আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 109)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 109)



হরকত ছাড়া:

ود كثير من أهل الكتاب لو يردونكم من بعد إيمانكم كفارا حسدا من عند أنفسهم من بعد ما تبين لهم الحق فاعفوا واصفحوا حتى يأتي الله بأمره إن الله على كل شيء قدير ﴿١٠٩﴾




হরকত সহ:

وَدَّ کَثِیْرٌ مِّنْ اَهْلِ الْکِتٰبِ لَوْ یَرُدُّوْنَکُمْ مِّنْۢ بَعْدِ اِیْمَانِکُمْ کُفَّارًا ۚۖ حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ اَنْفُسِهِمْ مِّنْۢ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ ۚ فَاعْفُوْا وَ اصْفَحُوْا حَتّٰی یَاْتِیَ اللّٰهُ بِاَمْرِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ﴿۱۰۹﴾




উচ্চারণ: ওয়াদ্দা কাছীরুম মিন আহলিল কিতা-বি লাও ইয়ারুদ্দূনাকুম মিম বা‘দি ঈমা-নিকুম কুফফা-রান হাছাদাম মিন ‘ইনদি আনফুছিহিম মিম বা‘দি মা-তাবাইইয়ানা লাহুমুল হাক্কু ফা‘ফূ ওয়াসফাহূহাত্তা- ইয়া’তিয়াল্লা-হু বিআমরিহী ইন্নাল্লা-হা ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর।




আল বায়ান: আহলে কিতাবের অনেকেই চায়, যদি তারা তোমাদেরকে ঈমান আনার পর কাফির অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারত! সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তাদের পক্ষ থেকে হিংসাবশত (তারা এরূপ করে থাকে)। সুতরাং তোমরা ক্ষমা কর এবং এড়িয়ে চল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ দেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৯. কিতাবীদের অনেকেই চায়, যদি তারা তোমাদেরকে তোমাদের ঈমান আনার পর কাফেররূপে ফিরিয়ে নিতে পারত! সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে বিদ্বেষবশতঃ (তারা এটা করে থাকে)। অতএব, তোমরা ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ তার কোন নির্দেশ দেন(১)-- নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।




তাইসীরুল ক্বুরআন: গ্রন্থধারীগণের অনেকেই তাদের কাছে সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও তাদের অন্তরে পোষিত হিংসার দাহনে ইচ্ছে পোষণ করে যে, যদি তোমাদেরকে তোমাদের ঈমান আনার পর কুফরীতে ফিরিয়ে নিতে পারত; সুতরাং তোমরা ক্ষমা কর ও মার্জনা কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ স্বীয় হুকুম প্রকাশ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।




আহসানুল বায়ান: ১০৯। হিংসামূলক মনোভাববশতঃ তাদের নিকট সত্য প্রকাশিত হবার পরও, গ্রন্থধারীদের মধ্যে অনেকেই আকাঙ্ক্ষা করে যে, বিশ্বাসের পর (মুসলিম হওয়ার পর) আবার তোমাদেরকে যদি অবিশ্বাসী (কাফের)রূপে ফিরিয়ে দিতে পারত। সুতরাং তোমরা ক্ষমা কর ও উপেক্ষা কর; যতক্ষণ না আল্লাহ কোন নির্দেশ দেন, আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।



মুজিবুর রহমান: কিতাবীদের অনেকে তাদের প্রতি সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তারা তাদের অন্তর্হিত বিদ্বেষ বশতঃ তোমাদেরকে বিশ্বাস স্থাপনের পরে অবিশ্বাসী করতে ইচ্ছা করে; কিন্তু যে পর্যন্ত আল্লাহ স্বয়ং আদেশ আনয়ন না করেন সে পর্যন্ত তোমরা ক্ষমা কর ও উপেক্ষা করতে থাক; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান।



ফযলুর রহমান: তাদের কাছে সত্য প্রকাশ পাওয়ার পরও অনেক কিতাবধারী (ইহুদি ও খ্রিষ্টান) নিজেদের ঈর্ষাবশত তোমাদের ঈমান গ্রহণের পর আবার তোমাদেরকে কাফের বানাতে চায়। তোমরা ক্ষমা করে যাও এবং উপেক্ষা করতে থাক যতক্ষণ না আল্লাহ (এ ব্যাপারে) তাঁর হুকুম প্রদান করেন। আল্লাহ সবকিছুই করতে সক্ষম।



মুহিউদ্দিন খান: আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফের বানিয়ে দেয়। তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়)। যাক তোমরা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।



জহুরুল হক: গ্রন্থপ্রাপ্ত লোকের অনেকে কামনা করে যে তোমাদের ঈমান আনার পরে তোমাদের অবিশ্বাসে ফিরিয়ে নিতে, তাদের তরফ থেকে বিদ্বেষের ফলে তাদের কাছে সত্য পরিস্কার হবার পরেও। তাই ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করো যে পর্যন্ত না আল্লাহ্ তাঁর অনুশাসন নিয়ে আসেন। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সবকিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।



Sahih International: Many of the People of the Scripture wish they could turn you back to disbelief after you have believed, out of envy from themselves [even] after the truth has become clear to them. So pardon and overlook until Allah delivers His command. Indeed, Allah is over all things competent.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৯. কিতাবীদের অনেকেই চায়, যদি তারা তোমাদেরকে তোমাদের ঈমান আনার পর কাফেররূপে ফিরিয়ে নিতে পারত! সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে বিদ্বেষবশতঃ (তারা এটা করে থাকে)। অতএব, তোমরা ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর যতক্ষণ না আল্লাহ তার কোন নির্দেশ দেন(১)-- নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।


তাফসীর:

(১) তখনকার অবস্থানুযায়ী ক্ষমার নির্দেশই ছিল বিধেয়। পরবর্তীকালে আল্লাহ স্বীয় প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন এবং জিহাদের আয়াতসমূহ নাযিল করেন। অতঃপর ইয়াহুদীদের প্রতিও আইন বলবৎ করা হয় এবং অপরাধের ক্রমানুপাতে দুষ্টদের হত্যা, নির্বাসন, জিযিয়া আরোপ ইত্যাদি শাস্তি দেয়া হয়। সূরা আত-তাওবাহ এর ৫ ও ২৯ নং আয়াতের মাধ্যমে এ আয়াতের এ ক্ষমার বিধান রহিত করা হয়। [তাবারী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ১০৯। হিংসামূলক মনোভাববশতঃ তাদের নিকট সত্য প্রকাশিত হবার পরও, গ্রন্থধারীদের মধ্যে অনেকেই আকাঙ্ক্ষা করে যে, বিশ্বাসের পর (মুসলিম হওয়ার পর) আবার তোমাদেরকে যদি অবিশ্বাসী (কাফের)রূপে ফিরিয়ে দিতে পারত। সুতরাং তোমরা ক্ষমা কর ও উপেক্ষা কর; যতক্ষণ না আল্লাহ কোন নির্দেশ দেন, আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৮ থেকে ১১০ নং আয়াতের তাসফীর:



শানে নুযূল:



ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাফি বিন হুরাইমালা অথবা ওহাব বিন জায়েদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল: হে মুহাম্মাদ! আকাশ থেকে অবতীর্ণ আমাদের জন্য একটি কিতাব নিয়ে এস যা আমরা পড়ব। অথবা আমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত কর, যার দরুন আমরা তোমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করব এবং তোমার আনুগত্য করব। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (তাফসীর ইবনে কাসীর ১/৩৩৩, লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবে নুযূল, পৃঃ ২৬)



অত্র আয়াতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করা সম্পর্কিত বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসা দু’উদ্দেশ্যে হতে পারে:



১. জিজ্ঞাসিত ব্যক্তিকে সমস্যায় ফেলা এবং তাকে অমান্য করার জন্য প্রশ্ন করা। এরূপ প্রশ্ন করা থেকে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে নিষেধ করছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(یٰٓاَیُّھَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَسْئَلُوْا عَنْ اَشْیَا۬ئَ اِنْ تُبْدَ لَکُمْ تَسُؤْکُمْ)



হে মু’মিনগণ! তোমরা এমন বিষয়ে প্রশ্ন কর না যা তোমাদের নিকট প্রকাশ হলে তা তোমাদেরকে কষ্ট দেবে। (সূরা মায়িদাহ ৫:১০১) এরূপ প্রশ্ন করেছিল মূসা (আঃ)-কে বানী ইসরাঈলরা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(یَسْئَلُکَ اَھْلُ الْکِتٰبِ اَنْ تُنَزِّلَ عَلَیْھِمْ کِتٰبًا مِّنَ السَّمَا۬ئِ فَقَدْ سَاَلُوْا مُوْسٰٓی اَکْبَرَ مِنْ ذٰلِکَ فَقَالُوْٓا اَرِنَا اللہَ جَھْرَةً)



“কিতাবীগণ তোমাকে তাদের জন্য আসমান হতে কিতাব অবতীর্ণ করতে বলে; অথচ তারা মূসার নিকট এটা অপেক্ষাও বড় দাবি করেছিল। তারা বলেছিল, আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহকে দেখাও।”(সূরা নিসা ৪:১৫৩) হাদীসেও এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। (সহীহ বুখারী হা: ৭২৮৮)



২. কিছু জানার জন্য ও সঠিক পথ পাবার জন্য প্রশ্ন করা। এরূপ প্রশ্ন করার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া হয়েছে এবং তা প্রশংসনীয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَاسْأَلُوآ أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ )



“তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীগণকে জিজ্ঞাসা করো।”(সূরা নাহল ১৬:৪৩)



জানার জন্য জিজ্ঞাসা করার প্রতি হাদীসেও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এমনকি বলা হয়েছে অজানা রোগের চিকিৎসা হল জিজ্ঞাসা করা। (আবূ দাঊদ হা: ৩৩৬, ৩৩৭, হাসান) সুতরাং আমাদের উচিত কিছু জানার জন্য আলেমদের জিজ্ঞাসা করা, তাদেরকে সমস্যায় ফেলার জন্য নয়।



(وَدَّ كَثِيْرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ)



ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: হুহাই বিন আখতাব ও ইয়াসিন বিন আখতাব মুসলিমদের প্রতি সর্বাপেক্ষা বেশি হিংসা পোষণ করত। তারা জনগণকে ইসলাম থেকে সরিয়ে রাখত। তাদের সম্পর্কেই এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। কা‘ব বিন আশরাফ ইয়াহূদীও এ কাজে লিপ্ত থাকত। (ইবনু কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)



হিংসা সাধারণত দু’প্রকার: প্রথম প্রকার: বৈধ ও প্রশংসণীয়। যেমন হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: দু’টি কাজ ছাড়া কোন কাজে হিংসা করা বৈধ নয়। ১. আল্লাহ তা‘আলা যাকে কুরআনের শিক্ষা দান করেছেন ফলে সে দিনে-রাতে তেলাওয়াত করে ও অন্যদের শিক্ষা দেয়। ২. আল্লাহ তা‘আলা যাকে সম্পদ দান করেছেন ফলে সে দিনে-রাতে ভাল কাজে সম্পদ ব্যয় করে। (সহীহ বুখারী হা: ৭৩, সহীহ মুসলিম হা: ৮১৫)



এ প্রকারকে আরবি ভাষায় حسد শব্দ ব্যবহার হলেও তা غبطة প্রতিশব্দ ব্যবহার হয়। যার অর্থ হলো ঈর্ষা করা অর্থাৎ অন্যের কোন ক্ষতি কামনা ছাড়াই তার মত হবার ইচ্ছা পোষণ করা।



দ্বিতীয় প্রকার: অবৈধ ও নিন্দনীয় কোন ব্যক্তি থেকে আল্লাহ তা‘আলার দেয়া নেয়ামত দূর হয়ে যাওয়ার আকাক্সক্ষা করা। অথবা তার কোন অকল্যাণ হোক তা কামনা করা এবং নিজে ঐ নেয়ামত বা কল্যাণের মালিক হবার আশা করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(أَمْ يَحْسُدُوْنَ النَّاسَ عَلٰي مَآ اٰتَاهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِه۪)



“অথবা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন সেজন্য কি তারা তাদের সাথে হিংসা করে?” (সূরা নিসা ৪:৫৪)



আয়াতে দ্বিতীয় প্রকার হিংসার কথা বলা হয়েছে। কারণ ইয়াহূদীরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুআতের সত্যতা জানার পরেও মেনে নেয়নি বরং হিংসার বশবর্তী হয়ে সাহাবীদের কাফির বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছিল।



তারপর আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের হিংসা-বিদ্বেষের সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা মুসলিমদের সাথে কিরূপ হিংসা করে। হিংসা তাদেরকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে যে, তারা চায় তোমরা যদি ঈমান আনার পর কাফির হয়ে যেতে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَقَالَتْ طَّا۬ئِفَةٌ مِّنْ اَھْلِ الْکِتٰبِ اٰمِنُوْا بِالَّذِیْٓ اُنْزِلَ عَلَی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَجْھَ النَّھَارِ وَاکْفُرُوْٓا اٰخِرَھ۫ لَعَلَّھُمْ یَرْجِعُوْنَ)



“আহলে কিতাবদের একদল বলে, ঈমানদারদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে দিনের প্রথম ভাগে তা বিশ্বাস কর এবং দিনের শেষ ভাগে তা অস্বীকার কর যাতে করে তারা ইসলাম থেকে ফিরে আসে।”(সূরা আলি-ইমরান ৭২)



এসব তাদের হিংসার বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহ দ্বারা তাদের হিংসার মোকাবেলা করতে বলেছেন, যাতে সবাই আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে ফিরে আসতে পারে। যদি তারা তাদের স্বীয় অপকর্মে লিপ্ত থাকে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তো আছেন যিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ তা‘আলা তাদের হিংসার কথা উল্লেখ করে বলেন:



(وَدَّتْ طَّا۬ئِفَةٌ مِّنْ اَھْلِ الْکِتٰبِ لَوْ یُضِلُّوْنَکُمْﺚ وَمَا یُضِلُّوْنَ اِلَّآ اَنْفُسَھُمْ وَمَا یَشْعُرُوْنَ)



“আহলে কিতাবদের একদল তোমাদেরকে গোমরাহ বানাতে চায় কিন্তু তারা নিজেদেরকে ব্যতীত অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করে না। অথচ তা অনুভব করে না।”(সূরা আলি-ইমরান ৩:৬৯)



ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন:



(فَاعْفُوْا وَاصْفَحُوْا حَتّٰي... ) এ আয়াতটি



(فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِيْنَ حَيْثُ وَجَدْتُّمُوْهُمْ)



আয়াত (সূরা তাওবাহ ৯:৫) দ্বারা রহিত হয়ে যায়।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে সালাত প্রতিষ্ঠার, যাকাত প্রদানের ও কল্যাণকর কাজের নির্দেশ প্রদান করছেন। মু’মিনগণ যত ভাল কাজ করুক না কেন সবকিছুর ফলাফল আল্লাহ তা‘আলার নিকট পাবে।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. অনর্থক প্রশ্ন করা নিন্দনীয়। তবে জানার এবং মানার জন্য প্রশ্ন করা প্রশংসনীয়।

২. কোন মুসলিম ভাইয়ের প্রাপ্ত নেয়ামত দূর হয়ে যাওয়া অথবা তার কোন অকল্যাণ কামনা করা হারাম।

৩. ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানরা জানে মুসলিমরা সত্য ও সঠিক ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই হিংসার বশবর্তী হয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যে, কিভাবে এদেরকে সঠিক দীন থেকে সরিয়ে কাফির বানানো যায়।

৪. অন্যায়কে যথাসম্ভব ক্ষমা ও ভাল ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিহত করার চেষ্টা করতে হবে, তা দ্বারা সম্ভব না হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৯-১১০ নং আয়াতের তাফসীর

শান-ই-নুকূল

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, হুহাই বিন আখতাব এবং ইয়াসির বিন আখতাব এই দু'জন ইয়াহুদী মুসলমানদের প্রতি সর্বাপেক্ষা বেশী হিংসা পোষণ করতো। তারা জনগণকে ইসলাম থেকে সরিয়ে রাখতো। তাদের সম্পর্কেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। কা'ব বিন আশরাফ ইয়াহূদীও এ কাজেই লিপ্ত থাকতো।

ইমাম যুহরী (রঃ) বলেন যে, এই আয়াতটি কা'ব বিন আশরাফের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়। সে কবিতার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দুর্নাম করতো। যদিও তাদের কিতাবে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতার প্রমাণ বিদ্যমান ছিল এবং সে মুহাম্মদ (সঃ)-এর গুণাবলী সম্বন্ধে সম্যক অবগত ছিল ও তাকে ভালভাবেই চিনতো, আবার যদিও সে এও স্বচক্ষে দেখছিল যে, কুরআন মাজীদ তাদের কিতাবের সত্যতা প্রমাণ করছে এবং এও লক্ষ্য করছিল যে, একজন নিরক্ষর লোক এ কিতাব পাঠ করছেন, যা সরাসরি মুজিযা তথাপি তিনি যে আরবে প্রেরিত হয়েছিলেন শুধুমাত্র এ কারণেই হিংসার বশবর্তী হয়ে সে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও কুরআন পাককে অস্বীকার করেছিল এবং জনগণকে পথভ্রষ্ট করতে আরম্ভ করেছিল। সেই সময় গভীর পরিণামদর্শিতার ভিত্তিতে মহান আল্লাহ মুসলমানদেরকে নির্দেশ দেন যে, তারা যেন ঐ সব ইয়াহূদীকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে এবং আল্লাহ তাআলার ফায়সালার জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে। যেমন আল্লাহ পাক অন্য জায়গায় বলেনঃ “তোমাদেরকে মুশরিক ও কিতাবীদের বহু অপছন্দনীয় কথা শুনতে হবে।

অবশেষে আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদেরকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার অনুমতি প্রদান করেন। হযরত উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর সাহাবীবর্গ (রাঃ) এ আয়াতের উপর অমিল করতঃ মুশরিক ও আহলে কিতাবকে ক্ষমা করতেন এবং তাদের দেয়া কষ্ট সহ্য করতেন। অতঃপর অন্য আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং তার ফলে পূর্বের নির্দেশ উঠে যায়। এখন তাদেরকে তাদের প্রতিশোধ গ্রহণ ও আত্মরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। আর বদর প্রান্তরে যে প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাতেই মুশরিকরা ভীষণভাবে পরাজিত হয় এবং তাদের বড় বড় নেতৃবৃন্দের মৃত দেহে ময়দান ভর্তি হয়ে যায়।

.এখন মু'মিনদেরকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে যে, যদি তারা নামায, রোযা ইত্যাদি ইবাদত সঠিকভাবে পালন করে তবে তাদের পরকালের শাস্তির রক্ষাকবচ ছাড়াও দুনিয়াতেও মুশরিক ও কাফিরদের উপর জয়যুক্ত হওয়ার কারণ হয়ে যাবে। এরপর মুমিনদেরকে বলা হচ্ছে যে, তাদের ভাল কাজের প্রতিদান উভয় জগতেই দেয়া হবে। তার নিকট ছোট, বড়, প্রকাশ্য, গোপনীয়, ভাল ও মন্দ কোন কাজই গোপন থাকে না। মুমিনদেরকে তার আনুগত্যের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যে এবং তাঁর অবাধ্যতা হতে রক্ষার জন্যেই মহান আল্লাহ এটা বলেছেন। আল্লাহ তা'আলা (আরবি)-এর পরিবর্তে (আরবি) বলেছেন, যেমন (আরবি)-এর পরিবর্তে (আরবি) এবং (আরবি)-এর পরিবর্তে বলেছেন। ইবনে আবি হাতিম (রঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসসমূহের একটি হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই আয়াতে (আরবি) পড়তেন এবং বলতেনঃ ‘আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বস্তুকেই দেখে থাকেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।