আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 133)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 133)



হরকত ছাড়া:

أم كنتم شهداء إذ حضر يعقوب الموت إذ قال لبنيه ما تعبدون من بعدي قالوا نعبد إلهك وإله آبائك إبراهيم وإسماعيل وإسحاق إلها واحدا ونحن له مسلمون ﴿١٣٣﴾




হরকত সহ:

اَمْ کُنْتُمْ شُهَدَآءَ اِذْ حَضَرَ یَعْقُوْبَ الْمَوْتُ ۙ اِذْ قَالَ لِبَنِیْهِ مَا تَعْبُدُوْنَ مِنْۢ بَعْدِیْ ؕ قَالُوْا نَعْبُدُ اِلٰهَکَ وَ اِلٰـهَ اٰبَآئِکَ اِبْرٰهٖمَ وَ اِسْمٰعِیْلَ وَ اِسْحٰقَ اِلٰـهًا وَّاحِدًا ۚۖ وَّ نَحْنُ لَهٗ مُسْلِمُوْنَ ﴿۱۳۳﴾




উচ্চারণ: আম কুনতুম শুহাদাআ ইযহাদারা ইয়া‘কূবাল মাওতু ইযকা-লা লিবানীহি মাতা‘বুদূ না মিম বা‘দী কা-লূনা‘বুদু ইলা-হাকা ওয়া ইলা-হা আ-বাইকা ইবরা-হীমা ওয়া ইছমা-‘ঈলা ওয়াইছহা-কা ইলা-হাওঁ ওয়া-হিদাওঁ ওয়ানাহনু লাহূ মুছলিমূন।




আল বায়ান: নাকি তোমরা সাক্ষী ছিলে, যখন ইয়াকূবের নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল? যখন সে তার সন্তানদেরকে বলল, ‘আমার পর তোমরা কার ইবাদাত করবে’? তারা বলল, ‘আমরা ইবাদাত করব আপনার ইলাহের, আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহের, যিনি এক ইলাহ। আর আমরা তাঁরই অনুগত’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩৩. ইয়াকুবের যখন মৃত্যু এসেছিল তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? তিনি যখন সন্তানদের বলেছিলেন, “আমার পরে তোমরা কার ইবাদাত করবে? তারা বলেছিল, ‘আমরা আপনার ইলাহ(১) ও আপনার পিতৃ পুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ - সেই এক ইলাহরই ইবাদাত করবো। আর আমরা তার কাছেই আত্মসমর্পণকারী”।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা কি সে সময় উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু এসে পৌঁছেছিল? তখন সে তার পুত্রদেরকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আমার পরে তোমরা কার উপাসনা করবে’? পুত্রগণ উত্তর দিয়েছিল, ‘আমরা আপনার এবং আপনার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের উপাসনা করব, যিনি অদ্বিতীয় উপাস্য এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পিত।




আহসানুল বায়ান: ১৩৩। ইয়াকুববের নিকট যখন মৃত্যু এসেছিল তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? [1] সে যখন নিজ পুত্রগণকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আমার (মৃত্যুর) পরে তোমরা কিসের উপাসনা করবে?’ তারা তখন বলেছিল, ‘আমরা আপনার উপাস্য ও আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্য, সেই অদ্বিতীয় উপাস্যের উপাসনা করব। আর আমরা তাঁর কাছে আত্মসমর্পণকারী।’



মুজিবুর রহমান: যখন ইয়াকূবের মৃত্যু উপস্থিত হল তখন কি তোমরা উপস্থিত ছিলে, যখন সে নিজ পুত্রদেরকে বলেছিলঃ আমার পরে তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদাত করবে? তারা বলেছিলঃ আমরা তোমার উপাস্যের এবং তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্য - সেই অদ্বিতীয় উপাস্যের ইবাদাত করব এবং আমরা তাঁরই অনুগত থাকব।



ফযলুর রহমান: যখন ইয়াকূবের মৃত্যুর সময় হয়েছিল তখন তোমরা কি (সেখানে) উপস্থিত ছিলে? সে তখন তার পুত্রদের বলেছিল, “আমার (মৃত্যুর) পরে তোমরা কিসের ইবাদত করবে?” তারা বলেছিল, “আমরা আপনার এবং আপনার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের এক প্রভুর ইবাদত করব। আমরা তাঁরই অনুগত”



মুহিউদ্দিন খান: তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার এবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের এবাদত করব। তিনি একক উপাস্য।



জহুরুল হক: অথবা তোমরা কি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলে যখন ইয়াকুবের মৃত্যু এসেছিল, যখন তিনি তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন -- “তোমরা আমার পরে কার এবাদত করবে?” ওরা বলেছিল -- “আমরা এবাদত করব তোমার উপাস্যের ও তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম ও ইসমাইল ও ইসহাকের উপাস্যের -- একক উপাস্যের, আর তাঁর কাছে আমরা মুসলিম।”



Sahih International: Or were you witnesses when death approached Jacob, when he said to his sons, "What will you worship after me?" They said, "We will worship your God and the God of your fathers, Abraham and Ishmael and Isaac - one God. And we are Muslims [in submission] to Him."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৩৩. ইয়াকুবের যখন মৃত্যু এসেছিল তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? তিনি যখন সন্তানদের বলেছিলেন, “আমার পরে তোমরা কার ইবাদাত করবে? তারা বলেছিল, ‘আমরা আপনার ইলাহ(১) ও আপনার পিতৃ পুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ - সেই এক ইলাহরই ইবাদাত করবো। আর আমরা তার কাছেই আত্মসমর্পণকারী”।(২)


তাফসীর:

(১) ইলাহ শব্দটি মাসদার। যার অর্থ উপাস্য বা যার উপাসনা করা হয়। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ ইলাহ হলেন যাকে সবাই উপাসনা করে। [তাফসীরে তাবারী ১/৫৪] ইবনে আব্বাসের এই উক্তি শুধুমাত্র হক মা’বুদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ ইলাহ শব্দ দ্বারা এমন মা’বুদকে বুঝানো হয়, যিনি ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য। আর যিনি মা’বুদ হওয়ার যোগ্য তার মধ্যে এমন গুণ থাকা আবশ্যক যার কারণে তাকে সর্বোচ্চ ভালবাসা এবং সবচেয়ে বেশী বিনয় প্রদর্শন করতে বাধ্য হয়।


(২) এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, নবীদের সবার দ্বীনই ছিল ইসলাম। এ জন্যই এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নবীগণ হচ্ছেন বৈমাত্রেয় ভাই। তাদের মাতা বিভিন্ন কিন্তু তাদের দ্বীন এক।” [বুখারী ৩৪৪৩, মুসলিম: ২৩৬৫] মাতা বিভিন্ন হওয়ার অর্থ হচ্ছে, তাদের শরীআত বিভিন্ন। আর দ্বীন এক হওয়ার অর্থ হচ্ছে, তাওহীদের মূলনীতিসমূহে তাদের মধ্যে ঐক্য রয়েছে। [ইবনে কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ১৩৩। ইয়াকুববের নিকট যখন মৃত্যু এসেছিল তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? [1] সে যখন নিজ পুত্রগণকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আমার (মৃত্যুর) পরে তোমরা কিসের উপাসনা করবে?’ তারা তখন বলেছিল, ‘আমরা আপনার উপাস্য ও আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্য, সেই অদ্বিতীয় উপাস্যের উপাসনা করব। আর আমরা তাঁর কাছে আত্মসমর্পণকারী।’


তাফসীর:

[1] ইয়াহুদীদেরকে শাসানো হচ্ছে যে, তোমরা যে দাবী কর ইবরাহীম ও ইয়াকুব (আলাইহিমাস্ সালাম) নাকি তাঁদের সন্তানদেরকে ইয়াহুদীধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার অসিয়ত করে গেছেন, এই অসিয়ত করার সময় তোমরা কি উপস্থিত ছিলে নাকি? উত্তরে যদি তারা হ্যাঁ, উপস্থিত ছিলাম বলে তাহলে তা মিথ্যা ও অপবাদ হবে। আর যদি না, উপস্থিত ছিলাম না বলে তাহলে তাদের উল্লিখিত দাবী মিথ্যা প্রমাণিত হবে। কারণ, তাঁরা যে দ্বীনের অসিয়ত করেছিলেন, তা ছিল ইসলাম; ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান বা মূর্তিপূজার ধর্ম নয়। সমস্ত নবীদের ধর্মই ছিল ইসলাম, যদিও শরীয়ত ও কর্মপদ্ধতির মধ্যে কিছু পার্থক্য ছিল। এটাকে নবী করীম (সাঃ) তাঁর ভাষায় এইভাবে বর্ণনা করেছেন, নবীগণ একে অপরের বৈমাত্রেয় ভাই। তাঁদের মা ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু (বাপ) দ্বীন এক।

(বুখারীঃ কিতাবুল আম্বিয়া, পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর বাণীঃ আর কিতাবে মরিয়মের কথা বর্ণনা কর।)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৩০ থেকে ১৩৪ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতে মুশরিকদের দাবি খণ্ডন করা হয়েছে। তারা নিজেদেরকে ইবরাহীম (আঃ)-এর ধর্মের অনুসারী বলে দাবি করত। অথচ তারা পূর্ণ মুশরিক ছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ইবরাহীম (আঃ) তো তাওহীদ মান্যকারীদের ইমাম ছিলেন। তিনি তাওহীদকে শির্ক হতে পৃথককারী ছিলেন। বরং তিনি প্রত্যেক অংশীবাদীকে ও শির্ককে এবং কৃত্রিম মা‘বূদকে আন্তরিকভাবে ঘৃণা করতেন এবং তাদের প্রতি অসস্তুষ্ট ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(قُلْ اِنَّنِیْ ھَدٰنِیْ رَبِّیْٓ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسْتَقِیْمٍﹰ دِیْنًا قِیَمًا مِّلَّةَ اِبْرٰھِیْمَ حَنِیْفًاﺆ وَمَا کَانَ مِنَ الْمُشْرِکِیْنَ)



“বল, ‘আমার প্রতিপালক তো আমাকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন। তা সুপ্রতিষ্ঠিত দীন, ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ, সে ছিল একনিষ্ঠ এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।”(সূরা আন‘আম ৬:১৬১)



অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করে দিলেন, মিল্লাতে ইবরাহীম হল দীন ইসলাম যা দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(ثُمَّ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ)



“এখন আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম, ‘তুমি একনিষ্ঠ ইব্রাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর। (সূরা নাহল ১৬:১২৩)



সুতরাং যারা ইবরাহীম (আঃ)-এর এ তাওহীদী মিল্লাত থেকে বিমুখ হবে তারা নির্বোধ ছাড়া কিছুই নয়।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবরাহীম (আঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করেছেন যে, তাকে দুনিয়াতে নির্বাচিত বান্দাদের আর আখিরাতে সৎ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে যখনই আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন তখনই তিনি তা যথাযথভাবে পালন করেছেন।



ইবরাহীম (আঃ) ও ইয়াকুব (আঃ) তাদের পরবর্তী বংশধরদের যে দীনের ওসীয়ত করে গেছেন তা কোন ইয়াহূদী ধর্ম নয়, কোন নাসরানী ধর্মও নয়। তা হল একমাত্র ইসলাম। এ ব্যাপারে কুরআনে অনেক আয়াত বিদ্যমান। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اِنَّ الدِّیْنَ عِنْدَ اللہِ الْاِسْلَامُﺤ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْکِتٰبَ اِلَّا مِنْۭ بَعْدِ مَا جَا۬ءَھُمُ الْعِلْمُ بَغْیًۭا بَیْنَھُمْﺚ وَمَنْ یَّکْفُرْ بِاٰیٰتِ اللہِ فَاِنَّ اللہَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ)



“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মনোনীত জীবন-বিধান হচ্ছে ইসলাম। আর আহলে কিতাবরা তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর কেবল পরস্পরে বিদ্বেষবশতঃ মতভেদ করেছে। আর যে আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করবে, (তার জেনে রাখা উচিত) আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।”(সূরা আল ইমরান ৩:১৯)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَنْ یَّبْتَغِ غَیْرَ الْاِسْلَامِ دِیْنًا فَلَنْ یُّقْبَلَ مِنْھُﺆ وَھُوَ فِی الْاٰخِرَةِ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ)



“আর যে কেউ ইসলাম বাদ দিয়ে অন্য কোন জীবন ব্যবস্থা তালাশ করবে তার কাছ থেকে কিছুই কবূল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”(সূরা আল ইমরান ৩:৮৫)



আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদেরকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করে বলেন- তোমরা দাবি কর যে, ইবরাহীম ও ইয়াকুব (আঃ) পরবর্তী বংশধরকে ইয়াহূদী ধর্মে প্রতিষ্ঠিত থাকার অসিয়ত করেছেন। তোমরা কি অসিয়তের সময় উপস্থিত ছিলে? যদি তা না হয় তাহলে তোমাদের দাবি মিথ্যা ও অহেতুক। বরং সকলেই একটাই দীনের অসিয়ত করেছেন তা হল ইসলাম। যদিও বিধি-বিধানে কিছু পার্থক্য ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:



وَالْأَنْبِيَاءُ إِخْوَةٌ لِعَلَّاتٍ أُمَّهَاتُهُمْ شَتَّي وَدِينُهُمْ وَاحِدٌ



নাবীরা সকলে বৈমাত্রেয় ভাই, মাতা ভিন্ন কিন্তু সকলের দীন একটাই। (সহীহ বুখারী হা: ৩৪৪৩)



আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের লক্ষ করে আরো বলেন, তোমরা যারা বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে নিজেদের সঠিক ধর্মের অনুসারী দাবি করছ, তোমাদের ঐ দোহাই দিয়ে লাভ নেই। তারা যা কিছু করেছে তা নিয়ে চলে গেছে। সুতরাং তাদের দোহাই দিয়ে কোন লাভ নেই, প্রকৃত জামিন হল সঠিক ঈমান ও সৎ আমল। যারা এ দু’টি নিয়ে আসবে তারাই সফলকাম হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইসলাম বর্জন করে অন্য ধর্ম অন্বেষণ করা বোকামির পরিচয়।

২. মৃত্যুর পূর্বে ওসিয়ত করা শরীয়তসম্মত। তবে তা যেন কোন জুলুম না হয়।

৩. ইয়াহূদীদের ভ্রান্ত দাবি সম্পর্কে অবগত হলাম।

৪. সকল নাবীর ধর্ম ছিল ইসলাম এবং এর দিকেই তারা স্বীয় জাতিকে আহ্বান করেছেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৩৩-১৩৪ নং আয়াতের তাফসীর

আরবের মুশরিকরা ছিল হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর এবং বানী ইসরাঈলেরা কাফির ছিল এবং তারা ছিল হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর বংশধর। তাদের উপর প্রমাণ উপস্থিত করতঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, হযরত ইয়াকুব (আঃ) অন্তিমকালে স্বীয় সন্তানগণকে বলেছিলেনঃ “আমার পরে তোমরা কার ইবাদত করবে?' তারা সবাই উত্তরে বলেছিলঃ আপনার ও আপনার মাননীয় মুরুব্বীগণের যিনি সত্য উপাস্য অর্থাৎ আল্লাহ্, আমরা তাঁরই ইবাদত করবো।' হযরত ইয়াকুব (আঃ) ছিলেন হযরত ইসহাক (আঃ)-এর পুত্র এবং হযরত ইসহাক (আঃ) ছিলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর পুত্র। হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর নাম বাপ দাদার আলোচনায় বহুল প্রচলন হিসেবে এসে গেছে। তিনি হচ্ছেন হযরত ইয়াকুব (আঃ)-এর চাচা, এবং আরবে এটা প্রচলিত আছে যে, তারা চাচাকে বাপ বলে থাকে। এই আয়াতটিকে প্রমাণ রূপে দাঁড় করে দাদাকেও পিতার হুকুমে রেখে দাদার বিদ্যমানতায় মৃত ব্যক্তির ভ্রাতা ও ভগ্নিকে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত করা হয়েছে। হযরত সিদ্দীকে আকবারের (রাঃ) ফায়সালা এটাই। যেমন সহীহ বুখারী শরীফের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশার (রাঃ) মাযহাব এটাই। হাসান বসরী (রঃ), তাউস (রঃ) এবং আতাও (রঃ) এই বলেন। ইমাম আবু হানীফা (রঃ) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আরও বহু গুরুজনেরও মাযহাব এটাই। ইমাম মালিক (রঃ), ইমাম শাফেঈ (রঃ) এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের (রঃ) একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনায় নকল করা হয়েছে যে, তাঁরা ভাই ও বোনদেরকেও উত্তরাধিকারী বলে থাকেন। হযরত উমর (রাঃ) হযরত উসমান (রাঃ) হযরত আলী (রাঃ) হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হযরত যায়েদ বিন সাবিত (রাঃ) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী একটি দলেরও মাযহাব এই। কাযী আবু ইউসুফ (রঃ) এবং মুহাম্মদ ইবনে হাসানও (রঃ) এটাই বলেন। এঁরা দু'জন হযরত ইমাম আবু হানীফার (রঃ) সুপথ গামী ছাত্র ছিলেন।

এ জিজ্ঞাস্য বিষয়কে পরিষ্কার করার জায়গায় এটা নয়। এবং তাফসীরের এটা আলোচ্য বিষয়ও নয়। ঐ সব ছেলে স্বীকার করে যে তারা একই উপাস্যের উপাসনা করবে। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে অন্য কাউকেও শরীক করবে না এবং তার আনুগত্যে, তার আদেশ পালনে এবং বিনয় ও নম্রতায় সদা নিমগ্ন থাকবে। যেমন অন্য স্থানে রয়েছেঃ ‘আকাশ ও পৃথিবীর প্রত্যেকটি জিনিস ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় তাঁর অনুগত, তারই নিকট তোমরা সবাই প্রত্যাবর্তিত হবে। আহকামের ব্যাপারে পার্থক্য থাকলেও সমস্ত নবীর ধর্ম এই ইসলামই ছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ তোমার পূর্বে আমি যত নবী পাঠিয়েছি তাদের সবারই নিকট এই ওয়াহী করেছি যে, আমি ছাড়া কেউই উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা সবাই আমারই ইবাদত কর।' (২১:২৫) এ বিষয়ের আরও বহু আয়াত রয়েছে এবং এ বিষয়ের উপর বহু হাদীসও এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমার বৈমাত্রেয় ভাই, আমাদের একই ধর্ম। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “ওটা একটা দল ছিল যা অতীত হয়ে গেছে, তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তোমাদের কোন উপকার হবে না। তাদের কৃতকর্ম তাদের জন্যে এবং তোমাদের কৃতকর্ম তোমাদের জন্যে। তাদের কার্যাবলী সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না। এ জন্যেই হাদীস শরীফে রয়েছেঃ যার কাজ বিলম্বিত হবে তার বংশ তাকে তুরান্বিত করবে না।' অর্থাৎ যে সকার্যে বিলম্ব করবে তার বংশ মর্যাদা তার কোন উপকারে আসবে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।