সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 198)
হরকত ছাড়া:
ليس عليكم جناح أن تبتغوا فضلا من ربكم فإذا أفضتم من عرفات فاذكروا الله عند المشعر الحرام واذكروه كما هداكم وإن كنتم من قبله لمن الضالين ﴿١٩٨﴾
হরকত সহ:
لَیْسَ عَلَیْکُمْ جُنَاحٌ اَنْ تَبْتَغُوْا فَضْلًا مِّنْ رَّبِّکُمْ ؕ فَاِذَاۤ اَفَضْتُمْ مِّنْ عَرَفٰتٍ فَاذْکُرُوا اللّٰهَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ ۪ وَ اذْکُرُوْهُ کَمَا هَدٰىکُمْ ۚ وَ اِنْ کُنْتُمْ مِّنْ قَبْلِهٖ لَمِنَ الضَّآلِّیْنَ ﴿۱۹۸﴾
উচ্চারণ: লাইছা ‘আলাইকুম জুনা-হুন আন তাবতাগূ ফাদলাম মিররাব্বিকুম ফাইযাআফাদতুম মিন ‘আরাফা-তিন ফাযকুরুল্লা-হা ‘ইনদাল মাশ‘আরিল হারা-মি ওয়াযকুরুহু কা-মাহাদা-কুম ওয়া ইন কুনতুম মিন কাবলিহী লামিনাদ্দাল্লীন।
আল বায়ান: তোমাদের উপর কোন পাপ নেই যে, তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ অনুসন্ধান করবে। সুতরাং যখন তোমরা আরাফা থেকে বের হয়ে আসবে, তখন মাশআরে হারামের নিকট আল্লাহকে স্মরণ কর এবং তাকে স্মরণ কর যেভাবে তিনি তোমাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও তোমরা এর পূর্বে অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৯৮. তোমাদের রব-এর অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই(১)। সুতরাং যখন তোমরা আরাফাত(২) হতে ফিরে আসবে(৩) তখন মাশ'আরুল হারামের(৪) কাছে পৌছে আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন - ঠিক সেভাবে তাকে স্মরণ করবে। যদিও এর আগে(৫) তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমাদের প্রতি কোন গুনাহ নেই যদি তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ খোঁজ কর এবং যখন তোমরা আরাফাত হতে ফিরবে তখন মাশ‘আরুল হারামের নিকট আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং তাঁকে স্মরণ করবে যেরূপ তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, বস্তুতঃ তোমরা এর আগে ছিলে পথভ্রষ্টদের অন্তর্গত।
আহসানুল বায়ান: (১৯৮) (হজ্জের সময়) তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনায় (ব্যবসা-বাণিজ্যে) কোন দোষ নেই।[1] যখন তোমরা আরাফাত (প্রান্তর) হতে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন (মুযদালিফায়) মাশআরুল হারামের নিকটে পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ কর এবং তিনি যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ঠিক সেইভাবে তাঁকে স্মরণ কর; যদিও পূর্বে তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।[2]
মুজিবুর রহমান: তোমরা স্বীয় রবের অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করলে তাতে তোমাদের পক্ষে কোন অপরাধ নেই; অতঃপর যখন তোমরা আরাফাত হতে প্রত্যাবর্তিত হও তখন পবিত্র স্মৃতি-স্থানের নিকট আল্লাহকে স্মরণ কর; এবং তিনি তোমাদেরকে যেরূপ নির্দেশ দিয়েছেন তদ্রুপ তাঁকে স্মরণ কর; এবং নিশ্চয়ই তোমরা এর পূর্বে বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
ফযলুর রহমান: (হজ্জের সময়) তোমাদের প্রভুর দান অন্বেষণ করা (হালাল উপার্জন করতে চাওয়া) তোমাদের জন্য পাপ নয়। তোমরা যখন আরাফাত ত্যাগ করবে তখন আল-মাশ্‘আরুল হারামে (মুযদালিফায়) আল্লাহকে স্মরণ করবে। তিনি যেভাবে তোমাদেরকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবেই তাঁকে স্মরণ কর। এর আগে তো তোমরা আসলেই বিভ্রান্তির মধ্যে ছিলে।
মুহিউদ্দিন খান: তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষন করায় কোন পাপ নেই। অতঃপর যখন তওয়াফের জন্য ফিরে আসবে আরাফাত থেকে, তখন মাশ‘ আরে-হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ কর। আর তাঁকে স্মরণ কর তেমনি করে, যেমন তোমাদিগকে হেদায়েত করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে তোমরা ছিলে অজ্ঞ।
জহুরুল হক: তোমাদের উপরে কোনো অপরাধ হবে না যদি বা তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে দৌলত কামানোর চেষ্টা করো। তারপর তোমরা যখন আরাফাত থেকে জোট বেধে ফিঁরবে তখন মাশ'আরিল-হারাম এর নিকটে আল্লাহ্কে স্মরণ করো; আর তাঁকে স্মরণ করো যেমন তিনি তোমাদের পথনির্দেশ দিয়েছেন, যদিও এর আগে নিঃসন্দেহ তোমরা ছিলে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত।
Sahih International: There is no blame upon you for seeking bounty from your Lord [during Hajj]. But when you depart from 'Arafat, remember Allah at al- Mash'ar al-Haram. And remember Him, as He has guided you, for indeed, you were before that among those astray.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৯৮. তোমাদের রব-এর অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই(১)। সুতরাং যখন তোমরা আরাফাত(২) হতে ফিরে আসবে(৩) তখন মাশ’আরুল হারামের(৪) কাছে পৌছে আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন - ঠিক সেভাবে তাকে স্মরণ করবে। যদিও এর আগে(৫) তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
তাফসীর:
(১) বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, জাহেলিয়াতের যুগে ওকায, মাজান্নাহ ও যুল মাজায নামে তিনটি বাজার ছিল। ইসলাম গ্রহণের পর হজের সময় সাহাবীরা সেই বাজারগুলোতে ব্যবসা করা গুনাহ বলে মনে করতে থাকলে আল্লাহ তা'আলা উক্ত আয়াত নাযিল করেন। অর্থাৎ হজের মৌসুমে সেসব স্থানগুলোতে ব্যবসা করা কোনো দোষের কাজ নয়। [বুখারী: ১৭৭০, ২০৯৮]
(২) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা জিবরীলকে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কাছে প্রেরণ করে তাকে হজ করান। তারা আরাফাতে পৌঁছলে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন, عَرَفْتُ বা আমি চিনতে পেরেছি। কারণ, জিবরীল আলাইহিস সালাম ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে এর পূর্বেই সেখানে একবার নিয়ে এসেছিলেন। আর সে জন্যই সেটার নাম হয় আরাফাত। [ইবনে কাসীর]
(৩) আদুর রহমান ইবনে ইয়ামুর আদ-দীলী বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, হজ হচ্ছে আরাফাত। তিনি এ কথা তিনবার বললেন। তারপর বললেন, যে ব্যক্তি সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পূর্বেই আরাফায় আসতে সক্ষম হবে সে হজ পেল। আর মিনা হচ্ছে তিন দিন। সুতরাং যদি কেউ দুইদিনে তাড়াতাড়ি করলো তার কোন পাপ নেই এবং যে ব্যক্তি বিলম্ব করলো তারও কোনো পাপ নেই। [আবু দাউদ: ১৯৪৯, তিরমিযী: ৮৮৯, ইবনে মাজাহ: ৩০১৫, মুসনাদে আহমাদ: ৪/৩০৯, ৩১০]
(৪) এখানে মাশ'আরুল হারাম বলে মুযদালিফা বোঝানো হয়েছে। কারণ, এ অংশ হারাম এলাকার ভিতরে। [ইবনে কাসীর]
(৫) এখানে ‘এর আগে’ বলে হেদায়াত আসার পূর্বে বা কুরআনের পূর্বে অথবা রাসূল আসার পূর্বে এ তিনটি অর্থই হতে পারে। অর্থগুলো পরস্পর কাছাকাছি। [ইবনে কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৯৮) (হজ্জের সময়) তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনায় (ব্যবসা-বাণিজ্যে) কোন দোষ নেই।[1] যখন তোমরা আরাফাত (প্রান্তর) হতে প্রত্যাবর্তন করবে, তখন (মুযদালিফায়) মাশআরুল হারামের নিকটে পৌঁছে আল্লাহকে স্মরণ কর এবং তিনি যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ঠিক সেইভাবে তাঁকে স্মরণ কর; যদিও পূর্বে তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।[2]
তাফসীর:
[1] فَضل (অনুগ্রহ)এর অর্থ ব্যবসা-বাণিজ্য। অর্থাৎ, হজ্জের সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য করাতে কোন দোষ নেই। (অবশ্য আসল উদ্দেশ্য হজ্জই হতে হবে; ব্যবসা যেন আসল উদ্দেশ্য না হয়; তাহলে হজ্জ হবে না।)
[2] ৯ই যুলহজ্জ সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা হজ্জের সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ রুকন (অঙ্গ)। এ সম্পর্কে হাদীসে বলা হয়েছে যে, আরাফায় অবস্থানই হল হজ্জ। এখানে মাগরিবের নামায পড়া হবে না, বরং মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিবের তিন রাকআত এবং এশার দু’ রাকআত (কসর করে) এক সাথে জমা করে একবার আযান ও দু’বার ইক্বামত দিয়ে পড়তে হবে। মুযদালিফাকেই ‘মাশআরে হারাম’ বলা হয়। কেননা, এটা হারামেরই অন্তর্ভুক্ত। এখানে হাজীদেরকে আল্লাহর যিকরের প্রতি যত্ন নিতে বলা হয়েছে। এখানে রাত্রিবাস করতে হয়। ফজরের নামায ‘গালাস’ (অন্ধকারে) অর্থাৎ, প্রথম অক্তে পড়ে সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকরে ব্যস্ত থাকতে হয় এবং সূর্যোদয়ের পর মিনা অভিমুখে যাত্রা করতে হয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৯৮ নং আয়াতের তাফসীর:
শানে নুযূল:
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে উকায, মুজিন্না এবং যুল-মাজায নামে বাজার ছিল। (ইসলাম গ্রহণের পর হজ্জের সময়) এসব বাজারে ব্যবসা করা সাহাবীগণ পাপের কাজ মনে করল। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তারা জিজ্ঞাসা করল। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী হা: ৪৫১৯)
এছাড়াও এ আয়াতের কয়েকটি শানে নুযূল পাওয়া যায়। এটি সবচয়ে বেশি সহীহ। (তাফসীর ইবনে কাসীর ১ম খণ্ড, পৃঃ ৫২০)
আয়াতে فضل ‘অনুগ্রহ’অর্থ ব্যবসায় বাণিজ্য। যেমন সূরা জুমু‘আর ১০ নং আয়াতে এসেছে। হজ্জের মওসুমে ব্যবসা-বাণিজ্য করা বৈধ। তবে অবশ্যই যেন শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যে হজ্জে গমন করা না হয়। বরং এটা হল অতিরিক্ত কাজ। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা হজ্জের অন্যতম একটি রুকনের কথা তুলে ধরেছেন। তা হল ৯ই যুলহজ্জ সূর্যাস্তের পর হাজীগণ আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করে মুযদালিফায় চলে আসবে এবং তথায় তাসবীহ তাহলীল ও দু‘আ করবে।
এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আরাফায় অবস্থানই হল মূল হজ্জ। যে ব্যক্তি ফজর হবার পূর্বেই আরাফায় অবস্থান পেল সে হজ্জ পেল। (সহীহ ইবুন খুযাইমা হা: ২৮২২, তিরমিযী হা: ৮৮৯, সহীহ) আরাফার ময়দানে সূর্যাস্ত হবে কিন্তু মাগরিবের সালাত পড়া যাবে না, বরং মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিবের তিন রাকাত ও এশার দু‘ রাকাত (কসর) এক সাথে এক আযানে ও দু’ইকামাতে পড়বে। মুযদালিফাকে ‘মাশআরে হারাম’বলা হয়। কেননা এটা হারামের অন্তর্ভুক্ত। এখানে হাজীদেরকে আল্লাহ তা‘আলার যিকিরের প্রতি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। ফজরের সালাত অন্ধকার থাকতেই অর্থাৎ প্রথম ওয়াক্তে আদায় করে যিকিরে ব্যস্ত থাকবে, অতঃপর ফর্সা হলে সূর্যোদয়ের পূর্বে মিনা অভিমুখে যাত্রা করবে।
হাজীগণ আরাফার দিন রোযা রাখবে না, যারা হজ্জ করতে যাবে না তারা রোযা রাখবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আরাফার দিন রোযা রাখলে আল্লাহ তা‘আলা পূর্বের ও পরের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। (সহীহ মুসলিম হা: ১১৬২) অন্য হাদীসে এসেছে: সর্বোত্তম দু‘আ আরাফার দু‘আ, আর সর্বোত্তম কথা আমি যা বলেছি ও আমার পূর্বের নাবীরা যা বলেছেন:
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰي كُلِّ شَئءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য রাজত্ব, তাঁর জন্য সকল প্রশংসা এবং তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। (সহীহ মুসলিম হা: ১১৬২)
অতএব আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ কর যেমন তিনি তোমাদের স্মরণ করতে বলেছেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মুযদালিফায় অবস্থান/রাত্রিযাপন ওয়াজিব।
২. হজ্জ আদায়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতের প্রতি খেয়াল রাখা আবশ্যক।
৩. আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য ও যিকিরের মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
৪. হজ্জ করতে গিয়ে ব্যবসা করা বৈধ তবে শুধু ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যেই যাওয়া যাবেনা।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: সহীহ বুখারী শরীফের মধ্যে এই আয়াতের তাফসীরে হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, অজ্ঞতার যুগে উকায, মুজিন্না এবং যুলমাজাহ্ নামে বাজার ছিল। ইসলাম গ্রহণের পর হজ্বের সময় সাহাবীগণ (রাঃ) ঐ বাজারগুলোতে ব্যবসা করার ব্যাপারে পাপ হয়ে যাবার ভয় করেন। ফলে তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয় যে, হজ্বের মৌসুমে ব্যবসা করলে কোন পাপ নেই। একটি বর্ণনায় এও রয়েছে যে, এই বিষয়টি সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এতে বলা হয় যে, হজ্বের সময় ইহরামের পূর্বে অথবা ইহরামের পর হাজীদের জন্যে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ। ইবনে আব্বাসের (রাঃ) কিরআতে (আরবি)-এর পর (আরবি)
কথাটিও রয়েছে। হযরত ইবেন যুবাইর (রাঃ) হতেও এটা বর্ণিত আছে। অন্যান্য মুফাসিরগণও এর তাফসীর এরকমই করেছেন। হযরত ইবনে উমার (রাঃ) জিজ্ঞাসিত হন যে, একটি লোক হজ্ব করতে যাচ্ছে এবং সাথে সাথে ব্যবসাও করছে তার ব্যাপারে নির্দেশ কি: তখন তিনি এই আয়াতটি পাঠ করে শুনান। (তাফসীর-ই-ইবনে জারীর)।
মুসনাদ-ই-আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে যে, আবু উমামা তায়মী (রঃ), হযরত ইবনে উমার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, হজ্বে আমরা জন্তু ভাড়ার উপর দিয়ে থাকি, আমাদেরও হজ্ব হয়ে যাবে কি: তিনি উত্তরে বলেন, “তোমরা কি বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ কর না:' তোমরা কি আরাফায় অবস্থান কর না: শয়তানকে কি তোমরা পাথর মার না: তোমরা কি মস্তক মুণ্ডন কর না:' তিনি বলেন, “এইসব কাজতো আমরা করি। তখন হযরত ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, তাহলে জেনে রেখো যে, একটি লোক এই প্রশ্নই নবী (সঃ)-কেও করেছিল এবং ওরই উত্তরে হযরত জিব্রাঈল (আঃ) (আরবি) এই আয়াতটি নিয়ে অবতরণ করেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন লোকটিকে ডাক দিয়ে বলেন, “তুমি হাজী। তোমার হজু হয়ে গেছে। মুসনাদ-ই-আবদুর রাজ্জাকের মধ্যেও এই বর্ণনাটি রয়েছে। তাফসীর’ আব্দ বিন হামীদ’ এর মধ্যে এটা আছে। কোন কোন বর্ণনায় শব্দেরও কিছু কম বেশী রয়েছে।
একটি বর্ণনায় এও রয়েছে যে, তোমরা কি ইহরাম বাঁধ না:' আমীরুল মু'মিনীন হযরত উমার ফারূক (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনারা কি হজ্বের দিনেও ব্যবসা করতেন: তিনি উত্তর দেন, ব্যবসায়ের মৌসুমই বা আর কোনটা ছিল:' (আরবি) শব্দটিকে (আরবি) পড়া হয়েছে অথচ (আরবি) হওয়ার দুটি ওর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। অর্থাৎ (আরবি) এবং (আরবি) কেননা, প্রকৃতপক্ষে এটা বহুবচন। যেমন- (আরবি) ও(আরবি) শব্দদ্বয়। এটা বিশেষ এক জায়গার নাম রাখা হয়েছে। এজন্যে মূলের প্রতি লক্ষ্য রেখেও (আরবি) পড়া হয়েছে।
(আরবি) ঐ জায়গার নাম যেখানে অবস্থান করা হজ্বের একটি কাজ। মুসনাদ-ই-আহমাদ ইত্যাদি গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, হযরত আবদুর রহমান বিন মুআম্মারুদ্দায়লী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছি, হজ্ব হচ্ছে আরাফায়।' একথা তিনি তিন বার বলেন। অতঃপর বলেন, “যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বেই আরাফায় পৌছে গেল সে হজ্ব পেয়ে গেল। আর মিনা’র হচ্ছে তিন দিন। যে ব্যক্তি দু’দিনে তাড়াতাড়ি করলো তারও কোন পাপ নেই এবং যে বিলম্ব করলো তারও কোন পাপ নেই। আরাফায় অবস্থানের সময় হচ্ছে নয়ই যিলহজ্ব তারিখে পশ্চিমে সূর্য হেলে যাওয়া থেকে নিয়ে দশই যিলহজ্ব তারিখের ফজর প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত। কেননা, নবী (সঃ) বিদায় হজ্জে যুহরের নামাযের পর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানে অবস্থান করেছিলেন এবং বলেছিলেন, “আমার নিকট হতে তোমরা তোমাদের হজ্বের নিয়মাবলী শিখে নাও।'
হযরত ইমাম মালিক (রঃ) ইমাম আবু হানীফা (রঃ) ইমাম শাফিঈর (রঃ) এটাই মাযহাব যে, দশ তারিখের ফজরের পূর্বে যে ব্যক্তি আরাফায় পৌছে গেল সে হজ্ব পেয়ে গেল। হযরত আহমাদ (রঃ) বলেন যে, ৯ই যিলহজ্ব তারিখের প্রথম থেকেই হচ্ছে আরাফায় অবস্থানের সময়। তার দলীল হচ্ছে ঐ হাদীসটি যার মধ্যে রয়েছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) মুযদালিফায় নামাযের জন্যে অগ্রসর হন তখন একজন লোক তার খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করেন, “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি তাই পাহাড় হতে আসছি। আমার আরোহণের পশুটি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ফলে আমি বড়ই বিপদে পড়ে যাই। আল্লাহর শপথ। আমি প্রত্যেক পাহাড়ের উপরেই থেমেছি, আমার হজ্ব হয়েছে কি:' তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি এখানে আমাদের এই নামাযে পৌছে যাবে এবং চলার সময় পর্যন্ত আমাদের সাথে অবস্থান করবে, আর এর পূর্বে সে আরাফাতেও অবস্থান করে থাকবে, রাতেই হোক বা দিনেই হোক, তবে তার হজ্ব পুরো হয়ে যাবে। ফরযিয়ত হতে সে অবকাশ লাভ করবে। (মুসনাদ-ই-আহমাদ ও সুনান-ই)। ইমাম তিরমিযী (রঃ) একে সঠিক বলেছেন।
আমীরুল মু'মিনীন হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবরাহীমের (আঃ) নিকট আল্লাহ তাআলা হযরত জিব্রাঈল (আঃ)-কে প্রেরণ করেন এবং তিনি তাকে হজ্ব করিয়ে দেন। আরাফাতে পৌছে তাকে জিজ্ঞেস করেন (আরবি) আপনি চিনতে পেরেছেন কি: হযরত ইবরাহীম (আঃ) বলেন, আরাফতু অর্থাৎ আমি নিচতে পেরেছি।' কেননা, এর পূর্বে আমি এখানে এসেছিলাম। এজন্যেই এ স্থানের নাম ‘আরাফা’ হয়ে গেছে। হযরত আতা (রঃ), হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত ইবনে উমার (রাঃ) এবং হযরত আবু মুজিলযির (রঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে। আরাফাতের নাম ‘মাশআরুল হারাম’, ‘মাশআরুল আকসা’ এবং ইলাল’ও বটে। ঐ পাহাড়কেও আরাফাত বলে যার মধ্য স্থলে 'জাবালুর রহমত’ রয়েছে।
আবু তালিবের একটি বিখ্যাত কাসীদার মধ্যে এই অর্থের কবিতা রয়েছে। অজ্ঞতা-যুগের অধিবাসীরাও আরাফায় অবস্থান করতো। যখন রোদ পর্বত চূড়ায় এরূপভাবে অবশিষ্ট থাকতো যেরূপভাবে মানুষের মাথায় পাগড়ী থাকে, তখন তারা তথা হতে চলে যেতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সঃ) সূর্যাস্তের পর সেখান হতে প্রস্থান করেন। অতঃপর তিনি মুযদালিফায় পৌছে তথায় শিবির স্থাপন করেন এবং প্রত্যুষে অন্ধকার থাকতেই একেবারে সময়ের প্রথমভাগে রাত্রির অন্ধকার ও দিবালোকের মিলিত সময়ে এখানে তিনি ফজরের নামায আদায় করেন। ফজরের সময়ের শেষ ভাগে তিনি এখান হতে যাত্রা করেন। হযরত মাসুর বিন মুখাররামা (রাঃ) বলেন, নবী (সঃ) আরাফায় আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দান করেন এবং অভ্যাস মত আল্লাহর প্রশংসা কীর্তনের পর (আরবী) বলে বলেনঃ ‘আজকের দিনই বড় হজ্ব। মুশরিক ও প্রতিমা পূজকেরা এখান হতে সূর্য অস্তমিত হবার পূর্বেই প্রস্থান করতো, যে সময় মানুষের মাথায় পাগড়ী থাকার ন্যায় পর্বত শিখরে রৌদ্র অবশিষ্ট থাকতো। কিন্তু আমরা সূর্যাস্তের পর এখান হতে বিদায় গ্রহণ করবো।'
মাশআরে হারাম’ হতে তারা সূর্যোদয়ের পর রওয়ানা দিতো। তখন রোদ এতটুকু উপরে উঠতো যে,ঐ রোদ পর্বতের চূড়ায় এমনই প্রকাশ পেতো যেমন মানুষের মাথায় পাগড়ী প্রকাশ পায়। কিন্তু আমরা সুর্যোদয়ের পূর্বেই সেখান হতে যাত্রা করবো। আমাদের পদ্ধতি মুশরিকদের পদ্ধতির উল্টো। (তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই ও তাফসীর-ই-মুস্তাদরিক-ই-হাকিম)। ইমাম হাকিম (রঃ) এটাকে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের (রঃ) শর্তের উপর সঠিক বলেছেন। এর দ্বারা এও সাব্যস্ত হলো যে, হযরত মাসূর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে এটা শুনেছেন। এ লোকদের কথা ঠিন নয় যারা বলেন যে, হযরত মাসূর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে দেখেছেন; কিন্তু তাঁর নিকট হতে কিছুই শুনেননি। হযরত মারুর বিন সাভীদ (রঃ) বলেন-“আমি হযরত উমার (রাঃ)-কে আরাফাত হতে ফিরতে দেখেছি। ঐ দৃশ্য যেন আজও আমার চোখের সামনে ভাসছে। তার মাথার অগ্রভাগে চুল ছিল না। তিনি স্বীয় উষ্ট্রের উপর আসীন ছিলেন এবং মুখে উচ্চারণ করেছিলেন, 'আমার প্রত্যাবর্তনকে সম্পূর্ণরূপে উজ্জ্বল পেয়েছি।'
সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত একটি সুদীর্ঘ হাদীসে বিদায় হজ্বের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এতে এও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করেন। যখন সূর্য লুপ্ত হয় এবং কিঞ্চিৎ হলদে বর্ণ প্রকাশ পায় তখন তিনি নিজের সওয়ারীর উপর হযরত উসামা বিন জায়েদ (রাঃ)-কে পিছনে বসিয়ে নেন। অতঃপর তিনি ঊন্ত্রীর লাগাম টেনে ধরেন, ফলে উন্থর মাথা গদির নিকটে পৌছে যায়। ডান হাতের ইশারায় তিনি জনগণকে বলতে বলতে যানঃ “হে জনমণ্ডলী! তোমরা ধীরে-সুস্থে ও আরামআয়েশের সাথে চল। যখনই তিনি কোন পাহাড়ের সম্মুখীন হন তখন তিনি লাগাম কিছুটা ঢিল দেন যাতে পশুটি সহজে উপরে উঠতে পারে। মুযদালিফায় পৌছে তিনি এক আযান ও দুই ইকামতের মাধ্যমে মাগরিব ও ইশার নামায আদায় করেন। মাগরিব ও ইশার ফরয নামাজের মধ্যবর্তী সময় কোন সুন্নাত ও নফল নামায পড়েননি। অতঃপর শুয়ে পড়েন। সুবহে সাদিক প্রকাশিত হওয়ার পর আযান ও ইকামতের মাধ্যমে ফজরের নামায আদায় করেন। তারপর ‘কাসওয়া’ নামক উষ্ট্ৰীতে আরোহণ করে ‘মাশআরে হারামে আসেন এবং কিবলামুখী হয়ে প্রার্থনায় লিপ্ত হয়ে পড়েন। আল্লাহু আকবার ও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করতঃ আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও একত্ব বর্ণনা করতে থাকেন। তারপর তিনি খুবই সকালে ঘুমিয়ে পড়েন। সূর্যোদয়ের পূর্বেই তিনি এখান হতে রওয়ানা হয়ে যান। হযরত উসামা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হয়ঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) এখান হতে যাওয়ার সময় কেমন তালে চলেন: তিনি উত্তরে বলেনঃ মধ্যম গতিতে তিনি সওয়ারী চালনা করেন। তবে রাস্তা প্রশস্ত দেখলে কিছু দ্রুত গতিতেও চালাতেন। (সহীহ বুখারীও সহীহ মুসলিম)।
অতঃপর বলা হচ্ছে-“আরাফা' হতে প্রত্যাবর্তিত হয়ে মাশআরে হারামে আল্লাহকে স্মরণ কর।' অর্থাৎ এখানে দুই নামাযকে একত্রিত কর। হযরত আমর বিন মায়মুন (রঃ) হযরত আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ)-কে মাশআরে হারাম’ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি নীরব থাকেন। যাত্রীদল মুযদালিফায় অবতরণ করলে তিনি বলেনঃ ‘প্রশ্নকারী কোথায়: এটাই হচ্ছে মাশআরে হারাম।' তিনি এটাও বর্ণনা করেন যে, মুযদালিফার প্রত্যেকটি জায়গাই হচ্ছে ‘মাশআরে হারাম'। তিনি জনগণকে দেখতে পান যে, তারা কাযাহ’ নামক স্থানে ভীড় করছে। তখন তিনি বলেনঃ “এই লোকগুলো এখানে ভীড় করছে কেন: এখানকার সব জায়গাইতো মাশআরুল হারাম।` আরও বহু তাফসীরকারক এটাই বলেছেন যে, দুই পর্বতের মধ্যবর্তী প্রত্যেক স্থানই মাশআরুল হারাম। হযরত আতা (রঃ) জিজ্ঞাসিত হনঃ মুযদালিফা কোথায়: উত্তরে তিনি বলেনঃ “আরাফা হতে রওয়ানা হয়ে আরাফা প্রান্তরের দুই প্রান্ত ছেড়ে গেলেই মুযদালিফা আরম্ভ হয়ে যায়। মুহাস্সার' নামক উপত্যকা পর্যন্ত এর শেষ সীমা। এর মধ্যে যেখানে ইচ্ছা সেখানেই অবস্থান করা যায়। তবে আমি কাযাহে’র উপর থেমে যাওয়াই পছন্দ করি যাতে পথের সাথে সংযোগ স্থাপিত হয়।(আরবি) বলা হয় বাহ্যিক চিহ্নগুলোকে। মুযদালিফা হারামের অন্তর্ভুক্ত বলে তাকে মাশআরে হারাম' বলা হয়।
পূর্ববর্তী সাধু পুরুষদের একটি দলের এবং ইমাম শাফিঈর (রঃ) কোন কোন সহচর যেমন কাফফাল ও ইবনে খুযাইমার ধারণা এই যে,এখানে অবস্থান করা হজ্বের একটি রুকন বিশেষ। এখানে থামা ছাড়া হজ্ব শুদ্ধ হয় না। কেননা, হযরত উরওয়া বিন মাযরাস (রঃ) হতে এই অর্থেরই একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ এই অবস্থানকে ওয়াজিব বলেছেন। হযরত ইমাম শাফিঈর (রঃ) বর্ণনায় এও রয়েছে যে,যদি কেউ এখানে না থামে তবে একটি কুরবানী করতে হবে। তাঁর দ্বিতীয় উক্তি অনুসারে এটা মুস্তাহাব। সুতরাং না থামলেও কোন দোষ নেই। কাজেই এই তিনটি উক্তি হলো। এখানে এর আলেচিনা খুব লম্বা করা আমরা উচিত মনে করি না।
একটি মুরসাল হাদীসে রয়েছে যে,আরাফাতের সমস্ত প্রান্তরই অবস্থান স্থল। আরাফাত হতে উঠো এবং মুযদালিফার প্রত্যেক সীমাও থামার জায়গা। তবে মুহাস্সার উপত্যকাটি নয়। মুসনাদ-ই-আহমাদের এই হাদীসের মধ্যে এর পরে রয়েছে যে, মক্কা শরীফের সমস্ত গলিই কুরবানীর জায়গা এবং ‘আইয়্যামে তাশরীকের (১১,১২ ও ১৩ই যিলহজ্ব) সমস্ত দিনই হচ্ছে কুরবানীর দিন। কিন্তু এই হাদীসটিও মুনকাতা'। কেননা, সুলাইমান বিন মূসা রাশদাক যুবাইর বিন মুতইমকে (রাঃ) পায়নি।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ কর। কেননা, তিনি তোমাদেরকে সুপথ দেখিয়েছেন। হজ্বের আহকাম বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন এবং হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর এই সুন্নাতকে প্রকাশিত করেছেন। অথচ তোমরা এর পূর্বে বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। অর্থাৎ এই সুপথ প্রদর্শনের পূর্বে কিংবা এই কুরআন পাকের পূর্বে অথবা এই রাসূল (সঃ)-এর পূর্বে প্রকৃতপক্ষে এই তিনটারই পূর্বে দুনিয়া ভ্রান্তির মধ্যে ছিল।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।