আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 95)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 95)



হরকত ছাড়া:

ولن يتمنوه أبدا بما قدمت أيديهم والله عليم بالظالمين ﴿٩٥﴾




হরকত সহ:

وَ لَنْ یَّتَمَنَّوْهُ اَبَدًۢا بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْهِمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالظّٰلِمِیْنَ ﴿۹۵﴾




উচ্চারণ: ওয়া লাইঁ ইয়াতামান্নাওহু আবাদাম বিমা- কাদ্দামাত আইদীহিম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিজ্জা-লিমীন।




আল বায়ান: আর তারা কখনো তা কামনা করবে না, তাদের হাত যা পাঠিয়েছে তার কারণে। আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৫. কিন্তু তাদের কৃতকর্মের কারণে তারা কখনো তা কামনা করবে না। আর আল্লাহ যালিমদের সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞানী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্য তারা কক্ষনো তা কামনা করবে না এবং আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে খুবই অবহিত।




আহসানুল বায়ান: ৯৫। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য কখনো তা (মৃত্যু) কামনা করবে না। [1] আর আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের সম্বন্ধে অবহিত।



মুজিবুর রহমান: এবং তাদের হস্তসমূহ পূর্বে যা প্রেরণ করেছে তজ্জন্য তারা কখনই তা কামনা করবেনা এবং আল্লাহ অত্যাচারীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবগত আছেন।



ফযলুর রহমান: কিন্তু তাদের কৃতকর্মের কারণে তারা তা কখনো কামনা করবে না। আল্লাহ এই জালেমদের কথা ভাল করে জানেন।



মুহিউদ্দিন খান: কস্মিনকালেও তারা মৃত্যু কামনা করবে না ঐসব গোনাহর কারণে, যা তাদের হাত পাঠিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।



জহুরুল হক: কিন্তু তারা কখনো তা চাইবে না তাদের দুই হাত যা পাঠিয়েছে। আর আল্লাহ্ অন্যায়কারীদের সম্পর্কে সর্বজ্ঞাতা।



Sahih International: But they will never wish for it, ever, because of what their hands have put forth. And Allah is Knowing of the wrongdoers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯৫. কিন্তু তাদের কৃতকর্মের কারণে তারা কখনো তা কামনা করবে না। আর আল্লাহ যালিমদের সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞানী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ৯৫। কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য কখনো তা (মৃত্যু) কামনা করবে না। [1] আর আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের সম্বন্ধে অবহিত।


তাফসীর:

[1] ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর তফসীর করেছেনঃ মুবাহালা'র প্রতি আহবান। অর্থাৎ, ইয়াহুদীদেরকে বলা হল, যদি তোমরা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নবুঅতের অস্বীকৃতিতে এবং আল্লাহর সাথে ভালবাসার দাবীতে সত্যবাদী হও, তাহলে 'মুবাহালা' কর। অর্থাৎ, মুসলিম ও ইয়াহুদী উভয়ে মিলে আল্লাহর সমীপে এই দরখাস্ত পেশ কর যে, হে আল্লাহ! উভয়ের মধ্যে যে মিথ্যুক, তাকে মৃত্যু দান কর। সূরা জুমুআহ (৭নং আয়াতে)-তেও এই আহবান তাদেরকে করা হয়েছে। নাজরানের খ্রিষ্টানদেরকেও মুবাহালা'র দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। যেমন, সূরা আলে-ইমরানে তা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু খ্রিষ্টানদের মত ইয়াহুদীরাও যেহেতু তাদের দাবীতে মিথ্যাবাদী ছিল, সেহেতু খ্রিষ্টানদের মতই ইয়াহুদীদের ব্যাপারেও মহান আল্লাহ বললেন, এরা কখনো মৃত্যু কামনা (মুবাহালা) করবে না। হাফেয ইবনে কাসীর এই ব্যাখ্যাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। (তাফসীর ইবনে কাসীর)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯৩-৯৬ নং আয়াতের তাফসীর:



যখন তাদেরকে তাওরাত শক্তভাবে ধারণ করার নির্দেশ প্রদান করা হল তখন তারা বলল: আমরা তোমার কথা শ্রবণ করলাম এবং তা অমান্য করলাম। মূলত গো-বৎসের ভালবাসা তাদের অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে গেছে বলেই তাদের জবাব এরূপ ছিল।



এ আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীর ৬৩ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।



আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐসব ইয়াহূদীদেরকে বলেন: তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এস, আমরা ও তোমরা মিলিত হয়ে আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের দু’দলের মধ্যে যারা মিথ্যাবাদী তাদেরকে ধ্বংস করেন। এরূপ সত্য প্রমাণে ধ্বংসের দু‘আ করাকে মুবাহালা বলা হয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানানো হয় যে, তারা কখনো এতে সম্মত হবে না। অবশেষে তা-ই হলো। তারা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আসল না। কারণ তারা আন্তরিকভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে ও কুরআন মাজীদকে সত্য বলে জানত। যদি তারা এ ঘোষণা অনুযায়ী মোবাহালায় আসত তাহলে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যেত এবং দুনিয়ার বুকে একটি ইয়াহূদীও অবশিষ্ট থাকত না।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যদি ইয়াহূদীরা মুবাহালায় আসত এবং মিথ্যাবাদীদের জন্য ধ্বংসের প্রার্থনা করত তবে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যেত এবং তারা জাহান্নামে নিজ নিজ জায়গা দেখে নিত। (মুসনাদ আহমাদ ১/২৪৮, মুসনাদ আবূ ইয়ালা ৪/৪৭,১ বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)



অনুরূপভাবে যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসেছিল, তারা যদি মুবাহালার জন্য প্রস্তুত হত তবে তারা ফিরে গিয়ে তাদের পরিবারবর্গ এবং ধন-সম্পদের নাম-নিশানাও দেখতে পেত না। (মুসনাদ আহমাদ হা: ২২২৫, সনদ সহীহ)



ইয়াহূদীদের বিশেষ দাবি ছিল যে, তারা বলত:



(نَحْنُ أَبْنَا۬ءُ اللّٰهِ وَأَحِبَّاؤُه۫)



‘আমরা আল্লাহর পুত্র ও তার প্রিয়পাত্র।’(সূরা মায়িদাহ ৫:১৮) তারা আরো বলত:



(لَنْ يَّدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُودًا أَوْ نَصَارٰي)



“যারা ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান হয়েছে তারা ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (সূরা বাকারাহ ২:১১১) এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা বলেন, বাস্তবে যদি তাই হয়ে থাক তবে তোমরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে মৃত্যু কামনা কর। কিন্তু তারা কখনো তাদের কৃতকর্মের জন্য মৃত্যু কামনা করবে না।



এরূপ আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(قُلْ یٰٓاَیُّھَا الَّذِیْنَ ھَادُوْٓا اِنْ زَعَمْتُمْ اَنَّکُمْ اَوْلِیَا۬ئُ لِلہِ مِنْ دُوْنِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَﭕ وَلَا یَتَمَنَّوْنَھ۫ٓ اَبَدًۭا بِمَا قَدَّمَتْ اَیْدِیْھِمْﺚ وَاللہُ عَلِیْمٌۭ بِالظّٰلِمِیْنَ)



“বলঃ হে ইয়াহূদীগণ! যদি তোমরা মনে কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, অন্য কোন মানুষ নয়; তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও। কিন্তু তারা তাদের হস্ত যা পূর্বে প্রেরণ করেছে তার কারণে কখনো মৃত্যু কামনা করবে না। আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।”(সূরা জুমু‘আহ ৬২: ৬-৭) সুতরাং তারাই আল্লাহ তা‘আলার প্রিয়পাত্র, একমাত্র তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এসব তাদের মুখের দাবিমাত্র, যার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা চায় দুনিয়াতে হাজার হাজার বছর বা বহুদিন জীবিত থাকতে। কিন্তু তাদের এ দীর্ঘায়ু আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি থেকে কিছুতেই রক্ষা করতে পারবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলার কাছে একদিন ফিরে যেতে হবেই।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইসলাম আসার পর ইয়াহূদীদের ধর্ম বাতিল, একমাত্র ইসলাম ধর্মই সঠিক যা ইয়াহূদীদেরকে মুবাহালার দিকে আহ্বান করে আরো সুস্পষ্ট হয়ে গেল।

২. বাতিল পন্থীরা যদি হকের বিরুদ্ধে মুবাহালা করতে চায় তাহলে ইসলামে তা অনুমতি রয়েছে।

৩. পৃথিবীতে সবচেয়ে দীর্ঘায়ু লিপ্সু হচ্ছে ইয়াহূদী জাতি।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯৪-৯৬ নং আয়াতের তাফসীর

হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ সব ইয়াহূদীকে বলেনঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসো, আমরা ও তোমরা মিলিত হয়ে আল্লাহর কিট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন, আমাদের দুই দলের মধ্যে যারা মিথ্যাবাদী তাদেরকে ধ্বংস করেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই ভবিষ্যদ্বাণী হয় যে, তারা কখনও এতে সম্মত হবে না। আর হলেও তাই। তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসলো না। কারণ তারা অন্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ)কে ও কুরআন মজীদকে সত্য বলে জানতো। যদি তারা এ ঘোষণা অনুযায়ী মুকাবিলায় আসতো তবে তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যেতো এবং দুনিয়ার বুকে একটি ইয়াহূদীও অবশিষ্ট থাকতো না।

একটি মারফু হাদীসেও রয়েছে যে, যদি ইয়াহুদীরা মুকাবিলায় আসততা এবং মিথ্যাবাদীদের জন্যে মৃত্যুর প্রার্থনা জানাতো তবে তারা সবাই মরে যেতে এবং নিজ নিজ জায়গা তারা দোযখে দেখে নিতো।

অনুরূপভাবে খ্রীষ্টানরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এসেছিল, তারা যদি মুবাহালার জন্যে প্রস্তুত হতো তবে তারা ফিরে গিয়ে তাদের পরিবারবর্গের এবং ধনসম্পদের নাম নিশানাও দেখতে পেতো না। (মুসনাদ-ই-আহমাদ)। তাদের দাবী ছিল যে, (আরবি) অর্থাৎ আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়। (৫:১৮) তারা বলতোঃ (আরবি) অথাৎ ইয়াহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছাড়া কেউ কখনও বেহেশতে প্রবেশ করবে না।' (২:১১১) এ জন্যেই রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে (ইয়াহূদীদেরকে) বলেনঃ ‘এসো এর ফয়সালা আমরা এভাবে করি যে, আমরা দুটো দল মাঠে বেরিয়ে যাই। অতঃপর আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা জানাই যে, তিনি যেন আমাদের মধ্যকার মিথ্যাবাদী দলকে ধ্বংস করে দেন। কিন্তু এ দলটির নিজেদের মিথ্যাবাদীতা সম্পর্কে পূর্ণ বিশ্বাস ছিল বলে তারা এর জন্যে প্রস্তুত হলো না। সুতরাং তাদের মিথ্যা প্রকাশ পেয়ে গেল।

অনুরূপভাবে নাজরানের খ্রীষ্টানেরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করে। বহু তর্ক বিতর্কের পর তাদেরকেও বলা হয়ঃ ‘এসো, আমরা নিজ নিজ সন্তান সন্ততি, স্ত্রীলোক ও নিজেরা বেরিয়ে যাই, অতঃপর আল্লাহর নিকট প্রার্থনা জানাই যে, তিনি যেন মিথ্যাবাদীদের উপর তার লা'নত নাযিল করেন। কিন্তু তারা পরস্পর বলতে থাকে-এ নবীর সঙ্গে কখনও মুকাবিলা করো না, নতুবা এখনই ধ্বংস হয়ে যাবে। সুতরাং তারা মুকাবিলা হতে বিরত হয় এবং জিযিয়া কর দিতে রাযী হয়ে সন্ধি করে নেয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আবু উবাইদাহ বিন জাররাহকে (রাঃ)আমীর করে তাদের সাথে পাঠিয়ে দেন।

এভাবেই আরবের মুশরিকদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যে ভ্রান্ত পথে রয়েছে, আল্লাহ তার ভ্রান্তি বাড়িয়ে দেন। এর পূর্ণ ব্যাখ্যা এ আয়াতের তাফসীরে ইনশাআল্লাহ বর্ণিত হবে। উপরের আয়াতটির তাফসীরে একটি মত এও আছে যে, যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা নিজেদের জন্যে মৃত যা কর-কেননা, তোমাদের কথা অনুসারে পরকালের সুখ সয়োগ তো শুধু তোমাদের জন্যেই।' তখন তারা তা অস্বীকার করে। কিন্তু এ কথাটি মনে ধরে। কেননা বহু ভাল লোকও বেঁচে থাকতে চায়। হাদীসে আছে, রাসূলুল্লুহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যার বয়স বেশী হয় এবং আমল ভাল হয়।' সঠিক তাফসীর ওটাই যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তা এই যে, দু'টি দল মিলিত হয়ে মিথ্যাবাদী দলের ধ্বংস ও মৃত্যুর প্রার্থনা করবে। এ ঘোষণা শোনা মাত্রই ইয়াহুদীরা ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং জনগণের মধ্যে তাদের মিথ্যা প্রকাশ পেয়ে যায়। আর এই ভবিষ্যদ্বাণী ও সত্য প্রমাণিত হয় যে, তারা কখনও মৃত্যু কামনা করবে না। এ মুবাহালাকে আরবী পরিভাষায় (আরবি) বলা হয়েছে। কেননা, প্রত্যেক দল বাতিল দলের জন্যে মৃত্যু কামনা করছে। আবার আল্লাহ পাক বলেছেন যে, তারা মুশরিকদের চেয়ে ও বেশী দীর্ঘায়ু কামনা করে। কেননা ঐ কাফিরদের জন্যে দুনিয়াটাই বেহেস্ত। সুতরাং তাদের চেষ্টা ও বাসনা এই যে, তারা যেন এখানে বেশী দিন থাকতে পারে।

হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, মুনাফিকদের ইহলৌকিক জীবনের লালসা কাফিরদের চেয়েও বেশী থাকে। এই ইয়াহুদীরা তো এক হাজার বছরের আয়ু চায়। আল্লাহ পাক বলেন যে, এ হাজার বছরের আয়ুও তাদেরকে শাস্তি হতে মুক্তি দিতে পারবে না। কাফিরেরা তো পরকালকে বিশ্বাসই করে না, কাজেই তাদের মরণের ভয় কম; কিন্তু ইয়াহুদীদের ওর প্রতি বিশ্বাস ছিল, আবার তারা খারাপ কাজও করতো। এজন্যেই তারা মৃত্যুকে অত্যন্ত ভয় করতো। কিন্তু ইবলীসের সমান বয়স পেলেও কি হবে? শাস্তি হতে তো বাঁচতে পারবে না। আল্লাহ পাক তাদের কাজ হতে বে-খবর নন। সকল বান্দার ভাল মন্দ কাজের তিনি খবর রাখেন এবং প্রত্যেকের কর্ম অনুপাতেই প্রতিদান দেবেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।