আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 273)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 273)



হরকত ছাড়া:

للفقراء الذين أحصروا في سبيل الله لا يستطيعون ضربا في الأرض يحسبهم الجاهل أغنياء من التعفف تعرفهم بسيماهم لا يسألون الناس إلحافا وما تنفقوا من خير فإن الله به عليم ﴿٢٧٣﴾




হরকত সহ:

لِلْفُقَرَآءِ الَّذِیْنَ اُحْصِرُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ ضَرْبًا فِی الْاَرْضِ ۫ یَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ اَغْنِیَآءَ مِنَ التَّعَفُّفِ ۚ تَعْرِفُهُمْ بِسِیْمٰهُمْ ۚ لَا یَسْـَٔلُوْنَ النَّاسَ اِلْحَافًا ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ خَیْرٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیْمٌ ﴿۲۷۳﴾




উচ্চারণ: লিলফুকারাইল্লাযীনা উহসিরূ ফী ছাবীলিল্লা-হি লা-ইয়াছতাতী‘ঊনা দারবান ফিল আরদিইয়াহছাবুহুমুল জা-হিলুআগনিয়াআ মিনাত্তা‘আফফুফি তা‘রিফুহুম বিছীমাহুম লা-ইয়াছআলূন্না-ছা ইলাহা-ফাওঁ ওয়ামা-তুনফিকূমিন খাইরিন ফাইন্নাল্লা-হা বিহী ‘আলীম।




আল বায়ান: (সদাকা) সেসব দরিদ্রের জন্য যারা আল্লাহর রাস্তায় আটকে গিয়েছে, তারা যমীনে চলতে পারে না। না চাওয়ার কারণে অনবগত ব্যক্তি তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তুমি তাদেরকে চিনতে পারবে তাদের চি‎হ্ন দ্বারা। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে চায় না। আর তোমরা যে সম্পদ ব্যয় কর, অবশ্যই আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৭৩. এগুলো অভাবগ্রস্থ লোকদের প্রাপ্য; যারা আল্লাহ্‌র পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, দেশময় ঘুরাফিরা করতে পারে না(১); আত্মসম্মানবোধ না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে(২); আপনি তাদের লক্ষন দেখে চিনতে পারবেন(৩)। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে চায় না।(৪) আর যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সে ব্যাপারে সবিশেষ জ্ঞানী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: ওটা সেই অভাবগ্রস্তদের প্রাপ্য যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ আছে, দেশময় ঘুরে বেড়াতে পারে না, ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বী না হওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে, তাদের চেহারা দেখে তুমি তাদেরকে চিনতে পারবে। তারা লোকেদের কাছে নাছোড় হয়ে ভিক্ষা করে না এবং তোমাদের মাল হতে যা কিছু ব্যয় করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত।




আহসানুল বায়ান: (২৭৩) (দান) অভাবগ্রস্ত লোকদের প্রাপ্য; যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, জীবিকার সন্ধানে ভূপৃষ্ঠে ঘোরা-ফেরা করতে পারে না।[1] তারা কিছু চায় না বলে, অবিবেচক লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তুমি তাদেরকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে; তারা লোকেদের কাছে নাছোড়বান্দা হয়ে যাচ্ঞা করে না। [2] আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ জ্ঞাত।



মুজিবুর রহমান: দান খয়রাত ঐ সব লোকদের জন্য যারা আল্লাহর কাছে আবদ্ধ হয়ে গেছে, জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফিরা করতে সক্ষম নয়। তাদের সাবলিল চলাচলের জন্য অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবহীন মনে করে, তুমি তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে যাঞ্চা করেনা। এবং তোমরা বৈধ সম্পদ থেকে যা ব্যয় কর সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যকরূপে অবগত।



ফযলুর রহমান: (দান) সেই গরীবদের জন্য যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে আবদ্ধ হয়ে আছে যে, (জীবিকার জন্য) জমিনে যাতায়াত করতে পারে না। হাত না পাতার কারণে অজ্ঞরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে থাকে। তাদের (চেহারার) হাবভাব দেখে তুমি তাদেরকে চিনতে পারবে। তারা মানুষের কাছে মিনতি করে কিছু চায় না। তোমরা যে সম্পদ ব্যয় করো আল্লাহ তা ভাল করেই জানেন।



মুহিউদ্দিন খান: খয়রাত ঐ সকল গরীব লোকের জন্যে যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে গেছে-জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফেরা করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা যাঞ্চা না করার কারণে তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তোমরা তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতি-মিনতি করে ভিক্ষা চায় না। তোমরা যে অর্থ ব্যয় করবে, তা আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই পরিজ্ঞাত।



জহুরুল হক: দরিদ্রদের জন্য যারা আল্লাহ্‌র পথে আটকা পড়ে রয়েছে, -- তারা পৃথিবীতে চলাফেরা করতে অপারগ। অজানা লোকে তাদের ধনী বলে ভাবে তাদের বিরত থাকার দরুন। তুমি তাদের চিনতে পারবে তাদের চেহারাতে। তারা লোকের কাছে ধরনা দিয়ে ভিক্ষা করে না। আর ভালো জিনিসের যা-কিছু তোমরা খরচ করো সে-সন্বন্ধে আল্লাহ্ নিশ্চয় সর্বজ্ঞাতা।



Sahih International: [Charity is] for the poor who have been restricted for the cause of Allah, unable to move about in the land. An ignorant [person] would think them self-sufficient because of their restraint, but you will know them by their [characteristic] sign. They do not ask people persistently [or at all]. And whatever you spend of good - indeed, Allah is Knowing of it.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৭৩. এগুলো অভাবগ্রস্থ লোকদের প্রাপ্য; যারা আল্লাহ্–র পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, দেশময় ঘুরাফিরা করতে পারে না(১); আত্মসম্মানবোধ না চাওয়ার কারণে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে(২); আপনি তাদের লক্ষন দেখে চিনতে পারবেন(৩)। তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে চায় না।(৪) আর যে ধন-সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ্– সে ব্যাপারে সবিশেষ জ্ঞানী।


তাফসীর:

(১) এখানে অভাবগ্রস্ত লোক বলতে ঐ সকল লোককে বোঝানো হয়েছে, যারা দ্বীনী কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে অন্য কোন কাজ করতে পারে না।


(২) এ আয়াত থেকে জানা যায় যে, কোন ফকীরকে যদি মূল্যবান পোষাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়, তবে এ কারণে তাকে ধনী মনে করা হবে না; বরং ফকীরই বলা হবে। এরূপ ব্যক্তিকে যাকাত দান করাও জায়েয হবে। [তাফসীরে কুরতুবী]


(৩) এতে বোঝা যায় যে, লক্ষণাদি দেখে বিচার করা অশুদ্ধ নয়। কাজেই যদি এমন কোন বেওয়ারিশ মৃতদেহ পাওয়া যায়, যার দেহে পৈতা আছে এবং সে খতনাকৃতও নয়, তবে তাকে মুসলিমদের গোরস্তানে দাফন করা যাবে না। [তাফসীরে কুরতুবী]


(৪) এ আয়াত থেকে বাহ্যতঃ জানা যায় যে, তারা পথ আগলিয়ে সওয়াল করে না। কিন্তু পথ না আগলিয়েও সওয়াল করে না- এরূপ বোঝা যায় না। কোন কোন তাফসীরকারক তাই বলেছেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ট তাফসীরকারদের মতে এর অর্থ এই যে, তারা মোটেই সওয়াল করে না। বরং সওয়াল করা থেকে নিজেদেরকে পুরোপুরি নিরাপদ দূরত্বে রাখে। [তাফসীরে কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৭৩) (দান) অভাবগ্রস্ত লোকদের প্রাপ্য; যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত যে, জীবিকার সন্ধানে ভূপৃষ্ঠে ঘোরা-ফেরা করতে পারে না।[1] তারা কিছু চায় না বলে, অবিবেচক লোকেরা তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তুমি তাদেরকে তাদের লক্ষণ দেখে চিনতে পারবে; তারা লোকেদের কাছে নাছোড়বান্দা হয়ে যাচ্ঞা করে না। [2] আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ জ্ঞাত।


তাফসীর:

[1] এ থেকে সেই মুহাজিরদের বুঝানো হয়েছে যাঁরা মক্কা ত্যাগ করে আসেন এবং আল্লাহর পথে এসে প্রত্যেক জিনিস থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সব কিছুই তাঁদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। দ্বীনী জ্ঞান অন্বেষণকারী ছাত্র-ছাত্রী এবং আলেমরাও এরই আওতায় পড়তে পারে।

[2] অর্থাৎ, ঈমানদারদের গুণ হল, অভাব-অনটন সত্ত্বেও তারা চাওয়া ও ভিক্ষা করা থেকে বাঁচতে চেষ্টা করে এবং নাছোড় বান্দা হয়ে চাওয়া থেকে বিরত থাকে। কেউ কেউ إلحاف এর অর্থ করেছেন, মোটেই না চাওয়া। কেননা, তাদের প্রথম গুণ বলা হয়েছে যে, তারা যাচ্ঞা করে না। (ফাতহুল ক্বাদীর) আর কেউ কেউ বলেছেন, তারা চাওয়াতে বারবার আবেদন ও কাকুতি-মিনতি করে না এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিস লোকের কাছে প্রার্থনা করে না। কারণ, إلحاف হল, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও (স্বভাবগত কারণে) মানুষের কাছে চাওয়া। এই অর্থের সমর্থন সেই হাদীসসমূহ দ্বারাও হয়ে যায় যাতে বলা হয়েছে, ‘‘মিসকীন তো সে নয়, যে একটি-দু’টি খেজুরের জন্য অথবা এক-দু’ লুকমা খাবারের জন্য দ্বারে দ্বারে গিয়ে চেয়ে বেড়ায়, বরং আসল মিসকীন তো সেই, যে (অভাব সত্ত্বেও) চাওয়া থেকে বেঁচে থাকে।’’ অতঃপর নবী করীম (সাঃ) প্রমাণস্বরূপ

{لاَ يَسْئَلُوْنَ النَّاسَ إلْحَافًا} আয়াতটি পাঠ করেন। (সহীহ বুখারী ১৪৭৬নং) এই জন্য পেশাদার ভিক্ষুকের পরিবর্তে মুহাজির, দ্বীনী জ্ঞান অন্বেষণকারী ছাত্র-ছাত্রী, উলামা এবং চাইতে পারে না অথবা চাইতে লজ্জাবোধ করে এমন গুপ্ত অভাবীদের খোঁজ করে তাদের সহযোগিতা করা উচিত। কারণ, অন্যের সামনে হাতপাতা মানুষের আত্মসম্মান পরিপন্থী ও মর্যাদাহানিকর কর্ম। তাছাড়া হাদীসে এসেছে যে, যার কাছে তার প্রয়োজনের যথেষ্ট সামগ্রী থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছে ভিক্ষা চায়, কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডল ক্ষত-বিক্ষত হবে। (সুনানে আরবাআহ) আর বুখারী ও মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে যে, ‘‘যে ব্যক্তি সব সময় মানুষের কাছে চায়, কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডলে গোশত থাকবে না।’’ (বুখারী ১৪৭৫, মুসলিম ১০৪০নং)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৭২-২৭৪ নং আয়াতের তাফসীর:



শানে নুযূল:



ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবাগণ তাঁদের মুশরিক আত্মীয় স্বজনদের সাথে আদান-প্রদান করতে অপছন্দ করতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হল। তখন



(لَيْسَ عَلَيْكَ هُدَاهُمْ)



‘তাদের হিদায়াতের দায়িত্ব তোমার ওপর নয়’আয়াতটি অবতীর্ণ হল। (নাসাঈ হা: ১১৫২, সহীহ)



সাঈদ বিন যুবাইর থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণিত, মুসলিমগণ যিম্মী কাফিরদের দান-সদাকাহ করত। যখন মুসলিম দরিদ্রদের সংখ্যা বেড়ে গেল তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তেমাদের দীনের অনুসারী ছাড়া অন্য কাউকে দান-সদাকাহ করো না। তখন এ আয়াত নাযিল হয় (ইবনু আবী শাইবা ২/১০৪)।



যাই হোক, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দায়িত্ব হল দীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া, কল্যাণ কাজে মানুষকে উৎসাহ দেয়া এবং অন্যায় ও খারপ কাজ থেকে নিষেধ করা। হিদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, তিনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথের হিদায়াত দিয়ে থাকেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللّٰهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ ﺚوَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ)



“তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎ পথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহই যাকে ইচ্ছা সৎ পথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভাল জানেন সৎ পথ অনুসারীদেরকে।”(সূরা কাসাস ২৮:৫৬)



لِلْفُقَرَآءِ ‘ফকিরদের জন্য’এখানে ফকির দ্বারা মুহাজিরদেরকে বুঝানো হয়েছে। কারণ তারা মক্কায় সবকিছু ছেড়ে রিক্তহস্তে মদীনায় চলে এসেছেন। তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কোথাও যেতে পারেন না, যুদ্ধ জিহাদে ব্যস্ত থাকার কারণে যারা তাদেরকে চেনে না, তারা মনে করে এদেরকে দানের কোন প্রয়োজন নেই। কেননা তারা চায় না, তাদের আচার-আচরণ ও চাল-চলনে সে রকম কিছু বুঝা যায় না। এদেরকে দান করা খুব নেকীর কাজ।



(إِلَّا ابْتِغَآءَ وَجْهِ اللّٰهِ)



‘আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় কর’যখন একজন মুসলিম একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য ব্যয় করবে তখন সে প্রত্যেক ব্যয়ের জন্য নেকী পাবে।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: তুমি যে ব্যয়ই কর তার দ্বারা যদি আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি চাও তাহলে তার প্রতিদান পাবে এমনকি যদি তুমি তোমার স্ত্রীকে খাবার দাও তাতেও নেকী পাবে। (সহীহ বুখারী হা: ৫৬)



সুতরাং আমরা যা দান-সদাকাহ করব তার উদ্দেশ্য থাকবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি, মানুষ আমাকে দানবীর বলবে কিম্বা তাদের বাহবাহ পাওয়ার জন্য নয়।



ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য হল: তারা শত অভাব অনটনেও কারো কাছে হাত পাতে না।



الحاف ইলহাফ অর্থ হল: সর্বাত্মকভাবে কারো কাছে চাওয়া বা নিবেদন করা। (তাফসীর মুয়াসসার, পৃঃ ৪৬)



আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: মিসকিন সে নয় যে একটি দু’টি খেজুরের জন্য বা এক-দু’লোকমা খাবারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় বরং প্রকৃত মিসকিন হল সে যে অভাবী হওয়া সত্ত্বেও চাওয়া থেকে বেঁচে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াত



(لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا)



পাঠ করলেন। (সহীহ বুখারী হা: ১৪৭৬)



(اَلَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ...)



যারা রাতে ও দিনে, গোপনে এবং প্রকাশ্যে তাদের মাল খরচ করে’তথা যারা সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার পথে ব্যয় করে। তবে কখনো গোপনের চেয়ে প্রকাশ্যে, আবার কখনো প্রকাশ্যের চেয়ে গোপনে দান করা উত্তম হয়। যখন প্রকাশ্যে দান করলে অন্যরা উৎসাহিত হবে তখন প্রকাশে দান করা উত্তম, তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনক্রমেই মনে মানুষের বাহবা পাওয়ার ইচ্ছা না জাগে। পূর্বের আয়াতে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কাফিরদেরকেও সাধারণ দান-সদাকাহ দেয়া জায়েয আছে। তবে যাকাত দেয়া যাবে না কেননা তা কেবল মু’মিনদের হক।

২. দানের ক্ষেত্রে নিয়ত ঠিক রাখা আবশ্যক।

৩. প্রয়োজনের তারতম্য অনুযায়ী দান-সদাকার মর্যাদায় কম-বেশি হয়।

৪. যারা প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যের কাছে হাত পাতে না তাদের মর্যাদা জানলাম।

৫. সচ্ছল-অসচ্ছল সর্বাবস্থায় যারা দান করে তাদের অনেক প্রতিদান রয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৭২-২৭৪ নং আয়াতের তাফসীর

হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, মুসলমান সাহাবীগণ (রাঃ) তাঁদের মুশরিক আত্মীয়দের সাথে আদান-প্রদান করতে অপছন্দ করতেন। অতপর রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এই সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হয়। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় এবং তাদেরকে তাদের মুশরিক আত্মীয়দের সাথে লেন-দেন করার অনুমতি দেয়া হয়। হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেনঃ ‘সাদকা শুধুমাত্র মুসলমানদেরকে দেয়া হবে। যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “ভিক্ষুক যে কোন মাযহাবের হোক না কেন তোমরা তাদেরকে সাদকা প্রদান কর (ইবনে আবি হাতিম)।

হযরত আসমা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি (আরবি) (৬০:৮)এই আয়াতের তাফসীরে ইনশাআল্লাহ আসবে। এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেন-“তোমরা যা কিছু খরচ করবে তা নিজেদের উপকারের জন্যই করবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ(আরবি) অর্থাৎ যে ব্যক্তি ভাল কাজ করলো তা তার নিজের জন্যেই করলো।' এই ধরনের আরও বহু আয়াত রয়েছে। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেনঃ মুসলমানের প্রত্যেক খরচ আল্লাহ্র জন্যেই হয়ে থাকে, যদিও সে নিজেই খায় ও পান করে। হযরত আতা খোরাসানী (রঃ)-এর ভাবার্থ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ যখন তুমি আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দান করবে তখন দান গ্রহীতা যে কেউ হোক না কেন এবং যে কোন কাজই করুক না কেন তুমি তার পূর্ণ প্রতিদান লাভ করবে।' এই ভাবার্থটিও খুব উত্তম। মোটকথা এই যে, সৎ উদ্দেশ্যে দানকারীর প্রতিদান যে আল্লাহ তা'আলার দায়িত্বে রয়েছে তা সাব্যস্ত হয়ে গেল। এখন সেই দান কোন সৎ লোকের হাতেই যাক বা কোন মন্দ লোকের হাতেই যাক-এতে কিছু যায় আসে না। সে তার সৎ উদ্দেশ্যের কারণে প্রতিদান পেয়েই যাবে। যদিও সে দেখে শুনে ও বিচার-বিবেচনা করে দান করে থাকে অতঃপর ভুল হয়ে যায় তবে তার দানের পুণ্য নষ্ট হবে না। এই জন্যে আয়াতের শেষে প্রতিদান প্রাপ্তির সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।


সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “এক ব্যক্তি ইচ্ছা করে, আজ আমি রাত্রে দান করবো। অতঃপর সে দান নিয়ে বের হয় এবং একটি ব্যভিচারিণী নারীর হাতে দিয়ে দেয়। সকালে 'জনগণের মধ্যে এই কথা নিয়ে সমালোচনা হতে থাকে যে, এক ব্যভিচারিণীকে সাদকা দেয়া হয়েছে। একথা শুনে লোকটি বলেঃ “হে আল্লাহ! আপনার জন্যেই সমস্ত প্রশংসা যে,আমার দান ব্যভিচারিণীর হাতে পড়েছে। আবার সে বলেঃ আজ রাত্রেও আমি অবশ্যই সাদকা প্রদান করবো। অতঃপর সে এক ধনী ব্যক্তির হাতে রেখে দেয়। আবার সকালে জনগণ আলোচনা করতে থাকে যে, রাত্রে এক ধনী লোককে দান করা হয়েছে। সে বলেঃ হে আল্লাহ! আপনার জন্যেই সমুদয় প্রশংসা যে, আমার দান একজন ধনী ব্যক্তির উপর পড়েছে। আবার সে বলে, “আজ রাত্রেও আমি অবশ্যই দান। করবো। অতঃপর সে এক চোরের হাতে রেখে দেয়। সকালে পুনরায় জনগণের মধ্যে আলোচনা হতে থাকে যে, রাত্রে এক চোরকে সাদকা দেয়া হয়েছে। তখন সে বলেঃ হে আল্লাহ! আপনার জন্যেই সমস্ত প্রশংসা যে, আমার দান ব্যভিচারিণী, ধনী ও চোরের হাতে পড়েছে।' অতঃপর সে স্বপ্নে দেখে যে; একজন ফেরেশতা এসে বলছেনঃ তোমার দানগুলো আল্লাহর নিকট গৃহীত হয়েছে। সম্ভবতঃ দুশ্চরিত্রা নারীটি তোমার দান পেয়ে ব্যভিচার থেকে বিরত থাকবে, হয়তো ধনী লোকটি এর দ্বারা শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং সেও দান করতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, আর হতে পারে যে, মাল পেয়ে চোরটি চুরি করা ছেড়ে দেবে।

তারপর আল্লাহ তা'আলা বলেন-সাদকা ঐ মুহাজিরদের প্রাপ্য যারা ইহলৌকিক সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বদেশ পরিত্যাগ করে, আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নবীর (সঃ) খিদমতে উপস্থিত হয়েছে। তাদের জীবন যাপনের এমন কোন উপায় নেই যা তাদের জন্য যথেষ্ট হতে পারে এবং তারা সফরও করতে পারে না যে, চলে ফিরে নিজেদের খাওয়া পরার ব্যবস্থা করতে পারে।'(আরবি) এর অর্থ হচ্ছে পৃথিবীতে সফর করা। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ(আরবি)
অর্থাৎ যখন তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর। আর এক জায়গায় রয়েছে।(আরবি) অর্থাৎ “তারা পৃথিবীতে ভ্রমণ করে। তাদের অবস্থা যাদের জানা নেই তারা তাদের বাহ্যিক পোষাক-পরিচ্ছদ দেখে এবং কথা-বার্তা শুনে তাঁদেরকে ধনী মনে করে। বিশুদ্ধ হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ঐ ব্যক্তি মিসকীন নয়, যে বাড়ী বাড়ী ঘুরে বেড়ায়, কোথায়ও হয়তো একটি খেজুর পেয়ে গেল, কোথায়ও হয়তো দু'এক গ্রাস খাবার পেলো, আবার কোন জায়গায় হয়তো দু'একদিনের খাদ্য প্রাপ্ত হলো। বরং মিসকীন ঐ ব্যক্তি যার নিকট ঐ পরিমাণ কিছু নেই যার দ্বারা সে অমুখাপেক্ষী হতে পারে এবং সে তার অবস্থাও এমন করেনি যার ফলে মানুষ তার অভাব অনুভব করে তার উপর কিছু অনুগ্রহ করছে। আবার ভিক্ষা করার অভ্যাসও তার নেই। কিন্তু যাদের অন্তদৃষ্টি রয়েছে তাদের কাছে এদের অবস্থা গোপন থাকে না। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ ‘তাদের (অভাবের) লক্ষণসমূহ তাদের মুখমণ্ডলের উপর রয়েছে।' (৪৮:২৯) অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ(আরবি) অর্থাৎ ‘তোমরা অবশ্যই তাদেরকে তাদের কথার ভঙ্গিতে চিনে নেবে।' (৪৭:৩০) সুনানের একটি হাদীসে রয়েছেঃ “তোমরা মুমিনের বিচক্ষণতা হতে বেঁচে থাক, নিশ্চয় সে আল্লাহর ঐজ্জ্বল্যের দ্বারা দেখে থাকে। অতঃপর তিনি (আরবি) এই আয়াতটি পাঠ করেন। অর্থাৎ নিশ্চয় অন্তদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যে এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে। (১৫:৭৫)।

‘তারা কাকুতি মিনতি করে কারও কাছে প্রার্থনা করে না' অর্থাৎ তারা যাঙ্ক্ষার দ্বারা মানুষকে ত্যক্ত-বিরক্ত করে না এবং তাদের কাছে সামান্য কিছু থাকা অবস্থায় তারা মানুষের কাছে হাত বাড়ায় না। প্রয়োজনের উপযোগী বস্তু বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যে ভিক্ষাবৃত্তি পরিত্যাগ করে না তাকেই পেশাগত ভিক্ষুক বলা হয়। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘ঐ ব্যক্তি মিসকীন নয় যাকে দু'একটি খেজুর বা দু'এক গ্রাস আহার্য দেয়া হয়, বরং ভিক্ষুক ঐ ব্যক্তি যে অভাব থাকা সত্ত্বেও সংযমশীলতা রক্ষা করতঃ ভিক্ষা হতে দূরে থাকে। অতঃপর তিনি(আরবি) (২:২৭৩) উক্ত আয়াতের অংশটি পাঠ করেন। এই হাদীসটি বহু হাদীস গ্রন্থে বহু সনদে বর্ণিত আছে। মুযাইনা গোত্রের একটি লোককে তার মা বলেঃ ‘অন্যান্য লোক যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট গিয়ে কিছু চেয়ে আনছে, তুমিও তার নিকট গিয়ে কিছু চেয়ে আন।' লোকটি বলেঃ আমি গিয়ে দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। ভাষণে তিনি বলেনঃ “যে ব্যক্তি ভিক্ষা হতে বেঁচে থাকবে, আল্লাহ তাকে প্রকৃতপক্ষেই অমুখাপেক্ষী করবেন। যার কাছে পাঁচ আওকিয়া (এক আওকিয়া = চল্লিশ দিরহাম) মূল্যের জিনিস রয়েছে, অথচ সে ভিক্ষা করছে সে হচ্ছে ভিক্ষাকার্যে জড়িত ভিক্ষুক। আমি মনে মনে চিন্তা করি যে, আমার ইয়াকুতা নামী উষ্ট্ৰীটির মূল্য পাঁচ আওকিয়া অপেক্ষা বেশী হবে। সুতরাং আমি কিছু না চেয়েই ফিরে আসি।' অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, এটা ছিল হযরত আবূ সাঈদ খুদরীর (রাঃ) ঘটনা। তাতে রয়েছে যে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে এও বলেনঃ “যে ব্যক্তি মানুষের প্রত্যাশা করে না আল্লাহই তার জন্যে যথেষ্ট হয়ে যান এবং এক আওকিয়া থাকা সত্ত্বেও যে ভিক্ষা করে সে ভিক্ষার সঙ্গে জড়িত ভিক্ষুক।' চল্লিশ দিরহামে এক আওকিয়া হয় এবং চল্লিশ দিরহামে প্রায় দশ টাকা হয়। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “যে ব্যক্তির নিকট এই পরিমাণ জিনিস রয়েছে যে, সে অমুখাপেক্ষী হতে পারে, তথাপি সে ভিক্ষা করে, কিয়ামতের দিন এই ভিক্ষা তার মুখে নাচতে থাকবে বা তার মুখ আহত করতে থাকবে জনগণ জিজ্ঞেস করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কি পরিমাণ মাল থাকলে এই অবস্থা হবে: তিনি বলেনঃ পঞ্চাশটি দিরহাম বা তার সমমূল্যের সোনা। এই হাদীসটি দুর্বল। হারিস নামক একজন কুরাইশ সিরিয়ায় বাস করতেন। তিনি জানতে পারেন যে, হযরত আবূ যার (রাঃ) অভাবগ্রস্ত রয়েছেন। সুতরাং তিনি তাঁর নিকট তিনশোটি স্বর্ন মুদ্রা পাঠিয়ে দেন। তখন তিনি দুঃখিত হয়ে বলেনঃ ঐ ব্যক্তি আমার চেয়ে বেশী অভাগ্ৰস্ত আর কাউকে পেলেন না: আমি তো রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মুখে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তির কাছে চল্লিশটি দিরহাম থাকা সত্ত্বেও ভিক্ষে করে সে হচ্ছে ভিক্ষাকার্যে জড়িত ভিক্ষুক।' আর আবু যারের পরিবারের কাছে তো চল্লিশটি দিরহাম, চল্লিশটি ছাগল এবং দু'টি ক্রীতদাসও রয়েছে। একটি বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কথাগুলো। নিম্নরূপও রয়েছেঃ চল্লিশ দিরহাম রেখে ভিক্ষেকারী হচ্ছে ব্যাকুলভাবে প্রার্থনাকারী এবং সে হচ্ছে বালুকার ন্যায়। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তোমাদের সমস্ত দান সম্বন্ধে আল্লাহ তা'আলা সম্যক অবগত রয়েছেন। যখন তোমরা সম্পূর্ণরূপে মুখাপেক্ষী হয়ে যাবে তখন তিনি তোমাদেরকে পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করবেন। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নেই। এরপর আল্লাহ পাক ঐ সব লোকের প্রশংসা করছেন যারা আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তার পথে খরচ করে থাকে। তাদেরকেও প্রতিদান দেয়া হবে এবং তারা যে কোন ভয় ও চিন্তা হতে নিরাপত্তা লাভ করবে। পরিবারের খরচ বহন করার কারণেও তাদেরকে প্রতিদান দেয়া হবে। যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে হাদীস রয়েছে, মক্কা বিজয়ের বছর এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে,বিদায় হজ্বের বছর রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে (রাঃ) তার রোগাক্রান্ত অবস্থায় দেখতে গিয়ে বলেনঃ তুমি আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যা খরচ করবে তিনি এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন, এমনকি তুমি স্বয়ং তোমার স্ত্রীকে যা খাওয়াবে তারও প্রতিদান তোমাকে দেয়া হবে। মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে রয়েছে যে, মুসলমান পুণ্য লাভের উদ্দেশ্যে নিজের ছেলে-মেয়ের জন্যে যা খরচ করে থাকে সেটাও সাদকা। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেনঃ “এই আয়াতের শান-ই-নুযুল হচ্ছে মুসলমান মুজাহিদগণের ঐ খরচ যা তারা তাদের পরিবারের জন্য করে থাকে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এটাই বলেন। হযরত যুবাইর (রাঃ) বলেন যে,হযরত আলীর (রাঃ) নিকট চারটি দিরহাম ছিল। ওর মধ্য হতে তিনি একটি রাত্রে ও একটি দিনে আল্লাহর পথে দান করেন। অর্থাৎ একটি প্রকাশ্যে ও একটি গোপনে দান করেন। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। কিন্তু বর্ণনাটি দুর্বল। অন্য সনদেও এটা বর্ণিত আছে। আল্লাহ তা'আলার আনুগত্য লাভ করার উদ্দেশ্যে যারা রাত্রে ওদিবসে গোপনে ও প্রকাশ্যে নিজেদের ধন-সম্পদগুলো ব্যয় করে থাকে, তাদের প্রভুর নিকট তাদের পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।