সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 21)
হরকত ছাড়া:
يعذب من يشاء ويرحم من يشاء وإليه تقلبون ﴿٢١﴾
হরকত সহ:
یُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَرْحَمُ مَنْ یَّشَآءُ ۚ وَ اِلَیْهِ تُقْلَبُوْنَ ﴿۲۱﴾
উচ্চারণ: ইউ‘আযযিবূমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়ারহামুমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইলাইহি তুকলাবূন ।
আল বায়ান: তিনি যাকে ইচ্ছা আযাব দেবেন এবং যাকে ইচ্ছা দয়া করবেন, আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২১. তিনি যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছে অনুগ্রহ করেন। আর তোমরা তারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যাকে ইচ্ছে তিনি শাস্তি দেন আর যার প্রতি ইচ্ছে তিনি রহমত বর্ষণ করেন আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
আহসানুল বায়ান: (২১) তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা কৃপা করেন। আর তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। [1]
মুজিবুর রহমান: তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন, যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।
ফযলুর রহমান: তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
মুহিউদ্দিন খান: তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা রহমত করেন। তাঁরই দিকে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
জহুরুল হক: তিনি শাস্তি দেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন এবং করুণা করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন, আর তাঁর দিকেই তো তোমাদের ফেরানো হবে।
Sahih International: He punishes whom He wills and has mercy upon whom He wills, and to Him you will be returned.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২১. তিনি যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছে অনুগ্রহ করেন। আর তোমরা তারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২১) তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা কৃপা করেন। আর তোমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, তিনিই প্রকৃত শাসক ও আদেশদাতা। তাঁকে প্রশ্ন করার বা তাঁর কাছে কৈফিয়ত নেওয়ার কেউ নেই। বরং তিনি যে নিয়ম নির্ধারিত করে রেখেছেন, তাঁর আযাব ও রহমত সেই নিয়মানুসারেই হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৬-২৭ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে ইবারাহীম (عليه السلام) তাঁর পিতাসহ জাতিকে যেভাবে তাওহীদের দিকে আহ্বান করেছিলেন এবং তাঁর আহ্বানে জাতির লোকেরা যেভাবে বিরোধিতা করেছিল ও তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করে শাস্তি প্রদান করার জন্য ইচ্ছা করেছিল সে বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে।
(فَاٰمَنَ لَه۫ لُوْطٌ)
অর্থাৎ এত নির্যাতন ও বিরোধিতা করা সত্ত্বেও ইবরাহীম (عليه السلام) দাওয়াতী কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে লূত (عليه السلام) ইবরাহীম (عليه السلام)-এর প্রতি ঈমান আনেন। পরে তাঁকেও নবুওয়াত দেয়া হয়।
(وَقَالَ إِنِّيْ مُهَاجِرٌ إِلٰي رَبِّيْ)
অর্থাৎ যখন ইবরাহীম (عليه السلام) দেখলেন তাঁর জাতির লোকেরা দাওয়াত কবুল করছে না তখন তিনি হিজরত করে শামে চলে গেলেন। সাথে লূত (عليه السلام) ও স্ত্রী সারাও হিজরত করেছিলেন।
(وَوَهَبْنَا لَه۫ٓ إِسْحٰقَ وَيَعْقُوْبَ)
অর্থাৎ শামে হিজরত করার পর আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (عليه السلام)-কে ইসহাক ও ইয়াকুব নামক দুটি সন্তান দান করেন। ইবরাহীম (عليه السلام)-এর পর যত নাবী এসেছেন সবাই তাঁর বংশ থেকে। এমনকি নবুওয়াতের ধারা শেষ হয়েছে আমাদের নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে।
ইবরাহীম (عليه السلام) ও স্বজাতির সাথে তাঁর ঘটনা সম্পর্কে পূর্বে একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কাফির-মুশরিকদেরকে সর্বপ্রথম তাওহীদের দাওয়াত দিতে হবে।
২. কাফির-মুশরিকদেরকে যখন তাওহীদের দাওয়াত দিব তখন তাদের বাতিল মা‘বূদগুলোর অক্ষমতা তুলে ধরব।
৩. যারা আল্লাহর পথে অবিচল থাকে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে সাহায্য করেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৯-২৩ নং আয়াতের তাফসীর
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তারা কি দেখে না যে, তারা তো কিছুই ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সৃষ্টি করে দিলেন। কিন্তু এর পরেও তারা মৃত্যুর পর পুনর্জীবনকে বিশ্বাস করে না। অথচ এর উপর কোন দলীলের প্রয়োজন হয় না। যিনি প্রথমে সৃষ্টি করতে পারেন তাঁর পক্ষে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা খুবই সহজ।
এরপর তিনি তাদেরকে হিদায়াত করছেনঃ তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে বিদ্যমান ও বিরাজমান আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনাবলী সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা কর। আকাশমণ্ডল, নক্ষত্ররাজি, ভূ-মণ্ডল, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা, বন-জঙ্গল, নদ-নদী, সাগর-উপসাগর, ফল-মূল, ক্ষেত-খামার ইত্যাদির প্রতি তাকিয়ে দেখো যে, এগুলোর কোনই অস্তিত্ব ছিল না। এগুলোর সবই আল্লাহ তাআলাই সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি মনে কর যে, এতো বড় কারিগর ও ব্যাপক ক্ষমতাবান আল্লাহ কিছুই করতে পারেন না? তিনি তো শুধু হও’ বললেই সবই হয়ে যায়। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করতে পারেন। তার জন্যে কোন উপকরণের প্রয়োজন নেই। এজন্যেই তো তিনি বলেনঃ তারা কি লক্ষ্য করে না যে, কিভাবে আল্লাহ সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দান করেন, অতঃপর তা পুনরায় সৃষ্টি করেন? এটা তো আল্লাহর জন্যে সহজ। যেমন অন্য আয়াতে তিনি বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আল্লাহ তিনিই যিনি সৃষ্টিকে অস্তিত্ব দান করেন, অতঃপর তা পুনরায় সৃষ্টি করেন এবং এটা তার কাছে খুবই সহজ।” (৩০:২৭)।
অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং অনুধাবন কর, কিভাবে তিনি সৃষ্টি শুরু করেছেন। অতঃপর তিনি সৃষ্টি করবেন কিয়ামতের দিন পরবর্তী সৃষ্টি। আল্লাহ তো সর্ববিষয়ে শক্তিমান। আল্লাহ পাকের এ উক্তিটি তার নিম্নের উক্তির সাথে সাদৃশ্য যুক্তঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আমি তাদেরকে দুনিয়ার প্রতিটি অংশে এবং স্বয়ং তাদের নফসের মধ্যে আমার এমন নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করবো যাতে তাদের সামনে সত্য প্রকাশিত হয়ে পড়বে।” (৪১:৫৩)
যেমন আর এক জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “তারা কি কোন কিছু ছাড়াই সৃষ্ট হয়েছে, না তারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টিকারী? না তারা আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? না, বরং তারা (আল্লাহর উপর) বিশ্বাস করে না।” (৫২:৩৫-৩৬)
মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। তিনি পরম বিচারপতি, অধিপতি। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করেন। কেউ তাঁর হুকুম নড়াতে-টলাতে পারে না। কেউ তাঁর কাছে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে না। পক্ষান্তরে তিনি সবারই উপর বিজয়ী ও পূর্ণ ক্ষমতাবান। তিনি যাকে ইচ্ছা প্রশ্ন করবেন। সবাই তার অধিকারভুক্ত, সবাই তার অধীনস্থ। সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা এবং সবকিছুরই মালিক তিনিই। তিনি যা কিছু করেন সবই ন্যায়ের ভিত্তিতে করেন। যেহেতু তিনিই মালিক, তিনি যুলুম হতে পবিত্র। হাদীস শরীফে আছে যে, আল্লাহ তা'আলা যদি সপ্ত আসমানবাসী ও সপ্ত যমীনবাসীর উপর শাস্তি অবতীর্ণ করেন তবুও তিনি অত্যাচারী সাব্যস্ত হবেন না। শাস্তি দেয়া এবং দয়া করা সবই তাঁরই হাতে। কিয়ামতের দিন সবাই তারই নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। সবকেই তাঁরই নিকট হাযির হতে হবে। আকাশবাসী ও পৃথিবীবাসীদের কেউই আল্লাহকে ব্যর্থ ও অসমর্থ করতে পারে না। তিনি সবারই উপর বিজয়ী। সবাই আল্লাহ হতে ভীত-সন্ত্রস্ত। সবাই তার মুখাপেক্ষী এবং তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সবকিছু হতে অভাবমুক্ত। আল্লাহ ব্যতীত মানুষের কোন অভিভাবকও নেই এবং সাহায্যকারীও নেই। যারা আল্লাহর নিদর্শন ও তার সাক্ষাৎ অস্বীকার করে, তারাই তাঁর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়। তাদের জন্যে আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।