সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 259)
হরকত ছাড়া:
أو كالذي مر على قرية وهي خاوية على عروشها قال أنى يحيي هذه الله بعد موتها فأماته الله مائة عام ثم بعثه قال كم لبثت قال لبثت يوما أو بعض يوم قال بل لبثت مائة عام فانظر إلى طعامك وشرابك لم يتسنه وانظر إلى حمارك ولنجعلك آية للناس وانظر إلى العظام كيف ننشزها ثم نكسوها لحما فلما تبين له قال أعلم أن الله على كل شيء قدير ﴿٢٥٩﴾
হরকত সহ:
اَوْ کَالَّذِیْ مَرَّ عَلٰی قَرْیَۃٍ وَّ هِیَ خَاوِیَۃٌ عَلٰی عُرُوْشِهَا ۚ قَالَ اَنّٰی یُحْیٖ هٰذِهِ اللّٰهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ فَاَمَاتَهُ اللّٰهُ مِائَۃَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهٗ ؕ قَالَ کَمْ لَبِثْتَ ؕ قَالَ لَبِثْتُ یَوْمًا اَوْ بَعْضَ یَوْمٍ ؕ قَالَ بَلْ لَّبِثْتَ مِائَۃَ عَامٍ فَانْظُرْ اِلٰی طَعَامِکَ وَ شَرَابِکَ لَمْ یَتَسَنَّهْ ۚ وَ انْظُرْ اِلٰی حِمَارِکَ وَ لِنَجْعَلَکَ اٰیَۃً لِّلنَّاسِ وَ انْظُرْ اِلَی الْعِظَامِ کَیْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَکْسُوْهَا لَحْمًا ؕ فَلَمَّا تَبَیَّنَ لَهٗ ۙ قَالَ اَعْلَمُ اَنَّ اللّٰهَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ﴿۲۵۹﴾
উচ্চারণ: আও কাল্লাযী মাররা ‘আলা-কারইয়াতিওঁ ওয়াহিয়া খা-বিয়াতুন ‘আলা-‘উরুশিহা-কা-লা আন্না-ইউহয়ী হা-যিহিল্লা-হু বা‘দা মাওতিহা-ফাআমাতাহুল্লা-হু মিআতা ‘আমিন ছু ম্মা বা‘আছাহু কা-লা কাম লাবিছতা কা-লা লাবিছতুইয়াওমান আও বা‘দা ইয়াওমিন কা-লা ‘বাল্লাবিছতা মিআতা ‘আ-মিন ফানজু র ইলা-তা‘আ-মিকা ওয়াশারা-বিকা লাম ইয়াতাছান্নাহু ওয়ানজু র ইলা-হিমা-রিকা ওয়া লিনাজ‘আলাকা আয়াতাল লিন্না-ছি ওয়ানজু র ইলাল ‘ইজা-মি কাইফা নুনশিযুহা- ছু ম্মা নাকছূহা-লাহমান ফালাম্মা-তাবাইয়ানা লাহু কালা আ‘লামুআন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইইন কাদীর।
আল বায়ান: অথবা সে ব্যক্তির মত, যে কোন জনপদ অতিক্রম করছিল, যা তার ছাদের উপর বিধ্বস্ত ছিল। সে বলল, ‘আল্লাহ একে কিভাবে জীবিত করবেন মরে যাওয়ার পর’? অতঃপর আল্লাহ তাকে এক’শ বছর মৃত রাখলেন। এরপর তাকে পুনর্জীবিত করলেন। বললেন, ‘তুমি কতকাল অবস্থান করেছ’? সে বলল, ‘আমি একদিন অথবা দিনের কিছু সময় অবস্থান করেছি’। তিনি বললেন, ‘বরং তুমি এক’শ বছর অবস্থান করেছ। সুতরাং তুমি তোমার খাবার ও পানীয়ের দিকে তাকাও, সেটি পরিবর্তিত হয়নি এবং তুমি তাকাও তোমরা গাধার দিকে, আর যাতে আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে পারি এবং তুমি তাকাও হাড়গুলোর দিকে, কিভাবে আমি তা সংযুক্ত করি, অতঃপর তাকে আবৃত করি গোশ্ত দ্বারা’। পরে যখন তার নিকট স্পষ্ট হল, তখন সে বলল, ‘আমি জানি, নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৫৯. অথবা সে ব্যক্তির মত, যে এমন এক জনপদ অতিক্রম করছিল যা তার ছাদের উপর থেকে বিধ্বস্ত ছিল। সে বলল, মৃত্যুর পর কিভাবে আল্লাহ্ একে জীবিত করবেন? তারপর আল্লাহ তাকে এক শত বছর মৃত রাখলেন। পরে তাকে পুনজীবিত করলেন। আল্লাহ্ বললেন, ‘তুমি কতকাল অবস্থান করলে?’ সে বলল, ‘একদিন বা একদিনেরও কিছু কম অবস্থান করেছি।‘ তিনি বললেন, বরং তুমি এক শত বছর অবস্থান করেছ। সুতরাং তুমি তোমার খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় বস্তুর দিকে লক্ষ্য কর, সেগুলো অবিকৃত রয়েছে এবং লক্ষ্য কর তোমার গাধাটির দিকে। আর যাতে আমরা তোমাকে বানাবো মানুষের জন্য নিদর্শন স্বরূপ। আর অস্থিগুলোর দিকে লক্ষ্য কর; কিভাবে সেগুলোকে সংযোজিত করি এবং গোশত দ্বারা ঢেকে দেই’। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হলো তখন সে বলল, ‘আমি জানি, নিশ্চয় আল্লাহ্ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান’।
তাইসীরুল ক্বুরআন: কিংবা এমন ব্যক্তির ঘটনা সম্পর্কে (তুমি কি চিন্তা করনি) যে এক নগর দিয়ে এমন অবস্থায় যাচ্ছিল যে তা উজাড় অবস্থায় ছিল। সে বলল, ‘আল্লাহ এ নগরীকে এর মৃত্যুর পরে কীভাবে জীবিত করবেন’? তখন আল্লাহ তাকে একশ’ বছর মৃত রাখলেন। তারপর তাকে জীবিত করে তুললেন ও জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি এ অবস্থায় কতকাল ছিলে’? সে বলল, ‘একদিন ছিলাম কিংবা একদিন হতেও কম’। আল্লাহ বললেন, ‘বরং তুমি একশ’ বছর ছিলে, এক্ষণে তুমি তোমার খাদ্যের ও পানীয়ের দিকে লক্ষ্য কর, এটা পচে যায়নি। আর গাধাটার দিকে তাকিয়ে দেখ, আর এতে উদ্দেশ্য এই যে, আমি তোমাকে মানুষের জন্য উদাহরণ করব। আবার তুমি হাড়গুলোর দিকে লক্ষ্য কর, আমি কীভাবে ওগুলো জোড়া লাগিয়ে দেই, তারপর গোশত দ্বারা ঢেকে দেই। এরপর যখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন সে বলল, ‘এখন আমি পূর্ণ বিশ্বাস করছি যে, আল্লাহ্ই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’।
আহসানুল বায়ান: (২৫৯) অথবা সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখনি, যে এমন এক নগরে উপনীত হয়েছিল, যা ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছিল। সে (লোকটি) বলল, ‘মৃত্যুর পর কিরূপে আল্লাহ এ (নগরটি)কে জীবিত করবেন?’[1] তখন তাকে আল্লাহ একশত বৎসর মৃত রাখলেন, তারপর তাকে পুনর্জীবিত করলেন। আল্লাহ বললেন, ‘তুমি (মৃত অবস্থায়) কতক্ষণ ছিলে?’ সে বলল, ‘একদিন অথবা এক দিনের কিছু অংশ।’[2] তিনি বললেন, ‘বরং তুমি একশত বৎসর (মৃত অবস্থায়) অবস্থান করেছিলে। অথচ তোমার খাদ্য-সামগ্রী ও পানীয় বস্তুর প্রতি লক্ষ্য কর, তা অবিকৃত রয়েছে। আর তুমি তোমার গাধাটির প্রতি লক্ষ্য কর, (এগুলো এ জন্য যে,) আমি তোমাকে মানব-জাতির জন্য নিদর্শনস্বরূপ করব। আর (গাধার) অস্থিগুলির প্রতি লক্ষ্য কর, কিভাবে সেগুলিকে আমি সংযোজিত করি, অতঃপর গোশত দ্বারা ঢেকে দিই।’ সুতরাং যখন এটি তার নিকট সুস্পষ্ট হল, তখন সে বলে উঠল, ‘আমি জানি যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাশক্তিমান।’ [3]
মুজিবুর রহমান: অথবা ঐ ব্যক্তির অনুরূপ যে কোন এক জনপদ অতিক্রম করছিল এবং তা ছিল শূণ্য - নিজ ভিত্তির উপর পতিত। সে বললঃ এই নগরের মৃত্যুর পর আল্লাহ আবার তাকে জীবন দান করবেন কিরূপে? অনন্তর আল্লাহ তাকে একশ বছরের জন্য মৃত্যু দান করলেন, অতঃপর তাকে পুনর্জীবিত করলেন এবং বললেনঃ এ অবস্থায় তুমি কতক্ষণ অতিবাহিত করেছ? সে বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিয়দংশ। তিনি বললেনঃ তা নয়, বরং তুমিতো এভাবে একশ বছর ছিলে। তোমার খাদ্য ও পানীয়ের প্রতি লক্ষ্য কর - ওটা বিকৃত হয়নি এবং তোমার গর্দভের প্রতি দৃষ্টিপাত কর; এবং যেহেতু আমি তোমাকে মানবের জন্য নিদর্শন বানাতে চাই; আরও লক্ষ্য কর অস্থিপুঞ্জের দিকে, ওকে কিরূপে আমি সংযুক্ত করি; অতঃপর ওকে মাংসাবৃত করি। অনন্তর যখন ওটা তার নিকট স্পষ্ট হয়ে গেল তখন সে বললঃ আমি জানি, আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
ফযলুর রহমান: অথবা সেই লোকটির মত যে একটি গ্রামে গিয়েছিল যার ঘরগুলো মাচার ওপর পতিত অবস্থায় ছিল (অর্থাৎ গ্রামটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল)। সে বলেছিল, “এটিকে এর মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে জীবিত করবেন (অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত এই গ্রামটিকে আল্লাহ কীভাবে পুনর্গঠিত করবেন)?” এরপর আল্লাহ তাকে একশ বছর মৃত অবস্থায় রাখেন। তারপর তাকে জীবিত করে বলেন, “তুমি (মৃত অবস্থায়) কতদিন ছিলে?” সে বলে, “ছিলাম একদিন কিংবা একদিনের কিছু অংশ।” আল্লাহ বলেন, “(তা নয়,) বরং তুমি একশ বছর (মৃত) পড়েছিলে। তোমার খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় দ্রব্যের দিকে তাকাও, ওগুলো নষ্ট হয়নি। আর তোমার গাধাটির দিকে তাকাও, আমি তোমাকে মানুষের জন্য একটি নিদর্শন বানাতে চাই। (গাধার) হাড়গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখ আমি কীভাবে ওগুলো একত্রিত করি, তারপর তা মাংস দিয়ে ঢেকে দেই।” যখন (গোটা) ব্যাপারটি তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় তখন সে বলে, “আমি জানতে পারলাম যে, আল্লাহ সবকিছুই করতে সক্ষম।”
মুহিউদ্দিন খান: তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ মরনের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে-সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হল, তখন বলে উঠল-আমি জানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।
জহুরুল হক: অথবা, তাঁর কথা যিনি যাচ্ছিলেন এক শহরের পাশ দিয়ে, আর তা ভেঙ্গে পড়েছিল তার ছাদ সহ? তিনি বলেছিলেন -- "কেমন ক’রে আল্লাহ্ একে পুনরুজ্জীবিত করবেন তার মৃত্যুর পরে?" এরপর আল্লাহ্ তাঁকে শতবৎসরকাল মৃতবৎ করে রাখলেন, তারপর তিনি তাঁকে পুনরুত্থিত করলেন। তিনি বললেন -- "কত সময় তুমি কাটিয়েছ?" তিনি বললেন -- "আমি কাটিয়েছি একটি দিন, বা এক দিনের কিছু অংশ।" তিনি বললেন -- "না, তুমি কাটিয়েছ একশত বছর, কাজেই তোমার খাদ্য ও তোমার পানীয়ের দিকে তাকাও, বয়স উহাকে বয়স্ক করে নি, আর তোমার গাধার দিকে তাকাও, আর যেন তোমাকে মানবগোষ্ঠীর জন্য নিদর্শন করতে পারি, আর এই হাড়গুলোর দিকে তাকাও, কেমন ক’রে আমরা সে-সব গুছিয়েছি ও সেগুলোকে মাংস দিয়ে ঢেকেছি।" আর যখন তাঁর কাছে পরিস্কার হলো তিনি বললেন -- "আমি এখন জানি যে আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।"
Sahih International: Or [consider such an example] as the one who passed by a township which had fallen into ruin. He said, "How will Allah bring this to life after its death?" So Allah caused him to die for a hundred years; then He revived him. He said, "How long have you remained?" The man said, "I have remained a day or part of a day." He said, "Rather, you have remained one hundred years. Look at your food and your drink; it has not changed with time. And look at your donkey; and We will make you a sign for the people. And look at the bones [of this donkey] - how We raise them and then We cover them with flesh." And when it became clear to him, he said, "I know that Allah is over all things competent."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৫৯. অথবা সে ব্যক্তির মত, যে এমন এক জনপদ অতিক্রম করছিল যা তার ছাদের উপর থেকে বিধ্বস্ত ছিল। সে বলল, মৃত্যুর পর কিভাবে আল্লাহ্– একে জীবিত করবেন? তারপর আল্লাহ তাকে এক শত বছর মৃত রাখলেন। পরে তাকে পুনজীবিত করলেন। আল্লাহ্ বললেন, ‘তুমি কতকাল অবস্থান করলে?’ সে বলল, ‘একদিন বা একদিনেরও কিছু কম অবস্থান করেছি।‘ তিনি বললেন, বরং তুমি এক শত বছর অবস্থান করেছ। সুতরাং তুমি তোমার খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় বস্তুর দিকে লক্ষ্য কর, সেগুলো অবিকৃত রয়েছে এবং লক্ষ্য কর তোমার গাধাটির দিকে। আর যাতে আমরা তোমাকে বানাবো মানুষের জন্য নিদর্শন স্বরূপ। আর অস্থিগুলোর দিকে লক্ষ্য কর; কিভাবে সেগুলোকে সংযোজিত করি এবং গোশত দ্বারা ঢেকে দেই’। অতঃপর যখন তার নিকট স্পষ্ট হলো তখন সে বলল, ‘আমি জানি, নিশ্চয় আল্লাহ্– সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান’।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৫৯) অথবা সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখনি, যে এমন এক নগরে উপনীত হয়েছিল, যা ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছিল। সে (লোকটি) বলল, ‘মৃত্যুর পর কিরূপে আল্লাহ এ (নগরটি)কে জীবিত করবেন?’[1] তখন তাকে আল্লাহ একশত বৎসর মৃত রাখলেন, তারপর তাকে পুনর্জীবিত করলেন। আল্লাহ বললেন, ‘তুমি (মৃত অবস্থায়) কতক্ষণ ছিলে?’ সে বলল, ‘একদিন অথবা এক দিনের কিছু অংশ।’[2] তিনি বললেন, ‘বরং তুমি একশত বৎসর (মৃত অবস্থায়) অবস্থান করেছিলে। অথচ তোমার খাদ্য-সামগ্রী ও পানীয় বস্তুর প্রতি লক্ষ্য কর, তা অবিকৃত রয়েছে। আর তুমি তোমার গাধাটির প্রতি লক্ষ্য কর, (এগুলো এ জন্য যে,) আমি তোমাকে মানব-জাতির জন্য নিদর্শনস্বরূপ করব। আর (গাধার) অস্থিগুলির প্রতি লক্ষ্য কর, কিভাবে সেগুলিকে আমি সংযোজিত করি, অতঃপর গোশত দ্বারা ঢেকে দিই।’ সুতরাং যখন এটি তার নিকট সুস্পষ্ট হল, তখন সে বলে উঠল, ‘আমি জানি যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাশক্তিমান।’ [3]
তাফসীর:
[1] أَوْ كَالَّذِيْ এর সম্পর্ক হল পূর্বের ঘটনার সাথে। অর্থ হল, তুমি কি (পূর্বের ঘটনার ন্যায়) সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখনি, যে এমন এক নগরে উপনীত হয়েছিল ---। এই লোকটি কে ছিল? এ ব্যাপারে বহু উক্তি বর্ণিত হয়েছে। আর উযায়রের নাম সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। কোন কোন সাহাবী ও তাবেয়ীর উক্তিও এ ব্যাপারে উদ্ধৃত হয়েছে। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। পূর্বের (ইবরাহীম (আঃ) ও নমরূদের) ঘটনা ছিল মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণে এবং এই দ্বিতীয় ঘটনা হল মহান আল্লাহর মৃতকে জীবিত করার মহাশক্তির প্রমাণে। যে সত্তা এই লোকটিকে এবং তার গাধাকে একশ’ বছর পর জীবিত করেছেন, এমন কি তার খাদ্য-পানিও নষ্ট হতে দেননি, সেই মহান সত্তাই কিয়ামতের দিন মানবকুলকে পুনরায় জীবিত করবেন। যিনি একশ’ বছর পর জীবিত করতে পারেন, তাঁর জন্য হাজার বছর পর জীবিত করাও কোন কষ্টকর ব্যাপার নয়।
[2] কথিত আছে যে, যখন উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছিল, তখন কিছুটা বেলা উঠে গিয়েছিল এবং যখন পুনরায় জীবিত হল, তখন সন্ধ্যা হতে কিছুটা বাকী ছিল। এ থেকে সে অনুমান করেছিল যে, আমি যদি গতকাল এসে থাকি, তাহলে এক দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে, আর যদি এটা আজকের ঘটনা হয়, তবে দিনের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়েছে। অথচ প্রকৃত ব্যাপার হল তার মৃত্যুর উপর একশ’ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে।
[3] অর্থাৎ, বিশ্বাস তো আমার আগেও ছিল। এখন প্রত্যক্ষ দর্শন করে আমার প্রত্যয় ও জ্ঞানে আরো দৃঢ়তা এসেছে এবং তা বর্ধিত হয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৫৯ নং আয়াতের তাফসীর:
(اَوْ کَالَّذِیْ) ‘অথবা ঐ ব্যক্তির মত’এর সম্পর্ক হল পূর্বের ঘটনার সাথে। অর্থ হল তুমি (পূর্ব ঘটনার ন্যায়) সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখেছ! যে এমন ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরের মধ্য দিয়ে গমন করেছিল যা বিধ্বস্ত করে দেয়া হয়েছিল, শহরের মানুষ মরে গিয়েছিল, ইমারতগুলো চুরমার করে দেয়া হয়েছিল। এ লোকটি সংশয় ও অসম্ভব মনে করে বলল: ‘এই নগর মৃত্যুর পর আল্লাহ কিভাবে জীবিত করবেন?’এটা অসম্ভব, কখনো জীবিত করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা‘আলা এ লোকটিকে তাঁর ক্ষমতা দেখানোর ইচ্ছা করলেন। গাধাসহ তাকে সেখানে মৃত্যু দিয়ে একশত বছর মৃত রাখলেন, তার সাথে রাখা খাবার-পানীয় নষ্ট করলেন না। একশত বছর পর জীবিত করে বললেন, ‘তুমি এ অবস্থায় কতদিন ছিলে?’লোকটি বলল: ‘একদিন অথবা একদিনের কিছু সময়।’সম্ভবত লোকটি যখন মারা গিয়েছিল তখন বেলা কিছুটা উঠে ছিল। আর যখন পুনরায় জীবিত হল তখন সূর্য অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি ছিল। তাই লোকটি ভাবছিল হয়তো দিনের মধ্যবর্তী সময়টুকু মৃতাবস্থায় ছিলাম। আল্লাহ তা‘আলা জানিয়ে দিলেন, তুমি একশত বছর মৃত ছিলে এবং আল্লাহ তা‘আলা নিদর্শনগুলো দেখিয়ে দিলেন। তখন তার বিশ্বাস হল যে, আল্লাহ তা‘আলা সব বিষয়ে ক্ষমতাবান, তিনি ইচ্ছা করলে হাজার বছর পরেও মৃতকে জীবিত করতে পারেন, মানুষ মরে পচে গলে গেলেও পুনঃজীবিত করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব নয়। এ লোকটি কে ছিল তা নিয়ে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে উযায়রের নাম বেশি প্রসিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।
পূর্বে ইবরাহীম (আঃ) ও নমরূদের ঘটনা ছিল মহান আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়্যাতের প্রমাণস্বরূপ। দ্বিতীয় এ ঘটনা হল আল্লাহ তা‘আলা মৃতকে জীবিত করার মালিক তার প্রমাণ। এটাও আল্লাহ তা‘আলার মহাশক্তি ও রুবুবিয়্যাহর ওপর প্রমাণ বহন করে।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলা মৃত্যুর পর সকলকে জীবিত করতে সক্ষম এবং নির্ধারিত সময়ে করবেন।
২. যারা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে তাদের এত্থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: উপরে হযরত ইবরাহীমের (আঃ) তর্কের যে ঘটনা বর্ণিত হয়েছে ওটার সাথে এর সংযোগ রয়েছে। এই অতিক্রমকারী হয় হযরত উযায়ের (আঃ) ছিলেন যেমন এটা প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে, না হয় তিনি ছিলেন আরমিয়া বিন খালকিয়া এবং এটা হযরত খিযর (আঃ)-এর নাম ছিল। কিংবা ঐ অতিক্রমকারী ছিলেন হযরত হিযকীল বিন বাওয়া (আঃ) অথবা তিনি বানী ইসরাঈলের মধ্যেকার এক ব্যক্তি ছিলেন। এই জনপদ ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস। এই উক্তিটিরই প্রসিদ্ধি রয়েছে। রাজা বখতে নাসর যখন ঐ জনবসতি ধ্বংস করে এবং জনগণকে তরবারির নীচে নিক্ষেপ করে তখন ঐ জনবসতি একেবারে শশানে পরিণত হয়। এরপর ঐ মহান ব্যক্তি সেখান দিয়ে গমন করেন। যখন তিনি দেখেন যে, জনপদটি একেবারে শশ্মান হয়ে গেছে, তথায় না আছে কোন বাড়ীঘর,না আছে কোন মানুষ! তথায় অবস্থানরত অবস্থায় তিনি চিন্তা করেন যে, এমন জাকজমকপূর্ণ শহর যেভাবে ধ্বংস হয়েছে এটা কি আর কোন দিন জনবসতি পূর্ণ হতে পারে! অতঃপর আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং তাঁকেই মৃত্যু দান করেন। ইনি তো ঐ অবস্থাতেই থাকেন। আর এদিকে সত্তর বছর পর বায়তুল মুকাদ্দাস পুনরায় জনবসতিপূর্ণ হয়। পলাতক বানী ইসরাঈল আবার ফিরে আসে এবং নিমেষের মধ্যে শহর ভরপুর হয়ে যায়। পূর্বের সেই শোভা ও জাকজমক পুনরায় পরিলক্ষিত হয়। এবারে একশো বছর পূর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ তাকে পূনর্জীবিত করেন এবং সর্বপ্রথম চক্ষুর মধ্যে অত্মাি প্রবেশ করে যেন তিনি নিজের পুনজীবন স্বচক্ষে দর্শন করতে পারেন। অতঃপর যখন ফু দিয়ে সারা দেহে আত্মা প্রবেশ করানো হয় তখন আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতার মাধ্যমে তাঁকে জিজ্ঞেস করেনঃ তুমি কত দিন ধরে মরেছিলে:' উত্তরে তিনি বলেনঃ ‘এখনও তো একদিন পুরোই হয়নি। এটা বলার কারণ ছিল এই যে, সকাল বেলায় তাঁর আত্মা বের হয়েছিল এবং একশো বছর পর যখন তিনি জীবিত হন তখন ছিল সন্ধ্যা। সুতরাং তিনি মনে করেন যে, ঐ দিনই রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে বলেনঃ তুমি পূর্ণ একশো বছর মৃত অবস্থায় ছিলে। এখন আমার ক্ষমতার প্রতি লক্ষ্য কর যে, পাথেয় হিসাবে যে খাদ্য তোমার নিকট ছিল তা একশো বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও ঐরূপই রয়েছে, পচেওনি এবং সামান্য বিকৃতও হয়নি। ঐ খাদ্য ছিল আঙ্গুর, ডুমুর এবং ফলের নির্যাস। ঐ নির্যাস নষ্ট হয়নি, ডুমুর টক হয়নি এবং আরও খারাপ হয়নি। বরং প্রত্যেক জিনিসই স্বীয় আসল অবস্থায় বিদ্যমান ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাকে বলেনঃ ‘তোমার গাধার যে গলিত অস্থি তোমার সামনে রয়েছে সে দিকে দৃষ্টিপাত কর। তোমার চোখের সামনেই আমি তোমার গাধাকে জীবিত করছি। আমি স্বয়ং তোমাকে মানব জাতির জন্যে নিদর্শন করতে চাই, যেন কিয়ামতের দিন পুনরুত্থানের প্রতি তাদের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে। অতঃপর তিনি দেখতে দেখতেই অস্থিগুলো স্ব-স্ব জায়গায় সংযুক্ত হয়ে যায়। মুসতাদরাক-ই-হাকিমে রয়েছে যে, নবী (সঃ)-এর পঠন (আরবি) এর সঙ্গেই রয়েছে এবং ওটাকে (আরবি) এর সঙ্গেও পড়া হয়েছে। অর্থাৎ 'আমি জীবিত করবো।' মুজাহিদের (রঃ) পঠনও এটাই। সুদ্দী (রঃ) প্রভৃতি বলেন যে, অস্থিগুলো ডানে বামে ছড়িয়ে ছিল এবং পচে যাওয়ার ফলে ওগুলোর শুভ্রতা চৰ্চ করছিল। বাতাসে ঐগুলো একত্রিত হয়ে যায়। পরে ওগুলো নিজ নিজ জায়গায় যুক্ত হয়ে যায় এবং পূর্ণ কাঠামো রূপে দাঁড়িয়ে যায় ।ওগুলোতে গোশত মোটেই ছিল না। আল্লাহ তা'আলা ওগুলোর উপর গোশত, শিরা ইত্যাদি পরিয়ে দেন। অতঃপর ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন। তিনি তাঁর নাসারন্ধ্রে ফুঁ দেন। আল্লাহ তা'আলার হুকুমে তৎক্ষণাৎ গাধাটি জীবিত হয়ে উঠে এবং শব্দ করতে থাকে। হযরত উয়ের (আঃ) দর্শন করতে থাকেন এবং মহান আল্লাহর এই সব কারিগরী তার চোখের সামনেই সংঘটিত হয়। এই সব কিছু দেখার পর তিনি বলেনঃ ‘আমার তো এটা বিশ্বাস ছিলই যে, আল্লাহ পাক সব কিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। কিন্তু আজ আমি তা স্বচক্ষে দর্শন করলাম। সুতরাং আমি আমার যুগের সমস্ত লোক অপেক্ষা বেশী জ্ঞান ও বিশ্বাসের অধিকারী। কেউ কেউ আ’লামু শব্দকে ই’লামও পড়েছেন। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তুমি জেনে রেখো যে, আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের উপরেই ক্ষমতাবান।'
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।