আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 200)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 200)



হরকত ছাড়া:

فإذا قضيتم مناسككم فاذكروا الله كذكركم آباءكم أو أشد ذكرا فمن الناس من يقول ربنا آتنا في الدنيا وما له في الآخرة من خلاق ﴿٢٠٠﴾




হরকত সহ:

فَاِذَا قَضَیْتُمْ مَّنَاسِکَکُمْ فَاذْکُرُوا اللّٰهَ کَذِکْرِکُمْ اٰبَآءَکُمْ اَوْ اَشَدَّ ذِکْرًا ؕ فَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنْیَا وَ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَۃِ مِنْ خَلَاقٍ ﴿۲۰۰﴾




উচ্চারণ: ফাইযা-কাদাইতুম মানা-ছিকাকুম ফাযকুরুল্লা-হা কাযিকরিকুম আ-বাআকুম আও আশাদ্দা যিকরান ফামিনান্না-ছি মাইঁ ইয়াকূলু রাব্বানাআ-তিনা-ফিদ্দুনইয়া-ওয়ামা-লাহু ফিল আ-খিরাতি মিন খালা-ক।




আল বায়ান: তারপর যখন তোমরা তোমাদের হজের কাজসমূহ শেষ করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যেভাবে তোমরা স্মরণ করতে তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে, এমনকি তার চেয়ে অধিক স্মরণ। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। বস্তুত আখিরাতে তার জন্য কোন অংশ নেই।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২০০. অতঃপর যখন তোমরা হজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহকে এভাবে স্মরণ করবে। যেভাবে তোমরা তোমাদের পিতৃ পুরুষদের স্মরণ করে থাক, অথবা তার চেয়েও অধিক(১)। মানুষের মধ্যে যারা বলে, “হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিন”। আখেরাতে তার জন্য কোনও অংশ নেই।




তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর মহান হাজ্জের করণীয় কার্যাবলী সমাপ্ত করবে, তখন আল্লাহর স্মরণে মশগুল হও, যেমন তোমরা নিজেদের বাপ-দাদাদের স্মরণে মশগুল থাক, বরং তার চেয়েও বেশি স্মরণ কর। লোকেদের কেউ কেউ বলে থাকে- হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ দুনিয়াতেই প্রদান কর, বস্তুতঃ সে আখেরাতে কিছুই পাবে না।




আহসানুল বায়ান: (২০০) অতঃপর যখন তোমরা (হজ্জের) যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করে নেবে, তখন (মিনায়) আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করবে, যেমন (জাহেলী যুগে) তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষগণকে স্মরণ করতে, অথবা তদপেক্ষা গভীরভাবে।[1] এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে পৃথিবীতে (সওয়াব) দান কর।’ বস্তুতঃ তাদের জন্য পরকালে কোন অংশ নেই।



মুজিবুর রহমান: অনন্তর যখন তোমরা তোমাদের (হাজ্জের) অনুষ্ঠানগুলি সম্পন্ন করে ফেল তখন যেরূপ তোমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে স্মরণ করতে তদ্রুপ আল্লাহকে স্মরণ কর, বরং তদপেক্ষা দৃঢ়তরভাবে স্মরণ কর; কিন্তু মানবমন্ডলীর মধ্যে কেহ কেহ এরূপ আছে যারা বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! আমাদেরকে ইহকালেই দান কর এবং তাদের জন্য আখিরাতে কোনই অংশ নেই।



ফযলুর রহমান: তোমরা যখন তোমাদের হজ্জের পালনীয় কর্তব্যসমূহ সম্পন্ন করবে তখন আল্লাহকে স্মরণ করবে যেমন তোমাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করতে অথবা তার চেয়েও বেশি করে। কিছু মানুষ আছে যারা বলে, “হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে (যা দেবার) এই দুনিয়াতেই দাও।” এরা পরকালে কিছুই পাবে না।



মুহিউদ্দিন খান: আর অতঃপর যখন হজ্জ্বের যাবতীয় অনুষ্ঠানক্রিয়াদি সমাপ্ত করে সারবে, তখন স্মরণ করবে আল্লাহকে, যেমন করে তোমরা স্মরণ করতে নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে; বরং তার চেয়েও বেশী স্মরণ করবে। তারপর অনেকে তো বলে যে পরওয়াদেগার! আমাদিগকে দুনিয়াতে দান কর। অথচ তার জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই।



জহুরুল হক: তারপর যখন তোমাদের পুণ্যানুষ্ঠান শেষ কর তখন আল্লাহ্‌র গুণগান করো, যেমন তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের জয়গান গাইতে, -- বরং তার চাইতেও বেশী গুণকীর্তন করো। কিন্তু মানুষের মাঝে এমনও লোক আছে যে বলে -- "আমাদের প্রভু! এই দুনিয়াতে আমাদের দাও।" অতএব আখেরাতে তাদের জন্য কোনো ভাগ থাকবে না।



Sahih International: And when you have completed your rites, remember Allah like your [previous] remembrance of your fathers or with [much] greater remembrance. And among the people is he who says, "Our Lord, give us in this world," and he will have in the Hereafter no share.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২০০. অতঃপর যখন তোমরা হজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহকে এভাবে স্মরণ করবে। যেভাবে তোমরা তোমাদের পিতৃ পুরুষদের স্মরণ করে থাক, অথবা তার চেয়েও অধিক(১)। মানুষের মধ্যে যারা বলে, “হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিন”। আখেরাতে তার জন্য কোনও অংশ নেই।


তাফসীর:

(১) আতা রহিমাহুল্লাহ বলেন, এর অর্থ হলো, শিশুরা যেমন পিতা মাতাকে সব সময় স্মরণ করে, তোমরাও হজ শেষ করার পর আল্লাহ তা'আলাকে তেমনি স্মরণ কর। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, জাহেলিয়াতে হজের সময় একত্রে বসে পরস্পরে বলাবলি করত যে, আমার পিতা একজন অতিথিপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সাধারণের ভালো কাজ করে দিতেন। তিনি মানুষের দিয়াত বা রক্তপণ আদায় করে দিতেন। তাই আল্লাহ তা'আলা এখানে আল্লাহর যিকরকে তাদের পিতৃপুরুষের স্মরণের সাথে তুলনা করে বেশী বেশী করে যিকর করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। [ইবনে কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২০০) অতঃপর যখন তোমরা (হজ্জের) যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করে নেবে, তখন (মিনায়) আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করবে, যেমন (জাহেলী যুগে) তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষগণকে স্মরণ করতে, অথবা তদপেক্ষা গভীরভাবে।[1] এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে পৃথিবীতে (সওয়াব) দান কর।’ বস্তুতঃ তাদের জন্য পরকালে কোন অংশ নেই।


তাফসীর:

[1] আরবের লোক হজ্জ সমাপ্ত করে মিনায় মেলা বসাতো এবং পূর্বপুরুষদের কৃতিত্ব স্মরণ করত। মুসলিমদেরকে বলা হচ্ছে যে, ১০ই যুলহজ্জ কাঁকর মেরে, মাথা নেড়া করে এবং কাবার তাওয়াফ ও স্বাফা-মারওয়ার সাঈ করে হজ্জ সমাপ্ত করে নেওয়ার পর তোমরা যে তিনদিন মিনায় অবস্থান করবে, সে দিনগুলিতে সেখানে খুব বেশী বেশী আল্লাহর যিকর কর। যেমন, জাহেলী যুগে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করতে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৯৯ থেকে ২০২ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা জাহিলী যুগের একটি কু-প্রথার মূলোৎপাটন করেছেন। তিনি বলেন, তোমরা কুরাইশদের মত আরাফা না গিয়েই কেবল মুযদালিফা থেকে ফিরে এসো না বরং লোকেরা যেখান থেকে ফিরে, তোমরা সেখান থেকেই অর্থাৎ আরাফা থেকে মুযদালিফায় ফিরে এসো। এ নির্দেশ দেয়ার কারণ হল- আরাফা হারামের বাইরে। তাই মক্কার কুরাইশরা আরাফা পর্যন্ত যেত না, বরং মুযদালিফা থেকেই ফিরে আসতো। তাই এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।



আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, কুরাইশগণ এবং যারা তাদের দীনের অনুসারী ছিল তারা (হজ্জের সময়) মুযদালিফাতে অবস্থান করত। কুরাইশগণ নিজেদেরকে ধর্মে অটল বলে দাবি করত। আর অন্য আরবগণ আরাফাতে অবস্থান করত। অতঃপর ইসলামের আগমন ঘটলে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরাফাতে আসার, সেখানে ওকুফের (অবস্থান করার) এবং এরপর সেখান থেকে ফেরার নির্দেশ দিলেন।



(أَفِيْضُوْا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ)



আয়াতটি আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কেই নাযিল করেছেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৫২০)



(ثُمَّ أَفِيْضُوْا)



“প্রত্যাবর্তন কর” এখানে ইফাযা বা প্রত্যাবর্তন বলতে মুযদালিফা হতে মিনার দিকে কংকর নিক্ষেপ করার জন্য প্রত্যাবর্তন করা। আর ‘মানুষেরা’দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইবরাহীম (আঃ)। (তাফসীর ইবনে কাসীর১/৫২৭)



এরপর আল্লাহ তা‘আলা হজ্জের সকল কাজ সম্পাদন করে মিনায় কংকর নিক্ষেপের সময় তাঁকে বেশি বেশি স্মরণ করার কথা বলেছেন।



(كَذِكْرِكُمْ اٰبَآءَكُمْ)



“যেভাবে তোমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে স্মরণ কর সেভাবে আল্লাহকে স্মরণ কর;” এক বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, শিশুরা যেমন সর্বদা আব্বা-আম্মা করে, সেরূপ বেশি বেশি আল্লাহ তা‘আলা-কে স্মরণ কর। আবার বলা হয়- আরবের লোকেরা হজ্জ সমাপ্ত করে মিনায় মেলা বসাতো এবং পূর্বপুরুষদের কৃতিত্ব স্মরণ করত। মুসলিমদেরকে বলা হয়েছে- ১০ই যুলহজ্জ কঙ্কর মেরে, মাথা মুণ্ডন করে এবং কাবা তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সাঈ করে হজ্জ সমাপ্ত করে নেয়ার পর তোমরা তিন দিন মিনায় অবস্থান করবে, সে দিনগুলোতে বেশি বেশি আল্লাহ তা‘আলার যিকির কর। যেমন জাহিলী যুগে তোমরা পূর্বপুরুষদের স্মরণ করতে।



(رَبَّنَآ اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا)



“হে আমাদের রব! আমাদেরকে ইহকালেই দান করুন” এখানে আল্লাহ তা‘আলা দু’শ্রেণির মানুষের সংবাদ দিচ্ছেন। এক শ্রেণী যারা কেবল দুনিয়া নিয়েই খুশি। তারা কেবল দুনিয়াই চায়, পরকালের প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপই করে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তাদের জন্য পরকালে কল্যাণের কোন অংশ নেই। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: কতক গ্রামবাসী মুযদালিফা অবস্থান করে বলত- হে আল্লাহ! এ বছর ভালভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করুন যেন ফসল ভাল হয় এবং ভাল সন্তান দান করুন ইত্যাদি। পক্ষান্তরে মু’মিনরা উভয় জগতের জন্য দু‘আ করত। তাই তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। এ প্রার্থনার মধ্যে ইহজগত ও পরজগতের সমুদয় মঙ্গল একত্রিত করা হয়েছে এবং সকল অমঙ্গল হতে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। আনাস (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)



(رَبَّنَآ اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ)



দু‘আটি বেশি বেশি পড়তেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৫২২) এটাই হল মু’মিনদের বৈশিষ্ট্য।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. হজ্জের সব বিধি-বিধান পালনে সবাই সমান।

২. মিনায় জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপের সময় বেশি পরিমাণে যিকির বা আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ করা কর্তব্য।

৩. মু’মিনগণ উভয় জগতের জন্যই দু‘আ করবে।



৪. (رَبَّنَآ اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً)



এর ফযীলত জানলাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২০০-২০২ নং আয়াতের তাফসীর

এখানে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন-“হজ্ব সমাপনের পর খুব বেশী করে আল্লাহকে স্মরণ কর। প্রথম বাক্যের একটি অর্থ তো এই বর্ণনা করা হয়েছে যে, শিশু যেমন তার পিতা-মাতাকে স্মরণ করে ঐরূপ তোমরাও আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ কর। দ্বিতীয় অর্থ এই যে, অজ্ঞতার যুগের লোকেরা হজ্বের সময় অবস্থানের স্থানে অবস্থান করতো। অতঃপর কেউ বলতো‘আমার পিতা একজন বড় অতিথি সেবক ছিলেন। তিনি সাধারণের কাজ করে দিতেন। তিনি দানশীলতা ও বীরত্বে অদ্বিতীয় ছিলেন ইত্যাদি। কাজেই আল্লাহ তা'আলা বলেন, ‘এই সব বাজে কথা পরিত্যাগ কর এবং আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠত্ব সম্মান ও মর্যাদার কথা বর্ণনা কর। অধিকাংশ মুফাসির এটাই বর্ণনা করেছেন। মোটকথা এই যে, তোমরা খুব বেশী আল্লাহর যিক্র কর। এজন্যেই (আরবি) বা প্রভেদের উপর ভিত্তি করে (আরবি) এর উপর যবর দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ যেভাবে তোমরা তোমাদের বড়দের জন্যে গৌরববোধ করে থাকো সেইভাবেই আল্লাহকে স্মরণ কর। (আরবি) দ্বারা এখানে, (আরবি)-এর সাদৃশ্য নিরূপণ করা হয়েছে। যেমন (আরবি) এবং এর মধ্যে -এর সাদৃশ্য প্রকাশের জন্যে (আরবি) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এই সমুদয় স্থানে শব্দটি (আরবি) কখনই সন্দেহের জন্যে নয়, বরং যার সংবাদ দেয়া হয়েছে তারই বিশ্লেষণের জন্যে। অর্থাৎ ঐ যিকর এতটাই হবে বা তার চেয়েও বেশী হবে।

অতঃপর ইরশাদ হচ্ছে-‘আল্লাহর যিক্র খুব বেশী করতঃ প্রার্থনা করতে থাক। কেননা, এটা হচ্ছে প্রার্থনা কবুলের সময়। সাথে সাথে ঐ সব লোকের অমঙ্গল কামনা করা হচ্ছে যারা আল্লাহর নিকট শুধু দুনিয়া লাভের জন্যেই প্রার্থনা জানিয়ে থাকে এবং আখেরাতের দিকে ভ্রুক্ষেপই করে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তাদের জন্যে পরকালে কোনই অংশ নেই। হযরত আব্বাসের (রাঃ) বর্ণনা রয়েছে যে, কতকগুলো পল্লীবাসী এখানে অবস্থান করে শুধুমাত্র এই প্রার্থনা করতে, হে আল্লাহ! এই বছর ভালভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করুন যেন ফসল ভাল জন্মে এবং বহু সন্তান দান করুন ইত্যাদি। কিন্তু মু'মিনদের প্রার্থনা উভয় জগতের মঙ্গলের জন্যেই হতো। এজন্যেই তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। এই প্রার্থনার মধ্যে ইহজগত ও পরজগতের সমুদয় মঙ্গল একত্রিত করা হয়েছে এবং সমস্ত অমঙ্গল হতে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। কেননা, দুনিয়ার মঙ্গলের মধ্যে নিরাপত্তা, শান্তি, সুস্থতা, পরিবার পরিজন, খাদ্য, শিক্ষা, যানবাহন, দাস-দাসী, চাকর-চাকরানী এবং সম্মান ইত্যাদি সব কিছুই এসে গেল। আর আখেরাতের মঙ্গলের মধ্যে হিসাব সহজ হওয়া, ভয় সন্ত্রাস হতে মুক্তি পাওয়া, আমলনামা ডান হাতে পাওয়া এবং সম্মানের সাথে বেহেস্তে প্রবেশ করা ইত্যাদি সব কিছুই এসে গেল। এর পরে দোযখের শাস্তি হতে মুক্তি চাওয়া। এর ভাবার্থ এই যে, এরূপ কারণসমূহ আল্লাহ তা'আলা প্রস্তুত করে দেবেন। যেমন যারা অবৈধ কাজ করে থাকে তা থেকে তারা বিরত থাকবে এবং পাপ কার্য পরিত্যাগ করবে ইত্যাদি। কাসিম (রঃ) বলেন যে, যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী অন্তর, যিক্রকারী জিহ্বা এবং ধৈর্যধারণকারী দেহ লাভ করেছে সে দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল পেয়ে গেছে এবং দোযখের শাস্তি হতে মুক্তি লাভ করেছে।

সহীহ বুখারীর মধ্যে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই দু'আটিকে খুব বেশী পড়তেন। এই হাদীসে (আরবি) শব্দের পূর্বে (আরবি) শব্দটিও রয়েছে। হযরত কাতাদাহ (রঃ) হযরত আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কোন দু'আটি খুব বেশী পড়তেন: উত্তরে তিনি এই দু'আটির কথাই বলেন (তাফসীর-ইআহমাদ) হযরত আনাস (রাঃ) নিজেও যখন কোন দু'আ করতেন তখন তিনি এই দু'আটি ছাড়তেন না। হযরত সাবিত (রাঃ) একদা বলেন, “জনাব! আপনার এই ভাইটি চায় যে, আপনারা তার জন্যে দু'আ করেন। তখন তিনি এই দু'আটি পড়েন। অতঃপর কিছুক্ষণ বসে আলাপ আলোচনার পর তিনি চলে যাবার সময় আবার দু'আর প্রার্থনা জানালে তিনি বলেন, তুমি কি খণ্ড করতে চাচ্ছ: এই দু'আর মধ্যে তো সমস্ত মঙ্গল এসে গেছে (মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিম)। রাসূলুল্লাহ (সঃ) একটি মুসলমান রুগ্ন ব্যক্তিকে পরিদর্শন করতে যান। তাকে তিনি দেখেন যে, একেবারে ক্ষীণ হয়ে গেছেন এবং শুধু মাত্র অস্থির কাঠামো অবশিষ্ট রয়েছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন প্রার্থনা জানাচ্ছিলে কি তিনি বলেন “হাঁ, আমি এই প্রার্থনা করছিলাম। হে আল্লাহ! আপনি পরকালে আমাকে যে শাস্তি দিতে চান সেই শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন ‘সুবহানাল্লাহ! কারও মধ্যে ঐ শাস্তি সহ্য করার ক্ষমতা আছে কি: তুমি।(আরবি) এই দু'আটি পড়নি কেন:' সুতরাং রুগ্ন ব্যক্তি তখন থেকে ঐ দু’আটিই পড়তে থাকেন এবং আল্লাহ তা'আলা তাঁকে আরোগ্য দান করেন (তাফসীর-ই-আহমাদ)। রুকনে বানী হামাজ এবং ‘রুকনে আওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই দু'আটি পড়তেন (সুনান-ই-ইবনে মাজাহ ইত্যাদি) কিন্তু এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। তিনি বলেন, 'যখন আমি রুকনের পার্শ্ব দিয়ে গমন করি তখন দেখি যে, তথায় ফেরেশতা রয়েছেন এবং ‘আমীন' বলছেন। তোমরা যখনই ওখান দিয়ে যাবে এই দু'আটি পড়বে (তাফসীর-ই-ইবনে-মিরদুওয়াই)

এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাসকে (রাঃ) জিজ্ঞেস করে, “আমি একটি যাত্রী দলের সেবার কার্যে এই পারিশ্রমিকের উপর নিযুক্ত হয়েছি যে, তারা আমাকে তাদের সোয়ারীর উপর উঠিয়ে নেবে এবং হজ্বের সময় তারা আমাকে হজ্ব করবার অবকাশ দেবে ও অন্যান্য দিনে আমি তাদের সেবার কার্যে নিয়োজিত থাকবে। তাহলে বলুন, এভাবে আমার হজ্ব আদায় হবে কি: তিনি উত্তরে বলেনঃ হ্যাঁ, বরং তুমি তো ঐ লোকদেরই অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্বন্ধে কুরআন মাজীদের মধ্যে। (আরবি) অর্থাৎ তারা যা অর্জন করেছে তাদের জন্যে তারই অংশ রয়েছে’-এই আয়াতটি ঘোষিত হয়েছে (মুস্তাদরিক-ই-হাকিম)।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।