনতে পাও না যতোটা তারা শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু তারা উত্তর দিতে পারছে না।হযরত আয়েশা (রাঃ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর মুখে এ ঘটনা শুনে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এরূপ বলেছিলেনঃ “তারা এখন খুব ভালরূপেই জানছে যে, আমি তাদেরকে যা কিছু বলতাম সবই সত্য ছিল।” অতঃপর হযরত আয়েশা (রাঃ) মৃত ব্যক্তিদের শুনতে পাওয়ার দলীল -(আরবি)-এই আয়াত দ্বারা গ্রহণ করেছেন। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে জীবিত করে দিয়েছিলেন। ফলে তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কথা শুনতে পেয়েছিল, যেন তারা যথেষ্ট লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)-এর এ হাদীসকে সবাই সহীহ বলেছেন। কারণ এ হাদীসের বহু সাক্ষী রয়েছেন। ইবনে আবদিল বার (রঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে মারফু’রূপে একটি সহীহ রিওয়াইয়াত উল্লেখ করেছেন যে, যখন কোন লোক তার ভাই-এর কবরের পার্শ্ব দিয়ে গমন করে যাকে সে দুনিয়ায় চিনতো ও সালাম করতো, তখন আল্লাহ তা'অলা তার রূহকে ফিরিয়ে দেন, যেন সে তার সালামের উত্তর দিতে পারে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।