সূরা আন-নামাল (আয়াত: 71)
হরকত ছাড়া:
ويقولون متى هذا الوعد إن كنتم صادقين ﴿٧١﴾
হরকত সহ:
وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ﴿۷۱﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কুনতুম সা-দিকীন।
আল বায়ান: আর তারা বলে, ‘তোমরা সত্যবাদী হলে (বল) এই ওয়াদা কখন আসবে’?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭১. আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, কখন এ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে?
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা বলে- ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে, এ ‘ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে?
আহসানুল বায়ান: (৭১) ওরা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এ প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?’
মুজিবুর রহমান: তারা বলেঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, কখন এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে?
ফযলুর রহমান: তারা বলে, “তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে বল, এই ওয়াদা কবে পূর্ণ হবে?”
মুহিউদ্দিন খান: তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এই ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে?
জহুরুল হক: আর তারা বলে -- "কখন এই ওয়াদা হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?"
Sahih International: And they say, "When is [the fulfillment of] this promise, if you should be truthful?"
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭১. আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, কখন এ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে?
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭১) ওরা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এ প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?”
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭১-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে মূলত কাফিররা যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করত সে সম্পর্কেই আলোচনা করা হয়েছে। তারা বলত, তোমাদের কথা যদি সত্যই হয় তবে বল, এ ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে। যেমন তারা বলত:
(فَسَيُنْغِضُوْنَ إِلَيْكَ رُؤُوْسَهُمْ وَيَقُوْلُوْنَ مَتٰي هُوَ ط قُلْ عَسٰٓي أَنْ يَّكُوْنَ قَرِيْبًا)
“অতঃপর তারা তোমার সম্মুখে মাথা নাড়বে ও বলবে, ‘সেটা কবে?’ বল: ‘সম্ভবত খুব শীঘ্রই হবে।” (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:৫১)
তাদের এ কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা যে বিষয়ে ত্বরান্বিত করছ তা শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে। আর এ শাস্তি বিলম্বিত হওয়াটা মূলত আল্লাহ তা‘আলার একটি অনুগ্রহ। কেননা যখন শাস্তি এসে যাবে তখন অপরাধীরা কেউ তা থেকে রেহাই পাবে না। তাই আল্লাহ তা‘আলা এ শাস্তি বিলম্বিত করে তাদেরকে সুযোগ করে দেন যেন তারা তাওবাহ করতে পারে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনি মানুষের প্রকাশ্য ও গোপন সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(سَوَا۬ءٌ مِّنْكُمْ مَّنْ أَسَرَّ الْقَوْلَ وَمَنْ جَهَرَ بِه۪ وَمَنْ هُوَ مُسْتَخْفٍۭ بِاللَّيْلِ وَسَارِبٌۭ بِالنَّهَارِ)
“তোমাদের মধ্যে যে কথা গোপন রাখে অথবা যে সেটা প্রকাশ করে, রাত্রিতে যে আত্মগোপন করে এবং দিবসে যে প্রকাশ্যে বিচরণ করে, তারা সমভাবে আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞানগোচর।” (সূরা রা‘দ ১৩:১০)
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(وَإِنْ تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَإِنَّه۫ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفٰي)
“যদি তুমি উচ্চকণ্ঠে কথা বল, তবে (জেনে রেখ) তিনি যা গুপ্ত ও অব্যক্ত সবই জানেন।” (সূরা ত্বা-হা- ২০:৭)
এমনকি আকাশ ও জমিনে এমন কোন রহস্য নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই এবং আল্লাহ তা‘আলা তা জানেন না। আল্লাহ তা‘আলা সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللّٰهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَا۬ءِ وَالْأَرْضِ ط إِنَّ ذٰلِكَ فِيْ كِتٰبٍ ط إِنَّ ذٰلِكَ عَلَي اللّٰهِ يَسِيْرٌ)
“তুমি কি জান না যে, আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তা জানেন। এ সকলই আছে এক কিতাবে; নিশ্চয়ই এটা আল্লাহ তা‘আলার নিকট সহজ।” (সূরা হাজ্জ ২২:৭০)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে।
২. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার প্রতি অনুগ্রহপরায়ণ।
৩. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন। এমনকি তারা যা কিছু গোপন করে তা-ও।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭১-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তারা কিয়ামতকে। স্বীকারই করতো না বলে সাহসিকতা ও বাহাদুরীর সাথে সত্বর এর আগমন কামনা করতো এবং বলতো: “যদি তুমি সত্যবাদী হও তবে বল দেখি এটা আসবে কখন? আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে মুহাম্মাদ (সঃ)-এর মাধ্যমে জবাব দেয়া হচ্ছে যে, খুবই সম্ভব যে, ওটা সম্পূর্ণরূপে নিকটবর্তী হয়েই গেছে। যেমন
অন্য আয়াতে রয়েছে (আরবি) অর্থাৎ “সম্ভবতঃ ওটার সময় নিকটবর্তী হয়েছে।” (১৭:৫১) মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “তোমার কাছে তারা আযাবের ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করছে (তাড়াতাড়ি আযাব চাচ্ছে, তাদের জেনে রাখা উচিত যে,) নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করে রয়েছে।” (২৯:৫৪) (আরবি)-এর (আরবি)অক্ষরটি (আরবি)শব্দের (আরবি) (তাড়াতাড়ি করা)-এর অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে অনা হয়েছে। যেমন এটা হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে।
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ মানুষের উপর তো আল্লাহর বহু দয়া ও অনুগ্রহ রয়েছে এবং রয়েছে তাদের উপর তার অসংখ্য নিয়ামত। তথাপি তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।
আল্লাহ তা'আলা বলেন ও তাদের অন্তর যা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে তা তিনি অবশ্যই জানেন। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেন (আরবি) অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে যে কথাকে গোপন করে এবং যে তা প্রকাশ করে উভয় (তার কাছে) সমান।” (১৩: ১০) আর এক জায়গায় আছে। অর্থাৎ “তিনি গোপনীয় ও লুক্কায়িত কথাও জানেন।” (২০৪৭)
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আকাশে ও পৃথিবীতে এমন কোন গোপন রহস্য নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই। তিনি অদৃশ্যের সব খবরই রাখেন। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “তুমি কি জান না যে, আকাশে ও পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে তিনি সবই জানেন, নিশ্চয়ই তা কিতাবে রয়েছে এবং নিশ্চয়ই ওটা আল্লাহর কাছে সহজ।” (২২:৭০)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।