আল কুরআন


সূরা আন-নামাল (আয়াত: 54)

সূরা আন-নামাল (আয়াত: 54)



হরকত ছাড়া:

ولوطا إذ قال لقومه أتأتون الفاحشة وأنتم تبصرون ﴿٥٤﴾




হরকত সহ:

وَ لُوْطًا اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖۤ اَتَاْتُوْنَ الْفَاحِشَۃَ وَ اَنْتُمْ تُبْصِرُوْنَ ﴿۵۴﴾




উচ্চারণ: ওয়া লূতান ইযকা-লা লিকাওমিহী আতা’তূনাল ফা-হিশাতা ওয়া আনতুম তুবসিরূন।




আল বায়ান: আর স্মরণ কর লূতের কথা, যখন সে তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ, অথচ তা তোমরা ভালভাবে প্রত্যক্ষ করছ’?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৪. আর স্মরণ করুন লুতের কথা(১), তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, তোমরা জেনে-দেখে(২) কেন অশ্লীল কাজ করছ?




তাইসীরুল ক্বুরআন: স্মরণ কর লূতের কথা, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল- তোমরা দেখে-শুনে কেন অশ্লীল কাজ করছ,




আহসানুল বায়ান: (৫৪) (স্মরণ কর) লূতের কথা,[1] সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা কি জেনে-শুনে অশ্লীল কাজ করবে? [2]



মুজিবুর রহমান: স্মরণ কর লূতের কথা, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা জেনে শুনে কেন অশ্লীল কাজ করছ?



ফযলুর রহমান: আর (স্মরণ করো) লূতকে, যখন সে তার সমপ্রদায়কে বলেছিল, “তোমরা কি নিজেদের চোখের সামনে (অথবা পরিণতি উপলব্ধি করেও) অশ্লীল কাজ করছ?”



মুহিউদ্দিন খান: স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ!



জহুরুল হক: আর লূত, স্মরণ কর! তিনি তাঁর জাতিকে বলেছিলেন -- "তোমরা কি অশ্লীলতা করতেই থাকবে, অথচ তোমরা দেখতে পাচ্ছ?



Sahih International: And [mention] Lot, when he said to his people, "Do you commit immorality while you are seeing?



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৪. আর স্মরণ করুন লুতের কথা(১), তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, তোমরা জেনে-দেখে(২) কেন অশ্লীল কাজ করছ?


তাফসীর:

(১) কওমে লুতের কাহিনী তুলনামূলক অধ্যায়নের জন্য দেখুন আল আ'রাফঃ ৮০ থেকে ৮৪, হূদ ৭৪ থেকে ৮৩, আল হিজরঃ ৫৭ থেকে ৭৭, আল-আম্বিয়াঃ ৭১ থেকে ৭৫, আশ শু'আরাঃ ১৬০ থেকে ১৭৪, আল আনকাবুতঃ ২৮ থেকে ৭৫, আস সাফফাতঃ ১৩৩ থেকে ১৩৮ এবং আল-কামারঃ ৩৩ থেকে ৩৯ আয়াত।


(২) এখানে تبصرون শব্দটির দু অর্থ হতে পারেঃ এক, চাক্ষুষ দেখা। তখন এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। সম্ভবত এ সবগুলো অর্থই এখানে প্রযোজ্য। এক. এ কাজটি যে অশ্ৰীল ও খারাপ তা তোমরা জানো না এমন নয় বরং জেনে বুঝে তোমরা এ কাজ করো। [সা’দী] দুই. তোমরা প্রকাশ্যে কোন প্রকার রাখ-ডাক ছাড়াই এ অশ্লীল কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, তারা এ সমস্ত কদৰ্য কাজগুলো লোকসমক্ষেই করে বেড়াত। তাদের বিভিন্ন বৈঠকেও তারা সেটা করত। [কুরতুবী; ইবন কাসীর] অন্যদিকে চক্ষুষ্মান লোকেরা তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করছে, যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “আর তোমরা নিজেদের মজলিসে বন্দকাম করে থাকো”। [সূরা আল-আনকাবূতঃ ২৯] দুই, অন্তর দিয়ে জেনে উপলব্ধি করা। তখন অর্থ হবে, তোমরা অন্তর দিয়ে ভাল করেই জানো ও বোঝা যে, কোন ক্রমেই এ কাজটি ভাল নয়। তারপরও তোমরা সেটা করে যাচ্ছ। [কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৪) (স্মরণ কর) লূতের কথা,[1] সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা কি জেনে-শুনে অশ্লীল কাজ করবে? [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, লূত (আঃ)-এর ঘটনা স্মরণ কর, যখন তিনি বললেন। লূত জাতি আম্মূরাহ ও সাদূম শহরে বসবাস করত।

[2] تُبصِرُون অর্থাৎ, এ কথা দর্শন করছ যে, তা অশ্লীলতা। এখানে দর্শন বলতে জ্ঞান চক্ষু দ্বারা দর্শন। আর যদি চর্মচক্ষুর দর্শন উদ্দেশ্য হয়, তাহলে অর্থ দাঁড়াবে যে, তোমরা এক অপরের চোখের সামনে এ কাজ করছ? অর্থাৎ, তোমাদের ধৃষ্টতা এত বেড়ে গেছে যে, এ কুকর্ম করার সময় লুকানোর চেষ্টাও কর না!


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৪-৫৮ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে লূত (عليه السلام) ও তাঁর সম্প্রদায়ের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। যাদের ব্যাপারে পূর্বে সূরা আ‘রাফের ৮০-৮৪ ও সূরা হূদের ৭৬-৮৩ নং আয়াতসহ একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৪-৫৮ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা ও রাসূল হযরত লূত (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করছেন যে, তিনি তাঁর উম্মত অর্থাৎ তার কওমকে তাদের এমন জঘন্যতম কাজের জন্যে ভীতি প্রদর্শন করেন যে কাজ তাদের পূর্বে কেউই করেনি অর্থাৎ কাম-তৃপ্তির জন্যে নারীকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হওয়া। সমস্ত কওমের অবস্থা এই ছিল যে, পুরুষ লোকেরা পুরুষ লোকেদের দ্বারা এবং স্ত্রীলোকেরা স্ত্রীলোকদের দ্বারা তাদের কাম-প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতো। সাথে সাথে তারা এতো বেহায়া হয়ে গিয়েছিল যে, ঐ জঘন্য কাজ গোপনে করাও প্রয়োজন মনে করতো না। প্রকাশ্যে তারা এই বেহায়াপূর্ণ কার্যে লিপ্ত হয়ে পড়তো। স্ত্রীলোকদেরকে ছেড়ে তারা পুরুষ লোকদের কাছে আসতো। এ জন্যেই হযরত লূত (আঃ) তাদেরকে বলেনঃ “তোমরা তোমাদের অজ্ঞতাপূর্ণ কাজ হতে ফিরে এসো। তোমরা এমনই মূর্খ হয়ে গেছে যে, শরীয়তের পবিত্রতার সাথে সাথে তোমাদের স্বাভাবিক পবিত্রতাও বিদায় নিতে শুরু করেছে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমরা বিশ্ব জগতের পুরুষদের নিকট আসছে এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে যে জোড়াসমূহ সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছ? বরং তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।” (২৬:১৬৫-১৬৬)

মহান আল্লাহ বলেন যে, তারা উত্তরে বলেছিলঃ “তোমরা পূত-পরিবারকে তোমাদের জনপদ হতে বহিস্কৃত কর, তারা তো এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়।”

যখন কাফিররা হযরত লূত (আঃ) ও তাঁর পরিবারকে দেশান্তর করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সবাই একমত হয়ে যায় তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধ্বংস করে দেন এবং হযরত লূত (আঃ) ও তাঁর পরিবারবর্গকে তাদের হতে এবং যে শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল তা হতে রক্ষা করেন। হ্যাঁ, তবে তাঁর স্ত্রী, যে তাঁর কওমের সাথেই ছিল এবং ঐ ধ্বংসপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম হতেই তার নাম লিপিবদ্ধ হয়েছিল, সে এখানে বাকী রয়ে যায় এবং শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। কেননা, সে ঐ ধ্বংসপ্রাপ্তদেরকে তাদের দ্বীন ও রীতি নীতিতে সাহায্য করতো। সে তাদের দুষ্কর্মকে পছন্দ করতো। সে-ই হযরত নূত (আঃ)-এর অতিথিদের খবর তাঁর কওমের নিকট পৌছিয়ে দিয়েছিল। তবে এটা স্মরণ রাখা দরকার যে, সে তাদের অশ্লীল কাজে শরীক ছিল না। আল্লাহর নবীর স্ত্রী বদকার হবে এটা নবীর মর্যাদার পরিপন্থী।

ঐ কওমের উপর আকাশ হতে পাথর বর্ষিত হয়, যে পাথরগুলোর উপর তাদের নাম অংকিত ছিল। প্রত্যেকের উপর তার নামেরই পাথর পড়েছিল এবং তাদের একজনও বাঁচেনি। অত্যাচারীদের হতে আল্লাহর শাস্তি দূর হয় না। তাদের উপর আল্লাহর হুজ্জত কায়েম হয়ে গিয়েছিল। তাদেরকে সতর্ক ও ভয় প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং তাদের উপর রিসালাতের তাবলীগ যথেষ্ট পরিমাণে হয়েছিল। কিন্তু তারা বিরোধিতাকরণ, অবিশ্বাসকরণ ও বেঈমানীর উপর অটল ছিল। তারা আল্লাহর নবী হযরত লূত (আঃ)-কে কষ্ট দিয়েছিল, এমনকি তাঁকে দেশ হতে বহিস্কৃত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। তৎক্ষণাৎ ঐ মন্দ প্রস্তর-বৃষ্টি তাদের উপর বর্ষিত হয় এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।