আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 16)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 16)



হরকত ছাড়া:

أولئك الذين اشتروا الضلالة بالهدى فما ربحت تجارتهم وما كانوا مهتدين ﴿١٦﴾




হরকত সহ:

اُولٰٓئِکَ الَّذِیْنَ اشْتَرَوُا الضَّلٰلَۃَ بِالْهُدٰی ۪ فَمَا رَبِحَتْ تِّجَارَتُهُمْ وَ مَا کَانُوْا مُهْتَدِیْنَ ﴿۱۶﴾




উচ্চারণ: উলাইকাল্লাযীনাশ তারাউদ্দালা-লাতা বিলহুদা-ফামা-রাবিহাত্তিজা-রাতুহুম ওয়ামা কা-নূমুহতাদীন।




আল বায়ান: এরাই তারা, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে পথভ্রষ্টতা ক্রয় করেছে। কিন্তু তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৬. এরাই তারা, যারা হেদায়াতের বিনিময়ে ভ্ৰষ্টতা কিনেছে(১)। কাজেই তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি। আর তারা হেদায়াতপ্রাপ্তও নয়।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারাই হিদায়াতের বিনিময়ে গোমরাহী ক্রয় করেছে, কিন্তু তাতে তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি, আর তারা সৎপথপ্রাপ্তও নয়।




আহসানুল বায়ান: ১৬। এরাই সৎপথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ ক্রয় করেছে। সুতরাং তাদের ব্যবসা(1) লাভজনক হয়নি, তারা সৎপথে পরিচালিতও নয়।



মুজিবুর রহমান: এরা তারাই যারা সু-পথের পরিবর্তে কু-পথকে ক্রয় করেছে, সুতরাং তাদের বাণিজ্য লাভজনক হয়নি এবং তারা সরল সঠিক পথে চলেনি।



ফযলুর রহমান: ওরা তো হেদায়েতের পরিবর্তে ভ্রষ্টতা ক্রয় করেছে। ফলে তাদের ব্যবসাও লাভজনক হয়নি এবং তারা হেদায়েতও পায়নি।



মুহিউদ্দিন খান: তারা সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করে। বস্তুতঃ তারা তাদের এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হেদায়েতও লাভ করতে পারেনি।



জহুরুল হক: এরাই তারা যারা পথনির্দেশের বদলে পথভ্রষ্টতার কেনাকাটা করে, তাই তাদের ব্যবসা মুনাফা আনে না, আর তারা সৎপথপ্রাপ্ত হয় না।



Sahih International: Those are the ones who have purchased error [in exchange] for guidance, so their transaction has brought no profit, nor were they guided.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৬. এরাই তারা, যারা হেদায়াতের বিনিময়ে ভ্ৰষ্টতা কিনেছে(১)। কাজেই তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি। আর তারা হেদায়াতপ্রাপ্তও নয়।


তাফসীর:

১. ইবনে আব্বাস ও ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্ৰষ্টতা কেনার অর্থ, হিদায়াত ত্যাগ করে ভ্রষ্টতা গ্রহণ করা। মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ, তারা ঈমান এনেছে তারপর কুফরী করেছে। কাতাদাহ বলেন, তারা হিদায়াতের উপর ভ্রষ্টতাকে পছন্দ করে নিয়েছে। এর সমর্থনে অন্য আয়াতে এসেছে, “আর সামূদ সম্প্রদায়, আমরা তাদেরকে পথনির্দেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা সৎপথের পরিবর্তে অন্ধপথে চলা পছন্দ করেছিল”। [সূরা ফুসসিলাত: ১৭] মোটকথা তারা হিদায়াত বিমুখ হয়ে ভ্রষ্টতাকে গ্রহণ করেছে। তাফসীরে [ইবনে কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ১৬। এরাই সৎপথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ ক্রয় করেছে। সুতরাং তাদের ব্যবসা(1) লাভজনক হয়নি, তারা সৎপথে পরিচালিতও নয়।


তাফসীর:

(1) ব্যবসা বলতে সৎপথ ছেড়ে ভ্রষ্টতার পথ গ্রহণ করাকে বুঝানো হয়েছে, যা আসলেই নোকসানমূলক কারবার। মুনাফিক্বরা মুনাফিক্বীর পোশাক পরে এই ক্ষতিকর ব্যবসা করেছে। তবে এ ক্ষতি হল আখেরাতের ক্ষতি। আর এটা কোন জরুরী নয় যে, এই ক্ষতির জ্ঞান তাদের দুনিয়াতে লাভ হবে, বরং দুনিয়াতে তো এই মুনাফিক্বীর কারণে তাদের যে নগদ লাভ হতো, তাতে তারা বড়ই আনন্দবোধ করতো এবং এরই ভিত্তিতে তারা নিজেদেরকে বড় বুদ্ধিমান মনে করতো আর মুসলিমদের ভাবতো অজ্ঞ-মুর্খ-বেঅকুফ!


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৬ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্বের আয়াতগুলোতে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করার পর এ আয়াতে তাদের কর্মের ফলাফল বর্ণনা করা হচ্ছে। তারা ইসলামকে কাছে থেকে দেখেছে এবং ইসলামের বিষয়গুলো ভালভাবে অনুধাবন করেছে আর কুফরীতে তো পূর্ব থেকেই লিপ্ত ছিল। অতঃপর ইসলাম ও কুফর উভয়কে দেখে-বুঝেও তাদের দুনিয়ার ঘৃণ্য উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ইসলামের পরিবর্তে কুফরকে গ্রহণ করেছে। তাদের এ কাজকে ব্যবসায়ের সাথে তুলনা করে জানানো হয়েছে যে, তাদের ব্যবসায়ের কোন যোগ্যতাই নেই। তারা উত্তম ও মূল্যবান বস্তু ‘ঈমানের’পরিবর্তে নিকৃষ্ট ও মূল্যহীন বস্তু ‘কুফর’ক্রয় করেছে। ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসউদ (রাঃ)-সহ কতক সাহাবী হতে বর্ণিত যে, তারা হিদায়াতকে ছেড়ে গোমরাহীকে গ্রহণ করেছে। অন্য বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: ঈমানের পরিবর্তে কুফরীকে গ্রহণ করেছে।



ইমাম ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন: ওপরে উল্লিখিত মুফাসসিরদের কথার সারাংশ হল মুনাফিকরা হিদায়াত থেকে সরে গোমরাহীর পথ বেছে নিয়েছে। এটিই হল আয়াতের প্রকৃত অর্থ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) এবং আরও কয়েকজন সাহাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তারা হিদায়াতকে ছেড়ে গুমরাহীকে গ্রহণ করেছিল। হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ “ঈমানের পরিবর্তে কুফরীকে গ্রহণ করেছিল।` মুজাহিদ (রঃ) বলেনঃ তারা ঈমান আনার পরে কাফির হয়েছিল।' কাতাদাহ (রঃ) বলেনঃ “তারা হিদায়াতের চাইতে গুমরাহীকেই অধিক পছন্দ করেছিল। যেমন অন্যস্থানে সামূদ সম্প্রদায় সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেনঃ “আমি সামূদ কাউমকে সুপথ দেখিয়েছিলাম, কিন্তু তারা সুপথের তুলনায় ভ্রান্ত পথকে পছন্দ করেছিল। ভাবার্থ এই যে, মুনাফিকরা হিদায়াত হতে সরে গিয়ে গুমরাহীর উপর এসে গেছে এবং হিদায়াতের পরিবর্তে গুমরাহীকেই গ্রহণ করেছে। এখন ঈমান এনে পুনরায় কাফির হয়েছে। হয়তো বা আসলেই ঈমান লাভের সৌভাগ্য হয়নি। মুনাফিকদের মধ্যে দুই প্রকারের লোক ছিল। যেমন কুরআন পাকে এসেছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ এটা এই হেতু যে, তারা ঈমান এনেছে, অতঃপর কাফির হয়েছে, অতএব তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে।' (৬৩:৩) আবার এমনও মুনাফিক ছিল যাদের ভাগ্যে ঈমান লাভই ঘটেনি। সুতরাং এরা এই সওদায় কোন উপকারও লাভ করেনি এবং পথও প্রাপ্ত হয়নি, বরং হিদায়াতের বাগান হতে বের হয়ে কাটার জঙ্গলে পড়ে গেছে। নিরাপত্তার প্রশস্ত মাঠ হতে বেরিয়ে ভীতিপ্রদ অন্ধকার ঘরে এবং সুন্নতের পবিত্র বাগান হতে বের হয়ে বিদ'আতের শুষ্ক জঙ্গলে এসে পড়েছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।