আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 138)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 138)



হরকত ছাড়া:

صبغة الله ومن أحسن من الله صبغة ونحن له عابدون ﴿١٣٨﴾




হরকত সহ:

صِبْغَۃَ اللّٰهِ ۚ وَ مَنْ اَحْسَنُ مِنَ اللّٰهِ صِبْغَۃً ۫ وَّ نَحْنُ لَهٗ عٰبِدُوْنَ ﴿۱۳۸﴾




উচ্চারণ: সিবগাতাল্লা-হি ওয়ামান আহছানুমিনাল্লা-হি সিবগাতাওঁ ওয়ানাহনুলাহু ‘আবিদূ ন।




আল বায়ান: (বল,) আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করলাম। আর রং এর দিক দিয়ে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক সুন্দর? আর আমরা তাঁরই ইবাদাতকারী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩৮. আল্লাহর রং এ রঞ্জিত হও(১)। আর রং এর দিক দিয়ে আল্লাহর চেয়ে কে বেশী সুন্দর? আর আমরা তারই ইবাদতকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: (আমাদের দ্বীন) আল্লাহর রঙে রঞ্জিত এবং আল্লাহর রঙ অপেক্ষা আর কার রঙ উত্তম হবে? এবং আমরা তাঁরই ‘ইবাদাতকারী।




আহসানুল বায়ান: ১৩৮। (আমরা গ্রহণ করলাম) আল্লাহর রঙ (আল্লাহর ধর্ম বা তাঁর প্রকৃতি)। রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর? [1] আর আমরা তাঁরই উপাসনাকারী।



মুজিবুর রহমান: আমরা আল্লাহরই রংয়ে রঞ্জিত, আল্লাহ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতম রঞ্জনকারী? এবং আমরা তাঁরই বান্দা।



ফযলুর রহমান: (বল, “আমরা) আল্লাহর রঙ (ধারণ করেছি); আর রঙে আল্লাহর চেয়ে সুন্দর কে আছে? [অর্থাৎ আমরা আল্লাহর দ্বীন গ্রহণ করেছি; আর আল্লাহর দ্বীনের চেয়ে ভাল আর কারো দ্বীন হতে পারে না।] আমরা তাঁরই দাসত্ব করি।”



মুহিউদ্দিন খান: আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি। আল্লাহর রং এর চাইতে উত্তম রং আর কার হতে পারে?আমরা তাঁরই এবাদত করি।



জহুরুল হক: “আল্লাহ্‌র রঙ। আর রঙের ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌র চাইতে কে বেশী সুন্দর? আর আমরা তাঁরই উপাসনাকারী।”



Sahih International: [And say, "Ours is] the religion of Allah. And who is better than Allah in [ordaining] religion? And we are worshippers of Him."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৩৮. আল্লাহর রং এ রঞ্জিত হও(১)। আর রং এর দিক দিয়ে আল্লাহর চেয়ে কে বেশী সুন্দর? আর আমরা তারই ইবাদতকারী।


তাফসীর:

(১) আল্লাহর রং বলতে অধিকাংশ মুফাসসিরীনের নিকট উদ্দেশ্য হলোঃ আল্লাহর দ্বীন বা ইসলাম। সারমর্ম হলো- যা কিছু বর্ণিত হলো, তা হলো আল্লাহর দ্বীন, তার নবী ইবরাহীমের মিল্লাত, এটা হলো সর্বোত্তম রং। আয়াতটির দুটি অনুবাদ হতে পারে। (এক) আমরা আল্লাহর রং ধারণ করেছি। (দুই) আল্লাহর রং ধারণ কর। নাসারাদের দ্বীনের আত্মপ্রকাশের পূর্বে ইয়াহুদীদের মধ্যে একটি বিশেষ রীতির প্রচলন ছিল। কেউ তাদের দ্বীন গ্রহণ করলে তাকে গোসল করানো হত। আর তাদের ওখানে গোসলের অর্থ ছিল, তার সমস্ত গোনাহ যেন ধুয়ে গেল এবং তার জীবন যেন রং ধারণ করল। পরবর্তীকালে নাসারাদের মধ্যেও এ রীতির প্রচলন হয়। তাদের ওখানে এর পরিভাষিক নাম হচ্ছে ‘ইসতিবাগ’ বা রঙ্গিন করা (ব্যাপ্টিজম)। তাদের দ্বীনে যারা প্রবেশ করে কেবল তাদেরকেই ব্যাপ্টাইজড করা হয় না, বরং নাসারা শিশুদেরকেও ব্যাপ্টাইজড করা হয়। এ ব্যাপারেই বলা হচ্ছে যে, এ লোকাচারমূলক রঞ্জিত হবার যৌক্তিকতা কোথায়? বরং আল্লাহর রঙে রঞ্জিত হও। যা কোন পানির দ্বারা হওয়া যায় না। বরং তার বন্দেগীর পথ অবলম্বন করে এ রঙে রঞ্জিত হওয়া যায়।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ১৩৮। (আমরা গ্রহণ করলাম) আল্লাহর রঙ (আল্লাহর ধর্ম বা তাঁর প্রকৃতি)। রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর? [1] আর আমরা তাঁরই উপাসনাকারী।


তাফসীর:

[1] খ্রিষ্টানদের কাছে এক প্রকার হলুদ রঙের পানি থাকে; যা প্রত্যেক খ্রিষ্টান শিশুকে এবং প্রত্যেক সেই ব্যক্তিকে পান করানো হয়; যাকে খ্রিষ্টান বানানো উদ্দেশ্য হয়। এই অনুষ্ঠানের নাম তাদের নিকট ‘ব্যাপ্টিজম’ (পবিত্র বারি দ্বারা অভিসিঞ্চিত করে খ্রিষ্টধর্মের দীক্ষাদানোৎসব)। এটা তাদের নিকট অত্যধিক জরুরী ব্যাপার। এ ছাড়া তারা কাউকেও পবিত্র গণ্য করে না। মহান আল্লাহ তাদের এ বিশ্বাস খন্ডন করে বলেন, আসল রঙ তো আল্লাহর রঙ। এর চেয়ে উত্তম কোন রঙ নেই। আর আল্লাহর রঙের তাৎপর্য হল, প্রাকৃতিক ধর্ম ইসলাম, যার প্রতি প্রত্যেক নবী নিজ নিজ যুগে সব সব উম্মতকে আহবান করেছেন; যা ছিল তাওহীদের আহবান।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৩৫-১৩৮ নং আয়াতের তাফসীর:



ইয়াহূদীরা মুসলিমদেরকে ইয়াহূদী ধর্মের দিকে আর খ্রিস্টানরা খ্রিস্ট-ধর্মের দিকে আহ্বান করত এবং বলত: এটাই হিদায়াতের পথ।



অত্র আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, হে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বলে দাও, মিল্লাতে ইবরাহীমের অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত হিদায়াত। তিনি ছিলেন ‘হানিফ’(একনিষ্ঠ অর্থাৎ সমস্ত মা‘বূদ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে কেবল এক উপাস্যের ইবাদতকারী) এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। অথচ ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানধর্মের মাঝে শির্কের মিশ্রণ রয়েছে।



ইমাম বুখারী (রহঃ) অত্র আয়াতের তাফসীরে এ হাদীস নিয়ে এসেছেন- আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহলে কিতাবগণ ইবরানি ভাষায় তাওরাত পড়ে মুসলিমদের জন্য আরবি ভাষায় তাফসীর করত। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:



لَا تُصَدِّقُوا أَهْلَ الْكِتَابِ وَلَا تُكَذِّبُوهُمْ، وَقُولُوا: آمَنَّا بِاللّٰهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا



আহলে কিতাবদেরকে বিশ্বাস করো না আবার মিথ্যা প্রতিপন্নও করো না। বরং বল আমরা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ও আমাদের প্রতি যা কিছু নাযিল হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছি। (সহীহ বুখারী হা: ৪৪৮৫)



অত্র আয়াতে আমাদেরকে সকল নাবী-রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ সকল নাবী-রাসূল এবং তাদের ওপর অবতীর্ণ আসমানী কিতাব সত্য বলে বিশ্বাস করব, আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ কিতাব কুরআন ও তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করব।



أسباط ‘আসবাত’হল ইয়া‘কূব (আঃ)-এর বংশধরে বানী ইসরাঈলের বারটি গোত্রে যে সকল নাবী রাসূল এসেছেন তারা।



নাবী রাসূলগণের প্রতি ঈমানে চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত:



১. এ বিশ্বাস রাখা যে, তাদের রিসালাত আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে।

২. যে সকল নাবী-রাসলের নাম জানা যায় তাদের প্রতি বিশ্বাস রাখা। যেমন ঈসা, মূসা, ইবরাহীম (আলাইহিমুস সালাম) প্রমুখ।

৩. তাদের ব্যাপারে যেসব সহীহ সংবাদ এসেছে তা বিশ্বাস করা।

৪. এসব নাবী-রাসূলের মধ্যে যাকে আমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরীয়ত অনুসরণ করা। (মাজমু ফাতাওয়া লি উসায়মীন)।



সকল নাবীদের ওপর ঈমান আনার ক্ষেত্রে কোন প্রকার পাথর্ক্য করি না, অর্থাৎ এমন নয় যে, কতক নাবীর প্রতি ঈমান রাখি আর কতক নাবীর প্রতি ঈমান রাখি না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَآ اُنْزِلَ اِلَیْھِ مِنْ رَّبِّھ۪ وَالْمُؤْمِنُوْنَﺚ کُلٌّ اٰمَنَ بِاللہِ وَمَلٰ۬ئِکَتِھ۪ وَکُتُبِھ۪ وَرُسُلِھ۪ﺤ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِھ۪ﺤ)



“রাসূল বিশ্বাস করেছেন যা তার রবের পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে এবং ঈমানদাররাও। প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছেন। আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না।”(সূরা বাকারাহ ২:২৮৫)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা এ ঈমান আনার ফলাফল বর্ণনা করেছেন:



(وَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا بِاللہِ وَرُسُلِھ۪ وَلَمْ یُفَرِّقُوْا بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْھُمْ اُولٰ۬ئِکَ سَوْفَ یُؤْتِیْھِمْ اُجُوْرَھُمْﺚ وَکَانَ اللہُ غَفُوْرًا رَّحِیْمًا)



“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনে এবং তাঁদের একের সঙ্গে অপরের পার্থক্য করে না তাদেরকে তিনি অবশ্যই পুরস্কার দেবেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”(সূরা নিসা ৪:১৫২)



যদি আহলে কিতাবগণ সকল আসমানী কিতাব এবং রাসূলের প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে কোন পাথর্ক্য না করে তাহলে তারা সুপথপ্রাপ্ত। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে এ বিষয়ে সাক্ষ্য হিসেবে আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু শুনেন ও সবকিছু জানেন।



(صِبْغَةَ اللّٰهِ) ‘আল্লাহর রং’অর্থাৎ



الزموا صبغة اللّٰه



আল্লাহর রং আঁকড়ে ধর। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সহ অধিকাংশ মুফাসসির বলেন: আল্লাহর রং হল আল্লাহর দীন। (তাফসীর ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর) অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দীন ইসলামে যে সকল আদেশ করেছেন তা যথাযথভাবে পালন কর আর যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক, তাহলেই আল্লাহ তা‘আলার রঙে রঙ্গিন হওয়া যাবে।



খ্রিস্টানদের নিকট এক প্রকার হলুদ রঙের পানি থাকে; যা প্রত্যেক খ্রিস্টানশিশুকে এবং এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে পান করানো হয় যাকে খ্রিস্টান বানানোর উদ্দেশ্য থাকে।



এ অনুষ্ঠানের নাম ‘ব্যাপটিজম’(পবিত্র বারি দ্বারা সিঞ্চিত করে খ্রিস্টান ধর্মের দীক্ষাদানোৎসব)। এটা তাদের কাছে অত্যধিক জরুরী ব্যাপার। এছাড়া তারা কাউকেও পবিত্র গণ্য করে না। মহান আল্লাহ তাদের এ বিশ্বাস খণ্ডন করে বলেন: আসল রং তো আল্লাহর রং। এর চেয়ে উত্তম কোন রং নেই। আর আল্লাহর রঙের তাৎপর্য হল, ইসলাম ধর্ম, যার দিকে প্রত্যেক নাবী স্বীয় জাতিকে আহ্বান করেছেন; যা ছিল তাওহীদের আহ্বান।



সুতরাং একমাত্র ইসলামই সঠিক ধর্ম, এ ধর্মের দাওয়াত নিয়ে প্রত্যেক নাবী দুনিয়াতে আগমন করেছেন। আমাদের উচিত এ ধর্মের আদেশ-নিষেধগুলো যথাযথভাবে পালন করা। বিভিন্ন দিক থেকে যারা তাদের ধর্মের দিকে আহ্বান করবে তাদের আহ্বানে সাড়া না দেয়া।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মে হিদায়াত ও সফলতা নেই।

২. কোন একজন রাসূলকে অস্বীকার করা মূলত সকল রাসূলকে অস্বীকার করার শামিল। তাই সকলের প্রতি কোন পার্থক্য ছাড়াই ঈমান আনতে হবে।

৩. ইয়াহূদ ও খ্রিস্টানরা মুসলিমদেরকে পথভ্রষ্ট করার জন্য বিভিন্ন সাহায্য, প্রলোভন ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের ধর্মের দিকে আহ্বান করবে আমাদের সে সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।

৪. আমাদের সকলের উচিত ইসলামের আদেশ নিষেধগুলো মেনে চলা, তাহলেই আমরা আল্লাহর রঙে রঞ্জিত হতে পারব।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৩৭-১৩৮ নং আয়াতের তাফসীর

অর্থাৎ হে ঈমানদার সাহাবীবর্গ (রাঃ)! এই সব কাফিরও যদি তোমাদের মত যাবতীয় কিতাব ও রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তবে তারাও সুপথ প্রাপ্ত হবে এবং মুক্তি পেয়ে যাবে। আর যদি দলীল ও প্রমাণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তারা ঈমান আনয়ন হতে বিরত থাকে তবে নিশ্চিত রূপে তারা ন্যায় ও সত্যের উল্টো পথে রয়েছে। সেই সময় হে নবী (সঃ)! তোমাকে তাদের উপর জয়যুক্ত করতঃ আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে তোমাদেরকেই যথেষ্ট করবেন। হযরত নাফে' বিন আবু নাঈম (রাঃ) বলেন যে, কোন একজন খলীফার নিকট হযরত উসমানের (রাঃ) কুরআন মাজীদ পাঠানো হয়। একথা শুনে যিয়াদ নামক এক ব্যক্তি নাফে' বিন আবু নাঈমকে বলেনঃ “জনসাধারণের মধ্যে একথা ছড়িয়ে রয়েছে যে, যখন হযরত উসমানকে (রাঃ) শহীদ করা হয় সেই সময় এই কালামুল্লাহ (কুরআন মাজীদ) তাঁর ক্রোড়ে বিদ্যমান ছিল এবং তাঁর রক্ত ঠিক এই শব্দগুলোর উপর ছিল (আরবি) একথা কি সত্য?' তখন হযরত নাফে' (রাঃ) বলেনঃ ‘এটা সম্পূর্ণ রূপে সঠিক কথা। আমি স্বয়ং এই আয়াতের উপর হযরত উসমান যিনুরাইনের (রাঃ) রক্ত দেখেছিলাম।

এখানে রং’ এর ভাবার্থ হচ্ছে ‘ধর্ম'। অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো। কেউ কেউ বলেন যে, এটা (আরবি)হতে (আরবি)হয়েছে যা এর পূর্বে বিদ্যমান রয়েছে। সিবওয়াই (রঃ) বলেন যে, এটা। (আরবি)-এরং (আরবি) এবং কারণে এর উপর (আরবি)হয়েছে। যেমন (আরবি)-এর উপর হয়েছে। একটি মারফু হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ ‘বানী ইসরাঈল হযরত মূসা (আঃ)কে জিজ্ঞেস করেছিলঃ “হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের প্রভুও কি রং করে থাকেন?' তখন হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ “তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তা'আলা তখন হযরত মূসা (আঃ) কে ডাক দিয়ে বলেনঃ “তারা কি তোমাকে জিজ্ঞেস করছে যে, তোমার প্রভু কি রং করেন?' তিনি বলেনঃ হাঁ। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তুমি তাদেরকে বলে দাও যে, লাল, সাদা, কালো ইত্যাদি সমুদয় রং আল্লাহ তাআলাই সষ্টি করেন। এই আয়াতেরও ভাবার্থ এটাই। কিন্তু হাদীসটি মাওকুফ হওয়াই সঠিক কথা এবং এটাও এর ইসনাদ বিশুদ্ধ হওয়ার উপর নির্ভর করে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।