আল কুরআন


সূরা আন-নামাল (আয়াত: 67)

সূরা আন-নামাল (আয়াত: 67)



হরকত ছাড়া:

وقال الذين كفروا أئذا كنا ترابا وآباؤنا أئنا لمخرجون ﴿٦٧﴾




হরকত সহ:

وَ قَالَ الَّذِیْنَ کَفَرُوْۤا ءَ اِذَا کُنَّا تُرٰبًا وَّ اٰبَآؤُنَاۤ اَئِنَّا لَمُخْرَجُوْنَ ﴿۶۷﴾




উচ্চারণ: ওয়া কা-লাল্লাযীনা কাফারূ আইযা-কুন্না-তুরা-বাওঁ ওয়াআ-বাউনা আইন্নালামুখরাজুন।




আল বায়ান: আর কাফিররা বলে, ‘আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষরা মাটি হয়ে যাব তখনো কি আমাদেরকে উত্থিত করা হবে’?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৭. কাফেররা বলে, আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা মাটিতে পরিণত হয়ে গেলেও কি আমাদেরকে বের করা হবে?




তাইসীরুল ক্বুরআন: অবিশ্বাসীরা বলে- আমরা আর আমাদের পিতৃপুরুষরা যখন মাটি হয়ে যাব তারপরও কি আমাদেরকে নিশ্চিতই বের করে উঠানো হবে?




আহসানুল বায়ান: (৬৭) অবিশ্বাসীরা বলে, ‘আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা মাটিতে পরিণত হয়ে গেলেও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?



মুজিবুর রহমান: কাফিরেরা বলেঃ আমরা ও আমাদের পিতৃ-পুরুষরা মাটিতে পরিণত হয়ে গেলেও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?



ফযলুর রহমান: কাফেররা বলে, “আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, আমাদের বাপ-দাদারাও, তারপরও কি আমাদেরকে (কবর থেকে) বের করা হবে?”



মুহিউদ্দিন খান: কাফেররা বলে, যখন আমরা ও আমাদের বাপ-দাদারা মৃত্তিকা হয়ে যাব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?



জহুরুল হক: আর যারা অবিশ্বাস করে তারা বলে -- "যখন আমরা ধূলো-মাটি হয়ে যাব এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও, -- আমরা কি তখন ঠিকঠিকই বহির্গত হব?



Sahih International: And those who disbelieve say, "When we have become dust as well as our forefathers, will we indeed be brought out [of the graves]?



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬৭. কাফেররা বলে, আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা মাটিতে পরিণত হয়ে গেলেও কি আমাদেরকে বের করা হবে?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬৭) অবিশ্বাসীরা বলে, ‘আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা মাটিতে পরিণত হয়ে গেলেও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬৭-৭০ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা ঐ সকল কাফির-মুশরিকদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যারা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে। তারা বলে, আমরা মারা যাওয়ার পর মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হয়ে যাব, তারপরও কি আমরা পুনরায় জীবিত হব? এমনকি তারা বলে, এগুলো হল পূর্ববর্তীদের উপকথা যা আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা শুধু শুনেই আসছি। এর কোন বাস্তবতা দেখছি না। বিভিন্ন টাল-বাহানার মাধ্যমে তারা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে। তাদের এ কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা যদি ঐ শাস্তিকে বা পুনরুত্থানকে অস্বীকার কর, তবে তোমরা জমিনে ভ্রমণ করে দেখ যারা এরূপ অস্বীকার করেছিল তাদের অবস্থা কিরূপ হয়েছিল। তাদেরকে কিরূপ শাস্তি পাকড়াও করেছিল। এগুলোই হল তার প্রমাণ। নাবী-রাসূলগণ যা বলে তা অবশ্যই সত্য। এতে অবশ্যই বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে আর যে সন্দেহ পোষণ করবে সে কাফির হয়ে যাবে। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা প্রদান করে বলেন, তিনি যেন এ সকল কাফির মুশরিকদের কথায় মনঃক্ষুণ্ন না হন। বরং ধৈর্য ধারণ করেন। এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মৃত্যুর পর মানুষের মরদেহ মাটিতে ও হাড়ে পরিণত হয়ে যায়।

২. মানুষকে অবশ্যই মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করা হবে। আর এ পুনর্জীবনের প্রতি অবশ্যই বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। যে তা বিশ্বাস করবে না সে কাফির।

৩. পূর্ববর্তী যে সকল লোকদেরকে ধ্বংস করা হয়েছে তাদের সে সব ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

৪. মানুষকে দাওয়াতী কাজ করতে গিয়ে কারো তিরস্কারমূলক কথায় মনঃক্ষুণœ হওয়া যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬৭-৭০ নং আয়াতের তাফসীর

এখানে বর্ণনা করা হচ্ছে যে, যারা কিয়ামতকে অস্বীকার করে তাদেরকে যে তাদের মৃত্যু হওয়া ও সড়ে-পচে যাওয়া এবং মাটি ও ভস্ম হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় কিভাবে সৃষ্টি করা হবে এটা এখন পর্যন্ত তাদের বোধগম্যই হয় না। তারা এটাকে বড়ই বিস্ময়কর মনে করে। তারা বলেঃ “পূর্ব যুগ হতেই আমরা এটা শুনে আসছি, কিন্তু এ পর্যন্ত কাউকেও আমরা মৃত্যুর পর জীবিত হতে দেখিনি। এটা শুধু শোনা কথা। এক যুগের লোক তাদের পূর্বযুগীয় লোকদের হতে, তারা তাদের পূর্ব যুগের লোকদের হতে শুনেছে এবং এভাবে আমাদের যুগ পর্যন্ত পৌছে গেছে। কিন্তু এ সবকিছুই অযৌক্তিক ও বিবেক বুদ্ধি বহির্ভূত।” আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে জবাব বলে দিচ্ছেনঃ “তুমি বল-তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে দেখো, যারা রাসূলদেরকে অবিশ্বাস করেছিল ও কিয়ামতকে অস্বীকার করেছিল তাদের পরিণাম কি হয়েছে! তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পক্ষান্তরে নবীদেরকে ও মুমিনদেরকে আল্লাহ তা'আলা রক্ষা করেছেন। এটা নবীদের সত্যবাদীতারই দলীল।”

অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিচ্ছেনঃ “এই কাফির ও মুশরিকরা তোমাকে ও আমার কালামকে অবিশ্বাস করছে এ জন্যে তুমি দুঃখ করো না ও মনঃক্ষুন্ন হয়ো না। তারা তোমার ব্যাপারে যে ষড়যন্ত্র করছে তা আমার অজানা নেই। আমিই তোমার পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী ।

সুতরাং তুমি নিশ্চিন্ত থাকো। আমি তোমাকে ও তোমার দ্বীনকে জয়যুক্ত রাখবো এবং দুনিয়ার এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত তোমাকে প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করবে।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।