আল কুরআন


সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 77)

সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 77)



হরকত ছাড়া:

فإنهم عدو لي إلا رب العالمين ﴿٧٧﴾




হরকত সহ:

فَاِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّیْۤ اِلَّا رَبَّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿ۙ۷۷﴾




উচ্চারণ: ফাইন্নাহুম ‘আদুওউললী ইল্লা-রাব্বাল ‘আ-লামীন।




আল বায়ান: ‘সকল সৃষ্টির রব ছাড়া অবশ্যই তারা আমার শত্রু’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৭. সৃষ্টিকুলের রব ব্যতীত এরা সবাই তো আমার শত্ৰু।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা সবাই আমার শত্রু, বিশ্বজগতের পালনকর্তা ছাড়া।




আহসানুল বায়ান: (৭৭) বিশ্বজগতের প্রতিপালক ব্যতীত তারা সকলেই আমার শত্রু।[1]



মুজিবুর রহমান: তারা সবাই আমার শত্রু, জগতসমূহের রাব্ব ব্যতীত।



ফযলুর রহমান: “তারা তো আমার শত্রু, সৃষ্টিজগতের প্রভু (এক আল্লাহ) ব্যতীত;



মুহিউদ্দিন খান: বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।



জহুরুল হক: "অতএব তারা আলবৎ আমার শত্রু, কিন্ত ভূ-বিশ্বের প্রভু নন,



Sahih International: Indeed, they are enemies to me, except the Lord of the worlds,



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৭. সৃষ্টিকুলের রব ব্যতীত এরা সবাই তো আমার শত্ৰু।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৭) বিশ্বজগতের প্রতিপালক ব্যতীত তারা সকলেই আমার শত্রু।[1]


তাফসীর:

[1] তিনি আমার শত্রু নন; বরং ইহকাল ও পরকালে তিনি আমার সহায়ক ও বন্ধু।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬৯-১০৪ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাওহীদের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ও তার জন্য নিজের নিকটাত্মীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে দ্বিধাবোধ করেনি এমন নাবী খলীলুল্লাহ ইবরাহীম (عليه السلام) সম্পর্কে ও তার সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। যখন ইবরাহীম (عليه السلام) তাঁর পিতা ও স্ব-জাতির কাছে মূর্তি মা‘বূদ হতে পারেনা, তারা মা‘বূদ হতে অপারগ এসব বিষয় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন তখন তারা বলল: ‘না, বরং আমরা আমাদের পিতৃপুুরুষদেরকে এরূপই করতে দেখেছি।’ সুতরাং তারা যখন বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে ইবরাহীম (عليه السلام)-এর কথা বর্জন করল তখন তিনি বললেন: ‘তারা সকলেই আমার শত্র“, জগতসমূহের প্রতিপালক ব্যতীত; ‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আমাকে পথ প্রদর্শন করেন।”



(وَلَا تُخْزِنِيْ يَوْمَ يُبْعَثُوْنَ)



আবূ হুরাইরাহ (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: হাশরের ময়দানে ইবরাহীম (عليه السلام) তাঁর পিতার সাক্ষাত পেয়ে বলবেন: হে আল্লাহ তা‘আলা ! আপনি আমাকে ওয়াদা দিয়েছিলেন, কিয়ামতের দিন আমাকে অপমানিত করবেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: আমি কাফিরদের ওপর জান্নাত হারাম করে দিলাম। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭৬৯)



(وَاغْفِرْ لِأَبِيْ)



‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা কর‎, প্রশ্ন হতে পারে ইবরাহীম (عليه السلام)-এর পিতা মুশরিক হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে ক্ষমা চাইলেন? উত্তরঃ পূর্বে ওয়াদা দিয়েছিলেন সে প্রেক্ষিতে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু যখন প্রমাণিত হল যে, তাঁর পিতা আল্লাহর শত্র“ তখন ক্ষমা চাওয়া বাদ দিলেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْآ أَنْ يَّسْتَغْفِرُوْا لِلْمُشْرِكِيْنَ وَلَوْ كَانُوْا أُولِيْ قُرْبٰي مِنْۭ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحٰبُ الْجَحِيْمِ)



“আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নাবী এবং মু’মিনদের জন্য সঙ্গত নয় যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, নিশ্চিতই তারা জাহান্নামী।” (সূরা তাওবাহ ৯:১১৪)



(إِلَّا مَنْ أَتَي اللّٰهَ بِقَلْبٍ سَلِيْمٍ)



‘সেদিন উপকৃত হবে কেবল সে, যে আল্লাহ তা‘আলার নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্ত‎ঃকরণ নিয়ে।’



(قَلْبٍ سَلِيْمٍ)



অর্থ এমন অন্তর যা শিরক ও সংশয় থেকে ম্ক্তু। যে অন্তরে পাপ কাজের প্রতি ভালবাসা থাকে না, বারবার বিদ‘আত ও অন্যায় কাজে লিপ্ত হয় না। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন সম্পদ ও সন্তান কোন উপকারে আসবে না যদি উল্লিখিত গুণাবলী সম্বলিত অন্তর নিয়ে উপস্থিত না হয়। প্রশ্ন হতে পারে সম্পদ ও সন্তান কিভাবে উপকারে আসবে? সম্পদ ও সন্তান উপকারে আসবে যদি সম্পদ সৎপথে উপার্জন ও ব্যয় করা হয় আর সন্তানকে যদি দীনদার বানিয়ে রেখে যাওয়া হয়।



(إِذْ نُسَوِّيْكُمْ) - سوي يسوي



অর্থ বরাবর করে দেয়া, সমান করে দেয়া অর্থাৎ যে সকল পাপিষ্ঠ ব্যক্তিরা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছে তাদেরকে আমরা আল্লাহ তা‘আলার সমান করে দিয়েছিলাম। এসকল পাপিষ্ঠ ব্যক্তিরা আল্লাহর ইবাদতের নামে নিজেদের ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছে। সুতরাং ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদের ধর্মযাজক আহ্বার ও রুহবানদের ন্যায় একশ্রেণির মানুষ দাড়ি-টুপি পরে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতের নামে নিজেদের ইবাদতের দিকে আহ্বান করে; তাদের থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।



ইবরাহীম (عليه السلام) ও তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ইতোপূর্বে সূরা আম্বিয়াসহ অন্যান্য সূরাতেও আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মুশরিকদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে যদিও নিকটাত্মীয় হয়।

২. মুশরিকদের কাছে দাওয়াত দেয়ার অন্যতম মূলনীতি হল তাদের মা‘বূদের অক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে, তাহলে দাওয়াত সহজেই ফলপ্রসূ হতে পারে।

৩. মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বৈধ নয়।

৪. কিছু মানুষ আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতের নামে নিজেদের ইবাদতের দিকে আহ্বান করে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬৯-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর

এখানে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করা হচ্ছে। মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তিনি যেন তার উম্মতের সামনে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করেন, যাতে তারা আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা, তাঁর ইবাদত এবং শিরক ও মুশরিকদের প্রতি অসন্তুষ্টিতে তাঁর অনুসরণ করে। হযরত ইবরাহীম (আঃ) প্রথম দিন থেকেই আল্লাহর একত্ববাদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ঐ তাওহীদের উপর কায়েম থাকেন।

তিনি তাঁর পিতাকে এবং কওমকে বলেনঃ “তোমরা এসব কিসের ইবাদত কর?” তারা উত্তরে বলেঃ “আমরা তো প্রাচীন যুগ থেকেই মূর্তি-পূজা করে আসছি।” হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাদের ভুল নীতি তাদের কাছে প্রকাশ করে দিয়ে তাদের ভুল চাল-চলন পর্দাহীন করার জন্যে তাদের সামনে আর একটি বর্ণনা তুলে ধরে বলেনঃ “তোমরা তো তাদের কাছে প্রার্থনা করে থাকো এবং দূর থেকে ও নিকট থেকে তাদেরকে ডেকে থাকো, তারা তোমাদের ডাক শুনে থাকে কি? যখন তোমরা উপকার লাভের আশায় তাদেরকে ডাকো তখন তারা তোমাদেরকে কোন উপকার করতে পারে কি? কিংবা যদি তোমরা তাদের ইবাদত ছেড়ে দাও তবে তারা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারে কি?`

কওমের পক্ষ থেকে তিনি যে উত্তর পেলেন তাতে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। হয় যে, তাদের ঐ মা'বুদগুলো এসব কাজের কোনটাই করতে সক্ষম নয়। তারা পরিষ্কারভাবে বলে দিলো যে, তারা শুধু তাদের বড়দের অনুকরণ করছে মাত্র। তাদের এ জবাবে হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাদের প্রতি ও তাদের বাতিল মা'বূদদের প্রতি নিজের অসন্তুষ্টির কথা ঘোষণা করেন। তিনি পরিষ্কারভাবে তাদেরকে বলে দিলেনঃ “তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা যাদের পূজা করতে রয়েছে তাদের সবারই প্রতি আমি চরম অসন্তুষ্ট। তারা সবাই আমার শত্রু। আমি শুধু জগতসমূহের সঠিক প্রতিপালকের পূজারী। আমি খাটি একত্ববাদী। যাও, তোমরা ও তোমাদের মা’রূদরা আমার যে ক্ষতি করার ইচ্ছা কর করে নাও।”

হযরত নূহ (আঃ) তার কওমকে একথাই বলেছিলেনঃ “তোমরা ও তোমাদের মা'বুদরা সব মিলিত হয়ে যদি আমার কিছু ক্ষতি করতে পার তবে করে নাও।” হযরত হূদ (আঃ) বলেছিলেনঃ “আমি আল্লাহ ছাড়া সব কিছুর প্রতিই অসন্তুষ্ট। তোমরা সবাই যদি আমার কিছু ক্ষতি করতে সক্ষম হও তবে করতে পার। আমার প্রতিপালকের সত্তার উপর আমার ভরসা রয়েছে। সমস্ত প্রাণী তাঁর অধীনস্থ, তিনি সরল সোজা পথের উপর রয়েছেন। অনুরূপভাবে হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাঁর কওমকে বললেনঃ “আমি তোমাদের মাবূদদেরকে মোটই ভয় করি না। বরং তোমাদেরই তো আমার প্রতিপালককে ভয় করা উচিত। যিনি সত্য আল্লাহ।” তিনি ঘোষণা করে দিয়েছিলেনঃ “তোমাদের মধ্যে ও আমার মধ্যে শক্রতা থাকবে যে পর্যন্ত না তোমরা আল্লাহ তা'আলার উপর ঈমান আনয়ন কর। হে আমার পিতা! আমি তোমার, তোমার কওম এবং তোমার মা'বুদদের হতে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত। আমি শুধু আমার প্রতিপালকের উপরই আশা রাখি যে, তিনি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন।” ওটাকেই অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহকেই তিনি কালেমা বানিয়ে নেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।