আল কুরআন


সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 13)

সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 13)



হরকত ছাড়া:

وليحملن أثقالهم وأثقالا مع أثقالهم وليسألن يوم القيامة عما كانوا يفترون ﴿١٣﴾




হরকত সহ:

وَ لَیَحْمِلُنَّ اَثْقَالَهُمْ وَ اَثْقَالًا مَّعَ اَثْقَالِهِمْ ۫ وَ لَیُسْـَٔلُنَّ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ عَمَّا کَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ﴿۱۳﴾




উচ্চারণ: ওয়া লাইয়াহমিলুন্না আছকা-লাহুম ওয়াআছকা-লাম মা‘আ আছকা-লিহিম ওয়ালাইউছআলুন্না ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ‘আম্মা-কা-নূইয়াফতারূন।




আল বায়ান: আর অবশ্যই তারা বহন করবে তাদের বোঝা এবং তাদের বোঝার সাথে আরো কিছু বোঝা। আর তারা কিয়ামতের দিন অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে সে সম্পর্কে, যা তারা মিথ্যা বানাত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩. তারা তো বহন করবে নিজেদের ভার এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরো কিছু বোঝা(১); আর তারা যে মিথ্যা রটনা করত সে সম্পর্কে কিয়ামতের দিন অবশ্যই তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা অবশ্য অবশ্যই তাদের নিজেদের পাপের বোঝা বহন করবে, নিজেদের বোঝার সাথে আরো বোঝা, আর তারা যে সব মিথ্যে উদ্ভাবন করত সে সম্পর্কে ক্বিয়ামত দিবসে তারা অবশ্য অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।




আহসানুল বায়ান: (১৩) ওরা অবশ্যই নিজেদের পাপভার বহন করবে এবং তার সঙ্গে আরও কিছু পাপের বোঝা[1] এবং ওরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, সে সম্পর্কে কিয়ামতের দিন অবশ্যই ওদেরকে প্রশ্ন করা হবে।



মুজিবুর রহমান: এবং তারা নিজেদের বোঝা বহন করবে এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরও বোঝা; এবং তারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে সেই সম্পর্কে কিয়ামাত দিবসে অবশ্যই তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।



ফযলুর রহমান: তারা বহন করবে তাদের (নিজেদের) বোঝা এবং তাদের বোঝার সাথে আরো কিছু বোঝা। আর তারা যে সব মিথ্যা উদ্ভাবন করত সে সম্পর্কে তাদেরকে কেয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে।



মুহিউদ্দিন খান: তারা নিজেদের পাপভার এবং তার সাথে আরও কিছু পাপভার বহন করবে। অবশ্য তারা যে সব মিথ্যা কথা উদ্ভাবন করে, সে সম্পর্কে কেয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হবে।



জহুরুল হক: আর তারা তাদের বোঝা অবশ্যই বইবে, আর তাদের বোঝার সঙ্গে অন্য বোঝাও। আর কিয়ামতের দিনে তাদের অবশ্যই প্রশ্ন করা হবে যা তারা উাবন করেছিল সে-সন্বন্ধে।



Sahih International: But they will surely carry their [own] burdens and [other] burdens along with their burdens, and they will surely be questioned on the Day of Resurrection about what they used to invent.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৩. তারা তো বহন করবে নিজেদের ভার এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরো কিছু বোঝা(১); আর তারা যে মিথ্যা রটনা করত সে সম্পর্কে কিয়ামতের দিন অবশ্যই তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ কাফেররা মুসলিমগণকে বলত, তোমরা অহেতুক আখেরাতে শাস্তির ভয়ে আমাদের পথে চলছ না। আমরা কথা দিচ্ছি, যদি তোমাদের কথাই সত্য হয় যে, আমাদের পথে চললে আখেরাতে শাস্তি পেতে হবে, তবে তোমাদের পাপভার আমরাই বহন করব। যা কিছু শাস্তি হবে, আমাদেরই হবে। [ইবন কাসীর] সাধারণ মুসলিমগণের সাথে কাফেরদের এমনি ধরনের উক্তির জওয়াবে আল্লাহ তা'আলা বলছেন, যারা এরূপ বলে তারা সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী। আখেরাতের ভয়াবহ আযাব দেখে তারা তাদের পাপভার বহন করবেই না। কাজেই তাদের এই ওয়াদা মিথ্যা। তাছাড়া তোমাদের পাপভোর বহন করে তারা তোমাদেরকে মুক্ত করে দেবে- একথা তো ভ্রান্ত ও মিথ্যা, তবে তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করা ও সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা স্বয়ং একটি বড় পাপ। এই পাপভারও তাদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হবে। ফলে তারা নিজেদের পাপভারও বহন করবে এবং যাদের বিভ্রান্ত করেছিল, তাদের পাপভারও এক সাথে বহন করবে। [ইবন কাসীর]

এ আয়াত থেকে জানা গেল যে, যে ব্যক্তি অপরকে পাপকাজে লিপ্ত করতে অনুপ্রাণিত করে অথবা পাপকাজে তাকে সাহায্য করে, সে-ও আসল পাপীর অনুরূপ অপরাধী। কুরআন মজীদের অন্য এক জায়গায় এ নিয়মটিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, “যাতে কিয়ামতের দিন তারা নিজেদের বোঝাও পুরোপুরি বহন করে এবং এমনসব লোকদের বোঝার একটি অংশও বহন করে যাদেরকে তারা জ্ঞান ছাড়াই গোমরাহ করে।” [সূরা আন-নাহল: ২৫] আর এ নিয়মটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিমোক্ত হাদীসটিতে বর্ণনা করেছেন: “যে ব্যক্তি সঠিক পথের দিকে আহবান জানায় সে তাদের সমান প্রতিদান পাবে যারা তার আহবানে সাড়া দিয়ে সঠিক পথ অবলম্বন করে, এ জন্য তাদের প্ৰাপ্যে কোন কমতি করা হবে না। আর যে ব্যক্তি গোমরাহীর দিকে আহবান জানায় সে তাদের সবার সমান গোনাহের ভাগী হবে যারা তার অনুসরণ করে এবং এ জন্য তাদের গোনাহের মধ্যে কোন কমতি করা হবে না।” [মুসলিম: ২৬৭৪]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৩) ওরা অবশ্যই নিজেদের পাপভার বহন করবে এবং তার সঙ্গে আরও কিছু পাপের বোঝা[1] এবং ওরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, সে সম্পর্কে কিয়ামতের দিন অবশ্যই ওদেরকে প্রশ্ন করা হবে।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, কুফরের নেতারা ও ভ্রষ্টতার দিকে আহবানকারীরা নিজেরা শুধু নিজেদের বোঝাই বইবে না; বরং তার সাথে ঐ সকল লোকেদের পাপের বোঝাও তাদের উপর হবে, যারা তাদের চেষ্টায় পথভ্রষ্ট হয়েছিল। এ বিষয়টি সূরা নাহলের ২৫নং আয়াতেও বর্ণিত হয়েছে। হাদীসের মধ্যে আছে, ‘‘যে ব্যক্তি সৎপথের দিকে আহবান করে (দাওয়াত দেয়) সে ব্যক্তির ঐ পথের অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ হবে। এতে তাদের সওয়াব থেকে কিছু মাত্র কম হবে না। আর যে ব্যক্তি অসৎ পথের দিকে আহবান করে সেই ব্যক্তির ঐ পথের অনুসারীদের সমপরিমাণ গোনাহর ভাগী হবে। এতে তাদের গোনাহ থেকে কিছুমাত্র কম হবে না।’’ (মুসলিম ২৬৭৪নং প্রমুখ) এই নিয়মানুসারে কিয়ামত পর্যন্ত অন্যায়ভাবে যত হত্যা হবে তাদের পাপের একটি অংশ আদমের পুত্র কাবীলের উপর বর্তাবে। কারণ, মানুষের ইতিহাসে সেই প্রথম অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিল। (মুসনাদে আহমাদ)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১২-১৩ নং আয়াতের তাফসীর:



মুসলিমদেরকে কাফিররা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে থাকে। কখনো শক্তি দিয়ে, কখনো অর্থ দিয়ে আবার কখনো সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করে। আলোচ্য আয়াতে তাদের এমনই একটি অপকৌশল উল্লেখ করা হয়েছে। কাফিররা মুসলিমদেরকে বলে: তোমরা অহেতুক আখিরাতের শাস্তির ভয়ে আমাদের পথে চলছ না, আমাদের পথে চলে আসো, আমাদের ধর্ম মেনে নাও, তোমাদের ইসলাম ধর্ম বর্জন কর। সকল সুবিধা দেব, অর্থ ও শক্তি দিয়ে সাহায্য করব, তোমাদের সাথে বাণিজ্য করব। তোমাদেরকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাব। তাতেও যদি রাজি না হও-তাহলে তোমরা যে আখিরাতের ভয় কর তার শাস্তির দায়িত্ব আমাদের কাঁধে তুলে নিলাম। আখিরাতে তোমাদের কোন সমস্যা হবে না। তারপরেও আমাদের পথে চলে আসো। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “কিন্তু তারা তো তাদের পাপভারের কিছুই বহন করবে না। তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।”



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَا يَسْأَلُ حَمِيْمٌ حَمِيْمًا)‏



“আর কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু কোন অন্তরঙ্গ বন্ধুর খোঁজ নিবে না।” (সূরা মা‘আরিজ ৭০:১০)



সুতরাং যে যতই এ ব্যাপারে আশা দিয়ে থাকুক না কেন অর্থাৎ যদি কেউ বলেন তুমি এ অন্যায় কাজটি কর এর ফলে যা গুনাহ হবে তা আমি বহন করব। এমন কথায় বিশ্বাসী হয়ে অন্যায় করা যাবে না। কেননা এ কথা শুধ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বলতে পারবে, মুমূর্ষুকালে একথা বলবে না, কারণ তখন সত্য উপলদ্ধি করতে পারবে। আর আখিরাতে তো পিতা-মাতাও সন্তানকে অস্বীকার করবে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ঐ সকল লোকদের সম্পর্কে বলেন, যারা নিজেরা খারাপ কাজ করে অন্যদেরকেও খারাপ কাজের দিকে আহ্বান করে। মানুষকে খারাপ কাজের দিকে আহ্বান করার কারণে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে ও খারাপ আমলে জড়িত হয়েছে তাদের পাপের বোঝা আহ্বানকারীরা নিজেদের বোঝার সাথে বহন করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لِيَحْمِلُوْآ أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَّوْمَ الْقِيٰمَةِ لا وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِيْنَ يُضِلُّوْنَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ ط أَلَا سَا۬ءَ مَا يَزِرُوْنَ)‏



“ফলে কিয়ামত দিবসে তারা বহন করবে তাদের পাপভার পূর্ণ মাত্রায় এবং পাপভার তাদেরও যাদেরকে তারা অজ্ঞতাহেতু পথভ্রষ্ট করেছে। দেখ, তারা যা বহন করবে তা কত নিকৃষ্ট!” (সূরা নাহল ১৬:২৫)



সহীহ হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে সৎ পথের দিকে আহ্বান করে তার আমলনামায় কিয়ামত পর্যন্ত ঐ পরিমাণ সওয়াব লেখা হবে, অনুসৃত ব্যক্তির আমলনামায় যে পরিমাণ সওয়াব লেখা হয়। তবে অনুসরণকারী ব্যক্তির আমলনামা থেকে কোন কিছুই কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে তার আমলনামায় কিয়ামত পর্যন্ত ঐ পরিমাণ গুনাহ লেখা হবে যে পরিমাণ গুনাহ অনুসারণকারী ব্যক্তির আমলনামায় লেখা হবে। তবে অনুসরণকারী ব্যক্তির গুনাহ থেকে কোন কিছুই কমানো হবে না। (সহীহ মুসলিম হা: ১৬)



অতএব প্রত্যেককেই তার নির্ধারিত পাপের বোঝা বহন করতে হবে। তার নির্ধারিত পাপ থেকে কোন কিছুই কম করা হবে না। তাই আমাদের উচিত হবে আমরা মানুষকে মন্দ কর্মের দিকে আহ্বান করবো না এবং আহ্বানের উপকরণ তৈরি করবো না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. প্রত্যেককে তার পাপের বোঝা বহন করতে হবে।

২. অসৎ কাজ করা ও অসৎ কাজের পথ দেখানো সমান অপরাধ।

৩. কাফিররা বিভিন্ন কৌশল ও লোভ দেখিয়ে মুসলিমকে পথভ্রষ্ট করতে চাইবে, সুতরাং সর্বদা সাবধান থাকতে হবে, কখনো তাদের প্ররোচনায় প্ররোচিত হওয়া যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১২-১৩ নং আয়াতের তাফসীর

কুরায়েশ কাফিররা মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্যে তাদেরকে একথাও বলতোঃ “তোমরা আমাদের মাযহাবের উপর আমল কর, এতে যদি কোন পাপ হয় তবে তা আমরাই বহন করবো। অথচ এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে এটা প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। কেউ তার নিকটতম আত্মীয়েরও পাপের বোঝা বহন করবে না এবং করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “বন্ধু বন্ধুর তত্ত্ব নিবে না, তাদেরকে করা হবে একে অপরের দৃষ্টিগোচর ।` (৭০:১০-১১) হ্যাঁ, তবে এ লোকগুলো নিজেদের পাপের বোঝা বহন করবে এবং যাদেরকে তারা পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরও পাপের বোঝা এদের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু ঐ পথভ্রষ্ট লোকেরাও বোঝামুক্ত হবে না। তাদের পাপের বোঝা তাদের উপরই থাকবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যেন তারা তাদের বোঝা পূর্ণভাবে বহন করে কিয়ামতের দিন এবং অজ্ঞতা বশতঃ যাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরও বোঝা বহন করে।` (১৬:২৫)

সহীহ হাদীসে রয়েছেঃ “যে ব্যক্তি লোকদেরকে হিদায়াতের দাওয়াত দিবে, কিয়ামত পর্যন্ত যেসব লোক ঐ হিদায়াতের উপর চলবে তাদের সবারই পুণ্য ঐ একটি লোক লাভ করবে, অথচ তাদের পুণ্য হতে কিছুই কম করা হবে না। অনুরূপভাবে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেবে, যারা ওর উপর আমল করবে সবারই গুনাহ তার উপর পড়বে এবং তাদের গুনাহ হতে কিছুই কম করা হবে না।”
আর একটি হাদীসে আছেঃ “ভূ-পৃষ্ঠে যত খুনাখুনি হবে, সবগুলোর পাপ হযরত আদম (আঃ)-এর ঐ পুত্রের উপর পতিত হবে, যে অন্যায়ভাবে তার ভাইকে হত্যা করেছিল। কেননা, হত্যার সূচনা তার থেকেই হয়।”

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করে সে সম্পর্কে কিয়ামত দিবসে তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।

হযরত আবু উমামা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সমস্ত রিসালাত পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। তিনি একথাও বলেছেনঃ তোমরা যুলুম হতে দূরে থাকো। কেননা, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলবেন- “আমার ইজ্জত ও মর্যাদার শপথ! আজ একটি যুলুমও ছেড়ে দিবো না।” অতঃপর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেনঃ “অমুকের পুত্র অমুক কোথায়?” সে তখন আসবে এবং পর্বত বরাবর পুণ্য তার সাথে থাকবে। এমনকি হাশরের মাঠে উপস্থিত লোকদের দৃষ্টি তার দিকে উঠবে। সে আল্লাহর সামনে এসে দাঁড়িয়ে যাবে। অতঃপর ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেনঃ “এ ব্যক্তি কারো উপর যুলুম করে থাকলে সে যেন আজ প্রতিশোধ নিয়ে নিজের হক আদায় করে নেয়।” একথা শুনে এদিক-ওদিক হতে লোকেরা এসে তাকে ঘিরে নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা তখন বলবেনঃ “আমার এই বান্দাদেরকে তাদের হক আদায় করিয়ে দাও।” ফেরেশতারা বলবেনঃ “কিভাবে আমরা তাদের হক আদায় করিয়ে দিবো?” আল্লাহ তা'আলা উত্তরে বলবেনঃ “তার পুণ্যগুলো নিয়ে এদেরকে দিয়ে দাও।” এরূপই করা হবে। শেষ পর্যন্ত তার আর কোন পুণ্য অবশিষ্ট থাকবে না। কিন্তু অত্যাচারিত ও হকদার আরও বাকী থেকে যাবে। আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেনঃ “এদেরকেও এদের হক আদায় করিয়ে দাও।” ফেরেশতারা বলবেনঃ “এখন তো তার কাছে আর কোন পণ্য বাকী নেই!” আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ “তাদের পাপগুলো তার উপর চাপিয়ে দাও।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতবুদ্ধি হয়ে।
(আরবি)-এ আয়াতটি পাঠ করেন। (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁকে বলেনঃ “হে মুআয (রাঃ)! নিশ্চয়ই মুমিনকে তার সমস্ত চেষ্টা-শ্রম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, এমনকি তার চক্ষুদ্বয়ের সুরমা ও তার অঙ্গুলি দ্বারা ঠাসা মাটি সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হবে। দেখো, যেন এরূপ না হয় যে, কিয়ামতের দিন কেউ তোমার পুণ্য নিয়ে নেয়।” (এ হাদীসটিও ইবনে আবি হাতিমই (রঃ) বর্ণনা করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।