সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 64)
হরকত ছাড়া:
وما هذه الحياة الدنيا إلا لهو ولعب وإن الدار الآخرة لهي الحيوان لو كانوا يعلمون ﴿٦٤﴾
হরকত সহ:
وَ مَا هٰذِهِ الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا لَهْوٌ وَّ لَعِبٌ ؕ وَ اِنَّ الدَّارَ الْاٰخِرَۃَ لَهِیَ الْحَیَوَانُ ۘ لَوْ کَانُوْا یَعْلَمُوْنَ ﴿۶۴﴾
উচ্চারণ: ওয়ামা-হা-যিহিল হায়া-তুদ দুনইয়া-ইল্লা-লাহউওঁ ওয়ালা‘ইবুওঁ ওয়া ইন্নাদ দা-রাল আখিরাতা লাহিয়াল হায়াওয়া-ন । লাও কা-নূইয়া‘লামূন।
আল বায়ান: আর এ দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং নিশ্চয় আখিরাতের নিবাসই হলো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৪. আর এ দুনিয়ার জীবন তো খেলতামাশা ছাড়া কিছুই নয়।(১) আর আখেরাতের জীবনই তো প্রকৃত জীবন(২), যদি তারা জানত!
তাইসীরুল ক্বুরআন: পার্থিব এ জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ছাড়া কিছু নয়, আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন- তারা যদি জানত!
আহসানুল বায়ান: (৬৪) এ পার্থিব জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই নয়।[1] আর পারলৌকিক জীবনই তো প্রকৃত জীবন;[2] যদি ওরা জানত। [3]
মুজিবুর রহমান: এই পার্থিব জীবনতো ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পারলৌকিক জীবনই প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানতো।
ফযলুর রহমান: এই পার্থিব জীবন তো মজা আর খেলা ছাড়া কিছু নয়। পরকালের আবাসই প্রকৃত (শাশ্বত) জীবন; যদি তারা জানত!
মুহিউদ্দিন খান: এই পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক বৈ তো কিছুই নয়। পরকালের গৃহই প্রকৃত জীবন; যদি তারা জানত।
জহুরুল হক: আর দুনিয়ার এই জীবনটা আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধূলো বৈ তো নয়। আর নিশ্চয়ই পরকালের আবাস -- তাই তো জীবন। যদি তারা জানত!
Sahih International: And this worldly life is not but diversion and amusement. And indeed, the home of the Hereafter - that is the [eternal] life, if only they knew.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬৪. আর এ দুনিয়ার জীবন তো খেলতামাশা ছাড়া কিছুই নয়।(১) আর আখেরাতের জীবনই তো প্রকৃত জীবন(২), যদি তারা জানত!
তাফসীর:
(১) এ আয়াতে পার্থিবজীবন ক্রীড়া কৌতুক বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য এই যে, ক্রীড়া কৌতুকের যেমন কোন স্থিতি নেই এবং এর দ্বারা কোন বড় সমস্যার সমাধান হয় না, অল্পক্ষণ পরেই সব তামাশা খতম হয়ে যায়, পার্থিব জীবনের অবস্থাও তদ্রুপ। পার্থিব জীবনের বাস্তবতা শুধুমাত্র এতটুকুই যেমন ছোট ছেলেরা কিছুক্ষণের জন্য নেচে গেয়ে আমোদ করে এবং তারপর যার যার ঘরে চলে যায়। জীবনের কোন একটি আকৃতিও এখানে স্থায়ী ও চিরন্তন নয়। যে যে অবস্থায়ই আছে সাময়িকভাবে একটি সীমিত সময়কালের জন্যই আছে। [দেখুন: ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]
(২) অর্থাৎ যদি তারা একথা জানতো, এ দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষার অবকাশ মাত্র এবং মানুষের জন্য আসল জীবন, যা চিরকাল স্থায়ী হবে, তা হচ্ছে আখেরাতের জীবন, তাহলে তারা এখানে পরীক্ষার সময়-কালকে খেলা-তামাশায় নষ্ট না করে এর প্রতিটি মুহুর্ত এমনসব কাজে ব্যবহার করতো যা সেই চিরন্তন জীবনের জন্য উৎকৃষ্ট ফলদায়ক হতো। দুনিয়ার জীবনের উপর আখেরাতের জীবনকে প্রাধান্য দিত। [দেখুন: ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬৪) এ পার্থিব জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই নয়।[1] আর পারলৌকিক জীবনই তো প্রকৃত জীবন;[2] যদি ওরা জানত। [3]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ যে পার্থিব জীবন তাদেরকে পরকালের জীবন সম্বন্ধে অন্ধ এবং তার জন্য সম্বল সঞ্চয় করার ব্যাপারে উদাসীন করে রেখেছে, তা আসলে এক ধরনের খেলাধূলা অপেক্ষা বেশি মর্যাদা রাখে না। কাফেররা পার্থিব জীবন নিয়ে ব্যাপৃত থাকে, তাতে সুখ অর্জনের জন্য দিবারাত্রি মেহনত করে, কিন্তু যখন মারা যায়, তখন শূন্য হাত হয়ে পরকালের পথে পাড়ি দেয়। যেমন শিশুরা সারা দিন ধুলো-বালির ঘর বানিয়ে খেলা করে এবং পরে বাড়ী ফিরে যাওয়ার সময় খালি হাতে ফিরে যায়, ক্লান্তি ছাড়া তাদের আর কিছুই অর্জন হয় না।
[2] সুতরাং এমন নেক আমল করা প্রয়োজন, যাতে পারলৌকিক জীবন সুন্দর হতে পারে।
[3] কারণ, যদি তারা এ কথা জানত, তাহলে পারলৌকিক জীবন সম্বন্ধে অমনোযোগী হয়ে ইহলৌকিক জীবন নিয়ে মগ্ন হত না। বলা বাহুল্য, এর ঔষধ হচ্ছে জানা ও শেখা, শরীয়তের জ্ঞান শিক্ষা করা।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬১-৬৯ নং আয়াতের তাফসীর:
(وَلَئِنْ سَاَلْتَھُمْ مَّنْ خَلَقَ.... بَلْ اَکْثَرُھُمْ لَا یَعْقِلُوْنَ)
মক্কার মুশরিকরাও বিশ্বাস করত মহান আল্লাহ আকাশ-জমিনের সৃষ্টিকর্তা, চন্দ্র-সূর্যের নিয়ন্ত্রণকারী, তিনি রিযিকদাতা, তিনিই আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে মৃত জমিনকে জীবিত করেন। অর্থাৎ তাওহীদে রুবুবিয়্যাতে তাদের পূর্ণ বিশ্বাস ছিল সে কথাই এখানে প্রতীয়মান হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ বলছেনন তুমি যদি মক্কার মুশরিকদেরকে জিজ্ঞেস কর যে, আকাশ-জমিনের সৃষ্টিকর্তা কে, আকাশ থেকে কে বৃষ্টি দেন তাহলে তারা বলবে আল্লাহ। কিন্তু যখন কোন কিছুর প্রয়োজন হয় তখন তারা সরাসরি আল্লাহ তা‘আলার কাছে চায় না। বিভিন্ন দেবতা, মূর্তি ইত্যাদির কাছে ধরণা ধরে। তাই তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর প্রতি বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও তারা কাফির-মুশরিক। সুতরাং কোন ব্যক্তি এ বিশ্বাস করলেই মু’মিন হবে না যে, আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, হায়াত-মউতের মালিক ইত্যাদি, যতক্ষণ না সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য সম্পাদন করে।
(وَمَا هٰذِهِ الْحَيٰوةُ الدُّنْيَآ.... وَلِیَتَمَتَّعُوْا فَسَوْفَ یَعْلَمُوْنَ)
এখানে দুনিয়ার জীবনকে ক্রীড়াকৌতুক বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলন ক্রীড়াকৌতুকের যেমন কোন স্থিতিশীলতা নেই, তেমন পৃথিবীর কোন স্থিতিশীলতা নেই। কখন তা ধ্বংস করে দেয়া হবে তা কেউ জানেনা। তাই হাদীসে এসেছে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তুমি দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস কর যেন তুমি একজন অপরিচিত লোক, অথবা একজন পথিক। অর্থাৎ পথিক যেমন বেশিক্ষণ পথে অবস্থান করেনা তেমনিভাবে দুনিয়াতে বসবাস কর। ইবনু উমার (রাঃ) বলতেন: যখন তুমি বিকাল করবে তখন সকালের অপেক্ষা করো না আর যখন সকাল করবে তখন বিকালের অপেক্ষা করবে না। (সহীহ বুখারী হা: ৬৪১৬) ইবনু মাযায় এসেছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আখিরাতের তুলনায় দুনিয়াটা তেমন যেমন তোমাদের কেউ সাগরে আঙ্গুল দিয়ে পানি তুললে যতটুকু পরিমাণ আসে। সে যেন লক্ষ্য করে দেখে কতটুকু পরিমাণ পানি আনতে পেরেছে। (ইবনু মাযাহ হা: ৪১০৮, সহীহ)
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, প্রকৃত জীবন তো আখিরাতের জীবন। যে জীবনের কোন শেষ নেই, যারা জান্নাতে যাবে তাদের সেখানে কোন কষ্ট, বেদনা কিছুই থাকবে না। থাকবে শুধু সুখ আর সুখ।
সুতরাং মানুষ যদি জানত আখিরাত কী তাহলে দুনিয়াতে অন্যায় কাজ করতো না, আখিরাতের ওপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দিত না।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষের একটি মন্দ অভ্যাসের বর্ণনা দিচ্ছেন, যখন তারা বিপদগ্রস্ত হয়, যেমন সমুদ্রে চলাচল করছে এমন সময় বিশাল ঢেউ এসে ডুবিয়ে দেবে এমন অবস্থায় উপনীত হয় তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকে, আবার যখন এ বিপদ থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয় তখনই আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করে। অর্থাৎ বলে যদি মাঝি ভাল না হত তাহলে যে ঢেউ এসেছিল তাতে বাঁচার কোন উপায় ছিল না, ড্রাইভার ভাল না হলে দুর্ঘটনা ঘটেই যেত ইত্যাদি। অথচ আল্লাহ তা‘আলা যে রক্ষা করলেন সে কথা মনে রাখে না এবং একবার শুকরিয়াও আদায় করে না। এ সম্পর্কে সূরা বানী ইসরাঈলের ১৭ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
(وَمَا ھٰذِھِ الْحَیٰوةُ الدُّنْیَآ اِلَّا لَھْوٌ وَّلَعِبٌ... وَاِنَّ اللہَ لَمَعَ الْمُحْسِنِیْنَ)
ওপরের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে মক্কার মুশরিকরা বিশ্বাস করত সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা ও মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। এমনকি বিপদ থেকে মুক্তিদাতাও আল্লাহ তা‘আলা বলে বিশ্বাস করত। কিন্তু বিপদ থেকে মুক্তি লাভ করেই আবার শিরকে লিপ্ত হত। এখানে আল্লাহ তা‘আলা মক্কার কুরাইশদের ওপর যে অনুগ্রহ করেছেন সে কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি তাদেরকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জায়গা হারাম শরীফে স্থান দিয়েছেন। মু’মিন কাফির নির্বিশেষে যে কেউ এখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপত্তা লাভ করবে। কোন প্রকার হত্যা, লুন্ঠন, শিকার, বৃক্ষ কর্তন ইত্যাদি করা যাবে না। অথচ পাশেই যারা বসবাস করে তারা এরূপ নিরাপত্তা পায় না। সুতরাং তাদের এ নেয়ামতের শুকরিয়াস্বরূপ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা উচিত। يُتَخَطَّفُ শব্দের অর্থ ছোঁ মেরে নেয়া। অর্থাৎ হারামের পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকেরা হামলা ও লুণ্ঠনের নির্যাতন থেকে নিরাপদ নয়। তাদেরকে যে কোন সময় হামলা করে উধাও করে দেয়া হতে পারে, কিন্তু তোমরা এরূপ আতঙ্ক থেকে নিরাপদ। এতসব নেয়ামত পাওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতের কুফরী কর এবং তাঁর সাথে শির্ক কর।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَلَمْ تَرَ إِلَي الَّذِيْنَ بَدَّلُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ كُفْرًا وَّأَحَلُّوْا قَوْمَهُمْ دَارَ الْبَوَارِ)
“তুমি কি তাদেরকে লক্ষ্য কর না যারা আল্লাহর অনুগ্রহের বদলে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তারা তাদের সম্প্রদায়কে নামিয়ে আনে ধ্বংসের দ্বারে।” (সূরা ইবরাহীম ১৪:২৮)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যারা আল্লাহ তা‘আলার নামে মিথ্যা কথা বলে, অথবা তাঁর নিকট হতে আগত সত্যকে অস্বীকার করে সে হচ্ছে সবচেয়ে বড় জালিম। আর তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম।
(وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا....) جهاد
শব্দের অর্থন প্রচেষ্টা করা, ঈমান আনা থেকে শুরু করে যাবতীয় সৎ আমল করা ও অসৎ আমল থেকে বিরত থাকা এমনকি আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা পর্যন্ত এখানে সব শামিল। ঈমান আনতেও প্রচেষ্টা করতে হয়, কেননা শয়তান এতে কঠোরভাবে বাধা দেয়। কারণ একজন ব্যক্তি ঈমান আনলে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সত্য পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে সঠিক পথ দেখাবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় শত্র“র বিরুদ্ধে জিহাদ করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতের পথ দেখাবেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাহায্য, সহযোগিতা দিয়ে সৎ কর্মশীলদের সাথে রয়েছেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন কিছুই নয়, তাই আমাদের উচিত আখিরাতের জন্য আমল করা।
২. সকল বিপদাপদ থেকে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই রক্ষা করেন আর মানুষ উসিলা মাত্র। তাই কেবল আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
৩. বায়তুল্লাহর মর্যাদা অবগত হলাম।
৪. আল্লাহ তা‘আলার ওপর মিথ্যারোপ করা সবচেয়ে বড় জুলুম।
৫. সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলে জানতে হবে। সত্যকে মিথ্যা বলা যাবে না। আবার মিথ্যাকে সত্য বলা যাবে না।
৬. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় সংগ্রাম করার ফযীলত অনেক।
৭. আল্লাহ তা‘আলা সৎ কর্মপরায়ণ লোকদেরকে সর্বদা সাহায্য করেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬৪-৬৬ নং আয়াতের তাফসীর
দুনিয়ার তুচ্ছতা, ঘৃণ্যতা, নশ্বরতা এবং ধ্বংসশীলতার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, এর কোন স্থায়িত্ব নেই। এ দুনিয়া তো খেল-তামাশার জায়গা ছাড়া আর কিছুই নয়। পক্ষান্তরে আখিরাতের জীবন হচ্ছে স্থায়ী ও অবিনশ্বর। এটা ধ্বংস, নষ্ট,হ্রাস ও তুচ্ছতা হতে মুক্ত। যদি তাদের জ্ঞান বুদ্ধি থাকতো তবে কখনো এই স্থায়ী জিনিসের উপর অস্থায়ী জিনিসকে প্রাধান্য দিতো না।
এরপর মহান আল্লাহ বলেন যে, এই মুশরিকরা অসহায় ও নিরুপায় অবস্থায় এক ও অংশী বিহীন আল্লাহকে ডাকতে শুরু করে। অতঃপর যখন বিপদ কেটে যায় এবং কষ্ট দূর হয়ে যায় তখন অন্যদেরকে ডাকতে শুরু করে দেয়। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “সমুদ্রে যখন তোমাদেরকে কষ্ট ও বিপদ আপদ স্পর্শ করে তখন যাদেরকে ডাকতে তাদের সবকে ভুলে গিয়ে একমাত্র তাঁকেই ডেকে থাকো, অতঃপর যখন তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়ে স্থলভাগে নিয়ে আসেন তখন তোমরা তার থেকে বিমুখ হয়ে যাও।” (১৭:৬৭) আর এখানে মহান আল্লাহ বলেনঃ অতঃপর তিনি যখন স্থলে ভিড়িয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখন তারা শিরকে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন মক্কা জয় করেন তখন ইকরামা (রাঃ) ইবনে আবি জেহেল সেখান হতে পালিয়ে যান এবং হাবশায় গমনের ইচ্ছা করে নৌকায় আরোহণ করেন। ঘটনাক্রমে ভীষণ ঝড়-তুফান শুরু হয়ে যায় এবং নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। নৌকায় যত মুশরিক ছিল সবাই বলে ওঠেঃ “এটা হলো এক আল্লাহকে ডাকার সময়। ওঠো এবং এসো, আমরা মুক্তির জন্যে তাঁরই নিকট বিশুদ্ধচিত্তে প্রার্থনা করি। এখন মুক্তি দেয়ার ও উদ্ধার করার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই আছে।` একথা শোনা মাত্রই ইকরামা (রাঃ) বলে উঠেনঃ “দেখো, আল্লাহর কসম! সমুদ্রের বিপদে যদি উদ্ধার করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই থাকে তবে স্থল ভাগের বিপদ হতেও উদ্ধার করার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই রয়েছে। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অঙ্গীকার করছি যে, যদি আমি এই বিপদ হতে রক্ষা পাই তবে সরাসরি গিয়ে হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর হাতে হাত রেখে তার কালেমা পাঠ করবো। আমার বিশ্বাস আছে যে, আল্লাহর রাসূল (সঃ) আমার অপরাধ মার্জনা করবেন এবং আমার প্রতি দয়া করবেন। তিনি তাই করেন।
(আরবি) এবং (আরবি) শব্দদ্বয়ের শুরুতে যে (আরবি) অক্ষরটি রয়েছে একে (আরবি) (পরিণাম সম্বন্ধীয় (আরবি) বলা হয়েছে। কেননা, তারা ওটা ইচ্ছা করে না। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যখন তাদের দিকে সম্বন্ধ লাগানো হবে তখন এটা হবে(আরবি) বা পরিণাম সম্বন্ধীয় লাম। তবে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হলে ওটা হবে (আরবি) বা কারণ সম্বন্ধীয় লাম।।(আরবি) (২৮:৮) এই আয়াতের তাফসীরে আমরা এটা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।