আল কুরআন


সূরা আন-নামাল (আয়াত: 69)

সূরা আন-নামাল (আয়াত: 69)



হরকত ছাড়া:

قل سيروا في الأرض فانظروا كيف كان عاقبة المجرمين ﴿٦٩﴾




হরকত সহ:

قُلْ سِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَانْظُرُوْا کَیْفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الْمُجْرِمِیْنَ ﴿۶۹﴾




উচ্চারণ: কুল ছীরূফিল আরদিফানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুজরিমীন।




আল বায়ান: বল, ‘তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর, তারপর দেখ, কিরূপ হয়েছিল অপরাধীদের পরিণতি।’




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৯. বলুন, তোমরা যমীনে পরিভ্রমণ করা অতঃপর দেখ অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, পৃথিবীতে ভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।




আহসানুল বায়ান: (৬৯) বল, ‘পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণাম কি হয়েছে?’ [1]



মুজিবুর রহমান: বলঃ পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছে।



ফযলুর রহমান: বল, “পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখ, অপরাধীদের কী পরিণতি হয়েছিল!”



মুহিউদ্দিন খান: বলুন, পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণতি কি হয়েছে।



জহুরুল হক: বলো -- "পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো, তারপর দেখো কেমন হয়েছিল অপরাধীদের পরিণাম!"



Sahih International: Say, [O Muhammad], "Travel through the land and observe how was the end of the criminals."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬৯. বলুন, তোমরা যমীনে পরিভ্রমণ করা অতঃপর দেখ অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ পূৰ্ববতী অপরাধীদের পরিণতি দেখে তা থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ করো এবং আখেরাত অস্বীকার করার যে নির্বোধসূলভ বিশ্বাস তাদেরকে অপরাধীতে পরিণত করেছিল তার উপর টিকে থাকার চেষ্টা করো না। বিভিন্ন জায়গায় সফর করে দেখো কিরূপ হয়েছিল নবী-রাসূলদের সাথে যারা মিথ্যারোপ করেছিল, যারা আখেরাত, পুনরুত্থান ইত্যাদি সংক্রান্ত নবী-রাসূলদের আনীত বিষয়াদিতে মিথ্যারোপ করেছিল তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি কেমন হয়েছিল তা দেখে নাও। এ সমস্ত ঘটনায় আল্লাহ সেটাও দেখে নিন। এটা অবশ্যই নবী-রাসূলদের সত্যতা ও তাদের আনীত বিধানের সঠিক হওয়া প্রমাণ করে। [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬৯) বল, ‘পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণাম কি হয়েছে?” [1]


তাফসীর:

[1] এটি কাফেরদের উক্ত কথার উত্তর যে, পূর্ববর্তী জাতিদের কথা ভেবে দেখ, তাদের উপর কি আল্লাহর আযাব আসেনি? যা নবীদের সত্যতারই প্রমাণ। অনুরূপ কিয়ামত ও পরকাল সম্পর্কে আমার রসূল যা বলেন, তা নিশ্চিত সত্য।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬৭-৭০ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা ঐ সকল কাফির-মুশরিকদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যারা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে। তারা বলে, আমরা মারা যাওয়ার পর মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হয়ে যাব, তারপরও কি আমরা পুনরায় জীবিত হব? এমনকি তারা বলে, এগুলো হল পূর্ববর্তীদের উপকথা যা আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা শুধু শুনেই আসছি। এর কোন বাস্তবতা দেখছি না। বিভিন্ন টাল-বাহানার মাধ্যমে তারা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে। তাদের এ কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা যদি ঐ শাস্তিকে বা পুনরুত্থানকে অস্বীকার কর, তবে তোমরা জমিনে ভ্রমণ করে দেখ যারা এরূপ অস্বীকার করেছিল তাদের অবস্থা কিরূপ হয়েছিল। তাদেরকে কিরূপ শাস্তি পাকড়াও করেছিল। এগুলোই হল তার প্রমাণ। নাবী-রাসূলগণ যা বলে তা অবশ্যই সত্য। এতে অবশ্যই বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে আর যে সন্দেহ পোষণ করবে সে কাফির হয়ে যাবে। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা প্রদান করে বলেন, তিনি যেন এ সকল কাফির মুশরিকদের কথায় মনঃক্ষুণ্ন না হন। বরং ধৈর্য ধারণ করেন। এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মৃত্যুর পর মানুষের মরদেহ মাটিতে ও হাড়ে পরিণত হয়ে যায়।

২. মানুষকে অবশ্যই মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করা হবে। আর এ পুনর্জীবনের প্রতি অবশ্যই বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। যে তা বিশ্বাস করবে না সে কাফির।

৩. পূর্ববর্তী যে সকল লোকদেরকে ধ্বংস করা হয়েছে তাদের সে সব ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

৪. মানুষকে দাওয়াতী কাজ করতে গিয়ে কারো তিরস্কারমূলক কথায় মনঃক্ষুণœ হওয়া যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬৭-৭০ নং আয়াতের তাফসীর

এখানে বর্ণনা করা হচ্ছে যে, যারা কিয়ামতকে অস্বীকার করে তাদেরকে যে তাদের মৃত্যু হওয়া ও সড়ে-পচে যাওয়া এবং মাটি ও ভস্ম হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় কিভাবে সৃষ্টি করা হবে এটা এখন পর্যন্ত তাদের বোধগম্যই হয় না। তারা এটাকে বড়ই বিস্ময়কর মনে করে। তারা বলেঃ “পূর্ব যুগ হতেই আমরা এটা শুনে আসছি, কিন্তু এ পর্যন্ত কাউকেও আমরা মৃত্যুর পর জীবিত হতে দেখিনি। এটা শুধু শোনা কথা। এক যুগের লোক তাদের পূর্বযুগীয় লোকদের হতে, তারা তাদের পূর্ব যুগের লোকদের হতে শুনেছে এবং এভাবে আমাদের যুগ পর্যন্ত পৌছে গেছে। কিন্তু এ সবকিছুই অযৌক্তিক ও বিবেক বুদ্ধি বহির্ভূত।” আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে জবাব বলে দিচ্ছেনঃ “তুমি বল-তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে দেখো, যারা রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করেছিল ও কিয়ামতকে অস্বীকার করেছিল তাদের পরিণাম কি হয়েছে! তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পক্ষান্তরে নবীদেরকে ও মুমিনদেরকে আল্লাহ তা'আলা রক্ষা করেছেন। এটা নবীদের সত্যবাদীতারই দলীল।”

অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিচ্ছেনঃ “এই কাফির ও মুশরিকরা তোমাকে ও আমার কালামকে অবিশ্বাস করছে এ জন্যে তুমি দুঃখ করো না ও মনঃক্ষুন্ন হয়ো না। তারা তোমার ব্যাপারে যে ষড়যন্ত্র করছে তা আমার অজানা নেই। আমিই তোমার পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী ।

সুতরাং তুমি নিশ্চিন্ত থাকো। আমি তোমাকে ও তোমার দ্বীনকে জয়যুক্ত রাখবো এবং দুনিয়ার এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত তোমাকে প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করবে।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।