সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 146)
হরকত ছাড়া:
الذين آتيناهم الكتاب يعرفونه كما يعرفون أبناءهم وإن فريقا منهم ليكتمون الحق وهم يعلمون ﴿١٤٦﴾
হরকত সহ:
اَلَّذِیْنَ اٰتَیْنٰهُمُ الْکِتٰبَ یَعْرِفُوْنَهٗ کَمَا یَعْرِفُوْنَ اَبْنَآءَهُمْ ؕ وَ اِنَّ فَرِیْقًا مِّنْهُمْ لَیَکْتُمُوْنَ الْحَقَّ وَ هُمْ یَعْلَمُوْنَ ﴿۱۴۶﴾ؔ
উচ্চারণ: আল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ইয়া‘রিফূনাহূ কামা ইয়া‘রিফূনা আবনাূআহুম ওয়া ইন্না ফারীকাম মিনহুম লাইয়াকতুমূনাল হাক্কা ওয়াহুম ইয়া‘লামূন।
আল বায়ান: যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে চিনে, যেমন চিনে তাদের সন্তানদেরকে। আর নিশ্চয় তাদের মধ্য থেকে একটি দল সত্যকে অবশ্যই গোপন করে, অথচ তারা জানে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৪৬. আমরা যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তারা তাকে সেরূপ জানে যেরূপ তারা নিজেদের সন্তানদেরকে চিনে। আর নিশ্চয় তাদের একদল জেনে-বুঝে সত্য গোপন করে থাকে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে সে রকমই চিনে, যেমন চিনে নিজের পুত্রদেরকে, আর ওদের কতকলোক জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে থাকে।
আহসানুল বায়ান: (১৪৬) আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে (মুহাম্মাদকে) তেমনই চেনে, যেমন তাদের পুত্রগণকে চেনে; কিন্তু তাদের একদল জেনেশুনে সত্য গোপন করে থাকে। [1]
মুজিবুর রহমান: যাদেরকে আমি কিতাব প্রদান করেছি তারা তাকে এরূপভাবে চিনে, যেমন চিনে তারা আপন সন্তানদেরকে এবং নিশ্চয়ই তাদের এক দল জ্ঞাতসারে সত্যকে গোপন করছে।
ফযলুর রহমান: আমি যাদেরকে কিতাব (তাওরাত/ইনজীল) দিয়েছি তারা তাকে (রসূলকে) নিজেদের ছেলেদের মতই (খুব ভাল করে) চেনে। আসলে তাদের একটি দল জ্ঞাতসারেই সত্যকে গোপন করছে।
মুহিউদ্দিন খান: আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে, যেমন করে চেনে নিজেদের পুত্রদেরকে। আর নিশ্চয়ই তাদের একটি সম্প্রদায় জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।
জহুরুল হক: যাদের আমরা কিতাব দিয়েছি তারা তাঁকে চিনতে পারছে যেমন তারা চিনতে পারে তাদের সন্তানদের। কিন্তু তাদের মধ্যের একদল নিশ্চয়ই সত্য কথা গোপন করছে, আর তারা জানে।
Sahih International: Those to whom We gave the Scripture know him as they know their own sons. But indeed, a party of them conceal the truth while they know [it].
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৪৬. আমরা যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তারা তাকে সেরূপ জানে যেরূপ তারা নিজেদের সন্তানদেরকে চিনে। আর নিশ্চয় তাদের একদল জেনে-বুঝে সত্য গোপন করে থাকে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৪৬) আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে (মুহাম্মাদকে) তেমনই চেনে, যেমন তাদের পুত্রগণকে চেনে; কিন্তু তাদের একদল জেনেশুনে সত্য গোপন করে থাকে। [1]
তাফসীর:
[1] এখানে আহলে-কিতাবের একটি দলের সত্যকে গোপন করার অপরাধ সাব্যস্ত করা হচ্ছে। কারণ, তাদের মধ্যে একটি দল আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)-এর মত লোকেদেরও ছিল। যাঁরা স্বীয় সততা এবং অভ্যন্তরীণ নির্মলতার কারণে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হোন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৪৬ ও ১৪৭ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা বলছেন- আহলে কিতাবের একশ্রেণীর আলেম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা যে সত্য তেমনিভাবে জানত ও চিনত যেমন তারা তাদের সন্তানদেরকে চিনত। এর পরেও মানত না। এখানে সন্তানকে চেনার সাথে তুলনা করার কারণ হল, পিতা-মাতাই সন্তানকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চেনে।
উমার (রাঃ) বলেন: আবদুল্লাহ বিন সালামকে বললাম: তোমার সন্তানের মত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চেনো? তিনি বললেন: হ্যাঁ, বরং তার চেয়েও বেশি। (তাফসীর ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমতে এসে বলল: তাদের একজন পুরুষ ও একজন মহিলা ব্যভিচার করেছে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, প্রস্তর নিক্ষেপ করে হত্যা করা সম্পর্কে তাওরাতে কী বিধান পেয়েছো? তারা বলল: আমরা এদেরকে অপমানিত করব এবং বেত্রাঘাত করব। আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) বললেন: তোমরা মিথ্যা বলছো। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপের বিধান রয়েছে। তারা তাওরাত নিয়ে এসে বের করল এবং প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা সম্পর্কীয় আয়াতের ওপর হাত রেখে তার আগে ও পরের আয়াতগুলো পাঠ করল। আবদুল্লাহ বিন সালাম বললেন, তোমার হাত সরাও। সে হাত সরাল। তখন দেখা গেল প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করার আয়াত আছে। তখন ইয়াহূদীরা বলল: হে মুহাম্মাদ! তিনি সত্যই বলেছেন। (সহীহ বুখারী হা: ৩৬৩৫, মুসলিম হা: ১৩৯৯)
(اَلْحَقُّ مِنْ رَّبِّکَ)
‘সত্য তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে এসেছে’হে মুহাম্মাদ! যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি তা সত্য। অতএব তুমি এ বিষয়ে কোন সন্দেহে নিপতিত হয়ো না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৪৬-১৪৭ নং আয়াতের তাফসীর
ইরশাদ হচ্ছে যে, আহলে কিতাবের আলেমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ) কর্তৃক আনীত কথাগুলোর সত্যতা সম্বন্ধে এমনই জ্ঞাত রয়েছে যেমন জ্ঞাত রয়েছে পিতা ছেলেদের সম্বন্ধে। এটা একটা দৃষ্টান্ত ছিল যা আরবের লোকেরা পূর্ণ বিশ্বাসের সময় বলে থাকতো। একটি হাদীসে রয়েছে একটি লোকের সঙ্গে ছোট একটি শিশু ছিল। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “এটা কি তোমার ছেলে?” সে বলেঃ হাঁ’, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও সাক্ষী থাকুন। তিনি বলেনঃ “সেও তোমার উপর গোপন নেই এবং তুমিও তার উপর গোপন নও।'
কুরতুবী (রঃ) বলেন যে, হযরত উমার ফারূক (রাঃ) ইয়াহুদীদের একজন বিখ্যাত পণ্ডিত হযরত আবদুল্লাহ বিন সালামকে (রাঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ ‘আপনি কি হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-কে এমনই চিনেন, যেমন চিনেন আপনার সন্তানদেরকে?' তিনি উত্তরে বলেনঃ 'হাঁ', বরং তার চেয়েও বেশী চিনি। কেননা, আকাশের বিশ্বস্ত ফেরেশতা পৃথিবীর একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ হন এবং তিনি তার সঠিক পরিচয় বলে দিয়েছেন। অর্থাৎ হযরত জিবরাঈল (আঃ) হযরত ঈসার (আঃ) নিকট আগমন করেন, অতঃপর বিশ্বপ্রভু তাঁর গুণাবলী বর্ণনা করেন এবং ঐ সবগুলোই তার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। এর পরে তিনি যে সত্য নবী এতে আমাদের আর কি সন্দেহ থাকতে পারে। তাকে এক নজর দেখেই চিনতে পারবো না কেন? আমাদের বরং আমাদের ছেলেদের সম্বন্ধে সন্দেহ থাকতে পারে কিন্তু তাঁর নবুওয়াত সম্বন্ধে কোনই সন্দেহ থাকতে পারে না।
মোট কথা এই যে, যেমন একটি বিরাট জনসভায় কোন লোক তার ছেলেকে অতি সহজেই চিনে থাকে ঠিক তেমনই আহলে কিতাবও হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-কে তাঁর প্রতি দৃষ্টিপাত মাত্রই চিনে থাকে। কেননা তাদের কিতাবে নবী (সঃ) সম্বন্ধে যে গুণাবলী বর্ণিত আছে তা সবই তার মধ্যে হুবহু বিদ্যমান রয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, এই সত্য জানা সত্ত্বেও তারা ওটা গোপন করছে। তারপর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ) ও মুসলমানদেরকে সত্যের উপর অটল ও স্থির থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তাদেরকে সতর্ক করছেন যে, তারা যেন সত্যের ব্যাপারে মোটেই সন্দেহ পোষণ না করে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।