সূরা আন-নামাল (আয়াত: 44)
হরকত ছাড়া:
قيل لها ادخلي الصرح فلما رأته حسبته لجة وكشفت عن ساقيها قال إنه صرح ممرد من قوارير قالت رب إني ظلمت نفسي وأسلمت مع سليمان لله رب العالمين ﴿٤٤﴾
হরকত সহ:
قِیْلَ لَهَا ادْخُلِی الصَّرْحَ ۚ فَلَمَّا رَاَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّۃً وَّ کَشَفَتْ عَنْ سَاقَیْهَا ؕ قَالَ اِنَّهٗ صَرْحٌ مُّمَرَّدٌ مِّنْ قَوَارِیْرَ ۬ؕ قَالَتْ رَبِّ اِنِّیْ ظَلَمْتُ نَفْسِیْ وَ اَسْلَمْتُ مَعَ سُلَیْمٰنَ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۴۴﴾
উচ্চারণ: কীলা লাহাদ খুলিসসারহা ফালাম্মা-রাআতহু হাছিবাতহু লুজ্জাতাওঁ ওয়া কাশাফাত ‘আন ছা-কাইহা- কা-লা ইন্নাহূছারহুম মুমার রাদুম মিন কাওয়ারীরা কা-লাত রাব্বি ইন্নী জালামতুনাফছী ওয়া আছলামতুমা‘আ ছুলাইমা-না লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।
আল বায়ান: তাকে বলা হল, ‘প্রাসাদটিতে প্রবেশ কর’। অতঃপর যখন সে তা দেখল, সে তাকে এক গভীর জলাশয় ধারণা করল, এবং তার পায়ের গোছাদ্বয় অনাবৃত করল। সুলাইমান বলল, ‘এটি আসলে স্বচ্ছ কাঁচ-নির্মিত প্রাসাদ’। সে বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নিজের প্রতি যুলম করেছি। আমি সুলাইমানের সাথে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৪. তাকে বলা হল, প্রাসাদটিতে প্রবেশ কর। অতঃপর যখন সে সেটা দেখল তখন সে সেটাকে এক গভীর জলাশয় মনে করল এবং সে তার পায়ের গোছা দুটো অনাবৃত করল। সুলাইমান বললেন, এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক মণ্ডিত প্রাসাদ। সেই নারী বলল, হে আমার রব! আমি তো নিজের প্রতি যুলুম করেছিলাম(১), আর আমি সুলাইমানের সাথে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর কাছে আত্মসমৰ্পণ করছি।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তাকে বলা হল- ‘প্রাসাদে প্রবেশ কর।’ যখন সে তা দেখল, সে ওটাকে পানির হ্রদ মনে করল এবং সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলাইমান বলল- ‘এটা তো স্বচ্ছ কাঁচমন্ডিত প্রাসাদ। সে নারী বলল- হে আমার প্রতিপালক! আমি অবশ্যই নিজের প্রতি যুলম করেছি আর আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করছি।’
আহসানুল বায়ান: (৪৪) তাকে বলা হল, ‘এ প্রাসাদে প্রবেশ কর।’ যখন সে ওর প্রতি দৃষ্টিপাত করল, তখন তার মনে হল এ এক স্বচ্ছ জলাশয় এবং সে তার কাপড় টেনে হাঁটু পর্যন্ত তুলে ধরল।[1] (সুলাইমান) বলল, ‘এ তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ।’ (বিলকীস) বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমি নিজের প্রতি যুলুম করেছিলাম, (এখন) আমি সুলাইমানের সাথে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম (মুসলমান হলাম)।’ [2]
মুজিবুর রহমান: তাকে বলা হলঃ এই প্রাসাদে প্রবেশ কর। যখন সে ওটা দেখল তখন সে ওটাকে এক গভীর জলাশয় মনে করল এবং সে তার উভয় পায়ের গোছা অনাবৃত করল। সুলাইমান বললঃ স্বচ্ছ স্ফটিক মন্ডিত প্রাসাদ। সেই নারী বললঃ হে আমার রাব্ব! আমিতো নিজের প্রতি যুল্ম করেছিলাম, আমি সুলাইমানের সাথে জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পন করছি।
ফযলুর রহমান: তাকে বলা হল, “এই প্রাসাদে প্রবেশ কর।” যখন সে প্রাসাদটি দেখল, তখন সেটিকে একটি গভীর জলাশয় মনে করল এবং (পরনের কাপড় ওপরে তুলে) দুই পায়ের নলা উন্মোচন করল। সোলায়মান বলল, “এটা তো কাঁচের প্রলেপযুক্ত একটি প্রাসাদ।” বিলকীস বলল, “হে আমার প্রভু! (এতদিন ঈমান না এনে) আমি আমার নিজের প্রতি অন্যায় করেছি। আমি সোলায়মানের সাথে বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করলাম।”
মুহিউদ্দিন খান: তাকে বলা হল, এই প্রাসাদে প্রবেশ কর। যখন সে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করল সে ধারণা করল যে, এটা স্বচ্ছ গভীর জলাশয়। সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলায়মান বলল, এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ। বিলকীস বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পন করলাম।
জহুরুল হক: তাকে বলা হ’ল -- "দরবার-ঘরে প্রবেশ করো।" কিন্ত যখন সে তা দেখল সে এটিকে মনে করল এক বিশাল জলাশয়, আর সে তার কাপড় টেনে তুললো। তিনি বললেন -- "এটিই দরবার ঘর, মসৃণ করা হয়েছে কাচ দিয়ে ।" সে বললে -- "আমার প্রভু! আমি নিঃসন্দেহ আমার আত্মার প্রতি অন্যায় করেছি, আর আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহ্র প্রতি আত্নসমর্পণ করছি।"
Sahih International: She was told, "Enter the palace." But when she saw it, she thought it was a body of water and uncovered her shins [to wade through]. He said, "Indeed, it is a palace [whose floor is] made smooth with glass." She said, "My Lord, indeed I have wronged myself, and I submit with Solomon to Allah, Lord of the worlds."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৪. তাকে বলা হল, প্রাসাদটিতে প্রবেশ কর। অতঃপর যখন সে সেটা দেখল তখন সে সেটাকে এক গভীর জলাশয় মনে করল এবং সে তার পায়ের গোছা দুটো অনাবৃত করল। সুলাইমান বললেন, এটা তো স্বচ্ছ স্ফটিক মণ্ডিত প্রাসাদ। সেই নারী বলল, হে আমার রব! আমি তো নিজের প্রতি যুলুম করেছিলাম(১), আর আমি সুলাইমানের সাথে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর কাছে আত্মসমৰ্পণ করছি।
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ শির্ক করার মাধ্যমে, তাছাড়া পূর্বেকার যে সমস্ত কুফরি ও গোনাহ সে করেছিল সবই উদ্দেশ্য হতে পারে। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৪) তাকে বলা হল, ‘এ প্রাসাদে প্রবেশ কর।” যখন সে ওর প্রতি দৃষ্টিপাত করল, তখন তার মনে হল এ এক স্বচ্ছ জলাশয় এবং সে তার কাপড় টেনে হাঁটু পর্যন্ত তুলে ধরল।[1] (সুলাইমান) বলল, ‘এ তো স্বচ্ছ স্ফটিক নির্মিত প্রাসাদ।” (বিলকীস) বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমি নিজের প্রতি যুলুম করেছিলাম, (এখন) আমি সুলাইমানের সাথে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম (মুসলমান হলাম)।” [2]
তাফসীর:
[1] এই প্রাসাদটি ছিল কাঁচের। যার মেঝেও ছিল কাঁচের। لُجَّة গভীর পানি অথবা হওয। সুলাইমান (আঃ) নিজ নবুঅতের মু’জিযা (অলৌকিক ঘটনা) দেখানোর পর পার্থিব শান-শওকতের কিছু নমুনা দেখানো উচিৎ মনে করলেন, যা মানব ইতিহাসে বিশেষ করে তাঁকে আল্লাহ দান করেছিলেন। অতঃপর সেই প্রাসাদে প্রবেশের আদেশ দেওয়া হল। যখন তিনি প্রবেশ হতে লাগলেন তখন পায়ের লেবাস একটু উপরে তুলে নিলেন। (যাতে তাঁর পদনালী বের হয়ে গেল।) স্বচ্ছ কাঁচের মেঝে তাঁর নিকট পানি বলে মনে হল। তাই ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় কাপড় কিছুটা গুটিয়ে পায়ের রলার উপর তুলে নিলেন।
[2] অর্থাৎ, যখন মেঝের বাস্তবিকতা জানতে পারলেন, তখন নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। অতঃপর নিজের ভুল-ত্রুটি অনুভব ও স্বীকার করে মুসলমান হওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। স্বচ্ছ পরিষ্কার খোদাই করা পাথরকে مُمَرَّد (স্ফটিক) বলা হয়। এখান হতেই أمرَد শব্দ এমন সুদর্শন কিশোরের জন্য ব্যবহার হয় যার (মসৃণ গালে) দাড়ি-মোছ এখনও বের হয়নি। যে গাছের পাতা সম্পূর্ণ ঝড়ে গেছে তাকে شجرة مرداء বলা হয়। (ফাতহুল কাদীর) কিন্তু এখানে নির্মাণ বা জুড়ে দেওয়ার (গিল্টি করা) অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থ স্ফটিক নির্মিত বা কাঁচের গিল্টি করা প্রাসাদ।
নোটঃ রাণী বিলকীস মুসলমান হবার পর তাঁর কি হল? কুরআন বা সহীহ হাদীসে এর কোন বিস্তারিত আলোচনা নেই। অবশ্য তাফসীরের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, সুলাইমান (আঃ)-এর সাথে তাঁর বিবাহ হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু কুরআন ও হাদীস এ ব্যাপারে নিশ্চুপ, সেহেতু আমাদেরও চুপ থাকাটাই শ্রেয়। والله أعلم بالصواب
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৫-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা দাঊদ ও তাঁর সন্তান সুলাইমান (عليه السلام)-কে নবুওয়াত ও অন্যান্য নেয়ামত দান করে সাধারণ মু’মিনের থেকে যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তার বর্ণনা এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
عِلْمًا দ্বারা উদ্দেশ্য হল নবুওয়াত। অর্থাৎ সুলাইমান (عليه السلام) ও তাঁর পিতা দাঊদ (عليه السلام)-কে নবুওয়াত দান করেছেন।
(وَوَرِثَ سُلَيْمٰنُ دَاو۫دَ)
‘সুলাইমান হয়েছিল দাঊদের উত্তরাধিকারী’ এখানে উত্তরাধিকার বলতে জ্ঞান ও নবুওয়াতের উত্তরাধিকার বুঝানো হয়েছে। পার্থিব সম্পদের উত্তরাধিকার নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
إِنَّا مَعْشَرَ الْأَنْبِيَاءِ لَا نُورَثُ
আমরা নাবীরা কাউকে উত্তরাধিকার বানাই না, যে সম্পদ রেখে যাই তা সাদকাস্বরূপ। (মুসনাদ আহমাদ হা: ৯৯৭২, সহীহ)
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، وَإِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا، وَلَا دِرْهَمًا وَرَّثُوا الْعِلْمَ، فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ
আলেমগণ নাবীদের উত্তরাধিকারী, তারা কোন অর্থকড়ির উত্তরাধিকার করে যায়নি। বরং তারা ইলমের উত্তরাধিকার করে গেছেন, সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে সে যেন পূর্ণ অংশই গ্রহণ করল। (আবূ দাঊদ হা: ৩৬৪১, সহীহ)
আল্লাহ তা‘আলা সুলাইমান (عليه السلام)-কে অনেক বৈশিষ্ট্য দান করেছিলেন, তন্মধ্যে এখানে দুটি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যগুলো সূরা স্ব-দ-এর ৩০-৪০ নং ও সাবার ১২-১৪ নং আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে।
(১) পক্ষীকুলকে সুলাইমান (عليه السلام)-এর অনুগত করে দেয়া হয়েছিল এবং তিনি তাদের ভাষা বুঝতেন। যেমন ১৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে। পক্ষীকুল তাঁর হুকুমে বিভিন্ন কাজ করত। সবচেয়ে বড় কথা এই যে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পত্র তিনি হুদহুদ পাখির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী ‘সাবা’ রাজ্যের রাণী বিলকীসের কাছে প্রেরণ করছিলেন।
(২) পিপীলিকার ভাষাও তিনি বুঝতেন। যেমন ১৮-১৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, সুলাইমান (عليه السلام)-এর সেন্যবাহিনীর পদপিষ্ট হতে বাঁচার জন্য পিপীলিকা বাহিনীর প্রতি তাদের নেতার নির্দেশ শুনে তিনি হাসলেন। এসব ছিল সুলাইমান (عليه السلام)-এর প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ। এত ক্ষমতা ও জীব-জন্তুর ভাষা বুঝতে পারা ইত্যাদি নেয়ামত পেয়েও তিনি কোনরূপ গর্ব-অহংকার করেননি। বরং তিনি আল্লাহ তা‘আলার কাছে এসব নেয়ামতের কৃতজ্ঞতার তাওফীক চেয়ে দু‘আ করলেন যাতে তিনি সৎ আমল করতে পারেন এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে সৎ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
সুলাইমান (عليه السلام)-এর জীবনে উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী:
(১) ন্যায় বিচারের ঘটনা: মেষপাল ও ক্ষেতের মালিকের মাঝে বিবাদের মীমাংসায় পিতার চেয়ে ন্যায়ভাবে বিচার করা ও দু’ মহিলার সন্তানের ব্যাপারে ন্যায় বিচার করার ঘটনা সূরা আম্বিয়ার ৭৮-৮২ নং আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে।
(২) পিপীলিকার ঘটনা: একদা সুলাইমান (عليه السلام) তাঁর বিশাল সেনাবাহিনীসহ একটি এলাকা অতিক্রম করছিলেন। ঐ সময় তাঁর সাথে জিন, মানুষ ও পক্ষীকুল ছিল। যে এলাকা দিয়ে তাঁরা যাচ্ছিলেন সে এলাকায় বালির টিবি সদৃশ পিপীলিকাদের বহু বসতঘর ছিল। সুলাইমান (عليه السلام)-এর বাহিনীকে আসতে দেখে পিপীলিকার সর্দার শীঘ্র বাসস্থানে প্রবেশের নির্দেশ দিল যাতে বাহিনীর পদপিষ্ট হতে না হয়।
(৩) হুদহুদ পাখির ঘটনা: আল্লাহ তা‘আলার হুকুমে পক্ষীকুল সুলাইমান এর আনুগত্য লাভ করে। একদিন পক্ষীকুলকে ডেকে একত্রিত করেন ও তাদের খোঁজ-খবর নেন। তখন দেখতে পেলেন যে, হুদহুদ পাখিটি নেই। তিনি যখন হুদহুদ পাখিকে দেখতে পেলেন না তখন সবাইকে সম্বোধন করে নিজের দিকে ইঙ্গিত করে জিজ্ঞেস করলেন, আমার কী হল যে, আমি হুদহুদ পাখিকে দেখতে পাচ্ছি না? (অর্থাৎ দোষ-ত্র“টি অন্যের দিকে সম্পৃক্ত না করে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করা জ্ঞানী লোকের পরিচয়) তখন সুলাইমান রাগান্বিত হয়ে অনতিবিলম্বে তাকে ধরে আনার নির্দেশ দিলেন এবং উপযুক্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে দিলেন। অন্যথায় তাকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে নতুবা জবাই করা হবে বলে হুশিয়ার করলেন। তার কিছুক্ষণ পরই হুদহুদ পাখি এসে হাজির হল এবং সুলাইমানকে লক্ষ্য করে বলল, আমি এমন বিষয়ে সংবাদ নিয়ে এসেছি যে বিষয়ে আপনি অবগত নন। এ কথা বলেই সে তার আনীত নতুন সংবাদের রিপোর্ট পেশ করল। হুদহুদ পাখি দ্বারা এ কথা বলানোর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এ সংবাদ দিচ্ছেন যে, নাবীগণ গায়েবের খবর জানেন না। তাঁরা কেবল ততটুকুই জানেন যতটুকু আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ওয়াহী মারফত জানান।
উল্লেখ্য যে, হুদহুদ এক জাতীয় ছোট্ট পাখির নাম। যা পক্ষীকুলের মধ্যে অতীব ক্ষুদ্র ও দুর্বল এবং যার সংখ্যাও দুনিয়াতে কম। দুনিয়াতে এত পাখি থাকতে হুদহুদ পাখির খোঁজ নেয়ার কারণ সম্পর্কে নও মুসলিম ইয়াহূদী পণ্ডিত আব্দুল্লাহ বিন সালাম (رحمه الله) -কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: সুলাইমান (عليه السلام) তাঁর বাহিনী নিয়ে সে সময় এমন এক অঞ্চলে ছিলেন যেখানে পানি ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা হুদহুদ পাখিকে এ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যে, সে ভূগর্ভের বস্তুসমূহকে এবং ভূগর্ভে প্রবাহিত পানি ওপর থেকে দেখতে পায় (কুরতুবী)।
(৪) রাণী বিলকীসের ঘটনার সার সংক্ষেপ:
সুলাইমান (عليه السلام)-এর শাম ও ইরাক সাম্রাজ্যের পার্শ্ববর্তী ইয়ামান তথা ‘সাবা’ রাজ্যের রাণী ছিলেন বিলকীস বিনতুস সারাহ বিন হাদাহিদ বিন শারাহীল। তিনি ছিলেন সাম বিন নূহ (عليه السلام)-এর ১৮তম অধস্তন বংশধর। তাঁর ঊর্ধ্বতন ৯ম পিতামহের নাম ছিল ‘সাবা’ (কুরতুবী)। সম্ভবতঃ তাঁর নামেই ‘সাবা’ সাম্রাজ্যের নামকরণ করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অনেক জীবনোপকরণ দিয়েছিলেন এবং নাবীগণের মাধ্যমে এসব নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু শয়তানের চক্রে ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য হয় এবং ‘সূর্য পূজারী’ হয়ে যায়। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ওপর প্লাবণের আযাব প্রেরণ করেন এবং ধ্বংস করে দেন। সূরা সাবার ১৫-১৭ নং আয়াতে এ সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
হুদহুদ পাখি নতুন সংবাদ দিল যে, আমি এক মহিলাকে দেখলাম যে, সে সাবাবাসীর ওপর রাজত্ব করছে। তাকে সব কিছুই দেয়া হয়েছে এবং তার এক বিরাট সিংহাসন রয়েছে। আমি তার সম্প্রদায়কে দেখলাম, তারা আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে সূর্যকে সিজদাহ করছে। শয়তান তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার পথ থেকে বাধা প্রদান করেছে যার ফলে তারা পথভ্রষ্ট।
তখন সুলালমান (عليه السلام) বললেন: আমি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব, দেখব তুমি সত্য বলছো না মিথ্যা বলছো। এ রাজ্য সম্পর্কে সুলাইমান (عليه السلام)-এর অজানাটা বিস্মকর কিছু নয়। ইউসুফ (عليه السلام)-কে বাড়ির অনতিদূরে কূপে নিক্ষেপ করা হল অথচ ইয়া‘কূব (عليه السلام) জানলেন না। আয়িশাহ (رضي الله عنها) এর গলার হার হারিয়ে গেল অথচ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানতে পারলেন না। যা হোক সুলাইমান (عليه السلام) হুদহুদ পাখিকে একটি চিঠি দিয়ে পাঠালেন এবং বললেন, তুমি চিঠি দিয়ে একটু দূরে সরে পড়বে এবং তারা কী মতামত প্রকাশ করে তা শুনে আসবে।
বিলকীস যখন চিঠি পেল তখন তার পরিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বলল, হে পরিষদবর্গ! আমাকে একটি মহিমান্বিত পত্র দেয়া হয়েছে। এটি হল সুলাইমান (عليه السلام)-এর পক্ষ থেকে। আর তাতে রয়েছেন পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহ তা‘আলার নামে আরম্ভ করছি। অতঃপর এতে বলা হয়েছে, তোমরা অহমিকা বশে আমাকে অমান্য কর না; বরং আত্মসমর্পণ করে আমার নিকট উপস্থিত হও। তখন বিলকীস তার পারিষদবর্গকে এ বিষয়ে অভিমত জানাতে বললেন। তখন পারিষদবর্গ তাদের শক্তি, সাহস, ক্ষমতা ও প্রস্তুতির কথা ব্যক্ত করে বলল; তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারটি আপনার হাতেই। তখন বিলকীস বলল: যখন রাজা-বাদশাহ কোন দেশে আক্রমণ করে তখন ঐ দেশকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার মর্যাদাবান লোকদেরকে অপদস্ত করে আর এরাও এরূপই করবে। তখন বিলকীস সুলাইমান (عليه السلام)-এর নিকট দূতের মাধ্যমে উপঢৌকন পাঠাল যাতে তাদের মন-মানসিকতা জানতে পারে। যখন বিলকিসের দূতেরা উপঢৌকন নিয়ে সুলাইমান (عليه السلام)-এর নিকট আসল তখন সুলাইমান (عليه السلام) তা ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে এমন বাহিনীর মাধ্যমে যাদের মোকাবেলা করার মত ক্ষমতা ওদের নেই। বরং সেখান থেকে তাদেরকে লাঞ্ছিত করে বের করবে। আর তখন তারা হবে অবনমিত।
অতঃপর সুলাইমান (عليه السلام) তার সৈন্যদের মধ্যে ঘোষণা করলেন, বিলকীস ও তার সৈন্য দল আত্মসমর্পণ করে আমার নিকট আসার পূর্বে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দিতে পারবে? তখন এক শক্তিশালী জিন বলল, আপনি আপনার বৈঠক হতে ওঠার পূর্বে আমি তা আপনাকে এনে দেব। অন্য একজন যার নিকট কিতাবের জ্ঞান ছিল সে বলল, আপনি চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। এরপর যখন সে তা নিয়ে আসল তখন সুলাইমান (عليه السلام) তাকে বললেন: তার সিংহাসনের আকৃতি বদলে দাও: দেখি সে তা চিনতে পারে, নাকি চিনতে ব্যর্থ হয়। অতঃপর যখন বিলকীস আসল তখন তাকে বলা হল, তোমার সিংহাসন কি এরূপই? তখন সে বলল, এটা যেন সেটাই। তাকে বলা হল, এ প্রাসাদে প্রবেশ কর। যখন সে ওর প্রতি দৃষ্টিপাত করল, তখন তার মনে হল এ এক স্বচ্ছ জলাশয় এবং সে তার কাপড় টেনে হাটু পর্যন্ত তুলে ধরল।
তখন সুলাইমান (عليه السلام) তাকে বললেন: এ-তো স্বচ্ছ কাঁচ দ্বারা নির্মিত প্রাসাদ। তখন বিলকীস তার অপরাধের কথা বুঝতে পেরে নিজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং বলল, আমি সুলাইমানের সাথে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।
(الَّذِیْ عِنْدَھ۫ عِلْمٌ مِّنَ الْکِتٰبِ)
‘কিতাবের জ্ঞান যার ছিল’ দ্বারা কাকে বুঝানো হয়েছে, এ নিয়ে তাফসীরবিদগণ মতভেদ করেছেন। তার মধ্যে প্রবল মত হল, তিনি ছিলেন স্বয়ং সুলাইমান (عليه السلام)। কেননা আল্লাহ তা‘আলার কিতাবের ব্যাপারে সর্বাধিক জ্ঞান তাঁরই ছিল। তিনি এর দ্বারা উপস্থিত জিন ও মানুষ পরিষদবর্গকে বুঝিয়ে দিলেন যে, তোমাদের সাহায্য ছাড়াও আল্লাহ তা‘আলা অন্যের মাধ্যমে অর্থাৎ ফেরেশতাদের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করে থাকেন। মূলত গোটা ব্যাপারটাই ছিল মু‘জিযাহ এবং রাণী বিলকীসকে আল্লাহ তা‘আলার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। এতে তিনি সফল হয়েছিলেন এবং সুদূর ইয়ামান থেকে বায়তুল মুক্বাদ্দাসে বিলকীস তার সিংহাসনের আগাম উপস্থিতি ও প্রাসাদের অনন্য কারুকার্য দেখে লজ্জিত হয়ে পড়ে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলার নিকট আত্মসমর্পণ করে মুসলিম হয়ে যায়। এটাই ছিল সুলাইমান (عليه السلام)-এর প্রধান লক্ষ্য।
বিঃ দ্রঃ সুলাইমান (عليه السلام), বিলকীস ও হুদহুদ পাখি সম্পর্কে অনেক মিথ্যা বানোয়াট কথা বলা হয়ে থাকে। যেমন বলা হয়: সুলাইমান (عليه السلام) বিলকীসকে বিবাহ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার পায়ে পশম ছিল তাই এমন প্রাসাদ তৈরি করা হল যাতে দেখতে মনে হয় তাতে পানি রয়েছে। ফলে প্রবেশকালে সে কাপড় তুলতে থাকবে আর তা দেখা হয়ে যাবে পায়ে পশম আছে কি না?
আরো বলা হয়: একদা বিলকীসের পিতা শিকার করতে বের হন, পথিমধ্যে দেখতে পান সাদা কালো দুটি সাপ লড়াই করছে। তিনি কালো সাপটি হত্যা করলেন আর সাদা সাপ ধরে নিয়ে আসলেন। বাড়িতে এনে দেখলেন সাপটি একজন সুন্দর যুবক হয়ে বসে আছে, এ অবস্থা দেখে তিনি ভয় পেলেন। যুবক বলল: ভয় করবেন না, আমি সে সাদা সাপ। এসব ঘটনা মিথ্যা, এসবের কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সুতরাং এসব ঘটনা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
ইনশা আল্লাহ তা‘আলা না বলার ফল:
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে এ বিষয়ে বর্ণিত ঘটনার সারমর্ম এই যে, একবার সুলাইমান (عليه السلام) এ মনোভাব ব্যক্ত করলেন যে, রাত্রিতে আমি (আমার ৯০ বা ১০০) সকল স্ত্রীর সাথে মিলিত হব। যাতে প্রত্যেকের গর্ভ থেকে একটি করে পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে ও পরে তারা আল্লাহ তা‘আলার পথে ঘোড় সওয়ার হয়ে জিহাদ করবে। কিন্তু এ সময় তিনি ইনশা আল্লাহ তা‘আলা (যদি আল্লাহ তা‘আলা চান) বলতে ভুলে যান। নাবীর এ ত্র“টি আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করলেন না। ফলে মাত্র একজন স্ত্রীর গর্ভ থেকে একটি অপূর্ণাঙ্গ ও মৃত শিশু ভূমিষ্ট হয়। (সহীহ বুখারী হা: ২৮১৯) এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে, সুলাইমান বিশ্বের সর্বাধিক ক্ষমতাসম্পন্ন বাদশাহ হলেও এবং জিন, বায়ু, পক্ষীকুল ও সকল জীবজন্তু তাঁর হুকুমবরদার হলেও আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা ব্যতীত তার কিছুই করার ক্ষমতা ছিল না। তাই নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়ে বলেন:
(وَلَا تَقُوْلَنَّ لِشَیْءٍ اِنِّیْ فَاعِلٌ ذٰلِکَ غَدًاﭦ اِلَّآ اَنْ یَّشَا۬ئَ اللہُ)
“কখনই তুমি কোন বিষয়ে বল না, “আমি সেটা আগামীকাল করব, ‘আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে’ এ কথা বলা ছাড়া’’ (সূরা কাহফ ১৮:২৩)
সিংহাসনের ওপরে একটি নি®প্রাণ দেহ প্রাপ্তির ঘটনা সূরা স্ব-দ-এর ৩০-৪০ নং ও বায়তুল মুক্বাদ্দাস নির্মাণের ঘটনা সূরা সাবার ১২-১৪ নং আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সুলাইমান (عليه السلام)-কে সকল কিছুর ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছিল।
২. ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম। যেমনটি পূর্ববর্তী ধর্মেও ছিল ।
৩. আল্লাহ তা‘আলার সৎ বান্দারা যত জ্ঞানী বা নেয়ামতের অধিকারী হোক না কেন তাতে তারা অহংকারী হয় না, বরং নেয়ামত পেয়ে শুকরিয়া আদায় করে, যেমন সুলাইমান (عليه السلام)।
৪. কোন ভাল জিনিস প্রাপ্ত হলে তাতে আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
৫. কোন ভাল কাজ করতে হলে আল্লাহ তা‘আলার নামে শুরু করতে হবে।
৬. নাবীদের অর্থ-সম্পদের উত্তরাধিকার হয় না, উত্তরাধিকার হয় ইলম ও নবুওয়াতের।
৭. সৎ কর্ম কবূল হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে না।
৮. শাসকের জন্য জনসাধারণের খোঁজ-খবর নেয়া উচিত।
৯. যেকাজে অলসতা করে, তাকে সুষম শাস্তি দেয়া জায়েয।
১০. গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারাদিতে পরামর্শ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৫-৪৭ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, যখন হযরত সালেহ (আঃ) তাঁর কওমের কাছে আসলেন এবং আল্লাহর রিসালাত আদায় করতে গিয়ে তাদেরকে তাওহীদের দাওয়াত দিলেন তখন তাদের মধ্যে দু’টি দল হয়ে যায়। একটি মুমিনদের দল এবং অপরটি কাফিরদের দল। এ দু'টি দল পরস্পরের মধ্যে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে পড়ে। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক প্রধানরা সেই সম্প্রদায়ের ঈমানদার যাদেরকে দুর্বল মনে করা হতো তাদেরকে বললো, তোমরা কি জান যে, সালেহ (আঃ) আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত? তারা বললো, তার প্রতি যে বাণী প্রেরিত হয়েছে আমরা তাতে বিশ্বাসী। দাম্ভিকরা বললো, তোমরা যা বিশ্বাস কর আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।” (৭: ৭৫-৭৬)
হযরত সালেহ (আঃ) তাঁর কওমকে বলেনঃ “হে আমার কওম! তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা রহমত চাওয়ার পরিবর্তে শাস্তি চাচ্ছ? কেন তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছে না, যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে তারা উত্তরে বললোঃ “তোমাকে ও তোমার সঙ্গে যারা আছে তাদেরকে আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি।' এ কথাই ফিরাউন ও তার লোকেরা হযরত মূসা (আঃ)-এর ব্যাপারে বলেছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যখন তারা কল্যাণ লাভ করে তখন বলে-আমরা তো এরই উপযুক্ত, আর যখন তাদেরকে অকল্যাণ পৌছে তখন তারা এ জন্যে মূসা (আঃ) ও তার সঙ্গীদেরকে দায়ী করে।” অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যদি তাদেরকে কল্যাণ পৌছে তবে তারা বলে-এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, আর যদি তাদেরকে অকল্যাণ পৌছে তবে তারা বলে- এটা তোমার পক্ষ হতে এসেছে; তুমি বল, সবই আল্লাহর পক্ষ হতে এসে থাকে।” (৪:৭৮)
আল্লাহ তা'আলা জনপদের অধিবাসীদের সম্পর্কে খবর দিয়ে বলেন, যখন তাদের নিকট রাসূলগণ এসেছিলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “তারা বললোঃ আমরা তোমাদেরকে অকল্যাণের কারণ মনে করি, যদি তোমরা বিরত না হও তবে অবশ্যই আমরা তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবো এবং আমাদের পক্ষ হতে তোমাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অবশ্যই আপতিত হবে। তারা বললোঃ তোমাদের অমঙ্গল তোমাদেরই সাথে।” (৩৬: ১৮-১৯)
এখানে রয়েছে যে, হযরত সালেহ (আঃ) বললেনঃ তোমাদের শুভাশুভ আল্লাহর ইখতিয়ারে, বস্তুতঃ তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ পরীক্ষা করা হচ্ছে তিরস্কার দ্বারাও এবং বিপদ-আপদ দ্বারাও। তবে এখানে তোমাদেরকে অবকাশ দেয়া হচ্ছে। এ অবকাশ আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে, এর পরে পাকড়াও করা হবে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।